সখীপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৯ সদস্যের অনাস্থা প্রস্তাব

জাতীয় প্রচ্ছদ সারাদেশ

মুহাম্মদুল্লাহ

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন তার পরিষদের ৯ জন সদস্য।

বৃহস্পতিবার (২ মে) তারা লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর বরাবর লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করেন। এতে তারা ওই চেয়ারম্যানের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির ফিরিস্তি তুলে ধরে বিষয়গুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অনাস্থা প্রস্তাবে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন- ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল আজিজ, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান,  ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শফিকুল ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মামুন সিকদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুর রহমান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বদরুল হাসান বাদল, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবুর রহমান। এছাড়াও আছেন ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য আলিয়া আক্তার।

ইউপি চেয়ারম্যান জামালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, অশ্লীল কথাবার্তা বলা, অসদাচারণ ও অর্থ আত্মসাৎ, চেয়ারম্যান পদে শপথ গ্রহণের পর থেকেই বিদেশ পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষদের থেকে টাকা আত্মসাৎ, টিসিবি কার্ড দিয়ে টাকা আত্মসাৎ, বিজিএফএর কাজে অনিয়ম, গ্রাম পুলিশ নিয়োগে উৎকোচ গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়মসহ ১০ টি অভিযোগ ওই অনাস্থা প্রস্তাবে কারণ হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ মে) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে ইউনিয়ন পরিষদে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই ৯ জন ইউপি সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে জামাল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করার প্রতি একমত পোষণ করেন। অনাস্থা প্রস্তাব পত্রে উল্লেখ করা হয়, জামাল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন এবং বিভিন্ন মার্ডার মামলার আসামী তার ছেলে আলমগীর হোসেন চান প্রায়ই ইউপি সদস্যদের হুমকিধামকি দেন। এমন চেয়ারম্যানের সাথে পরিষদের কাজ নির্বিঘ্নে চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলেও তারা লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়াও জামাল চেয়ারম্যান এবং তার সহকারী লুৎফরের যোগসাজশে বিভিন্ন কাজ পরিচালনাসহ পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গঠনের অভিযোগ তুলে বিষয়গুলো দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

তবে সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৬ নম্বর কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জামাল মিয়া। তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত করলেই সত্যমিথ্যা স্পষ্ট হয়ে যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন পাটোয়ারী বলেন, জামাল চেয়ারম্যানের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।