ইথিওপিয়ায় সেনাবাহিনী-মিলিশিয়া সংঘর্ষ, আমহারায় জরুরি অবস্থা

আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ

ইথিওপিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অঞ্চল আমহারাতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার এই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় ফানো মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

গত সপ্তাহে অঞ্চলটিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। গত বছর  নভেম্বরে টাইগ্রে অঞ্চলে দুই বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের পর এই সংঘাত দেশটির গুরুতর নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে।

শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য বৃহস্পতিবার আমহারার আঞ্চলিক সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অতিরিক্ত সহযোগিতার আবেদন করেছে।

ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, নিয়মিত আইন ব্যবস্থায় এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা জরুরি হিসেবে উঠে এসেছে।

এই ঘোষণার ফলে সরকার জমায়েত নিষিদ্ধ, পরোয়ানা ছাড়া গ্রেফতার এবং কারফিউ জারি করতে পারবে।

তাইগ্রেতে সংঘাতের সময় ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিল এই ফানো মিলিশিয়ারা। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার উদ্যোগ নিলে সম্পর্কে টানাপড়েন দেখা দেয়।

আমহারার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গোন্ডারের দুই বাসিন্দা শুক্রবার বলেছেন আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তীব্র লড়াই হয়েছিল।

একজন স্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামরিক বাহিনী সরে গেছে। কিন্তু কোনও কারণ জানায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আমহারায় তাদের নাগরিকদের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

ইথিওপিয়ার ১১টি অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীকে পুলিশ বা সেনাবাহিনীতে একীভূত করতে আবি আহমেদ নির্দেশ দেওয়ার পর এপ্রিল মাসে আমহারাজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, আমহারাকে দুর্বল করার জন্য এমন আদেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় ঐক্য নিশ্চিত করা।