ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার দিনভর চলা অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার।ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত করা হয়।বিমানবন্দর থেকেই আটক সিজেপির নেতারাসিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয়।বিমান থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন। অথচ তাঁদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।মমতা-কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতারা আটকদুপুরে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই দিন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয়। তিনি দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থী নেতারাও আটকবিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হন। তাঁদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।গুরুদোয়ারা থেকে মিছিলে বাধা, লাঠিচার্জের অভিযোগগত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানে আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগবিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।সিজেপির অভিযোগ, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তথ্যভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ে চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সূত্র: বিবিসি
৯ ঘন্টা আগে পড়ুনপ্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা শুনে ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা। যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের জবাবও চান পরীক্ষার্থীরা।এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন জমা পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগের দিনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ তাঁদের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন
কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিতকার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।পুরস্কার ও স্বীকৃতি২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন। ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।
অভিজিৎ দ্বীপকের দাদির মৃত্যু
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকের দাদি মারা গেছেন। শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ৮৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিৎ জানতে পেরেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।দাদির মৃত্যুর দিনই মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছান অভিজিৎ দ্বীপক। দলের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুই সহযোগীকে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তবে বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করা হয়।কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। এ দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল দলটির।এদিকে অভিজিতের বাবা ভগবান দ্বীপক ও মা অনিতা বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে রয়েছেন। তাঁদের বাড়ির চারপাশে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা হিঙ্গোলিতে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে অভিজিৎকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের বাধা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দিল্লিগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তরমন্তরে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সূত্র: আইএএনএস
ছাত্রদলের তিন নেতা ও হল জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিল
১৫ ঘন্টা আগেপ্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা শুনে ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা। যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের জবাবও চান পরীক্ষার্থীরা।এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন জমা পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগের দিনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ তাঁদের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।
কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিতকার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।পুরস্কার ও স্বীকৃতি২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন। ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।
ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকের দাদি মারা গেছেন। শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ৮৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিৎ জানতে পেরেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।দাদির মৃত্যুর দিনই মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছান অভিজিৎ দ্বীপক। দলের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুই সহযোগীকে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তবে বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করা হয়।কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। এ দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল দলটির।এদিকে অভিজিতের বাবা ভগবান দ্বীপক ও মা অনিতা বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে রয়েছেন। তাঁদের বাড়ির চারপাশে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা হিঙ্গোলিতে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে অভিজিৎকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের বাধা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দিল্লিগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তরমন্তরে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সূত্র: আইএএনএস
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে
একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে
একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে
একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।