ঢাকা    সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

৯ ঘন্টা আগে পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা, আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টা করেন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যেভাবে শুরুগত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি পেজ থেকে প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

পুলিশকে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়: জামায়াত নেতা

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করতে হয়।আসন্ন ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে রোববার যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে খুন, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি খুলনার পুলিশ সুপার এক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের ওপরই যদি এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচারভিত্তিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

রিয়াদে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক ও নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিমান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ছুটিও ঘোষণা

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন এবং এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ পরিপত্র জারি করে। এতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।নতুন পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দিবস পালনে সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।এ ছাড়া নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না—এমন সাধারণ অনুষ্ঠান ছুটির দিন কিংবা কর্মদিবসে আয়োজন করা যাবে। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে দিবসগুলো একই তারিখে একসঙ্গে পালন করতে হবে।প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে।পরিপত্রে দেওয়া সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টা করেন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যেভাবে শুরুগত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি পেজ থেকে প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করতে হয়।আসন্ন ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে রোববার যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে খুন, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি খুলনার পুলিশ সুপার এক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের ওপরই যদি এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচারভিত্তিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক ও নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিমান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন এবং এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ পরিপত্র জারি করে। এতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপন বা পালনসংক্রান্ত জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।নতুন পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দিবস পালনে সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।এ ছাড়া নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না—এমন সাধারণ অনুষ্ঠান ছুটির দিন কিংবা কর্মদিবসে আয়োজন করা যাবে। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে দিবসগুলো একই তারিখে একসঙ্গে পালন করতে হবে।প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে।পরিপত্রে দেওয়া সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

৯ ঘন্টা আগে
ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে ভূইগড় সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। একটি বস্তার ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের ঝোপে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বস্তাটি খুলে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তরুণীর লাশ পাওয়া যায়।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ বস্তায় ভরে রাতের কোনো একসময় ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এসআই মিলন ফকির আরও জানান, নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে এবং কারা লাশটি সেখানে ফেলে গেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

১১ ঘন্টা আগে
দৌলতপুর সীমান্তে চার ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

দৌলতপুর সীমান্তে চার ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার সকালে ঠোঁটারপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির বাধার মুখে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ঠোঁটারপাড়া সীমান্তের ১৫৩/৯-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, সকালে ঠোঁটারপাড়া সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও বিজিবির নজরে এলে তারা বাধা দেন। এতে বিএসএফের ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।তিনি আরও জানান, পরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবেড়িয়া থানার কৃষাণ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে ভারতের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যান।কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়কের পক্ষে রোববার সকাল ১০টায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঠোঁটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উদয় কিষাণ ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী।বিজিবির সতর্ক অবস্থান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতার কারণে বিএসএফের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে সকাল আটটার দিকে ওই চার ভারতীয় নাগরিক ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনীটি পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

১৫ ঘন্টা আগে
বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন এবং কয়েকজন কর্মচারী।অভিযোগ অনুযায়ী, একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল তোলা, চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পর তা আবার তুলে নেওয়া, পুরোনো প্রিন্টার ও কম্পিউটার কিনে নতুন যন্ত্রপাতির বিল দেখানো এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোর সাবেক সিএ এবং সাবেক নাজিরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংস্কারকাজে দ্বিগুণ বিলের অভিযোগজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মে ১২৯ নম্বর স্মারকে দুটি কোটেশনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়। ওই দুই কক্ষের মেরামত, টাইলস স্থাপন, দরজা-জানালা পরিবর্তন, স্যানিটারি ফিটিংসসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব কাজের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। ঠিকাদার মিলটন এক বছর আগেই কাজ শেষ করে বিল তুলে নেন।অভিযোগ রয়েছে, একই দুটি কক্ষে পরবর্তী জুন ক্লোজিংয়ের সময় আবার টাইলস বসানো ও গ্রিল স্থাপনের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। অথচ এর আগে একই কক্ষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।এবারের কাজের ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে।এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান *আমার দেশ*কে বলেন, তিনি আগে ঠিকাদারি করতেন, এখন আর করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সেখানে ঠিকাদারি কাজ করার কথা স্বীকার করলেও কবে, কী ধরনের এবং কত টাকার কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।মনিহারি কেনার নামে ১১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগসূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মনিহারি সামগ্রী কেনার জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এ খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ টাকার মধ্যে জুন ক্লোজিংয়ের সময় ১১ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (এনডিসি) অনুমোদন ছাড়াই ১১টি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়। নগরীর বান্ধ রোডের লঞ্চঘাট এলাকার তালুকদার স্টোরস থেকে মুদি ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে এসব বিল দেখানো হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে ১১ লাখ টাকার চেক প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে সমপরিমাণ অর্থের অগ্রিম চেক নিয়ে তা তুলে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খান আসাদ। সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের নির্দেশে দোকানমালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।তালুকদার স্টোরসের মালিক জাহানারা বেগম ও তাঁর স্বামী হুমাউন কবীর অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুমাউন কবীর জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে তাঁদের আগের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শিগগিরই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাঁধাইয়ের কাজ না করেই পাঁচ লাখ টাকার বিল?জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ফাইলের কাভার, কর্মকর্তাদের হ্যান্ড নোটবুক এবং রেকর্ড রুমের নথি বাঁধাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্বীকৃত বাঁধাইখানা থেকে খাতাপত্র বাঁধাই করার কথা। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে বিল দেখানো হলেও সেখানে কোনো বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়নি।এ বিষয়ে হুমাউন কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর স্ত্রীর নামে হলেও বর্তমানে তিনি এটি দেখাশোনা করেন। তাঁদের দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। বাঁধাই ও মনিহারি সামগ্রী কেনার বিল-ভাউচারের বিপরীতে তাঁদের হিসাবে টাকা জমা হয়েছিল। পরে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান সেই অর্থ তুলে নেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান আসাদ *আমার দেশ*কে বলেন, মনিহারি সামগ্রী কেনা ও বাঁধাইয়ের জন্য তালুকদার এন্টারপ্রাইজের হিসাবে দেওয়া বিলের টাকা তিনি চেকের মাধ্যমে তুলে আনেননি। তাঁর ভাইও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো কাজ করেননি। তবে কার্যালয়ের কেউ তাঁর ভাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কে লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান আসাদ।পুরোনো প্রিন্টার কিনে নতুনের বিলজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রিন্টার কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কয়েকটি পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রিন্টার কেনা হলেও বরিশালের আর্ক কম্পিউটার থেকে নতুন কম্পিউটার কেনার ভাউচার দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।শুধু প্রিন্টার নয়, এর আগে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নামেও সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্পিউটার না কিনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের সময় সভা-সেমিনার, জ্বালানি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও প্রশ্নজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণ পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন তুলনামূলক ছোট পরিসরে হওয়ায় তহবিলে ৭৭ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২৫ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল।সব মিলিয়ে ওই খাতে এক লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত থাকলেও সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি।তদন্তের আশ্বাস বর্তমান জেলা প্রশাসকেরঅভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দুই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার *আমার দেশ*কে বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এ ছাড়া পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

১৬ ঘন্টা আগে
একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

১০ অক্টোবর ২০২৬
জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

১০ অক্টোবর ২০২৬
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এক বিছানায় দুজনের চিকিৎসা

নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এক বিছানায় দুজনের চিকিৎসা

নরসিংদী জেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১০০। অথচ সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়েছে। ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ডেঙ্গু ও হামের রোগীর পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক রোগীদেরও মিলছে না শয্যা। বাধ্য হয়ে অনেককে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। কোথাও আবার একটি শয্যায় থাকছেন দুজন রোগী।সীমিত জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও শয্যা নিয়ে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে গিয়ে চাপে পড়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়াতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।নরসিংদী জেলা হাসপাতাল জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এখানে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীরাও আসেন। পাশাপাশি জেলার বৃহত্তর রায়পুরা উপজেলার একটি বড় অংশের মানুষ এ হাসপাতাল থেকে সেবা নেন। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও সেবার মানের কারণে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার রোগীরাও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।দুই সপ্তাহ ধরে রোগী তিন শতাধিকহাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এ হাসপাতালে অধিকাংশ সময়ই দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে রোগীর সংখ্যা তিন শতাধিক। সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৩৫ জন রোগী।তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১০৫ জন, নারী ১৩২ জন এবং শিশু ৯৮ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন ৩০ জন। এর আগের দিন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৩১৩।জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক জরিপ অনুযায়ী, নরসিংদী শহর ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও শয্যা না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেককে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও একটি নির্ধারিত শয্যায় দুজন রোগীকেও থাকতে দেখা গেছে।শিশুকে নিয়ে দুই দিন ধরে বারান্দায় আমেনারায়পুরা থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন আমেনা বেগম। কিন্তু শয্যা না পাওয়ায় শিশুকে নিয়ে থাকতে হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে।আমেনা বেগম বলেন, ‘আমরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানোর মতো লোকও নেই। এই হাসপাতালের সেবার মান ভালো। তাই সিট না পেলেও বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিচ্ছি। তাতেই আগের তুলনায় একটু ভালো।’শিবপুরের বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মী মোমেন খান ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শয্যা না পেয়ে অন্য এক রোগী বাইরে যাওয়ার সুযোগে তাঁর বিছানায় শুয়ে শরীরে স্যালাইন নিচ্ছেন তিনি। অপেক্ষা করছেন, কখন একটি শয্যা খালি হবে।মোমেন খান বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরই বা কী করার আছে? এক শয্যার হাসপাতালে রোগী প্রায় সাড়ে তিন শ।’পরীক্ষার চাপও বেড়েছেরোগীর সংখ্যা বাড়ায় চাপ বেড়েছে হাসপাতালের পরীক্ষাগারেও। হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম বলেন, আগে ভর্তি রোগী ও বাইরে থেকে আসা রোগীদের মিলিয়ে দৈনিক ৭০ থেকে ৮০টি পরীক্ষা করা হতো। এখন প্রতিদিন দেড় শতাধিক পরীক্ষা করতে হচ্ছে। লোকবল কম থাকায় কাজ সামলাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাজহারুল আলম বলেন, ১০০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও সীমিত জনবল ও লজিস্টিক সুবিধা দিয়ে তিন গুণের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। এতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তারপরও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।শয্যা ও জনবল বাড়ানোর দাবিনরসিংদী ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও অধিকাংশ সময় দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। বর্তমানে প্রতিদিনই তিন শতাধিক রোগী ভর্তি থাকছেন। এরপরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে। এতে নরসিংদীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে এবং রোগীদের বারান্দার মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার দুর্ভোগ কমবে।

১০ অক্টোবর ২০২৬
শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে

পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

মেয়ের জন্মদিনে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, মাহিরার জন্য দোয়া চাইলেন বাবা-মা

আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন মাহিরা ফাতেমা পিউ। প্রিয় মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে মোহাম্মদী ইসলামের মিলাদ শরীফের আয়োজন করা হয়েছে। মিলাদে মাহিরার সুস্থতা, দীর্ঘায়ু, সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবনের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।জন্মদিনে মিলাদ ও দোয়ামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ শরীফে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন। এ সময় মহান আল্লাহর কাছে মাহিরার জীবনের প্রতিটি পথ সুন্দর ও কল্যাণময় করার জন্য দোয়া করা হয়। মিলাদ শেষে মাহিরা ফাতেমা পিউয়ের সুস্থতা, নেক হায়াত, সুখ-শান্তি এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সফলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।বাবার অনুভূতিমাহিরার বাবা বলেন, সন্তানের জন্ম একজন বাবা-মায়ের জীবনে সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর একটি। আজকের এই দিনে মহান আল্লাহ আমাদের মাহিরাকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ, সুন্দর ও নেক জীবন দান করেন।তিনি আরও বলেন, মাহিরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়, ভালোভাবে লেখাপড়া করে এবং ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হিসেবে সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করতে পারে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।মায়ের আবেগমাহিরার মা বলেন, একজন মায়ের কাছে সন্তানের প্রতিটি দিনই বিশেষ। তবে জন্মদিনের দিনটি আরও বেশি আবেগের। আজ মাহিরার জন্মদিনে মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। মেয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।তিনি বলেন, আল্লাহ যেন মাহিরাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন, সুস্থ রাখেন এবং তার জীবনে সুখ ও শান্তি দান করেন। সে যেন ভালো মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হয় এটাই একজন মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।সবার কাছে দোয়া প্রার্থনামাহিরা ফাতেমা পিউয়ের জন্মদিনে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তাঁর জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ যেন মাহিরা ফাতেমা পিউকে নেক হায়াত, সুস্থতা, ঈমান, সুখ-শান্তি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দান করেন এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা দান করেন এই প্রার্থনা করেছেন তাঁর বাবা-মা।

০৮ অক্টোবর ২০২৬
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

০৭ অক্টোবর ২০২৬
“

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

১১ ঘন্টা আগে
ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে ভূইগড় সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। একটি বস্তার ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের ঝোপে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বস্তাটি খুলে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তরুণীর লাশ পাওয়া যায়।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ বস্তায় ভরে রাতের কোনো একসময় ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এসআই মিলন ফকির আরও জানান, নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে এবং কারা লাশটি সেখানে ফেলে গেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন এবং কয়েকজন কর্মচারী।অভিযোগ অনুযায়ী, একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল তোলা, চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পর তা আবার তুলে নেওয়া, পুরোনো প্রিন্টার ও কম্পিউটার কিনে নতুন যন্ত্রপাতির বিল দেখানো এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোর সাবেক সিএ এবং সাবেক নাজিরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংস্কারকাজে দ্বিগুণ বিলের অভিযোগজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মে ১২৯ নম্বর স্মারকে দুটি কোটেশনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়। ওই দুই কক্ষের মেরামত, টাইলস স্থাপন, দরজা-জানালা পরিবর্তন, স্যানিটারি ফিটিংসসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব কাজের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। ঠিকাদার মিলটন এক বছর আগেই কাজ শেষ করে বিল তুলে নেন।অভিযোগ রয়েছে, একই দুটি কক্ষে পরবর্তী জুন ক্লোজিংয়ের সময় আবার টাইলস বসানো ও গ্রিল স্থাপনের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। অথচ এর আগে একই কক্ষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।এবারের কাজের ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে।এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান *আমার দেশ*কে বলেন, তিনি আগে ঠিকাদারি করতেন, এখন আর করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সেখানে ঠিকাদারি কাজ করার কথা স্বীকার করলেও কবে, কী ধরনের এবং কত টাকার কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।মনিহারি কেনার নামে ১১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগসূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মনিহারি সামগ্রী কেনার জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এ খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ টাকার মধ্যে জুন ক্লোজিংয়ের সময় ১১ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (এনডিসি) অনুমোদন ছাড়াই ১১টি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়। নগরীর বান্ধ রোডের লঞ্চঘাট এলাকার তালুকদার স্টোরস থেকে মুদি ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে এসব বিল দেখানো হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে ১১ লাখ টাকার চেক প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে সমপরিমাণ অর্থের অগ্রিম চেক নিয়ে তা তুলে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খান আসাদ। সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের নির্দেশে দোকানমালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।তালুকদার স্টোরসের মালিক জাহানারা বেগম ও তাঁর স্বামী হুমাউন কবীর অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুমাউন কবীর জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে তাঁদের আগের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শিগগিরই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাঁধাইয়ের কাজ না করেই পাঁচ লাখ টাকার বিল?জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ফাইলের কাভার, কর্মকর্তাদের হ্যান্ড নোটবুক এবং রেকর্ড রুমের নথি বাঁধাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্বীকৃত বাঁধাইখানা থেকে খাতাপত্র বাঁধাই করার কথা। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে বিল দেখানো হলেও সেখানে কোনো বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়নি।এ বিষয়ে হুমাউন কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর স্ত্রীর নামে হলেও বর্তমানে তিনি এটি দেখাশোনা করেন। তাঁদের দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। বাঁধাই ও মনিহারি সামগ্রী কেনার বিল-ভাউচারের বিপরীতে তাঁদের হিসাবে টাকা জমা হয়েছিল। পরে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান সেই অর্থ তুলে নেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান আসাদ *আমার দেশ*কে বলেন, মনিহারি সামগ্রী কেনা ও বাঁধাইয়ের জন্য তালুকদার এন্টারপ্রাইজের হিসাবে দেওয়া বিলের টাকা তিনি চেকের মাধ্যমে তুলে আনেননি। তাঁর ভাইও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো কাজ করেননি। তবে কার্যালয়ের কেউ তাঁর ভাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কে লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান আসাদ।পুরোনো প্রিন্টার কিনে নতুনের বিলজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রিন্টার কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কয়েকটি পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রিন্টার কেনা হলেও বরিশালের আর্ক কম্পিউটার থেকে নতুন কম্পিউটার কেনার ভাউচার দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।শুধু প্রিন্টার নয়, এর আগে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নামেও সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্পিউটার না কিনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের সময় সভা-সেমিনার, জ্বালানি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও প্রশ্নজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণ পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন তুলনামূলক ছোট পরিসরে হওয়ায় তহবিলে ৭৭ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২৫ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল।সব মিলিয়ে ওই খাতে এক লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত থাকলেও সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি।তদন্তের আশ্বাস বর্তমান জেলা প্রশাসকেরঅভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দুই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার *আমার দেশ*কে বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এ ছাড়া পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

৯ ঘন্টা আগে
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার
ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

ফতুল্লায় বস্তাবন্দী তরুণীর লাশ উদ্ধার, হাত-পা বাঁধা ছিল

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দী এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ১০টার দিকে ভূইগড় সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের একটি ঝোপ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।পুলিশ জানায়, নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর। তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। একটি বস্তার ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে সোনালী মার্কেটসংলগ্ন সড়কের পাশের ঝোপে একটি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বস্তাটি খুলে ভেতরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তরুণীর লাশ পাওয়া যায়।পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্য কোনো স্থানে তরুণীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তাঁর লাশ বস্তায় ভরে রাতের কোনো একসময় ঝোপের মধ্যে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।এসআই মিলন ফকির আরও জানান, নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁকে কারা, কী কারণে হত্যা করেছে এবং কারা লাশটি সেখানে ফেলে গেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। 

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত অর্থবছরের জুন ক্লোজিংয়ের সময় ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি টাকার বেশি সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়ের সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিন এবং কয়েকজন কর্মচারী।অভিযোগ অনুযায়ী, একই কাজের বিপরীতে একাধিকবার বিল তোলা, চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধের পর তা আবার তুলে নেওয়া, পুরোনো প্রিন্টার ও কম্পিউটার কিনে নতুন যন্ত্রপাতির বিল দেখানো এবং বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার জমা দিয়ে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বাংলোর সাবেক সিএ এবং সাবেক নাজিরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সবার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সংস্কারকাজে দ্বিগুণ বিলের অভিযোগজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি ভবনের নিচতলা ও ডিডিএলজি কক্ষ সংস্কারের জন্য ২০২৪ সালের ১২ মে ১২৯ নম্বর স্মারকে দুটি কোটেশনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার কাজ দেখানো হয়। ওই দুই কক্ষের মেরামত, টাইলস স্থাপন, দরজা-জানালা পরিবর্তন, স্যানিটারি ফিটিংসসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ করে গণপূর্ত বিভাগ। এসব কাজের বিপরীতে ১৪ লাখ টাকা বিল দেওয়া হয়। ঠিকাদার মিলটন এক বছর আগেই কাজ শেষ করে বিল তুলে নেন।অভিযোগ রয়েছে, একই দুটি কক্ষে পরবর্তী জুন ক্লোজিংয়ের সময় আবার টাইলস বসানো ও গ্রিল স্থাপনের কাজ দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার বিল-ভাউচার তৈরি করা হয়। অথচ এর আগে একই কক্ষে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।এবারের কাজের ঠিকাদার হিসেবে দেখানো হয় নগরীর কালিজিরা এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খানের বড় ভাই আক্তারুজ্জামান খানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান অ্যান্ড সন্সকে।এ বিষয়ে আক্তারুজ্জামান *আমার দেশ*কে বলেন, তিনি আগে ঠিকাদারি করতেন, এখন আর করেন না। সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করেছেন কি না, জানতে চাইলে প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে সেখানে ঠিকাদারি কাজ করার কথা স্বীকার করলেও কবে, কী ধরনের এবং কত টাকার কাজ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।মনিহারি কেনার নামে ১১ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগসূত্রের দাবি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মনিহারি সামগ্রী কেনার জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকৃতপক্ষে এ খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অবশিষ্ট ২৪ লাখ টাকার মধ্যে জুন ক্লোজিংয়ের সময় ১১ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, চাহিদাপত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (এনডিসি) অনুমোদন ছাড়াই ১১টি বিলের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়। নগরীর বান্ধ রোডের লঞ্চঘাট এলাকার তালুকদার স্টোরস থেকে মুদি ও মনিহারি সামগ্রী কেনার নামে এসব বিল দেখানো হয়েছিল।অভিযোগ রয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে ১১ লাখ টাকার চেক প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে জমা দেওয়ার পর সেখান থেকে সমপরিমাণ অর্থের অগ্রিম চেক নিয়ে তা তুলে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান খান আসাদ। সাবেক জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের নির্দেশে দোকানমালিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।তালুকদার স্টোরসের মালিক জাহানারা বেগম ও তাঁর স্বামী হুমাউন কবীর অর্থ উত্তোলনের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুমাউন কবীর জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে তাঁদের আগের পাওনা অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। তবে শিগগিরই তা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাঁধাইয়ের কাজ না করেই পাঁচ লাখ টাকার বিল?জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখার ফাইলের কাভার, কর্মকর্তাদের হ্যান্ড নোটবুক এবং রেকর্ড রুমের নথি বাঁধাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।সরকারি বিধি অনুযায়ী, স্বীকৃত বাঁধাইখানা থেকে খাতাপত্র বাঁধাই করার কথা। কিন্তু অভিযোগে বলা হয়েছে, তালুকদার স্টোরসের নামে বিল দেখানো হলেও সেখানে কোনো বাঁধাইয়ের কাজ করা হয়নি।এ বিষয়ে হুমাউন কবীর জানান, প্রতিষ্ঠানটি তাঁর স্ত্রীর নামে হলেও বর্তমানে তিনি এটি দেখাশোনা করেন। তাঁদের দোকানে বাঁধাইয়ের কাজ হয় না। বাঁধাই ও মনিহারি সামগ্রী কেনার বিল-ভাউচারের বিপরীতে তাঁদের হিসাবে টাকা জমা হয়েছিল। পরে সমপরিমাণ টাকার চেক নিয়ে সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান সেই অর্থ তুলে নেন বলে দাবি করেন তিনি।অন্যদিকে, সাবেক নাজির আসাদুজ্জামান আসাদ *আমার দেশ*কে বলেন, মনিহারি সামগ্রী কেনা ও বাঁধাইয়ের জন্য তালুকদার এন্টারপ্রাইজের হিসাবে দেওয়া বিলের টাকা তিনি চেকের মাধ্যমে তুলে আনেননি। তাঁর ভাইও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কোনো কাজ করেননি। তবে কার্যালয়ের কেউ তাঁর ভাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। কে লাইসেন্স ব্যবহার করেছেন, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে বলেও জানান আসাদ।পুরোনো প্রিন্টার কিনে নতুনের বিলজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রিন্টার কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা থেকে কয়েকটি পুরোনো বা সেকেন্ড হ্যান্ড প্রিন্টার কেনা হলেও বরিশালের আর্ক কম্পিউটার থেকে নতুন কম্পিউটার কেনার ভাউচার দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।শুধু প্রিন্টার নয়, এর আগে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার নামেও সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম্পিউটার না কিনেই ভাউচার দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া জুন ক্লোজিংয়ের সময় সভা-সেমিনার, জ্বালানি ও আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও প্রশ্নজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শিক্ষা শাখার কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কল্যাণ পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন তুলনামূলক ছোট পরিসরে হওয়ায় তহবিলে ৭৭ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত ছিল। অনুষ্ঠান উপলক্ষে বরিশাল সিটি করপোরেশন ২৫ হাজার টাকা এবং জেলা পরিষদ ২০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিল।সব মিলিয়ে ওই খাতে এক লাখ টাকার বেশি উদ্বৃত্ত থাকলেও সাবেক জেলা প্রশাসক ও বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মিলে তা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সালমা পারভিনের বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলেও দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সেখানে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল বলেও সূত্রের দাবি।তদন্তের আশ্বাস বর্তমান জেলা প্রশাসকেরঅভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দুই দিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সালমা পারভিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।বর্তমান জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার *আমার দেশ*কে বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমি ছিলাম না, তাই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এ ছাড়া পুরোনো প্রিন্টার কেনার বিষয়টি আমার জানা নেই।’তিনি আরও বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

বরিশাল ডিসি কার্যালয়ে একই কাজে একাধিক বিল, পুরোনো যন্ত্রে নতুনের ভাউচার

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

একই আঙিনায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মন্দির ও মসজিদ। মাঝখানে দূরত্ব মাত্র ছয় ফুট। এক পাশে মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার্চনা, অন্য পাশে মসজিদে মুসলমানদের নামাজ আদায়। ধর্মীয় আচার পালনে রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার কেন্দ্রীয় কালীবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা ও কালীমন্দির এবং পুরান বাজার জামে মসজিদ।দুটি উপাসনালয়ের অবস্থান পাশাপাশি হলেও কখনো ধর্মীয় বিরোধ বা অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। মসজিদে নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র বাজানো বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষ হলে আবার স্বাভাবিক হয় মন্দিরের কার্যক্রম। একদিকে শোনা যায় উলুধ্বনি, অন্যদিকে উচ্চারিত হয় আল্লাহ তাআলার জিকির।মন্দিরে ধূপকাঠির সুবাস আর মসজিদে আতরের ঘ্রাণে একই আঙিনায় পাশাপাশি চলে দুই ধর্মের মানুষের উপাসনা। সম্প্রীতির এই দৃশ্য দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দর্শনার্থীরা। কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও মন্দির ও মসজিদ দুটি পরিদর্শন করেছেন।মন্দির আগে, পরে মসজিদস্থানীয় বাসিন্দা এবং মন্দির ও মসজিদসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজার এলাকায় ১৮৩৬ সালে কালীমন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকাটি কালীবাড়ী নামে পরিচিতি পায়। পরে ১৯১৫ সালের দিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের নামাজ আদায়ের জন্য মন্দিরের পাশের একই আঙিনায় একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সেটি জুমার মসজিদে রূপ নেয়। বর্তমানে এটি পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীমন্দিরের পাশে দুর্গামন্দিরও প্রতিষ্ঠিত হয়।কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আমিরুল হায়াত মুকুল বলেন, ১৮৩৬ সালে মন্দির প্রতিষ্ঠার পর এলাকার নাম হয় কালীবাড়ী। সেই থেকে একই উঠানে দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলছে। এখানে কখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।পুরান ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আরিফ সাবেরী (৫৫), মনোয়ার হোসেন (৪৫) ও কমল চন্দ্র রায় (৪৮) জানান, একই আঙিনায় মন্দির ও মসজিদ থাকার কথা শুনে তাঁরা দেখতে এসেছেন। এমন দৃশ্য দেখে তাঁরা মুগ্ধ। কয়েক যুগ ধরে পাশাপাশি দুটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির ঘাটতি তৈরি হয়নি। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি বিরল ঘটনা।নামাজের সময় বন্ধ থাকে ঢাকঢোলএলাকাবাসী জানান, আজানের সময় থেকে নামাজের জামাত শেষ হওয়া পর্যন্ত মন্দিরে ঢাকঢোলসহ সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মন্দিরের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিকভাবে চলে। একইভাবে মন্দিরে পূজার্চনা করতে আসা মানুষ মসজিদে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের দৃশ্য দেখতে পান। শালীনতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন।মন্দিরের পূজারি দিলীপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘লালমনিরহাটে ধর্মীয় সম্প্রীতির এটি একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যুগ যুগ ধরে এই সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করছি আমরা। সত্যি এটি আমাদের জন্য অনেক বড় গর্বের বিষয়।’কালীবাড়ী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম দুলাল বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে মন্দিরে ধর্মচর্চা করতে পারেন, সে জন্য তাঁরা সব সময় সহযোগিতা করেন। তাঁর মতে, একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ শুধু লালমনিরহাটের নয়, পুরো বাংলাদেশের মানুষের জন্য ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।পুরান বাজার জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, মসজিদের আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে জাতি-ধর্মনির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ স্বাধীনভাবে আসেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরকে সহযোগিতা করেন। নামাজের সময় মন্দিরের ঢাকঢোল বন্ধ রাখা হয়। এভাবেই কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রয়েছে।মসজিদ ও মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একই আঙিনায় অবস্থিত হলেও প্রতিষ্ঠান দুটির জমির মালিকানা আলাদা। মন্দিরটি রয়েছে আট শতাংশ জমিতে, আর মসজিদটি পাঁচ শতাংশ জমিতে। আঙিনাটির মোট জমির পরিমাণ ১২ শতাংশ বলে তাঁরা জানিয়েছেন।লালমনিরহাটে ৪৭৬ মণ্ডপে দুর্গাপূজাএদিকে এবার লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪৭৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপিত হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি হীরালাল রায় জানান, পূজামণ্ডপের উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি মণ্ডপে ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ৪৭৬টি মণ্ডপের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ কেজি।জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদরে ১৬২টি, আদিতমারীতে ১১৭টি, কালীগঞ্জে ৯৩টি, হাতীবান্ধায় ৭৩টি এবং পাটগ্রামে ৩১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে।জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা স্থাপন, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জাসহ উৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলা সদরের শ্রী গৌরিশংকর গোশালা সোসাইটি দুর্গামন্দির, কালীবাড়ী সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কাচারীবাড়ি সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। একইভাবে আদিতমারীর মহিষখোঁচা ইউনিয়নের কামারপাড়া দুর্গামন্দির, কালীগঞ্জের তুষভাণ্ডার রাজবাড়ী সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির, হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির ও সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপ এবং পাটগ্রামের শ্রীশ্রী পাটেশ্বরী কেন্দ্রীয় দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপেও প্রস্তুতি চলছে।জেলা সদরের বড়বাড়ী বাজার শিবকালী ও দুর্গামন্দিরের সভাপতি নিমাই চন্দ্র পাল বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি চলছে।হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু গুরুচরণ রায় বলেন, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত সহযোগিতায় এবারও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে তাঁরা আশাবাদী।পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলার পূজামণ্ডপগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে।জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

একই আঙিনায় মন্দির-মসজিদ সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত লালমনিরহাটে

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পঙ্কজ বড়ুয়া।পুলিশের ভাষ্য, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমিনকে অটোরিকশায় তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে যান সুমন। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ও মাথা চেপে ধরে হত্যা করা হয়। তবে ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে, তা ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগৎপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ আসে। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত ও আইনগত কার্যক্রম শুরু করে। পরে নিহতের বাবা মরদেহটি শনাক্ত করেন।তাজমিনের স্থায়ী বাড়ি যশোর জেলায়। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় থাকত সে। নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল তাজমিন।এ ঘটনায় লালমাই থানায় হত্যা মামলা হওয়ার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও থানা-পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ডপুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য অটোরিকশা ভাড়া করতে যায় তাজমিন। ৩০০ টাকায় সুমনের অটোরিকশায় যাওয়ার চুক্তি হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর তাজমিন সুমনকে ১০০ টাকা দিয়ে কলা ও রুটি কিনে আনতে বলে।পুলিশের দাবি, এরপর সংক্ষিপ্ত পথে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সুমন অটোরিকশাটি ঘুরিয়ে চাঁদপুরগামী সড়ক ধরে বিজরা বাজার হয়ে নির্জন এলাকার দিকে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে জায়গাটি চিনতে না পেরে ভয় পায় তাজমিন। অটোরিকশা থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।এ সময় তাজমিন চিৎকার শুরু করলে সুমন নিজের গামছা তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাজমিন দুর্বল হয়ে পড়লে তাঁকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে উপুড় করে ফেলে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে পুলিশের ভাষ্য।পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।আইফোন নিয়ে পালিয়ে যান চট্টগ্রামেপুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতে ফেলে দেন সুমন। পরে ঘটনাস্থলে অটোরিকশা রেখে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন। সেখান থেকে ভাড়ায় চালিত অন্য একটি অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান তিনি।পরে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের ঝোপে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান সুমন। পরদিন শুক্রবার সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার ওই পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।তদন্তে আর কেউ জড়িত কি নাধর্ষণ হত্যার আগে নাকি পরে সংঘটিত হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এ ঘটনায় একজনই জড়িত। তবে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

জান্নাতুল তাজমিন ধর্ষণের পর হত্যা, অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...