ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে পড়ুন

বিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো

৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।গ্রেপ্তার ১১ আসামিমামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।যাঁরা পলাতকপলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।প্রসিকিউশনের অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।গ্রেপ্তার ১১ আসামিমামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।যাঁরা পলাতকপলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।প্রসিকিউশনের অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র‍্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে
 বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০১ অক্টোবর ২০২৬
১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আমিনুল হক বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই যুক্ত করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে একটি করে কম্পিউটার তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

০১ অক্টোবর ২০২৬
রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিয়ন পদে নিয়োগ নিয়ে তদবিরের অভিযোগ ঘিরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়া এক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ উপেক্ষা করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের অসন্তোষের মুখে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভাগীয় কমিশনারও বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রক্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা রাজস্ব প্রশাসনে অফিস সহায়কের ১০টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা জহিরুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করা হয়। তখন হাতের লেখায় অসংগতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহার অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় তাঁর পরিবর্তে সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তি অংশ নেন। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর রাকিবুল ইসলাম। পরে পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদবিরের অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুল ইসলাম ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ সামনে আসার পর জেলা প্রশাসক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয় বলে তাঁদের দাবি।তবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের আচরণগত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান করেন না। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটুয়াখালী সফরে গেলে জেলা প্রশাসক তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেন না, অথচ পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত হন বলে দাবি করেন তিনি।নুরুল হক নুর আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সরকারি সফরে পটুয়াখালী গেলে জেলা প্রশাসক একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে কুয়াকাটা চলে যান। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের অসদাচরণের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।বদলিকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলছে বিভাগীয় প্রশাসনপ্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষের কারণে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের পদোন্নতি হয়েছে এবং তাঁর বদলি জনপ্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি।টিআইবির চোখে অনৈতিক চাপের অভিযোগ উদ্বেগজনকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একই দিনে কয়েকজন জেলা প্রশাসককে বদলি করায় বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে হতে পারে। তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের ক্ষেত্রে একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।তিনি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক এবং তা প্রতারণায় সহায়তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হতে পারে।ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তবে জেলা প্রশাসকের বদলির সঙ্গে নিয়োগে তদবিরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বদলির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় রয়েছে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
“

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

০৬ অক্টোবর ২০২৬
 বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আমিনুল হক বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই যুক্ত করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে একটি করে কম্পিউটার তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

১৬ ঘন্টা আগে
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
 বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী

জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আমিনুল হক বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই যুক্ত করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে একটি করে কম্পিউটার তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর

সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...