হাফেজ রেজাউল হত্যার বিচার দাবিতে কওমী ছাত্র ফোরামের মানববন্ধন

চলমান হালচাল জাতীয় প্রচ্ছদ

২৮ জুলাই রাজধানীর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশ শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে মাদরাসাছাত্র হাফেজ রেজাউল করিমের খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কওমী ছাত্র ফোরাম। অন্যথায় দেশের কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

সোমবার (৩১ জুলাই) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘মাদরাসাছাত্র হাফেজ রেজাউল করিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিতে’ আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তারা।

বাংলাদেশ কওমী ছাত্র ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হক সাখীর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জামিল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনটির শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আমরা জেনেছি যে- ‘জন্ডিস আক্রান্ত রেজাউলের শরীরে জ্বর ছিল। ওষুধ কিনতে ঢাকার গুলিস্তানে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মধ্যে আটকে মারপিট ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ আমরা নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা বলেন, রেজাউল কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী নয়। কিন্তু এরপরও সন্ত্রাসীরা হাফেজ রেজাউলকে রাজপথে নির্মমভাবে খুন করেছে। এই খুনের সঙ্গে কারা জড়িত তা নূন্যতম তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও এ বিষয়ে প্রশাসন তৎপর হয়নি। যা খুবই দুঃখজনক। দেশের প্রতিটি নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে ন্যায়বিচারের অধিকার রাখে। এ হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক বিবেচনায় না দেখে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করতে হবে। অবিলম্বে হাফেজ রেজাউলের খুনিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনলে বাংলাদেশের ইসলামপন্থি ছাত্র-জনতা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনটির নেতারা।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- যুব সমাজের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসউদ খাঁন, বাংলাদেশ কওমী ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বান্দা মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ, মাহমুদ হাসান, সাজিদ আবদুল্লাহ, ইকরামুল মারজান চৌধুরী, সাদ উল্লাহ খাঁন, বান্দা মুহাম্মাদ আবুল হুসাঈন প্রমুখ।