ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্ট্রাটেজি ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রয়োজনে ইসির ঘোষিত সময় পেছানো বা এগিয়ে দেওয়া হতে পারে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন। এর বাইরে অন্যান্য নির্বাচন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে সময় ঘোষণা করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যকেই বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।আজ সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। এর আগে নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে এ নিয়ে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টিকে ‘গ্যাপ’ হিসেবে দেখার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কাজ করবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার কবে নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে। এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই এটা নিয়ে কোনো কনফিউশনের কিছু নেই।তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়কে সরকারের সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট টাইমলাইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকার চাইলে ওই সময়ে নির্বাচন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আবার আলোচনার মাধ্যমে সময় পেছানো বা এগিয়ে নেওয়াও হতে পারে। ফলে ইসি যে তারিখ ঘোষণা করেছে, ঠিক সেই তারিখেই নির্বাচন হবে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারে কি না, এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন পরিবর্তন করে কোনো কোনো নির্বাচন সরকারের মাধ্যমে আয়োজনের সিদ্ধান্তও নেওয়া সম্ভব। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন দুটি নির্বাচন স্বতন্ত্রভাবে পায়, আর অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত হয়।ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময় উল্লেখ করে আইন ভঙ্গ করেছে কি না এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি বিষয়টিকে এভাবে বলতে চান না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে ব্যাখ্যা নেওয়াই ভালো হবে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে কি না জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার এই অবস্থানেই থাকবে। বিষয়টিকে সংঘাত হিসেবে দেখার চেষ্টা করা ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

৮ মিনিট আগে পড়ুন

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবার নিশ্চিত করল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ জন্য স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিরোধের দিক থেকেও এ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি বলেন, বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো ‘খুব ভেবেচিন্তে’ নির্বাচন করা হয়েছে।ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। মেইঙ্ক আরও বলেন, আকাশের পাশাপাশি মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।গোল্ডেন ডোম ও মহাকাশ প্রতিরক্ষামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর একটি অংশ হবে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা।ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নেওয়া স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। কর্মসূচিটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।রিগ্যানের সেই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। এর আওতায় প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।রাশিয়ার আপত্তিগত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই পরিকল্পনা কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার সিলেটে মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে গেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্য, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় জেলা প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেটকারে সিলেট সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সার্কিট হাউস থেকে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে তিনি হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারও জিয়ারত করবেন।মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিকেলে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অনুষ্ঠান শেষে আবার সার্কিট হাউসে ফিরবেন তিনি।সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর বঙ্গভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রিজভীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন তাঁরা।সাক্ষাতের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।বৈঠকে দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন ও রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম এবং এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সেক্রেটারি ট্রয় মেইঙ্ক গতকাল সোমবার এ তথ্য জানান।মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশনের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেইঙ্ক বলেন, নতুন কোনো হুমকি যেখানেই দেখা দিক, তা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ জন্য স্পেস ফোর্সের কাছে এখন কক্ষপথে মোতায়েন করা এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে সুরক্ষা দিতে পারে। তাঁর মতে, প্রতিরোধের দিক থেকেও এ সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে মহাকাশে মোতায়েন করা অস্ত্রের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি মেইঙ্ক। তবে তিনি বলেন, বক্তব্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো ‘খুব ভেবেচিন্তে’ নির্বাচন করা হয়েছে।ট্রয় মেইঙ্কের বক্তব্যের বরাত দিয়ে এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। মেইঙ্ক আরও বলেন, আকাশের পাশাপাশি মহাকাশেও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, মেইঙ্ক যে প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে এমন সক্ষমতাও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস করা সম্ভব।মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনে আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে এসব অস্ত্র গণবিধ্বংসী অস্ত্র হতে পারবে না।গোল্ডেন ডোম ও মহাকাশ প্রতিরক্ষামার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠা করেন। সে সময় তিনি মহাকাশকে ‘বিশ্বের নবীনতম যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।গত বছর ট্রাম্প ‘গোল্ডেন ডোম’ নামে একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখতে বহুস্তরীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর একটি অংশ হবে মহাকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ব্যবস্থা।ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ১৯৮৩ সালে স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাকালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নেওয়া স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স ইনিশিয়েটিভের (এসডিআই) কথা মনে করিয়ে দেয়। কর্মসূচিটি ‘স্টার ওয়ার্স’ নামেও পরিচিত ছিল।রিগ্যানের সেই উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি পরে সীমিত করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হয়। এর আওতায় প্রস্তাবিত মহাকাশভিত্তিক অস্ত্রও আর মোতায়েন করা হয়নি।রাশিয়ার আপত্তিগত মার্চে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তিনি এটিকে ‘মহাকাশে সামরিকীকরণ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এই পরিকল্পনা কৌশলগত স্থিতিশীলতার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’।২০০০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত ও রাশিয়া এই চার দেশ স্যাটেলাইট-বিধ্বংসী অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।২০২১ সালের নভেম্বরে রুশ সামরিক বাহিনী সোভিয়েত আমলের একটি অব্যবহৃত গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে। তখন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনেই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি বলেও জানিয়েছিল মন্ত্রণালয়। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে গেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্য, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় জেলা প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিমানবন্দর থেকে প্রাইভেটকারে সিলেট সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হলে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে স্বাগত জানান।সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের উদ্দেশে সার্কিট হাউস থেকে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে তিনি হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারও জিয়ারত করবেন।মাজার জিয়ারত শেষে সার্কিট হাউসে ফিরে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর বিকেলে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। অনুষ্ঠান শেষে আবার সার্কিট হাউসে ফিরবেন তিনি।সফরসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁর বঙ্গভবনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন তাঁরা।সাক্ষাতের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।বৈঠকে দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন ও রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম এবং এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

বরগুনার বেতাগী পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার হলেও পাইপলাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ও দক্ষ জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টের বিভিন্ন ট্যাংকে শেওলা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। ফিল্টারিং ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ধুলাবালি ও মরিচা ধরেছে। নদী থেকে পানি সংগ্রহের ইনটেক পয়েন্টেও পলি জমেছে।কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের সময় বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।প্ল্যান্টটি কেন চালু হয়নি, তা নিয়ে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখেই কাজ হয়েছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কাজের মান নিম্নমানের এবং ব্যাপক সংস্কার ছাড়া প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব নয়।প্ল্যান্টের কেয়ারটেকার মো. খোকন তালুকদার বলেন, কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ না থাকায় প্ল্যান্টটি অচল। বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মো: মনির হোসেন পাটোয়ারী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মো: মনির হোসেন পাটোয়ারী
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১ ঘন্টা আগে
পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার
পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...