মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন নরসিংদী-১ (নরসিংদী সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।খায়রুল কবির খোকন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খায়রুল কবির খোকন। এর আগে ২০০৫ সালের উপনির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবার তাঁকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সংসদীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছেন খায়রুল কবির খোকন।
১ ঘন্টা আগে পড়ুনবাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুমের অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করছেন।এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের কথিত হিংস্র ও খুনে মানসিকতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়ের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগএনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কয়েকজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।এনসিপির নেতারা বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাটি তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তাঁরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিএনসিপির নেতারা বলেন, যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, স্বৈরাচারের পতন ঘটানো জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। বিদেশের মাটিতে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত এনে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও বিদেশের সব মঞ্চে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুমের অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করছেন।এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের কথিত হিংস্র ও খুনে মানসিকতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়ের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগএনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কয়েকজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।এনসিপির নেতারা বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাটি তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তাঁরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিএনসিপির নেতারা বলেন, যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, স্বৈরাচারের পতন ঘটানো জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। বিদেশের মাটিতে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত এনে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও বিদেশের সব মঞ্চে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।