কবিরাজদা শুফমদা

প্রচ্ছদ শিল্প ও সাহিত্য

শাবলু শাহাবউদ্দিন

ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ফাঁকা। দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধ শেষে পরিত্যক্ত আবাস ভূমি। ক্লিনিকগুলো দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকাল থেকে বসবাস করে আসছে ভূতেরা। এ যেন ভূতের আবাসভূমি। জেলা শহরে হঠাৎ কী এমন ঘটলো; বুঝে উঠতে পারছে না ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্লিনিকগুলোর মালিকগণ। সকাল বেলা শহরে মানুষের যে ব্যস্ততা দেখা যায় তা এখন আর চোখে পড়ার মত না। কে জানে কী হয়েছে এই শহরে। সকালে শহরে মানুষের যে আনাগোনা হয় তার সিংহ ভাগ মানুষ গ্রাম গঞ্জ থেকে ছুটে আসে চিকিৎসার জন্য। কিন্তু গত কয়েক মাস হল গ্রাম গঞ্জের মানুষ চিকিৎসার জন্য এখন আর শহরে আসে না। কারণ কী!

কারণ খুঁজতে বড় তৎপর হয়ে উঠলো ডায়াগনস্টিক, ক্লিনিক এবং ফার্মাসিস্টের মালিকগণ। তাদের সাথে যোগ দিল ডাক্তার এসোসিয়েশন, নার্স ফেডারেশন এবং ওষুধ কম্পানির মালিকগণ। দিনে হাজার হাজার কোটি টাকা আয় রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। কারো মাথা ঠিক নাই।
গ্রামে গ্রামে অপরিচিত সাহেব মানুষ! চায়ের দোকানে বসে চা খায়। মানুষের সাথে আলাপচারিতা করে। মানুষের ভালো মন্দ জানতে চায়। গ্রামের মানুষের অসুখ বেসুক না হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া অনেক জায়গায় মারপিটের ঘটনাও ঘটে যাচ্ছে । গ্রামে মানুষের কাছে এ সকল কথা হল অলক্ষ্মীয় কথা। এ কথা মুখে আনা পাপ। এ কথা মুখে আনলে খোদা’তালা নারাজ হয়। গ্রামে গ্রামে গজব সৃষ্টি হয়। অসুখ বিসুখের কথা কেউ কী মুখে আনে? নাউযুবিল্লাহ নাউযুবিল্লাহ। মসজিদে মসজিদে খুদবা পাঠের সময় সকল মানুষের সতর্ক করা হয়েছে। অসুখ বেসুক নিয়ে কোন অপরিচিত মানুষের সাথে আলাপচারিতা করা যাবে না। এটা স্বয়ং খোদা’তালারও  পছন্দ না।
গ্রামের মানুষের সাথে তাই তাঁদের আলাপচারিতা মাঝে হঠাৎ হঠাৎ মারপিটের ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। এখন অনেকেই কৌশলে জিজ্ঞাসা করছে। এই তো মির্জা আব্বাস একটা চায়ের দোকানে বসে একজনের সাথে কথা বলছিল। সে কৌশলে বললো, “যারা রোগী বা অসুখ বিসুখে ভুগছেন কিন্তু চিকিৎসা করাচ্ছেন না, তাদের জন্য সরকার কিছু টাকা দিবে।”
কথা শেষ হতে না হোতেই এক বিশাল লম্বা রোগীর লাইন পড়ে গেলো,  মির্জা আব্বাসের সামনে। এত রোগি তাহলে শহরে কেন চিকিৎসার জন্য যায় না। আশ্চর্য হল আব্বাস। সে জিজ্ঞাসা করলো, তাহলে আপনার শহরের হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যান না কেন?
আমাদের আর ডাক্তার লাগে না। আমরা কবিরাজের ওষুধ খাই। ডাক্তারেরা ভালো না। চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা নেয়। এখন আর আমাদের এত টাকা লাগে না। অল্প টাকায় আমাদের চিকিৎসা দেয় ডাক্তারিয়ন কবিরাজ শুফমদা।
আব্বাস বানরের মত মাথায় হাত দিয়ে চিন্তা করতে লাগলেন, কে এই ডাক্তারিয়ন কবিরাজ শুফমদা। এবার তো এই ব্যাটাকে খুঁজে বের করতে হবে। আব্বাসের সামনে লম্বা লাইন। সে দিকে তার আর খেয়াল নেই। লাইনের মধ্যে থেকে কে যেন এক ছোকরা সাহসী কণ্ঠে বলে উঠলেন, সাহেব আমাদের নামের তালিকাটা তাড়াতাড়ি লন, আমাগো মাঠে যেতে হবে।
আব্বাসের মতিভ্রম ভাঙলো। এত বড় লাইন! কখন শেষ হবে। কৌশলে কাজ করতে গিয়ে মহা বিপদে পড়ে গেলো সে। এখন যারা লাইনে আসছে সব সুস্থ মানুষ। অসুস্থের নাম করে লাইনে দাঁড়িয়ে গেছে। সরকারি টাকা আসবে। নামটা যদি কলেবলে তালিকা তোলা যায়; তাহলে টাকা পাওয়া যাবে।
বিল্লাল চিন্তা করছে এই টাকা পেলে নিজের জন্য লুঙ্গি আর বউয়ের জন্য শাড়ি কিনবে। হাফিজার চিন্তা অন্য রকম , এই টাকা তুলে সে ছাগল/ মুরগি অথবা গরু কিনবে। কত টাকা পাবে তার উপর নির্ভর করছে তার কেনাকাঁটা। হালিম ব্যাপারির চিন্তা ব্যবসায় প্রসার করবে এই টাকা দিয়ে। কদম আলি বুড়োর চিন্তা, এই টাকা দিয়ে সে জমি রেজিস্টার করবে। হরেক রকম মানুষ, হরেক রকম তাদের চিন্তা।
বাস্তবিক পক্ষে তো সব ভুয়া। সত্য-মিথ্যা, ধর্ম-অধর্ম, ন্যায়-নীতি, শিক্ষা-দ্বীক্ষা সমাজে এমন যা কিছু আছে সব ভুয়া। এমনকি ঈশ্বরের চলমান ধারণাও ভুয়া। সব হল মানুষের প্রয়োজনের খোরাক। যতক্ষণ খোরাক আছে ততক্ষণ মানুষের মাথায় ঈশ্বর, ধর্ম, তত্ত্ব,কর্ম কত কৌশল কাজ করে। সাধারণ মানুষকে বলদ বানিয়ে টিকে তাকার নামই কৌশল। যে যেখানে পারছে কৌশল করছে।
আব্বাসের কৌশল ক্রমে আব্বাসের কাছে বিপদজনক হয়ে উঠছে। সময় যত যাচ্ছে। লাইন তত বড় হচ্ছে। কেউবা লাইনে বার বার দাড়িয়ে যাচ্ছে । বাবা মার নাম পরিবর্তন করে তালিকায় একাধিক বার নাম দিচ্ছে। আব্বাস আবার কৌশল করলো। এদের মধ্যে থেকে শিক্ষিত দু’জন যুবক বের করলো। তাদের হাতে দু’শত টাকা দিয়ে তালিকা তৈরি কারার কাজ বুঝি দিয়ে মিনিবিড়ালের মত করে এখান থেকে কেটে পড়লো।
পরের দিন আব্বাস সাহেব সবাইকে নিয়ে শহরে একটা মিটিং করলেন। মিটিংয়ের তথ্য অনুযায়ী সবাই এখন, কে এই ডাক্তারিয়ন কবিরাজ শুফমদা, তাকে খুঁজতে বের করতে হবে। এক দিন পরে খুঁজে পাওয়া গেলো তার ঠিকানা। তাকে পেতে হলে পারি দিতে হবে নদী। তিন নদীর মাঝ খানে সে এক বিশাল চর। শহর এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে মাঝখানে যেমন টাফিকের জন্য বিশাল গোলচত্ত্ব থাকে , ঠিক তেমনিভাবে  তিন নদীর মাঝখানে এই বিশাল বালুর চর। এই বালুর দ্বীপ লিজ নিয়ে শুফম নামের একজ ব্যক্তি গড়ে তুলছেন বিশাল বাগান। বাগানে হাজার হাজার গাছ-লতা-পাতা। অনেক গাছের নাম কেউ জানে না, শুফমদা ব্যতীত। আছে বিশাল একটা ফ্যাক্টরি। যেখানে তৈরি হচ্ছে ডাক্তারিয়ন কবিরাজের ওষুধ। ক্যান্সার থেকে শুরু করে পাওয়া যায় না এমন কোন রোগের ওষুধ যা তৈরি হয় না এখানে! এক কথায় সবার উপরের চিকিৎসা খানা এইটা।
আজকে এত রোগি? ব্যাপারটা কী! তাও আবার সবাই সাহেব! কর্মচারী কর্মকর্তাদের মুখে কোন কথা নেই।
আজ তো ডাক্তারিয়ন কবিরাজ  সাহেব বসেন না। আপনারা জানেন না?
না।
আসলে কেউ তো জানে না। তবে তারা কবিরাজের সাথে দেখা করবে।
কবিরাজকে একটু ডেকে দিন।
না। তা হবে না। তিনি নিয়মের বাইরে যান না
এবার আব্বাসদের মাথায় নতুন কৌশল কাজ করছে। সে বললো, আমরা সরকারি লোক, প্রশাসন থেকে এসেছি।
গ্রাম প্রশাসন মানেই পুলিশ। আর পুলিশ মানেই নির্ধারিত পোশাক। ভুয়া সরকারি লোক। এই বলে দাবরাইতে থাকে কর্মচারী কর্মকর্তাগণ তাদের। কোন ক্রমে জানে বেঁচে শহরে ফিরে এলো আব্বাসেরা।
পড়ে দিন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর ছাপা। ভুয়া  কবিরাজ বাবার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা শহরের পর্যটকদের উপর ডাকাতি। ভুয়া নিউজ পড়ে অনেক সাংবাদিক ঐ চরে গিয়ে হাজির। তারা গিয়ে দেখে এ কী এলাহী কারবার। ঢালাও ভাবে নিউজ হতে থাকে। কোথাও ভালো নিউজ কথাও খারাপ নিউজ। এত অল্প টাকায় চিকিৎসা! দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ কৌতূহলের বসতে আসতে থাকে এই দ্বীপে। ওষুধ নিয়ে যায়। রোগ ভাল হয়।
দিনে দিনে ডাক্তারিয়ন কবিরাজ শুফমদা আর একা একা রুগি সামাল দিতে পারে না। আগে মাসের প্রথম সপ্তাহে এবং মাসের মাঝের সপ্তাহে রুগি দেখতো। আর বাকি সময় গবেষণা করতো গাছগাছালি নিয়ে। তৈরি করতো ওষুধ। এখানে আছে বিশাল গবেষণাগার এবং লাইব্রেরি।
সারাদেশে একটা হই হই কাণ্ড ঘটে গেলো। তাহলে কী ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক, ওষুধের দোকান, ওষুধ তৈরির কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তা তো হতে দেওয়া যায় না। ওষুধ কম্পানি এসোসিয়েশন, ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশন, ডাক্তার এসোসিয়েশন, নার্স ফেডারেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সবাই মিটিং ডাকলো। কিছু একটা করা চাই। মিটিং শেষে। প্রশাসন পাঠান। জ্বালিয়ে দিন ঐ ভণ্ড ডাক্তারিয়ান কবিরাজের আস্তানা।
সরাসরি এসপি এবং জেলা প্রশাসক সহ অসংখ্য সরকারি লোকজন আগমন ঘটলো এই দ্বীপে। জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপচারিতায় বসলেন শুফমদা।
আইনের বাইরের কোন কাজ করতে পারে না সরকারি প্রশাসন। দ্বীপের লিজের কাগজ আছে, আয়োর্বেদীক ওষুধ তৈরির লাইসেন্স আছে, ওষুধ বিক্রির লাইসেন্স আছে, মেডিসিন আমদানির অনুমতিপত্র আছে। পরিবেশ রক্ষার সনদ আছে। সুতরাং প্রশাসনের কিছুই করার নেই।
তাহলে কী আধুনিক সব ডাক্তারি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে? ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবসার কী হবে? কী হবে ডাক্তারদের ভবিষ্যৎ? ওষুধ তৈরী কারখানা, ফার্মাসী, বিদেশীদের চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সব কী অচল হয়ে যাবে? এসব থেকে সরকার প্রচুর ট্যাক্স পায়, আয়কর পায়, চলে রাষ্ট্র যন্ত্র।
তাহলে মামলা দেও আয় কর ফাকির। ডাক্তারিয়ান কবিরাজ এবার শেষ।
না। তাতেও কিছু করা গেলো না। দেশ বরেণ্য অজানা শ্রেষ্ঠ আয় কর দাতা এই সেই শুফমদা। তার ফ্যাক্টরি দেশের দশম ট্যাক্স দাতা প্রতিষ্ঠান। তাহলে কী করা যায় এখন?
প্রশ্ন উঠলো শুফমদার ডাক্তারী যোগ্যতা নিয়ে।
শুফমদা শুধু এমবিবিএস ডাক্তার না। তিনি একজন মেডিসিন বিষয়ক ডক্টরেটও বটে। আছে বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সনদও সাথে। শুধু তাই নয় উদ্ভিদবিজ্ঞান ও মেডিকেল সাইন্সের উপর কাজ করার জন্য পেয়েছে অসংখ্য বিশ্ব বরেণ্য নামিদামি প্রাইজ। এ যেনো সব জানা সমপেষু ডাক্তারিয়ান কবিরাজ শুফমদা।
শুফমদার সকল সনদ অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা হল। কেউ কোন ভেজাল পেলো না তাতে। এখন একটা কাজ করা যেতে পারে। শুফমদাকে গুম করতে হবে। তবেই প্রাণ ফিরে পাবে আব্বাসদের ব্যবসায়। মিটিং শেষে এই সিদ্ধান্ত  হল চুড়ান্ত। টাকা যতখরচ হয় হোক। গুম করতে হবে এবং প্রচণ্ড রকম ভয় দেখাতে হবে। যাতে বেটা বাপ বাপ করে দেশ ছেড়ে পালায়। সকল স্থানীয় নেতা-মাস্তান গুমকারিদের সাথে যোগাযোগ করা হল। কাজ হলো না। তারা মাস্তান কিংবা গুমকারি হতে পারে কিন্তু মানবতার শত্রু হতে পারে না। রাশি রাশি টাকার প্রস্তাব ফেরত দিচ্ছে ঐ মাস্তানেরা। অবশেষে সুদূর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাই থেকে আনা হল গুমপার্টি। গুম হয়ে গেলো শুফমদা।
এক মাস দুই মাস তিন মাস। শুফমদার কোন খবর নেই। নিষ্প্রাণ শহরগুলোতে প্রাণ ফিরে এসেছে। রমরমা চলছে ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার সহ ওষুধ ব্যবসায়। কোথাও কোথাও দোয়া মাহফিলের আয়োজনও করা হয়েছে; শুফমদার নিখোঁজের খুশির সংবাদ পেয়ে। মসজিদে মসজিদে মোল্লা মুসল্লী আল্লাহ্ কাছে প্রার্থনা করছে শুফমদাকে আল্লাহ্ যেন আর ফিরে না দেয়। সব ফেডারেশন এবং এসোশিয়েশন এখন খুশি। মসজিদে মসজিদে মিলাদ হয়ে গেছে। সব কিছু কিল্লাফতে। আর শুফম ফিরছে না।
অন্য দিকে সেই যে জেলাপ্রশাসক কে সরকার এই দ্বীপে পাঠিয়ে ছিল শুফমের আস্তানা জব্দ করার। সে সেই অপরেশন আনসাকসেড করে ছিল বলে তাকে বদলি করে মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বেশ কিছু দিন ধরে এই বিচারা খুব অসুস্থ। চিকিৎসা করিয়েছেন নানা নাম করা প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু ফলাফল কিছুই হয়নি। তাই সে চিকিৎসা নেওয়া জন্য শুফমের আস্তানায় এসেছে। সে কল্পনাও করতে পারে নাই। এই আস্তানার এই অবস্থা হবে। সব কিছু লন্ডন ভণ্ড। কাঠ ও ফলের গাছপালা সব শেষ। যা আছে তাতে গরু ছাগল ভেড়া বকরি চড়ছে। গবেষণাগারের নেই বলতে কিছুই নেই। লাইব্রেরীতে এদিকে ও দিকে পরে আছে বই পত্র। লাইব্রেরীর দেওয়ালগুলো ইট সব উধাও। বইয়ের রেকগুলো নিয়ে গেছে জনগণ। মহামূল্যবান বইগুলো কেবল এদের কাছে অখাদ্য। হাইরে জাতি। কচু খাইলি কিন্তু শুয়োর খাইলি না।
অবশেষে বইগুলো নিয়ে শহরে ফিরে এসে ঐ বিচারা জানতে পারলেন শুফমের গুমের সংবাদ সবাই জানে। সাংবাদিক, সুশীল সমাজ কারো অজানা নেই। এই খবর। তাহলে কোন পদক্ষেপ কেন নেওয়া হল না? প্রত্যুত্তরে জানা গেলো তাদের লাভ কী? সত্যি তো শুফম ফিরে আসলে এদের লাভ কী হবে!
কারো লাভ হোক বা না হোক তাতে বাতেনের ( সেই জেলাপ্রশাসকের নাম বাতেন) কিছু আসে যায় না। বাতেনের জীবন বাঁচাতে দরকার এখন ডাক্তারিয়ান কবিরাজ শুফমদাকে। যে করেই হোক শুফমদাকে খুঁজে বের করতে হবে। কিন্তু কে বের করবে এই শুফমদাকে?
অনেক খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেলো শুফমদা এখন দুবাইয়ে আছে। ওয়ার্ল্ড আন্ডার গ্রাউন্ড মাস্টার ঈব্রাইমের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এখন শুফমদা। তাকে কে আর দেশে ফিরাবে। শুধু শুফমদা নয় দেশের হাজারও দাদার মেধা বুদ্ধি এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে দুবাইয়ের আন্ডার গ্রাউন্ডে। কে রাখে কার খবর। কথা সাহিত্যিক হূমায়ুন আহমেদ একবার চেষ্টা করেছিল তার গুপ্তবিদ্যা নাটকে। কিন্তু তিনি কী পেরেছিলেন? প্রশ্নটা আজও সবার অজানাই রয়ে গেলো। বাতেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ছুটে  চললো দুবাইয়ে শুফমদার অনুসন্ধানে। কে জানে কী আছে সাবেক জেলা প্রশাসক বাতেনের কপালে !

শাবলু শাহাবউদ্দিন

কবি ও গল্পকার

পাবনা বাংলাদেশ।