নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব স্মরণে শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।দিনের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়।অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতি গঠনে এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।বক্তারা বলেন, দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
২ ঘন্টা আগে পড়ুনসিলেটে হৃদয়ের ইতিহাস, বাংলাদেশের ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এক প্রান্তে অবিচল তাওহিদ হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুধু ইনিংসই সামলাননি, ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও যোগ করেছেন অনন্য এক মাইলফলক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন হৃদয়।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। ৩০৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। শুরু থেকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ধৈর্য ধরে খেলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন এই ব্যাটার।বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। তাঁদের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিম ও সাকিব করেছেন একটি করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো তাওহিদ হৃদয়ের নাম। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে হৃদয়ের এই পারফরম্যান্স। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল এই অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ৩৫৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপর্যয়ের মুখে, তখন ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, আহত ২
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিমুলতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। পথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে সেটির তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীও গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের লাখ লাখ স্নায়ুকোষ, শেখার ক্ষমতাও বেড়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের তৈরি স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করে নতুন ধরনের গবেষণার মডেল তৈরি করেছেন। এসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে এখন লাখ লাখ মানব স্নায়ুকোষ সক্রিয় রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই কোষ প্রতিস্থাপনের পর ইঁদুরগুলোর শেখার সক্ষমতাতেও উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।গবেষণাগারে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি এই প্রাণীগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এলিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের পারস্পরিক সংযোগ এবং মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, সেরিব্রাল পালসি ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ নিয়ে গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিষয়টি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা মেরি শেলির উপন্যাস ফ্রাংকেনস্টাইন-এর মতো মনে হলেও গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা নয়। এসব ইঁদুর মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে, এমন দাবিও করা হয়নি।যেভাবে ইঁদুরের মস্তিষ্কে যুক্ত হলো মানব কোষগবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করেন, যাদের মস্তিষ্কে সেরিব্রাল কর্টেক্সের অধিকাংশ অংশ এবং এর পাশের হিপোক্যাম্পাস অনুপস্থিত ছিল। মস্তিষ্কের বাইরের স্তর সেরিব্রাল কর্টেক্স মানুষের উপলব্ধি, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনোযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে শেখা ও স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইঁদুরগুলোর বয়স যখন মাত্র দুই দিন, তখন তাদের মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গায় মানুষের তৈরি বিশেষ কোষপুঞ্জ প্রতিস্থাপন করেন গবেষকেরা। এসব কোষপুঞ্জকে বলা হয় ‘অর্গানয়েড’। মানুষের স্টেম সেল বা টিউমার টিস্যু থেকে পরীক্ষাগারে এগুলো তৈরি করা হয়। দেখতে ও কার্যপ্রণালিতে এগুলো মানব অঙ্গের ক্ষুদ্র সংস্করণের মতো।প্রতিটি অর্গানয়েড তৈরি করা হয়েছিল সুস্থ মানুষের স্টেম সেল থেকে। একেকটি কোষপুঞ্জে ছিল প্রায় এক লাখ মানব কোষ।গবেষণায় ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ স্নায়ুকোষ সরিয়ে সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানব স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করা হয়। মোট ২৯টি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ২৫টির ক্ষেত্রে কোষ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সফল হয়।মানব কোষের বিস্তার, শেখার ক্ষমতায় উন্নতিপ্রতিস্থাপনের তিন মাসের মধ্যে ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষগুলো আকারে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হয়ে যায়। এসব কোষ ইঁদুরের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গার ৯০ শতাংশের বেশি পূরণ করে। ইঁদুরের মস্তিষ্কের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকজুড়ে মানব টিস্যু ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও ডাকাডাকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।গবেষকেরা ইঁদুরগুলোকে গোলকধাঁধার মতো একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেন। এতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো বারবার পথ হারিয়েছে। অন্যদিকে মানব কোষযুক্ত ইঁদুরগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। গবেষকদের ধারণা, প্রতিস্থাপিত মানব কোষ ইঁদুরগুলোর শেখার ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতায় ভূমিকা রেখেছে।পরীক্ষায় আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয় উঠে আসে। প্রতিস্থাপিত মানব টিস্যুর কিছু কোষ ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ নামের বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষে পরিণত হয়। লম্বা আকৃতির এই স্নায়ুকোষ সাধারণত ইঁদুরের মস্তিষ্কে পাওয়া যায় না। পরীক্ষাগারে তৈরি করাও বেশ কঠিন।মানুষ ছাড়াও বনমানুষ, তিমি ও হাতির মতো সামাজিক প্রাণীর মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ুকোষ রয়েছে।সেরিব্রাল পালসি গবেষণায় নতুন দিগন্তএই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেরিব্রাল পালসি নিয়ে। শিশুদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ রোগ হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের সময় এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও ইঁদুরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল। ফলে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সেরিব্রাল পালসির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝা এত দিন কঠিন ছিল।এবারের গবেষণায় জিনগত পরিবর্তন করা ইঁদুরগুলোকে কম অক্সিজেনের পরিবেশে রাখা হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতির পাশাপাশি হাঁটার ধরনে পরিবর্তন এবং হাত-পায়ের সমন্বয় করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সেরিব্রাল পালসির কিছু বৈশিষ্ট্য ও এর পেছনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করতে পারে।মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণায় কেন এই পদ্ধতি?মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে সরাসরি গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে। এসব কোষের মধ্যে সংযোগের সংখ্যা ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এত জটিল গঠন এবং জীবিত মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে গবেষণার নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানীদের সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাগারে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র কোষপুঞ্জ বা অর্গানয়েড তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তবে এসব অর্গানয়েড পূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্কের বিকল্প নয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের মতো জটিল সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের সংকেত গ্রহণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ এতে সীমিত।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সেরগিউ পাসকা এই গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক। তাঁর মতে, মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অভূতপূর্ব অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।পাসকা বলেন, গত দুই দশক ধরে মানবদেহের বাইরে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম অনুকরণ করতে পারে, এমন মডেল তৈরির চেষ্টা চলছে। নতুন পদ্ধতিটি আগের মডেলগুলোর বিকল্প নয়। তবে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে, যা অন্য উপায়ে বোঝা অত্যন্ত কঠিন।মানব-প্রাণী সংকর তৈরির নৈতিক বিতর্কবৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এই গবেষণা নতুন কিছু নৈতিক প্রশ্নও সামনে এনেছে। মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ বা টিস্যু প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের ফলে কোনো ধরনের অনুভূতি কিংবা চেতনা তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন সক্ষমতা তৈরি হলে তা কীভাবে শনাক্ত ও যাচাই করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত মানব স্নায়ুকোষের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মানব কোষগুলো যেন ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে আরও বেশি স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি চেতনা বা সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষা শেষ করা হয়।এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন ইভান্স। তাঁর মতে, বর্তমান পরীক্ষাটি নিজে থেকে বড় কোনো নৈতিক সংকট তৈরি করে না। তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, এমন প্রাণী তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় এটি।ইভান্সের আশঙ্কা, এ ধরনের গবেষণা ধীরে ধীরে ইঁদুরের মতো প্রাণী ছাড়িয়ে অমানব প্রাইমেট বা উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কোথায় গবেষণার সীমারেখা টানা হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠবে। এ কারণে আপাতত ইঁদুরসহ তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণীর মধ্যেই এ ধরনের গবেষণা সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে মানুষের ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তৈরি স্নায়বিক সংকর প্রাণীর উদ্ভব এবং তা ঘিরে বড় ধরনের নৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিকল্প নেই। এ জন্য ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। এ দিনটি দেশের ইতিহাসে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী সেই ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিয়েছিল। এ কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।তিনি আরও বলেন, পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহাজোটের নামে তারা আবারও দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির আবারও পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন হিসেবে বিবেচিত। যখনই বাংলাদেশ এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দল-মতনির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একই পরিচয়ে গর্বিত। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।তিনি বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অটুট থাকবে। এ বিপ্লবের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। এবারের আয়োজনে হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ পথ হারাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যে দেশের তরুণেরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটাই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখা এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণদের একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেরণায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের স্লোগান হওয়া উচিত দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এ সময় সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এক প্রান্তে অবিচল তাওহিদ হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুধু ইনিংসই সামলাননি, ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও যোগ করেছেন অনন্য এক মাইলফলক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন হৃদয়।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। ৩০৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। শুরু থেকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ধৈর্য ধরে খেলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন এই ব্যাটার।বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। তাঁদের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিম ও সাকিব করেছেন একটি করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো তাওহিদ হৃদয়ের নাম। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে হৃদয়ের এই পারফরম্যান্স। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল এই অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ৩৫৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপর্যয়ের মুখে, তখন ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিমুলতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। পথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে সেটির তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীও গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের তৈরি স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করে নতুন ধরনের গবেষণার মডেল তৈরি করেছেন। এসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে এখন লাখ লাখ মানব স্নায়ুকোষ সক্রিয় রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই কোষ প্রতিস্থাপনের পর ইঁদুরগুলোর শেখার সক্ষমতাতেও উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।গবেষণাগারে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি এই প্রাণীগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এলিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের পারস্পরিক সংযোগ এবং মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, সেরিব্রাল পালসি ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ নিয়ে গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিষয়টি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা মেরি শেলির উপন্যাস ফ্রাংকেনস্টাইন-এর মতো মনে হলেও গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা নয়। এসব ইঁদুর মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে, এমন দাবিও করা হয়নি।যেভাবে ইঁদুরের মস্তিষ্কে যুক্ত হলো মানব কোষগবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করেন, যাদের মস্তিষ্কে সেরিব্রাল কর্টেক্সের অধিকাংশ অংশ এবং এর পাশের হিপোক্যাম্পাস অনুপস্থিত ছিল। মস্তিষ্কের বাইরের স্তর সেরিব্রাল কর্টেক্স মানুষের উপলব্ধি, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনোযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে শেখা ও স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইঁদুরগুলোর বয়স যখন মাত্র দুই দিন, তখন তাদের মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গায় মানুষের তৈরি বিশেষ কোষপুঞ্জ প্রতিস্থাপন করেন গবেষকেরা। এসব কোষপুঞ্জকে বলা হয় ‘অর্গানয়েড’। মানুষের স্টেম সেল বা টিউমার টিস্যু থেকে পরীক্ষাগারে এগুলো তৈরি করা হয়। দেখতে ও কার্যপ্রণালিতে এগুলো মানব অঙ্গের ক্ষুদ্র সংস্করণের মতো।প্রতিটি অর্গানয়েড তৈরি করা হয়েছিল সুস্থ মানুষের স্টেম সেল থেকে। একেকটি কোষপুঞ্জে ছিল প্রায় এক লাখ মানব কোষ।গবেষণায় ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ স্নায়ুকোষ সরিয়ে সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানব স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করা হয়। মোট ২৯টি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ২৫টির ক্ষেত্রে কোষ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সফল হয়।মানব কোষের বিস্তার, শেখার ক্ষমতায় উন্নতিপ্রতিস্থাপনের তিন মাসের মধ্যে ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষগুলো আকারে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হয়ে যায়। এসব কোষ ইঁদুরের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গার ৯০ শতাংশের বেশি পূরণ করে। ইঁদুরের মস্তিষ্কের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকজুড়ে মানব টিস্যু ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও ডাকাডাকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।গবেষকেরা ইঁদুরগুলোকে গোলকধাঁধার মতো একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেন। এতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো বারবার পথ হারিয়েছে। অন্যদিকে মানব কোষযুক্ত ইঁদুরগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। গবেষকদের ধারণা, প্রতিস্থাপিত মানব কোষ ইঁদুরগুলোর শেখার ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতায় ভূমিকা রেখেছে।পরীক্ষায় আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয় উঠে আসে। প্রতিস্থাপিত মানব টিস্যুর কিছু কোষ ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ নামের বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষে পরিণত হয়। লম্বা আকৃতির এই স্নায়ুকোষ সাধারণত ইঁদুরের মস্তিষ্কে পাওয়া যায় না। পরীক্ষাগারে তৈরি করাও বেশ কঠিন।মানুষ ছাড়াও বনমানুষ, তিমি ও হাতির মতো সামাজিক প্রাণীর মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ুকোষ রয়েছে।সেরিব্রাল পালসি গবেষণায় নতুন দিগন্তএই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেরিব্রাল পালসি নিয়ে। শিশুদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ রোগ হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের সময় এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও ইঁদুরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল। ফলে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সেরিব্রাল পালসির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝা এত দিন কঠিন ছিল।এবারের গবেষণায় জিনগত পরিবর্তন করা ইঁদুরগুলোকে কম অক্সিজেনের পরিবেশে রাখা হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতির পাশাপাশি হাঁটার ধরনে পরিবর্তন এবং হাত-পায়ের সমন্বয় করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সেরিব্রাল পালসির কিছু বৈশিষ্ট্য ও এর পেছনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করতে পারে।মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণায় কেন এই পদ্ধতি?মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে সরাসরি গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে। এসব কোষের মধ্যে সংযোগের সংখ্যা ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এত জটিল গঠন এবং জীবিত মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে গবেষণার নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানীদের সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাগারে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র কোষপুঞ্জ বা অর্গানয়েড তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তবে এসব অর্গানয়েড পূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্কের বিকল্প নয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের মতো জটিল সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের সংকেত গ্রহণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ এতে সীমিত।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সেরগিউ পাসকা এই গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক। তাঁর মতে, মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অভূতপূর্ব অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।পাসকা বলেন, গত দুই দশক ধরে মানবদেহের বাইরে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম অনুকরণ করতে পারে, এমন মডেল তৈরির চেষ্টা চলছে। নতুন পদ্ধতিটি আগের মডেলগুলোর বিকল্প নয়। তবে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে, যা অন্য উপায়ে বোঝা অত্যন্ত কঠিন।মানব-প্রাণী সংকর তৈরির নৈতিক বিতর্কবৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এই গবেষণা নতুন কিছু নৈতিক প্রশ্নও সামনে এনেছে। মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ বা টিস্যু প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের ফলে কোনো ধরনের অনুভূতি কিংবা চেতনা তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন সক্ষমতা তৈরি হলে তা কীভাবে শনাক্ত ও যাচাই করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত মানব স্নায়ুকোষের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মানব কোষগুলো যেন ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে আরও বেশি স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি চেতনা বা সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষা শেষ করা হয়।এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন ইভান্স। তাঁর মতে, বর্তমান পরীক্ষাটি নিজে থেকে বড় কোনো নৈতিক সংকট তৈরি করে না। তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, এমন প্রাণী তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় এটি।ইভান্সের আশঙ্কা, এ ধরনের গবেষণা ধীরে ধীরে ইঁদুরের মতো প্রাণী ছাড়িয়ে অমানব প্রাইমেট বা উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কোথায় গবেষণার সীমারেখা টানা হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠবে। এ কারণে আপাতত ইঁদুরসহ তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণীর মধ্যেই এ ধরনের গবেষণা সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে মানুষের ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তৈরি স্নায়বিক সংকর প্রাণীর উদ্ভব এবং তা ঘিরে বড় ধরনের নৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিকল্প নেই। এ জন্য ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। এ দিনটি দেশের ইতিহাসে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী সেই ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিয়েছিল। এ কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।তিনি আরও বলেন, পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহাজোটের নামে তারা আবারও দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির আবারও পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন হিসেবে বিবেচিত। যখনই বাংলাদেশ এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দল-মতনির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একই পরিচয়ে গর্বিত। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।তিনি বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অটুট থাকবে। এ বিপ্লবের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। এবারের আয়োজনে হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ পথ হারাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যে দেশের তরুণেরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটাই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখা এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণদের একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেরণায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের স্লোগান হওয়া উচিত দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এ সময় সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত ছিলেন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।