ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সেনা মোতায়েন কিংবা সামরিক অভিযানে অংশ না নিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সতর্ক করেছে ইরান। তেহরান বলেছে, সিউল এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি সমর্থন হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে ইরান।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে কোরিয়ান ভাষায় এ সতর্কবার্তা দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।বার্তায় বাঘাই বলেন, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক ৬৪ বছরেরও বেশি পুরোনো। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এ সম্পর্ককে তেহরান গুরুত্বের সঙ্গে দেখে এবং সিউলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানি জনগণ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধের কঠোর জবাব দেওয়ার কথাও বলেন ইরানের এই মুখপাত্র।বাঘাই সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো পক্ষের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে আগ্রাসী পক্ষকে সরাসরি সহায়তা হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান। এমন পদক্ষেপের ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কোনো সার্বভৌম ও দায়িত্বশীল সরকারই ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইলের’ কাছে নতি স্বীকার করে না।ইসমাইল বাঘাইয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের শুরু করা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির দায় ও বোঝা অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

২ ঘন্টা আগে পড়ুন

জামায়াতের স্থানীয় কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ, শার্শায় বিএনপিতে ২০ পরিবারের ৬০ সদস্য

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, সহনশীল রাজনীতির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আবার হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ রাজনীতিতে সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দিনকে ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।তাঁর ভাষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।এর আগে সকালেই সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর। সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এর আগে সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি।

ইউনেস্কোর ডিজিটাল লার্নিং উইকে যোগ দিতে প্যারিসে শিক্ষামন্ত্রী

ইউনেস্কোর আয়োজনে ডিজিটাল লার্নিং উইক -এ অংশ নিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।রোববার রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা।ইউনেস্কোর বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন মন্ত্রীআগামী ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ‘এইজ অপ্রোপ্রিয়েটনেস অ্যান্ড এআই ইন এডুকেশন’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর।পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার এজেন্ট-সি, কমপিটেন্সিস অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারে শাস্তির বিধান

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ নামে নতুন এই বিধিমালা গত ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার, মিছিল-শোডাউন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নতুন বিধিমালায় স্বাক্ষর করেছেন।পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধনতুন আচরণবিধির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণার কাজে পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় তথ্য দিতে হবেনতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য জানাতে হবে।ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এআই দিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে বিশেষ বিধাননির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ থাকবে।ধর্মীয় ও সরকারি স্থাপনায় প্রচারণা নয়ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্রসহ অন্যান্য সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকছে।ভোটের দিন ভোটার আনা-নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞানির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা বা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসিনতুন বিধিমালায় আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।প্রচারণায় আসছে বড় পরিবর্তননির্বাচন কমিশনের নতুন আচরণবিধির লক্ষ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়ায় জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ জানিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন ২০টি পরিবারের ৬০ সদস্য। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বাগআঁচড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।যোগদানকারীদের ভাষ্য, জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিজেদের চিন্তা-চেতনা বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।অনুষ্ঠানে শার্শা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আলী বিশ্বাস নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন মনিরুল হক, জাহানারা বেগম, রোজিনা খাতুন, সানজিদা খাতুন, কোহিনূর বেগম, শুকজান, হোসনে আরা, রুপালি, মনিরুজ্জামান মনি, মিনু, ইসমাইল, রুমা, সালমা, আন্না, আবু তাহের, রেবেকা, জোসনা ও ঝরনা।অনুষ্ঠানে মনিরুল হক বলেন, ‘জামায়াতের স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতেই আমরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’আগামী দিনে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির আলম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোনায়েম হোসেন, সিনিয়র সহসভাপতি শাহাজান কবির, বাগআঁচড়া শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা ইসমাইল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্র যেন আবার হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে এসব কথা বলেন তিনি।রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হানাহানি ও সংঘর্ষ নয়, আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ রাজনীতিতে সহনশীলতার পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার পূরণ করে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টির নির্মাণকাজ শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দিনকে ঠাকুরগাঁওসহ এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আনন্দের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।তাঁর ভাষ্য, এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।এর আগে সকালেই সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত স্থানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে এটিই তাঁর প্রথম সরকারি সফর। সফরের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এর আগে সকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি।

ইউনেস্কোর আয়োজনে ডিজিটাল লার্নিং উইক -এ অংশ নিতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।রোববার রাতে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’। এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা।ইউনেস্কোর বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেবেন মন্ত্রীআগামী ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে ‘এইজ অপ্রোপ্রিয়েটনেস অ্যান্ড এআই ইন এডুকেশন’ শীর্ষক সেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর।পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর ‘টিচার্স অ্যাট দ্য সেন্টার এজেন্ট-সি, কমপিটেন্সিস অ্যান্ড দ্য টিচার-স্টুডেন্ট রিলেশনশিপ’ শীর্ষক প্লেনারি সেশনেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। চার দিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ নামে নতুন এই বিধিমালা গত ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার, মিছিল-শোডাউন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ নতুন বিধিমালায় স্বাক্ষর করেছেন।পোস্টার ও মিছিল নিষিদ্ধনতুন আচরণবিধির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ প্রচারণার কাজে পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না।ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের সুযোগও থাকছে না।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় তথ্য দিতে হবেনতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য জানাতে হবে।ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার জন্য যে অর্থ ব্যয় হবে, তা প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এআই দিয়ে অপপ্রচার ঠেকাতে বিশেষ বিধাননির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।এ ছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় বা উপহার দেওয়াও নিষিদ্ধ থাকবে।ধর্মীয় ও সরকারি স্থাপনায় প্রচারণা নয়ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্রসহ অন্যান্য সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকছে।ভোটের দিন ভোটার আনা-নেওয়ায় নিষেধাজ্ঞানির্বাচনের দিন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা বা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে ইসিনতুন বিধিমালায় আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।প্রচারণায় আসছে বড় পরিবর্তননির্বাচন কমিশনের নতুন আচরণবিধির লক্ষ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউনের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

১৯ ঘন্টা আগে
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

৩০ আগস্ট ২০২৬
হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। সেখানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল।এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।তবে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কর্মসূচি প্রত্যাহারব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।শিল্পকলায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তিএদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, এমন তথ্য আগে জানানো হয়নি।জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এনসিপির অনুষ্ঠানকে ঘিরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আপাতত ওই পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

২৯ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।‘আগেও টাকা দিয়েছি’প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতারতবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’আদালতের নির্দেশে মামলামামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৯ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) ও মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮)।এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ছুরিকাঘাতে রাশেদের মৃত্যু হয়। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক ও মারধরের শিকার সোলাইমান শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দোতলায় থাকা বারে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয়।নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার এবং সোলাইমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বারে কথা-কাটাকাটি, পরে ছুরিকাঘাতপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিবুল হক রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়।পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সন্দেহে আটক, পরে হাসপাতালে মৃত্যুরাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোলাইমানকে আটক করে মারধর করেন।পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়েছিল। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে সংঘর্ষের দাবি পুলিশেরকক্সবাজার সদর থানার পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে ওই যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি পরিচালিত হচ্ছিল। হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বারের লাইসেন্স নিয়ে ভিন্ন দাবিতবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং সেটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল, আবার কয়েকজনের ছিল না। ‘ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে’ এমন পরিচয়ে অনেকেই বারে প্রবেশ করেছিলেন।দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২৯ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষাড়িয়াচর ব্রিজে সংস্কারকাজের কারণে ঢাকা অভিমুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার এলাকা থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও রোগীরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বিদেশগামী যাত্রীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়ের ফ্লাইট ধরতে না পারার আশঙ্কায় গাড়ি থেকে নেমে বিকল্প যানবাহনে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় যানবাহনের গতি প্রায় থেমে গেছে। কোথাও ধীরগতিতে গাড়ি চললেও অধিকাংশ জায়গায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি প্রায় স্থির রয়েছে। এর প্রভাব দাউদকান্দি, চান্দিনা ও মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার দিকে ছড়িয়ে পড়েছে।ফ্লাইট ধরতে দুশ্চিন্তায় বিদেশগামী যাত্রীরাকুমিল্লা থেকে বিদেশগামী এক যাত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। তিনি বলেন, ‘চান্দিনা থেকে অটোরিকশা করে গৌরীপুর পর্যন্ত এসেছি। এখন বাজে ১০টা ১২ মিনিট। এয়ারপোর্টে ঢুকতে হবে। এআই ক্যামেরার কারণে উল্টো পথে গাড়ি চলছে না। চার ঘণ্টায় কুমিল্লা থেকে গৌরীপুর এসেছি। সামনে আরও প্রচণ্ড জ্যাম। চান্দিনা থেকে অটোরিকশা ও সিএনজি দিয়ে গৌরীপুর আসতে ১ হাজার ২৫০ টাকা লেগেছে।’অন্যদিকে খন্দকার আরিফ হোসেন জানান, কুমিল্লা থেকে ভোর ৪টায় রওনা দিয়ে চান্দিনা থেকে দাউদকান্দির প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে তাঁর চার ঘণ্টা লেগেছে।তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টা বাজে। এখনো দাউদকান্দি টোলপ্লাজার ১০০ গজ পূর্বদিকে বসে আছি। সামনের দিকে গাড়ি যাচ্ছে না। ছোট বাচ্চারা তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’সংস্কারকাজে এক লেন বন্ধসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আষাড়িয়াচর ব্রিজের ঢাকা অভিমুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গর্তটি বড় হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ কারণে শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সেখানে সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ।সংস্কারকাজের সময় মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। রাতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়ে গেলে এক লেন দিয়ে গাড়ি পারাপার করতে গিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।একপর্যায়ে যানজট দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা ছাড়িয়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচংয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।বিকল্প পথে যাওয়ার সুযোগও সীমিতযানজটে আটকে থাকা কয়েকজন চালক জানান, আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছানোর পর গাড়ির গতি একেবারে কমে যায়। অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে রয়েছে।বিদেশগামী যাত্রীরা দ্রুত ঢাকায় পৌঁছাতে গাড়ি থেকে নেমে সিএনজি ও অটোরিকশায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ১০০ টাকার ভাড়ার জায়গায় কোথাও কোথাও ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।যানজট নিরসনে মাঠে হাইওয়ে পুলিশদাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়াচর ব্রিজ এলাকায় সড়ক সংস্কারের কাজ। এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা বিস্তারিত বলতে পারবে।তিনি জানান, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরবচ্ছিন্নভাবে মাঠে কাজ করছে।ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজট চান্দিনা পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার নিমসার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। সংস্কারকাজের কারণে মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা না গেলে ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও চালকেরা।

২৯ আগস্ট ২০২৬
জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষের চল্লিশা করলেন দম্পতি

জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষের চল্লিশা করলেন দম্পতি

মৃত্যুর পর স্বজনেরা ‘চল্লিশা’ করবেন- এমন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক দম্পতি।শুক্রবার উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের জন্য এ ভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫)। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে ভোজের আয়োজন। অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানানো হয়। চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা ছিল। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা থাকায় কয়েক দফায় খাবার পরিবেশন করা হয়।ভোজের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িকণ্টা, ডাল ও পায়েস। অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আয়োজনে অংশ নেন এবং খাবার পরিবেশনে সহযোগিতা করেন।আয়োজক রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। নিজের এমন আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তাঁর দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর আশঙ্কা ছিল। এ কারণেই জীবিত থাকতেই নিজের হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই আমি এই আয়োজন করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি নিজে বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেব।’তিনি জানান, জীবিত অবস্থায় অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন। মৃত্যুর পর অন্য কেউ আয়োজন করবেন—এমন অপেক্ষা না করে নিজের হাতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।’স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পর চল্লিশার পরিবর্তে জীবিত অবস্থায় এ ভোজ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা রফিকুল ইসলাম ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় আসে।রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর হিসাবে, পুরো আয়োজনে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শান্তা আক্তার (২৫), রানা মিয়া (১৭) এবং তাঁর মেয়ে-জামাই বাবলু মিয়া।ভোজে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, সাধারণত মৃত্যুর পর স্বজনেরা চল্লিশার আয়োজন করেন। তবে জীবিত অবস্থায় একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষের জন্য এমন বড় আয়োজন করায় বিষয়টি তাঁদের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। খাবার পেয়ে তাঁরা আয়োজক দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেন।

২৮ আগস্ট ২০২৬
বেলাব সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ কে এম আক্তারুজ্জামান

বেলাব সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা এ কে এম আক্তারুজ্জামান

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বেলাব সদর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন গাংকুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এ কে এম আক্তারুজ্জামান। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।স্থানীয়ভাবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আক্তারুজ্জামানকে মানুষের পাশে থাকা একজন সমাজসেবক হিসেবে উল্লেখ করছেন তাঁর পরিচিতজনেরা। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সহযোগিতার কারণে বেলাব সদর ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।গাংকুলপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে দেশের সেবায় দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও মানুষের জন্য কাজ করতে চান তিনি।এ কে এম আক্তারুজ্জামান মনে করেন, জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মানুষের সমস্যা শোনা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে একজন জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব। এ কারণে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পেলে বেলাব সদর ইউনিয়নের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে বেলাব সদর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আক্তারুজ্জামানের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততা ও দেশের সেবায় কাজ করার অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তাঁর সমর্থকেরা। এ কে এম আক্তারুজ্জামানের প্রত্যাশা, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে বেলাব সদর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবেন।

২৮ আগস্ট ২০২৬

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

ফয়সাল আহমেদ সুইট ১৯ ঘন্টা আগে
ফয়সাল আহমেদ সুইট
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

৪ ঘন্টা আগে
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। সেখানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল।এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।তবে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কর্মসূচি প্রত্যাহারব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।শিল্পকলায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তিএদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, এমন তথ্য আগে জানানো হয়নি।জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এনসিপির অনুষ্ঠানকে ঘিরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আপাতত ওই পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।‘আগেও টাকা দিয়েছি’প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতারতবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’আদালতের নির্দেশে মামলামামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

১৯ ঘন্টা আগে
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। সেখানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল।এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।তবে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কর্মসূচি প্রত্যাহারব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।শিল্পকলায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তিএদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, এমন তথ্য আগে জানানো হয়নি।জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এনসিপির অনুষ্ঠানকে ঘিরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আপাতত ওই পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।‘আগেও টাকা দিয়েছি’প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতারতবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’আদালতের নির্দেশে মামলামামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...