ইসলাম শ্রেষ্ঠ, বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও আল্লাহর দেয়া একমাত্র মনোনীত ধর্ম

ইসলাম প্রচ্ছদ

মুফতি কাজী মঈনুল হক

সৃষ্টির সূচলালগ্ন থেকে পথভোলা ও অন্ধকারাচ্ছন্ন মানুষদের সুপথে আনার জন্য আল্লাহ অগণিত নবী-রাসূল এ ধরায় পাঠিয়েছেন। সমস্ত নবীগণ পৃথিবীতে এসে নিজ নিজ শরীয়ত ও জীবনবিধান অনুযায়ী পথবিচ্যুত মানুষদের কানে কানে আল্লাহর তাওহীদের বাণী পৌঁছিয়েছেন। যে সকল লোক নিজ নিজ নবীদের ডাকে সাড়া দিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ মেনে নিয়েছে, আল্লাহর ভাষ্যমতে তারা সফল হয়ে গেছে। আর যারা নবীদের আহবানকে প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের মনগড়া পথে চলেছে, তারা হয়েছে ব্যর্থ ও রবের কাছে ঘৃণিত। আদম (আ) এর মাধ্যমে আল্লাহ নবী প্রেরণের যে ধারার সূটনা ঘটিয়েছিলেন, মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (স) এর মাধ্যমে সেই ধারার পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন। রাসূলের নবুয়তপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী নবীদের আনীত সমস্ত শরীয়ত রহিত হয়ে গেছে। তদ্রূপ কুরআন নাযিলের সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থসমূহের জীবনবিধানও রহিত হয়ে গেছে। রাসূলের পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত একমাত্র দ্বীন ও ধর্ম হিসেবে টিকে আছে কেবল ইসলাম।

ইসলাম আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম। পবিত্র কুরআনে মহান রব ঘোষণা করছেন- اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ. নিশ্চয়ই ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র ধর্ম। (আলে ইমরান: ১৯) অতএব কেউ যদি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত অনুসারী না হয়, সে যত ভালো কাজই করুক এবং মানুষের দৃষ্টিতে যত বড় প্রশংসার পাত্রই হোক না কেন, পরকালে তার নাজাত লাভের কোনো সুযোগ নেই। পরকালীন মুক্তির পূর্বশর্ত হলো মুমিন ও মুসলমান তথা ইসলাম ধর্মের অনুসারী হওয়া। যেমনটি অন্য আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করছেন- وَ مَنۡ یَّبۡتَغِ غَیۡرَ الۡاِسۡلَامِ دِیۡنًا فَلَنۡ یُّقۡبَلَ مِنۡہُ ۚ وَ ہُوَ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ. আর যে ইসলাম ব্যতীত অন্য ধর্ম অন্বেষণ করে তা কখনই গৃহীত হবে না এবং পরলোকে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (আলে ইমরান: ৮৫) আল্লাহর এই একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলামের রয়েছে অগণিত সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য। এসব সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ হয়ে যুগে যুগে অসংখ্য অমুসলিম ইসলামে দীক্ষিত হয়েছে।

আমরা যারা জন্মসূত্রে মুসলমান, তাদের চোখে হয়তো সেসব সৌন্দর্য ধরা পড়ে না। কারণ সেগুলো নিয়ে আমরা ভাবি না। কিন্তু যদি আমরা ইসলামের বিধিবিধান নিয়ে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করতে যাই তাহলেই দেখতে পাবো ইসলামের সৌন্দর্য কত ব্যাপক, বিস্তৃত ও আকৃষ্টকারী। ইসলাম এমন এক মহান ধর্ম, যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর বিষয় থেকে নিয়ে শুরু করে মানুষের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, বৈবাহিক জীবন, এমনকি আন্তর্জাতিক জীবন পরিচালনার পদ্ধতিও শিখিয়ে দিয়েছে। এর ছোট্ট একটি নমুনা দেখুন- রাসূলুল্লাহ (স) এর একজন বিশিষ্ট সাহাবি হলেন সালমান ফারসি (রা)।

ইসলামে দীক্ষিত হওয়ার পূর্বে সত্য ধর্মের সন্ধান করতে গিয়ে কখনো তিনি ইহুদি হয়েছেন, কখনো খ্রিষ্টান হয়েছেন। সবশেষে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তিনি বলেন, কাফের মুশরিকরা একদিন আমাকে লজ্জা দেয়ার জন্য তাচ্ছিল্যভরা কন্ঠে বললো, শুনলাম তোমাদের নবী নাকি তোমাদের শৌচকর্মের নিয়মকানুনও শেখায়? তাদের ভাষায়- إنا لنرى صاحبكم يعلمكم، حتى يعلمكم الخرأة! “আমরা জানতে পারলাম, তোমাদের নবী নাকি তোমাদের অনেক কিছু শেখায়; এমনকি টয়লেটের নিয়মও শেখায়?” সালমান ফারসি (রা) তাদের ঠাট্টা ও তাচ্ছিল্যের বিপরীতে অত্যন্ত জোরালো কন্ঠে, গর্বের সাথে ও বুক ফুলিয়ে বললেন- إنه ينهانا أن نستقبل القبلة، وأن يستنجي أحدنا بيمينه، ونهانا عن الروث والعظام. “হ্যাঁ; আমাদের নবী আমাদের কিবলার দিকে মুখ দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে নিষেধ করেন। তিনি আরও বারণ করেন, আমরা যেন ডান হাতে ইস্তিঞ্জা না করি এবং ঢিলা-কুলুখ হিসেবে গোবর ও হাড্ডি ব্যবহার না করি।” এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, কাফের মুশরিকরা যে বিষয়টি লজ্জার ও অপমানের বলে ধারণা করেছিল, সালমান ফারসি (রা) সে বিষয়টিকেই অত্যন্ত গর্বের সাথে উল্লেখ করলেন। কারণ সত্য ধর্মে মানুষের দৈনন্দিন প্রতিটি বিষয়ের সমাধান থাকবে; এটাই তো স্বাভাবিক।

পৃথিবীতে এমন কোনো মানুষ পাওয়া যাবে না, যার শৌচকর্মের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু এটা মানুষের স্বভাবজাত ও সৃষ্টিগত বিষয়, তাই এক্ষেত্রেও ধর্মীয় নির্দেশনা অবশ্যই থাকা চাই। এভাবে মানবরচিত ধর্ম ও তন্ত্রমন্ত্রের দিকে তাকালে এবং ইসলামের বিধিবিধানের দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করলে বোঝা যায়, ইসলামের সৌন্দর্য কোথায়। আল্লাহ আমাদের এসব সৌন্দর্য অনুধাবনের এবং নিজেদের ঈমানকে মজবুত ও রবের কাছে গ্রহণীয় করে গড়ে তোলার তাওফীক দান করুন।

লেখকঃ ইমাম ও খতিব, সোনালী ব্যাংক স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদ, মতিঝিল