কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
৯ ঘন্টা আগে পড়ুনরবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টা, আয়াসসহ চারজন রিমান্ডে
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টা করেন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যেভাবে শুরুগত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি পেজ থেকে প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
পুলিশকে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়: জামায়াত নেতা
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করতে হয়।আসন্ন ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে রোববার যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে খুন, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি খুলনার পুলিশ সুপার এক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের ওপরই যদি এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচারভিত্তিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
রিয়াদে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ দেশে আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক ও নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিমান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, ছুটিও ঘোষণা
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন এবং এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ পরিপত্র জারি করে। এতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপন বা পালনসংক্রান্ত জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।নতুন পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দিবস পালনে সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।এ ছাড়া নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না—এমন সাধারণ অনুষ্ঠান ছুটির দিন কিংবা কর্মদিবসে আয়োজন করা যাবে। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে দিবসগুলো একই তারিখে একসঙ্গে পালন করতে হবে।প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে।পরিপত্রে দেওয়া সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মোছার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য পৃথক মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।এর আগে শনিবার শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টা করেন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাঁদের আটক করা হয়।এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।যেভাবে শুরুগত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ফুটপাতসংলগ্ন দেয়ালে ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন, সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি পেজ থেকে প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করা হয়। এর পরদিন আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে একটি দল দেয়ালে আঁকা প্রতিকৃতিগুলো মোছার চেষ্টা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা খারাপ হলে পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল না করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি জারি করতে হয়।আসন্ন ৩১ অক্টোবর ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা–খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে রোববার যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সারা দেশে খুন, ছিনতাই ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে খুলনা ও যশোর অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি খুলনার পুলিশ সুপার এক নির্দেশনায় পুলিশ সদস্যদের একা চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।তিনি বলেন, একটি দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলাচলের ওপরই যদি এভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে ন্যায়বিচারভিত্তিক পরিবেশ ও স্বাভাবিক নিরাপত্তা ফিরে আসবে বলে জনগণের প্রত্যাশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সার ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাসহ সাত দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।এসব দাবি আদায়ে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, খুলনা ও যশোর হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ঘটনায় আহত আরও চার বাংলাদেশি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সতর্ক ও নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিমান চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।এদিকে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সংঘাত বন্ধ এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সরকার।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশন সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন নিয়ে নতুন পরিপত্র জারি করেছে সরকার। এতে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন এবং এ উপলক্ষে ছুটি ঘোষণার কথা বলা হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ পরিপত্র জারি করে। এতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্যাপন বা পালনসংক্রান্ত জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।নতুন পরিপত্রে জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়া সাধারণভাবে দিবস পালনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দিবস পালনে সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত পরিসরে সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা যাবে। তবে কর্মদিবসে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা পরিহার করতে হবে।পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো সপ্তাহ পালনের অনুষ্ঠানসূচি সাধারণত তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে। সরকারি কর্মসূচির কারণে দাপ্তরিক কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে।এ ছাড়া নগদ অর্থ বা উপকরণ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না—এমন সাধারণ অনুষ্ঠান ছুটির দিন কিংবা কর্মদিবসে আয়োজন করা যাবে। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে রাজধানীর বাইরে কিংবা জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন একই ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবসকে প্রাধান্য দিয়ে দিবসগুলো একই তারিখে একসঙ্গে পালন করতে হবে।প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ে সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে।পরিপত্রে দেওয়া সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার
কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।