ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।

১২ ঘন্টা আগে পড়ুন

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৬ ঘন্টা আগে
আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ আহাম্মদ বালা। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরশিনগর ইউনিয়নের চরমহিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ আহাম্মদ। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ফরিদ ফুটবল খেলোয়াড় ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ আহাম্মদ। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, হতদরিদ্র পরিবারকে ছাগল ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া, অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা।ফরিদ আহাম্মদের দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রতি রমজানে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছেন।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই প্রার্থী। ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, হানাহানি, অবৈধ জমি দখল ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কাজ করব। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরশিনগরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’রাজনৈতিকভাবে ফরিদ আহাম্মদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন কর্মী। তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।আরশিনগর ইউনিয়নকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফরিদ আহাম্মদ। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন তিনি।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসেবার প্রত্যয় তুলে ধরে ফরিদ আহাম্মদ বালা বলেন, ‘আমি যতদিন বাঁচব, ততদিন গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

১৭ ঘন্টা আগে
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

১৮ অক্টোবর ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে ডেঙ্গু, হিটস্ট্রোক ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি

তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও বায়ুদূষণের কারণে ডেঙ্গু, লেপ্টোস্পাইরোসিসসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক এবং হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যাও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সমন্বয় করে আগাম সতর্কতা এবং আধুনিক রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতিমধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যে পড়তে শুরু করেছে। সুপার এল নিনোর মতো চরম আবহাওয়াগত পরিস্থিতি এ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা।মালয়েশিয়ার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী দাতুক ডা. জাইনাল আরিফিন ওমর বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার প্রজননচক্র দ্রুত হতে পারে। এতে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টি ও বন্যার সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব ঝুঁকি আগাম অনুমান করা সম্ভব।ডা. জাইনালের ভাষ্য, মালয়েশিয়ায় বাতাসের আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় গরমের শারীরিক প্রভাব আরও তীব্র হয়। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও বাইরে কাজ করা শ্রমিকেরা হিটস্ট্রোকের বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তীব্র গরমে হৃদ্‌রোগ ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বাড়তে পারে। আবার ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণে হাঁপানির উপসর্গও তীব্র হতে পারে।রোগ শনাক্তে আধুনিক নজরদারির পরামর্শজলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডা. জাইনাল। তিনি বলেন, ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে লেপ্টোস্পাইরোসিসের মতো রোগের সংক্রমণপ্রবণ এলাকা আগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। এ জন্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণব্যবস্থার সঙ্গে জলবায়ুসংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা প্রয়োজন।ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কোনো এলাকায় রোগী শনাক্ত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে মশার লার্ভা ধ্বংস ও থার্মাল ফগিংয়ের মতো কার্যক্রম শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে দল গঠনও জরুরি।এ ছাড়া তাপপ্রবাহের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জোরদার, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য শীতল আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ডা. জাইনাল। তাঁর মতে, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও রোগীর আকস্মিক চাপ মোকাবিলায় হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সক্ষমতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। স্বাস্থ্যনীতি ও পরিকল্পনা তৈরির সময়ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় নিতে হবে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাড়ছে অন্যান্য রোগের উদ্বেগমালয়েশিয়ার মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স কোয়ালিশন অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ডা. রাজ কুমার মহারাজা বলেন, ডেঙ্গু এখনো দেশটির জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত মশার বেঁচে থাকা, প্রজনন এবং ভাইরাস সংক্রমণে প্রভাব ফেলে।ডেঙ্গুর পাশাপাশি লেপ্টোস্পাইরোসিস, ডায়রিয়াজনিত রোগ, কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ, তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডা. রাজের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগের উপসর্গ বাড়তে পারে। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, তাপজনিত অসুস্থতায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। রোগ নজরদারির সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের তথ্য সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং চরম আবহাওয়ার মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রাখতে ওষুধ ও টিকা সুরক্ষিত রাখা জরুরি।বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের আগেই শনাক্ত করে নিয়মিত চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।ডিজিটাল প্রযুক্তিতে আগাম সতর্কতার প্রস্তাবমালায়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টর হো আবহাওয়া, পরিবেশ, রোগের বিস্তার ও হাসপাতালসংক্রান্ত তথ্য একত্র করে সমন্বিত জলবায়ু-স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।জরুরি জনসতর্কতা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজে লাগানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার ‘মাইসেজাতেরা’ অ্যাপকে ব্যক্তিগত জলবায়ু-স্বাস্থ্য সহায়ক হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলেছেন। এ ব্যবস্থায় তাপপ্রবাহ, ধোঁয়াশা কিংবা বন্যার পানির সংস্পর্শে আসার পর ব্যবহারকারীরা নিজেদের উপসর্গ যাচাই করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা পেতে পারেন।ডা. হোর মতে, এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, তাপজনিত অসুস্থতা এবং বন্যার পর সংক্রমণের ঝুঁকি আগাম অনুমান করতে সহায়তা করবে। ফলে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে। তবে জলবায়ুসংক্রান্ত সতর্কবার্তার সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ, শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটাতে হবে। দেশটিতে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।ঝুঁকিতে গিগ অর্থনীতির কর্মীরাডা. ভিক্টর হো বিশেষ করে গিগ অর্থনীতির কর্মীদের সুরক্ষা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। খাবার সরবরাহকারী কর্মী, মোটরসাইকেল চালক ও গাড়িচালকেরা তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও খারাপ বায়ুমানের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে থাকেন।তাঁর পরামর্শ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বায়ুমানের তথ্য যুক্ত করা উচিত। এতে বিপজ্জনক এলাকায় কাজের দায়িত্ব কমানো, নিরাপদ পথের পরামর্শ দেওয়া এবং বিশ্রাম ও পানি পানের বিরতি নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু স্বাস্থ্য খাতের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নিয়োগকর্তা ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।সূত্র: দ্য স্টার

১৮ অক্টোবর ২০২৬
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

১৮ অক্টোবর ২০২৬
লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

লালনের টানে ছেঁউড়িয়ায় সাধু-ভক্তদের ঢল

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনের স্মরণোৎসব। শনিবার (১৭ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে সাধু, বাউল ও ভক্তদের সমাগমে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে লালন আখড়াবাড়ি।সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। উৎসবের অংশ হিসেবে আখড়াবাড়িতে চলছে লালনসংগীত, সাধুদের ভাববিনিময় এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন সেবা অনুষ্ঠান। শনিবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উৎসব উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পরে লালন মঞ্চে পরিবেশিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এদিকে আখড়াবাড়ির সামনে মরা কালীগঙ্গা নদীর প্রাঙ্গণে বসেছে গ্রামীণ মেলা। দুই শতাধিক স্টলে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। লালন সাঁইয়ের গান ও দর্শন মানবতা, সাম্য এবং জাত-ধর্মের বিভেদ ভুলে মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। তাঁর স্মৃতিকে ঘিরে প্রতিবছর ছেঁউড়িয়ায় এ আয়োজন বাংলার মরমি সাধনা ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজার টুপটুপ  রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বর্তমানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
“

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...