ছেলেদের জন্য ৩০ লাখ টাকা সুদে ঋণ করে দিতে না পেরে মায়ের ‘আত্মহত্যা’

প্রচ্ছদ সারাদেশ

বরিশাল প্রতিনিধি

দুই ছেলের ঢাকায় জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণের টাকার জোগান দিতে সুদে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে বরিশালের উজিরপুরে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ভাই পিপুল সরদারের মুরগির ফার্মে তার লাশ পাওয়া যায়।

নিহত নারীর নাম নিকু বেগম (৫৫)। তিনি উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের খোলনা গ্রামের সুজন খানের স্ত্রী। জানা গেছে, এই নারী ২৫ ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন।

লাশ উদ্ধার করে সন্ধ্যায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন লাশ উদ্ধার করে নিয়ে আসা এসআই তরুন হালদার।

ওই গ্রামের বাসিন্দা রিনা বেগম জানান, তার কাছে থেকে ৮ লাখ টাকা নিয়েছেন নিকু বেগম। ছেলেদের জন্য ঋণ নিয়ে টাকা পরিশোধ করছিলেন না। আরও অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেন। সোমবার রাতে সালিশি বৈঠকের খবর পেয়ে সব পাওনাদার সেখানে আসেন।

তিনি ‍আরও জানান, ‍এর মধ্যে কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা বিভিন্ন স্থান থেকে ঋণ নিয়ে নিকু বেগমকে দিয়েছেন। তারা যেসব ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন তারা তাদের চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু নিকু তাদেরও টাকা পরিশোধ করছিল না।

সোমবার রাতে সালিশে থাকা নূরে আলম সিকদার ও সেলিম তালুকদার বলেন, নিকু বেগমের দুই ছেলে সোহেল ও রুবেল ঢাকায় থাকে। ছেলেদের জমি ও সেখানে বাড়ি নির্মাণে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা সুদে ঋণ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন গেলেও তিনি টাকা পরিশোধ করছিলেন না। এ জন্য বারবার তার নিকট ধরনা দিলেও কোনও কাজ হয়নি।

তারা আরও বলেন, তাদের স্ত্রীর কাছ থেকে সুদে টাকা আনেন নিকু। এ ছাড়া গ্রামের কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ জনের কাছ থেকে এ ঋণ করেন। এ নিয়ে প্রায়ই নিকুর সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা হতো। কোনোভাবে টাকা না পেয়ে সালিশ বসানো হয়। সেখানে আরও যারা সুদে টাকা দিয়েছেন তারাও উপস্থিত ছিলেন। সবার সম্মতিতে সিদ্ধান্ত হয় স্বল্প সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের। মঙ্গলবার সকালে খবর পান নিকু আত্মহত্যা করেছেন। সালিশে আরও উপস্থিত ছিলেন রফিক সরদার, সবুজ শিকদার ও মামুন শিকদার। রাত ২টা পর্যন্ত এ সালিশ চলে।

সালিশদাররা বলেন, মূলত নিকু বেগম ঋণ পরিশোধ করতে জমি বিক্রি করতে চাইছিলেন। কিন্তু তার ভাই জমি বিক্রিতে বাধা দেন। এ নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গেও তার বাগবিতণ্ডা হয়।

বামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ হাওলাদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তার দুই ছেলের ঢাকায় জমি কেনা ও বাড়ি নির্মাণে বহু লোকের কাছ থেকে সুদে ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু তা পরিশোধ করছিলেন না। খবর পেয়েছি আত্মহত্যা করেছেন। এর বেশি কিছু আমি জানি না।

উজিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তৌহিদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সুদে ঋণ নেন। ওই টাকা পরিশোধ করতে বাবার বাড়ি থেকে পাওয়া জমি বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভাইয়েরা বাধা দেন। এসব কারণে হতাশ হয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।