ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯ ঘন্টা আগে পড়ুন

ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের নতুন গান রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে

জনপ্রিয় গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সুমী শারমীনের লেখা নতুন দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন এবং বর্তমান প্রজন্মের গায়িকা প্রিয়াংকা বিশ্বাস। গান দুটির সুর করেছেন রুমন হায়াত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারে গান দুটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।নিজের লেখা গানে আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের মতো শিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সুমী শারমীন। তাঁর মতে, আগুনের কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনা বিশেষ আবেগের বিষয়।সুমী শারমীন বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় আগুন ভাই আমাদের কৈশোরের ভীষণ ভালোলাগা ও ভালোবাসার একজন শিল্পী। বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য এই প্রিয় শিল্পী আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, এটা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি।’এর আগে অনেক স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী তাঁর লেখা গান গাইলেও আগুনের কণ্ঠে নিজের গান শুনে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান সুমী শারমীন। তাঁর ভাষায়, আগুনের কণ্ঠে গানটি যেন তাঁর গীতিকবিতাকে আরও সার্থক করে তুলেছে।গান দুটিতে প্রিয়াংকা বিশ্বাসের অংশগ্রহণ নিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেন এই গীতিকার। তিনি বলেন, আগুন ও প্রিয়াংকার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনার অনুভূতি অন্য রকম, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। গান দুটি প্রচারে এলে শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।অন্যদিকে, নতুন গান দুটির অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংগীতশিল্পী আগুন বলেন, গানগুলোর কথা তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে। সুরও দারুণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। আগুন বলেন, বাংলাদেশ বেতার তাঁদের আবেগের জায়গা। সেখানে গান গাইতে এলে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।গান দুটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রেকর্ডিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন শ্রোতারা গান দুটি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।

জনপ্রিয় গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সুমী শারমীনের লেখা নতুন দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন এবং বর্তমান প্রজন্মের গায়িকা প্রিয়াংকা বিশ্বাস। গান দুটির সুর করেছেন রুমন হায়াত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারে গান দুটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।নিজের লেখা গানে আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের মতো শিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সুমী শারমীন। তাঁর মতে, আগুনের কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনা বিশেষ আবেগের বিষয়।সুমী শারমীন বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় আগুন ভাই আমাদের কৈশোরের ভীষণ ভালোলাগা ও ভালোবাসার একজন শিল্পী। বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য এই প্রিয় শিল্পী আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, এটা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি।’এর আগে অনেক স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী তাঁর লেখা গান গাইলেও আগুনের কণ্ঠে নিজের গান শুনে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান সুমী শারমীন। তাঁর ভাষায়, আগুনের কণ্ঠে গানটি যেন তাঁর গীতিকবিতাকে আরও সার্থক করে তুলেছে।গান দুটিতে প্রিয়াংকা বিশ্বাসের অংশগ্রহণ নিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেন এই গীতিকার। তিনি বলেন, আগুন ও প্রিয়াংকার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনার অনুভূতি অন্য রকম, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। গান দুটি প্রচারে এলে শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।অন্যদিকে, নতুন গান দুটির অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংগীতশিল্পী আগুন বলেন, গানগুলোর কথা তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে। সুরও দারুণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। আগুন বলেন, বাংলাদেশ বেতার তাঁদের আবেগের জায়গা। সেখানে গান গাইতে এলে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।গান দুটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রেকর্ডিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন শ্রোতারা গান দুটি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

১৮ অক্টোবর ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

১৮ অক্টোবর ২০২৬
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

১৮ অক্টোবর ২০২৬
লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনের স্মরণোৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাধু, বাউল ও ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। উৎসবের অংশ হিসেবে আখড়াবাড়িতে চলছে লালনসংগীত, সাধুদের ভাববিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেবা অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উৎসব উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পরে লালন মঞ্চে পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এদিকে আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালীগঙ্গা নদীর প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। দুই শতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন মানবতা, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এ আয়োজন বাংলার মরমি সাধনা ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজার টুপটুপ  রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বর্তমানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
 বি-স্ট্রং প্রকল্পে ১৩১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার পরিচালকের

বি-স্ট্রং প্রকল্পে ১৩১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ, অস্বীকার পরিচালকের

বাংলাদেশ টেকসই পুনরুদ্ধার, জরুরি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া প্রকল্পের (বি-স্ট্রং) কেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার ও তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনা, ভুয়া বিল তৈরি, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং পরামর্শক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) প্রকল্প পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কেনাকাটা ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি সিন্ডিকেট সক্রিয়। প্রকল্প পরিচালকের আত্মীয়স্বজন, পরিচিত ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে পণ্য ও সরঞ্জাম কেনার অভিযোগও রয়েছে। নিরপেক্ষ ঠিকাদারেরা কাজ পেলেও কমিশন না দিলে তাঁদের বিল আটকে রাখা কিংবা দরপত্র কার্যক্রম স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।প্রতিবেদকের হাতে আসা কিছু নথি পর্যালোচনা করে কেনাকাটা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার তথ্য পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দরপত্রের নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং অর্থ পরিশোধের কাগজপত্র যাচাই করলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।নিরাপত্তার কারণে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কেউ নাম প্রকাশ করে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কেনার অভিযোগবি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), আসবাব, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনায় বাজারদরের সঙ্গে ক্রয়মূল্যের বড় ব্যবধান থাকার অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব পণ্য কেনা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, একই ধরনের পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়মূল্যের সঙ্গে প্রকৃত বাজারমূল্যের সামঞ্জস্য পাওয়া যাচ্ছে না। নিয়মিত কেনাকাটার বিল-ভাউচার পরীক্ষা করে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।প্রকল্প কার্যালয়ে আবাসিক ব্যবস্থার অভিযোগরাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত বি-স্ট্রং প্রকল্প কার্যালয়ের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে সেখানে রান্নাবান্নার ব্যবস্থা দেখা গেছে। কার্যালয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও পানি গরম করার জন্য ওয়াটার হিটার ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থে অফিসের বাথরুম সংস্কার করে উন্নতমানের ঝরনা স্থাপন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, প্রকল্প পরিচালকের অফিসকক্ষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়াদাওয়া ও গোসলসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করা হয়। এতে দাপ্তরিক কক্ষটি কার্যত আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে প্রকল্প কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ, বিদ্যুৎ বিল ও অফিস ব্যবহারের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগপ্রকল্পের তিনটি মাইক্রোবাসের মধ্যে একটি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হলেও অন্যগুলো প্রকল্প পরিচালকের স্বামী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। গাড়ির লগবুকে দাপ্তরিক সফরের তথ্য থাকলেও বাস্তবে সেগুলো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি ব্যবহারের পাশাপাশি কোনো কোনো মাসে ২৫ হাজার টাকার বেশি ভ্রমণ ভাতা (টিএ-ডিএ) উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি বিল তৈরি এবং সেসব বিল অনুমোদনের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট সময়ের ভ্রমণসূচি, অফিস আদেশ, গাড়ির লগবুক ও জ্বালানি বিল পরীক্ষা করলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব।কৃষকদের জন্য সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির মান নিয়ে প্রশ্নপ্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা যন্ত্রপাতির মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোনো বা নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব যন্ত্রপাতির একটি বড় অংশ কৃষকদের হাতে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যন্ত্রপাতির নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিল, গ্রহণের সনদ এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহের তথ্য যাচাই করা জরুরি।শ্রমিকের বেতন ও পরামর্শক নিয়োগে প্রশ্নপ্রকল্পের অনিয়মিত শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ছাড়া প্রকল্পের ফাইন্যান্সিয়াল কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আগা আজাহারুল ইসলামের নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাথমিক মূল্যায়নে নির্ধারিত নম্বরের ভিত্তিতে পিছিয়ে থাকলেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।অভিযোগ অস্বীকার প্রকল্প পরিচালকেরঅভিযোগের বিষয়ে বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন আমার দেশকে বলেন, “আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করি অফিসটা সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য। ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে কাজ করি না। প্রকল্প কীভাবে ভালোভাবে চলবে, সেদিকেই সবার ধ্যান-জ্ঞান।”ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর ভালো দক্ষতা রয়েছে। তাই অনিয়ম করার সুযোগ নেই। দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ঠিকাদারকে তিনি চেনেন না। প্রকল্পের কোনো কিছুই তিনি ব্যক্তিগতভাবে বা পরিবারের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেন না বলেও দাবি করেন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিকেনাকাটা, দরপত্র, বিল-ভাউচার, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানির ব্যবহার, ভ্রমণ ভাতা, যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।তাঁদের মতে, গত কয়েক বছরের দরপত্রের নথি, ক্রয়াদেশ, অর্থ পরিশোধের হিসাব, ব্যাংক লেনদেন, গাড়ির লগবুক এবং মাঠপর্যায়ে সরবরাহের তথ্য নিরীক্ষা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান আমার দেশকে বলেন, প্রত্যেকটি প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কারও বিরুদ্ধে অসংগতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিন বছর মেয়াদি বি-স্ট্রং প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিলে নেওয়া হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের জুনে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অংশে এ প্রকল্পের বরাদ্দ ১৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। জানা গেছে, প্রকল্পটির অগ্রগতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের গড় অগ্রগতির চেয়ে কম।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৬ অক্টোবর ২০২৬
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৬ অক্টোবর ২০২৬
“

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

দুলাল সরকার ১৯ অক্টোবর ২০২৬
দুলাল সরকার
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১০ ঘন্টা আগে
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনের স্মরণোৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাধু, বাউল ও ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। উৎসবের অংশ হিসেবে আখড়াবাড়িতে চলছে লালনসংগীত, সাধুদের ভাববিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেবা অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উৎসব উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পরে লালন মঞ্চে পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এদিকে আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালীগঙ্গা নদীর প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। দুই শতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন মানবতা, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এ আয়োজন বাংলার মরমি সাধনা ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে।

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনের স্মরণোৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাধু, বাউল ও ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। উৎসবের অংশ হিসেবে আখড়াবাড়িতে চলছে লালনসংগীত, সাধুদের ভাববিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেবা অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উৎসব উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পরে লালন মঞ্চে পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এদিকে আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালীগঙ্গা নদীর প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। দুই শতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন মানবতা, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এ আয়োজন বাংলার মরমি সাধনা ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে।

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...