ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রচ্ছদ সারাদেশ

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এপিপি অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজনের ওপর হামলা ও বাসায় ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেট মহানগর হাকিম আদালতে (১ম) ছাত্রলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি কোতোয়ালি থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ম আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান ভূঁইয়া এই আদেশ দেন। আদালত তার আদেশে বলেন, এজহার হিসেবে নথিভুক্ত করার পাশাপাশি মামলাটি যেন দ্রুত বিচার আইনে নথিভুক্ত করা হয়।
nagad

মামলায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদের এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, সিলেট ইনঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মিছবাউল করিম রফিকসহ ৫২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজন বাদী হয়ে এই মামলা রুজু করেছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ও মামলার বাদী অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী পূজন।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট নগরের দাড়িয়াপাড়া এলাকায় প্রবাল চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পূজন পায়ে স্প্লিন্টার বিদ্ধ হন। এসময় তার বাসায় ভাঙচুর করেন ছাত্রলীগ নেতারা।

এদিকে, প্রবাল চৌধুরের ওপর হামলার ঘটনা খতিয়ে দেখার জন্য শুক্রবার (১১ আগস্ট) তদন্ত কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। তদন্ত কমিটির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় উপ দপ্তর সম্পাদক সানি মোহাম্মদ আকাশ। তিনি জানান, হামলার বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলের সিদ্ধান্তনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফুয়াদ হোসেন শাহাদত, সহ সভপতি বরিকুল ইসলাম বাধন, সহ সভাপতি মাইনুল হাওলাদা ও আইন বিষয়ক সম্পাদক তাওহিদ বনি।

মামলায় অ্যাডভোকেট প্রবাল চৌধুরী যে ৫২ জনের নাম উল্লেখ করেছেন তারা হলেন- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপি নাজমুল ইসলাম (৩৪), সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ (৩০), মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈম আহমদ (৩২), ইসফাকুর নূর চৌধুরী (২৪), আহমদ উদ্দিন সাজন (২৬), তানভীর আহমেদ (৩৮), আনহার ওরফে শোটার আনছার (২৯), কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, শান্ত আহমদ (২৬), মিছবাউল করিম রফিক (২৮), অনিক (২৪), জাবেদ আহমদ চৌধুরী (৩৫), হাসান মাহমুদ (৩০), মান্না কোরেশী (২৪), সাগর (২৪), মুহিত খান (২৪), আহমেদ ইয়াসিন (২৬), কামিল রাজা (২৫), জাকিরুল ইসলাম জাকির (৩০), রাসেল আহমেদ (২৭), মুহিউদ্দিন রাসেল (৩০), সাগর সরকার (২৮), নাসিম চৌধুরী (২২), শাহ আলম স্বাধীন (২৭), ইয়াছিন আহমেদ মারুফ (২৮), আহমদ আলী (২৮), আশরাফুল আম্বিয়া (২৮), জাহিদুল হক তাহমিদ (২৬), মো. এমাদ (২৪), মনিউল আলম (২৭), মাহবুবুর রহমান চৌধুরী রেমু (২৮), কাজী জুবায়ের আহমদ (২৬), মো. আকাশ আর চৌধুরী (২২), আকাশ ঘোষ (২৬), বিরাজ দাস (২৫), নাঈম আহমদ (২৬), এস.কে সাজু (২৭), মো. আকিব চৌধুরী (২৫), সাকির হোসেন শাহীন (২৬), সালমান (২০), বিশাল দাস (২৫), খন্দকার মাহমুদুল হাসান জনি (২৫), ফরহাদ খান (২৬), রেদওয়ান আহমেদ রেজা (২৫), রাতুল কর পুরকায়স্থ (২২), সৌরভ (২০), আহাদ (২২), আতিকুল আলম (২৯), সারওয়ার আহমদ নাহিদ (২৫), আজিজুর রহমান মুন্না (২৬), কনুজ ধর (২০) ও জিহান আহমদ (৩৩)।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এসে পৌঁছায়নি। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।