ঢাকা    রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার দিনভর চলা অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বিরোধী দলের বহু নেতা ও আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৩ হাজার।ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে আয়োজিত এই বিক্ষোভ থেকে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের জমায়েত ঠেকাতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিভিন্ন সড়কে বসানো হয় ব্যারিকেড। কয়েকটি মেট্রো স্টেশন ও বাজার বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও স্থগিত করা হয়।বিমানবন্দর থেকেই আটক সিজেপির নেতারাসিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে বিমান থেকেই আটক করা হয়।বিমান থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে অভিজিৎ দীপকেকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে এসেছেন। অথচ তাঁদের অপরাধীর মতো আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এর আগে সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়। দলটির অভিযোগ, রাস্তায় গাড়ির ভেতর থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ ছাড়া ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে গুরুগ্রামে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।মমতা-কেজরিওয়ালসহ বিরোধী নেতারা আটকদুপুরে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।একই দিন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আটক করা হয়। তিনি দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছিলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতাকেও আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন রয়েছেন।পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে তাঁদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।পিনারাই বিজয়নসহ বামপন্থী নেতারাও আটকবিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নসহ একাধিক বামপন্থী নেতা আটক হন। তাঁদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, বাম নেত্রী বৃন্দা কারাট, এম ভি গোবিন্দন ও পি কে শ্রীমতীর নামও রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়।সিপিআই(এম) সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কয়েকজনকে দীর্ঘ সময় দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যায়। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর আবার অন্যত্র নেওয়া হয়। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাকেও আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। আটকের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনকারীদের যেখানে বাধা দেওয়া হবে, সেখানেই বসে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।গুরুদোয়ারা থেকে মিছিলে বাধা, লাঠিচার্জের অভিযোগগত রাত থেকে দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদোয়ারায় আশ্রয় নিয়েছিলেন কয়েক শ বিক্ষোভকারী। শনিবার সকালে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।বিক্ষোভকারীদের দাবি, গুরুদোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ জন জমায়েত হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।হায়দরাবাদের সফটওয়্যার প্রকৌশলী অজয় জিঙ্গাদের অভিযোগ, সকাল থেকে আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিপুলসংখ্যক পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। পরে লাঠিচার্জ করে অনেককে বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।দিল্লির বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির খবরও পাওয়া যায়। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ দিল্লি হাট এলাকায় জড়ো হন। সিজেপি নেতা আজিঙ্ক্যা শিন্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানান, যেখানে আন্দোলনকারীদের থামানো হবে, সেখানেই যেন তাঁরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আটকের অভিযোগবিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রতিবাদ করা কয়েকজন আইনজীবীকে আটকের খবর পাওয়া যায়। পরে তাঁদের কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়।সিজেপির অভিযোগ, দলটির কয়েকজন সদস্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার তথ্যভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, যাচাই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ মানুষের স্থানান্তর, ৩ কোটি মানুষের খোঁজ না পাওয়া এবং ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যুর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ে চিহ্নিত নামগুলোই বাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো যোগ্য ভোটারের নাম ভুল করে বাদ পড়লে তিনি পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন।অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।শনিবারের ধরপাকড় ও বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচনব্যবস্থার নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা এবং বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।সূত্র: বিবিসি

৯ ঘন্টা আগে পড়ুন

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল পরীক্ষা ১৬ অক্টোবর

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা শুনে ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা। যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের জবাবও চান পরীক্ষার্থীরা।এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন জমা পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগের দিনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ তাঁদের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডীয় কবি অ্যান কার্সন

কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিতকার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।পুরস্কার ও স্বীকৃতি২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন। ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

৫ মিনিট আগে পরীক্ষা ক্যান্সেল- কী নির্মম রসিকতা: হাসনাত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।

অভিজিৎ দ্বীপকের দাদির মৃত্যু

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকের দাদি মারা গেছেন। শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ৮৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিৎ জানতে পেরেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।দাদির মৃত্যুর দিনই মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছান অভিজিৎ দ্বীপক। দলের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুই সহযোগীকে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তবে বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করা হয়।কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। এ দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল দলটির।এদিকে অভিজিতের বাবা ভগবান দ্বীপক ও মা অনিতা বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে রয়েছেন। তাঁদের বাড়ির চারপাশে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা হিঙ্গোলিতে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে অভিজিৎকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের বাধা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দিল্লিগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তরমন্তরে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সূত্র: আইএএনএস

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।এর আগে ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা শুনে ভোগান্তিতে পড়েন তাঁরা। যাতায়াত, থাকা ও খাওয়ার পেছনে অর্থ ব্যয় করেও পরীক্ষা দিতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রার্থীদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত দিনে ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের হাতে ওএমআর শিট দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা আসে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে মতিঝিল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করেন পরীক্ষার্থীদের একাংশ। কোথাও কোথাও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে।পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা বাতিলের আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ও প্রশ্নের নমুনা ছড়িয়ে পড়েছিল। আগেই বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা প্রার্থীদের এমন দুর্ভোগে পড়তে হতো না বলে মনে করেন তাঁরা।প্রশ্নপত্র কীভাবে বাইরে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের জবাবও চান পরীক্ষার্থীরা।এর আগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডি এম আতিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রকৃত প্রশ্নপত্রের আংশিক মিল পাওয়ায় পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদটি ১১তম গ্রেডের। মাত্র ২৪২টি পদের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ আবেদন জমা পড়ায় প্রতিটি পদের জন্য গড়ে প্রায় ১ হাজার ২৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে অনেক প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন।নতুন তারিখ ঘোষণার ফলে প্রার্থীরা আবারও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আগের দিনের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা আয়োজনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে যাতায়াত ও আবাসন বাবদ তাঁদের যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা বিবেচনায় নিয়ে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

কানাডীয় কবি, প্রাবন্ধিক ও ক্লাসিসিস্ট অ্যান কার্সন ২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী’ সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে স্টকহোমে এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটির মতে, ধ্রুপদি সাহিত্য-ঐতিহ্যের সঙ্গে কার্সনের সৃজনশীল সংলাপ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে জন্ম নেওয়া কার্সনের বয়স এখন ৭৬ বছর। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। কবিতা, গদ্য ও অনুবাদের প্রচলিত সীমা অতিক্রম করে তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়।১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম বই ইরস দ্য বিটারসুইট। বইটিতে সাহিত্য-সমালোচনার সঙ্গে গ্রিক ঐতিহ্যের অনুসন্ধানকে যুক্ত করেন কার্সন। তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাচীন সাহিত্য ও দর্শনের উপাদানকে নতুন ভাষা, কাঠামো ও দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করা।নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান অ্যান্ডার্স ওলসনের ভাষ্য, কার্সনের প্রায় সব সাহিত্যকর্মেই শব্দের প্রতি একজন ফিলোলজিস্টের গভীর অনুরাগ এবং নতুন অর্থ আবিষ্কারে একজন কবির আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে মিলেছে।‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ সবচেয়ে আলোচিতকার্সনের সবচেয়ে পরিচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি অটোবায়োগ্রাফি অব রেড, প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে। প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরাসের একটি খণ্ডাংশ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা বইটিতে দীর্ঘ আখ্যানকবিতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্টেসিকোরাসকে ঘিরে পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও রহস্যময় আলোচনা।গ্রিক পুরাণে হেরাক্লিস—যিনি লাতিন নাম হারকিউলিসে বেশি পরিচিত—ডানাওয়ালা দানব গেরিয়নকে হত্যা করে তার লাল গরু নিয়ে যান। এটি ছিল হেরাক্লিসের বারোটি কীর্তির একটি।কার্সন এই পুরাণের গেরিয়ন চরিত্রকে নতুনভাবে নির্মাণ করেছেন। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর গেরিয়ন মায়ের প্রতি অনুগত ও কোমল এক ‘নায়ক’, যে অতীতে ভাইয়ের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। পরে সে প্রেমে পড়ে দাম্ভিক ও রূঢ় হেরাক্লিসের।প্রাচীন পুরাণের এই পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে কার্সন আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, সহিংসতা ও হৃদয়ভাঙার মতো বিষয়কে সামনে এনেছেন। বইটি আধুনিক এক কিশোরের প্রেম, আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক টানাপোড়েনের গল্প হিসেবেও পাঠকের কাছে সমাদৃত হয়েছে।পুরস্কার ও স্বীকৃতি২০০১ সালে দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড কাব্যগ্রন্থের জন্য টি এস এলিয়ট পুরস্কার পান কার্সন। এ পুরস্কারজয়ী প্রথম নারী তিনি। এ ছাড়া তিনি গুগেনহাইম ও ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ অর্জন করেছেন।কার্সনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে প্রশংসা করেছেন প্রাবন্ধিক ও লেখক সুসান সন্ট্যাগও। তাঁর ভাষায়, ইংরেজিতে লেখা যেসব লেখকের যেকোনো রচনা তিনি পড়তে আগ্রহী, কার্সন তাঁদের একজন। ডিসেম্বরে স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে নোবেল পদক ও সনদ গ্রহণ করবেন অ্যান কার্সন। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে বাতিলের ঘোষণা দেওয়ায় প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন লাখ বেকার চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। তাঁদের কেউ টিউশনির টাকা জমিয়ে, আবার কেউ ধারদেনা করে চাকরির আশায় রাজধানীতে এসেছেন।হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, আগের রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়ছিল। অথচ প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী যখন ১০০টি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন, তখন পরীক্ষা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘তিন লাখ মানুষকে ৫ মিনিট আগে জানানো হলো, পরীক্ষা ক্যান্সেল—কী নির্মম রসিকতা!’এত বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তির দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। নতুন করে পরীক্ষা আয়োজন করতে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অর্থ জনগণের। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, দীর্ঘদিন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর একটি পরীক্ষা আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলে চাকরিপ্রার্থীদের আবারও ধারদেনা করে ঢাকায় আসতে হবে। এতে তাঁদের হতাশা ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত আমলা, সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার দাবি জানান এনসিপির এই নেতা। তাঁর আহ্বান, যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে হবে, গ্রেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার শেষে শাস্তি কার্যকর করতে হবে।প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র নির্মূলে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে পদত্যাগ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, মন্ত্রী নিজেই যদি এই চক্রের প্রধান হন, তাহলে সেটি নির্মূল হওয়ার পরিবর্তে আরও বিস্তৃত হবে।

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপকের দাদি মারা গেছেন। শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সান্তুক পিম্পরি গ্রামে বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ৮৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে দাদির মৃত্যুর খবর অভিজিৎ জানতে পেরেছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।দাদির মৃত্যুর দিনই মুম্বাই থেকে দিল্লিতে পৌঁছান অভিজিৎ দ্বীপক। দলের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুই সহযোগীকে নিয়ে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তবে বিমান থেকে নামার আগেই তাঁদের আটক করা হয়।কয়েক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে সিজেপি। এ দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল দলটির।এদিকে অভিজিতের বাবা ভগবান দ্বীপক ও মা অনিতা বর্তমানে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে রয়েছেন। তাঁদের বাড়ির চারপাশে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। দাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁরা হিঙ্গোলিতে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে অভিজিৎকে দাদির শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।সিজেপির সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা সমর্থকদের বাধা দিতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দিল্লিগামী ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি যন্তরমন্তরে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে দিল্লির মেট্রো পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কেন্দ্রীয় পুলিশ বাহিনীর প্রায় ২৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়। সূত্র: আইএএনএস

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১৫ ঘন্টা আগে
জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

১৬ ঘন্টা আগে
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এক বিছানায় দুজনের চিকিৎসা

নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এক বিছানায় দুজনের চিকিৎসা

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১০০। অথচ সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু ও হামের রোগীর পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক রোগীদেরও মিলছে না শয্যা। বাধ্য হয়ে অনেককে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। কোথাও আবার একটি শয্যায় থাকছেন দুজন রোগী।সীমিত জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শয্যা নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে চাপে পড়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়াতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।নরসিংদী জেলা হাসপাতাল জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরাও আসেন। পাশাপাশি জেলার বৃহত্তর রায়পুরা উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষ এ হাসপাতাল থেকে সেবা নেন। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও সেবার মানের কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।দুই সপ্তাহ ধরে রোগী তিন শতাধিকহাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে অধিকাংশ সময়ই দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা তিন শতাধিক। সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৩৫ জন রোগী।তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১০৫ জন, নারী ১৩২ জন এবং শিশু ৯৮ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৩০ জন। এর আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩১৩।জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক জরিপ অনুযায়ী, নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও শয্যা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেককে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও একটি নির্ধারিত শয্যায় দুজন রোগীকেও থাকতে দেখা গেছে।শিশুকে নিয়ে দুই দিন ধরে বারান্দায় আমেনারায়পুরা থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন আমেনা বেগম। কিন্তু শয্যা না পাওয়ায় শিশুকে নিয়ে থাকতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে।আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো লোকও নেই। এই হাসপাতালের সেবার মান ভালো। তাই সিট না পেলেও বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিচ্ছি। তাতেই আগের তুলনায় একটু ভালো।’শিবপুরের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী মোমেন খান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা না পেয়ে অন্য এক রোগী বাইরে যাওয়ার সুযোগে তাঁর বিছানায় শুয়ে শরীরে স্যালাইন নিচ্ছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন, কখন একটি শয্যা খালি হবে।মোমেন খান বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই বা কী করার আছে? এক শয্যার হাসপাতালে রোগী প্রায় সাড়ে তিন শ।’পরীক্ষার চাপও বেড়েছেরোগীর সংখ্যা বাড়ায় চাপ বেড়েছে হাসপাতালের পরীক্ষাগারেও। হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম বলেন, আগে ভর্তি রোগী ও বাইরে থেকে আসা রোগীদের মিলিয়ে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০টি পরীক্ষা করা হতো। এখন প্রতিদিন দেড় শতাধিক পরীক্ষা করতে হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় কাজ সামলাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ১০০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা দিয়ে তিন গুণের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তারপরও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শয্যা ও জনবল বাড়ানোর দাবিনরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও অধিকাংশ সময় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বর্তমানে প্রতিদিনই তিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। এরপরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে। এতে নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে এবং রোগীদের বারান্দার মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার দুর্ভোগ কমবে।

১৭ ঘন্টা আগে
শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মাহিরা ফাতেমা পিউ। প্রিয় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদে মাহিরার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়ামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ শরীফে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে মাহিরার জীবনের প্রতিটি পথ সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য দোয়া করা হয়। মিলাদ শেষে মাহিরা ফাতেমা পিউয়ের সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাবার অনুভূতিমাহিরার বাবা বলেন, সন্তানের জন্ম একজন বাবা-মায়ের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ আমাদের মাহিরাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ, সুন্দর ও নেক জীবন দান করেন।তিনি আরও বলেন, মাহিরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, ভালোভাবে লেখাপড়া করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মায়ের আবেগমাহিরার মা বলেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানের প্রতিটি দিনই বিশেষ। তবে জন্মদিনের দিনটি আরও বেশি আবেগের। আজ মাহিরার জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।তিনি বলেন, আল্লাহ যেন মাহিরাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন, সুস্থ রাখেন এবং তার জীবনে সুখ ও শান্তি দান করেন। সে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয় এটাই একজন মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।সবার কাছে দোয়া প্রার্থনামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন মাহিরা ফাতেমা পিউকে নেক হায়াত, সুস্থতা, ঈমান, সুখ-শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন এই প্রার্থনা করেছেন তাঁর বাবা-মা।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

০৭ অক্টোবর ২০২৬
 বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০১ অক্টোবর ২০২৬
“

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১০ ঘন্টা আগে
জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মাহিরা ফাতেমা পিউ। প্রিয় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদে মাহিরার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়ামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ শরীফে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে মাহিরার জীবনের প্রতিটি পথ সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য দোয়া করা হয়। মিলাদ শেষে মাহিরা ফাতেমা পিউয়ের সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাবার অনুভূতিমাহিরার বাবা বলেন, সন্তানের জন্ম একজন বাবা-মায়ের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ আমাদের মাহিরাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ, সুন্দর ও নেক জীবন দান করেন।তিনি আরও বলেন, মাহিরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, ভালোভাবে লেখাপড়া করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মায়ের আবেগমাহিরার মা বলেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানের প্রতিটি দিনই বিশেষ। তবে জন্মদিনের দিনটি আরও বেশি আবেগের। আজ মাহিরার জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।তিনি বলেন, আল্লাহ যেন মাহিরাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন, সুস্থ রাখেন এবং তার জীবনে সুখ ও শান্তি দান করেন। সে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয় এটাই একজন মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।সবার কাছে দোয়া প্রার্থনামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন মাহিরা ফাতেমা পিউকে নেক হায়াত, সুস্থতা, ঈমান, সুখ-শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন এই প্রার্থনা করেছেন তাঁর বাবা-মা।

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১৫ ঘন্টা আগে
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে
জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মাহিরা ফাতেমা পিউ। প্রিয় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদে মাহিরার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়ামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ শরীফে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে মাহিরার জীবনের প্রতিটি পথ সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য দোয়া করা হয়। মিলাদ শেষে মাহিরা ফাতেমা পিউয়ের সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাবার অনুভূতিমাহিরার বাবা বলেন, সন্তানের জন্ম একজন বাবা-মায়ের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ আমাদের মাহিরাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ, সুন্দর ও নেক জীবন দান করেন।তিনি আরও বলেন, মাহিরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, ভালোভাবে লেখাপড়া করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মায়ের আবেগমাহিরার মা বলেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানের প্রতিটি দিনই বিশেষ। তবে জন্মদিনের দিনটি আরও বেশি আবেগের। আজ মাহিরার জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।তিনি বলেন, আল্লাহ যেন মাহিরাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন, সুস্থ রাখেন এবং তার জীবনে সুখ ও শান্তি দান করেন। সে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয় এটাই একজন মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।সবার কাছে দোয়া প্রার্থনামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন মাহিরা ফাতেমা পিউকে নেক হায়াত, সুস্থতা, ঈমান, সুখ-শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন এই প্রার্থনা করেছেন তাঁর বাবা-মা।

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...