ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ঘরের আনাচকানাচ, রাস্তাঘাট, জনসমাগমস্থল এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব জায়গায় ডেঙ্গুর মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোরবাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অতীতে অনেক বড় অর্জন করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করা, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হওয়া এবং ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করার পেছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূমিকা ছিল।তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে এসব অর্জন করতে পারি, তাহলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?’প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।টিকার চেয়ে প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্বডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা বেশি কার্যকর। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলেই একটি সরকার সফল হয়। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চায় তাঁর সরকার।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব। সবাই উদ্যোগী হলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি রোধ করা যাবে।
৪ ঘন্টা আগে পড়ুনহাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ফাহমিদা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একমত পাকিস্তান ও রাশিয়া
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। বুধবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদরে তাঁদের বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি সেনাসদরে গিয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমন্বয় উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।অন্যদিকে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগের কথাও স্বীকার করেন তিনি।এদিকে, সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ এবং বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।বুধবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩
মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ফাহমিদা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। বুধবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদরে তাঁদের বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি সেনাসদরে গিয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমন্বয় উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।অন্যদিকে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগের কথাও স্বীকার করেন তিনি।এদিকে, সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ এবং বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।বুধবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি
মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।