ভালুকায় ৬৩ জন নবীন আলেমকে সংবর্ধনা

প্রচ্ছদ সারাদেশ

মুহাম্মদুল্লাহ, ভালুকা (ময়মনসিংহ)

২০১৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সারাদেশের প্রসিদ্ধ–অপ্রসিদ্ধ বিভিন্ন মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদীস (মাস্টার্স) শেষ করা ময়মনসিংহের ভালুকার ৬৩ জন নবীন আলেমকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

আজ শনিবার (১৫ জুলাই) বেলা ১১ টায় তাকওয়া ফাউন্ডেশন ভালুকা শাখার উদ্যোগে সিটি গার্ডেন–২ হলে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ–১১ আসনের এমপি আলহাজ কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরশাদুল আলম, সাইফুর্সের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইফুর রহমান খান, গ্রীণ অরণ্য পার্কের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এবং শেফার্ড গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার মোখলেছুর রহমানসহ আরো অনেকে।

আলোচনা করেছেন প্রখ্যাত আলেম মরহুম মাওলানা মহিউদ্দিন খানের সন্তান ও মাসিক মদিনার সম্পাদক মাওলানা আহমদ বদরুদ্দীন খান, তাকওয়া ফাউন্ডেশন ভালুকা শাখার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীনসহ স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের অনেক আলেম।

এ সময় তাকওয়া ফাউন্ডেশন ভালুকা শাখার সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য, বর্তমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তাকওয়া ফাউন্ডেশন ভালুকা শাখার এই উদ্যোগকে সাদুবাদ জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ–১১আসনের এমপি আলহাজ কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু বলেন, তাকওয়া ফাউন্ডেশনের শুরু থেকেই আমি তাদের সঙ্গে আছি এবং যতদিন তারা মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজ করে যাবে আমি তাদের সঙ্গে আছি।

তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় এই তাকওয়া ফাউন্ডেশন অনেক কাজ করেছে। ওই সময় তো পরিবারের লোকজনও করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে দূরে থেকেছে। কেউ কারো কাছে যায়নি। তখন এই তাকওয়া ফাউন্ডেশন করোনা আক্রান্তদের জন্য কাজ করেছে। লাশ দাফন করেছে।

এমপি কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু বলেন, ওই সময় আমি নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন কেমন লেগেছে আমি জানি। তাকওয়া ফাউন্ডেশন থেকে করোনার ওই কঠিন সময়ে আমার কাছে যখন সহযোগিতার জন্য গিয়েছে, আমি তাদের সহযোগিতা করেছি। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি প্রশাসনিক সহযোগিতাও করেছি।

তিনি আরো বলেন, করোনার সময় আমি নিজে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি উপস্থিত হয়েছি। ওই সময় আমি একটা আলাদা ঘরই রেখেছিলাম–যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী রাখা ছিল। দরিদ্র বা বিপদগ্রস্ত মানুষেরা সেখান থেকে নির্দ্বিধায় সহযোগিতা নিত। স্কুল-কলেজের শিক্ষকরাও সেখান থেকে সহযোগিতা নিয়েছেন। কেউ দিনে সঙ্কোচ বোধ করলে রাতে এসে নিতেন।

এ সময় তিনি তাকওয়া ফাউন্ডেশন থেকে নবীন আলেমদের সংবর্ধনা দেয়াকে ভালো ও প্রশংসিত উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ বড় মসজিদের খতিব ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহসভাপতি আল্লামা আবদুল হকের মোনাজাতের মাধ্যমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।