সখীপুরে ৯ ইউপি সদস্য ও পাওনাদারদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যানের চাঁদাবাজির মামলা

জাতীয় প্রচ্ছদ রাজনীতি সারাদেশ

মুহাম্মদুল্লাহ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়া তারই পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য ও ৮ পাওনাদারসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন।

সোমবার (২০ মে) টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলী আদালতে ১৪৩/৩৪২/৩৮৫/১০৯ এবং ৫০৬ ধারায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে চেয়ারম্যান জামাল মিয়াকে সহজ-সরল ও আইনমান্যকারী অপরদিকে তার পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য ও পাওনাদারদেরকে আইন অমান্যকারী, অশান্তি প্রিয়, দাঙ্গাবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অত্যাচারী, জুলুমবাজ ও খুনি মেজাজের লোক হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার কাছে ইতোপূর্বে অনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য সরকারি কাজের বরাদ্দকৃত টাকা, গম ও চাউল আত্মসাৎ করার প্রস্তাব করায় তিনি সেই প্রস্তাবে রাজি না হলে ইউপি সদস্যরা পরস্পরের যোগসাজশে চেয়ারম্যানের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়াও ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও পরিষদের জরুরি কাগজপত্র লুটপাট করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ৯ ইউপি সদস্যরা হলেন–১. মামুন সিকদার ২.সাইফুল ইসলাম ৩.আবদুল আজিজ ৪. শফিকুল ইসলাম ৫. মজিবর রহমান ৬. হাবিবুর রহমান হবি ৭. আলিয়া বেগম ৮. ফজলুল হক ৯.বদরুল হাসান বাদল

এ ছাড়াও যাদেরকে আসামি করা হয়েছে, ১০. আবুল হাসেম ১১. আরিফ মিয়া ১২. রফিক ১৩. রুহুল আমীন ১৪. রাকিব ১৫. কালাম ১৬. লাল মিয়া ১৭. সাদ্দাম

এ মামলার ১৫ নম্বর আসামি রুটি বিক্রেতা কালাম এবং ১৬ নম্বর আসামি চায়ের দোকানি লাল মিয়া বলেন, আমরা নিতান্তই গরীব মানুষ। ঘর ও জমি বিক্রি করে, কিছু টাকা ঋণ করে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশে জামাল চেয়ারম্যানকে টাকা এবং পাসপোর্ট দিয়েছিলাম। সে বিদেশ না পাঠিয়ে টাকাগুলো আত্মসাৎ করার পায়তারা করছে। ২২ মে বুধবার আমাদের টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার কথা। এখন শুনি চেয়ারম্যান উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেছে।

উল্লেখ, এর আগে গত (২ মে) বৃহস্পতিবার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, ইউপি সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার, পরিষদে চেয়ারম্যানের ছেলে আলমগীর হোসেন চান কর্তৃক প্রভাব বিস্তার ও ইউপি সদস্যদের প্রতি হুমকিসহ মোট ১০ টি অভিযোগ উল্লেখ করে ওই ৯ ইউপি সদস্য সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সরকারি বিভিন্ন দফতর বরাবর লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন।

এছাড়াও গত ১৬ মে বুধবার সখীপুরের কালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের অর্ধশতাধিক দরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে বিদেশ পাঠানোর নামে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল মিয়াকে দীর্ঘ সময় আটক করে রাখে ভুক্তভোগীরা। এ সময় তারা ইউনিয়ন পরিষদও ঘেরাও করে রাখে। পরে পুলিশ এসে চেয়ারম্যান জামাল মিয়াকে উদ্ধার করে। পরে চেয়ারম্যান জামাল মিয়া ও তার ছেলে আলমগীর হোসেন চান ২২ মে বুধবার ভুক্তভোগীদের টাকা এবং পাসপোর্ট ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পাওনাদারদের টাকা ফেরত দেয়ার দুইদিন আগে এ মামলা করা হলো। মুহাম্মদুল্লাহ