বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ মারা গেছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।)সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বড় ছেলে তানভীর আহমেদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।তাঁর মৃত্যুর খবরে বিএনপির নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
৬ ঘন্টা আগে পড়ুনড. ইউনূসকে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান সাবেক ১২ উপদেষ্টার
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য ও হামলার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান সাবেক উপদেষ্টারা। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, দেশ যখন চরম সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটিয়েছিল।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।তবে বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি—কোনো কিছুই তাঁদের পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার ও মর্যাদার যে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট অর্জন করেছেন, অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেনবিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে আওয়ামী লীগ: হাসনাত আবদুল্লাহ
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের এই দ্বৈত অবস্থান দেশজুড়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে। একটি ধারা গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছে। অন্য ধারাটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে।হাসনাতের অভিযোগ, এই সুযোগসন্ধানী অংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ চালাচ্ছে।মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তিকে আসামি করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খুনি ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তা না হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বাংলাদেশের ক্যাচ মিসে ড্র আবুধাবি টেস্ট
জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়ের পথও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ড্র হয়েছে ম্যাচটি।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেটের দেখা মেলেনি।ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।অটলের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আফগানিস্তানপঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। দিনের শুরু থেকেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। যদিও রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে ভালো সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় উইকেট ধরে রাখলেও মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।এরপর ইসমাত আলমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অটল। একের পর এক বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন ইসমাত। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।মিরাজের আঘাতেই পরে বিদায় নেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অটলেরএক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন করে তুলছিলেন তিনি। চা-বিরতির আগেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।বিরতির পর অবশ্য তাঁর প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই আফগান ওপেনার।অটল ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ ওভার ২ বল বাকি থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন কায়েস আহমেদ। তবে সহজ সেই সুযোগও নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।শেষ বলেও ছক্কা কায়েসেরক্যাচ মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আফগানিস্তানের হাতেই চলে যায়। যদিও শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারায় তারা, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।বরং শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।প্রথম চার দিন জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ শেষ দিনে অটলের প্রতিরোধ ও নিজেদের সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয় থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দেখিয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।
ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার দিল সোনালী ব্যাংক
আর্থিক সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে তা পরিশোধ করবে।সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে টাকা ফেরত দেবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগে একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংকএকসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে।তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সূচক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।আমানতকারীদের টাকা ফেরতের নির্দেশএমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক।সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।গভর্নর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকাএর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে।বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে সরবরাহ করেছে।ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও ঋণ আদায় বাড়ানো এবং আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ উপদেষ্টা। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তাঁরা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য ও হামলার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা থেকে উৎসারিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান সাবেক উপদেষ্টারা। বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ করে কটূক্তি করেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।বিবৃতিতে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হয়রানি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, দেশ যখন চরম সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। তাঁদের দাবি, ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটিয়েছিল।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল।তবে বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাঁকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক উপদেষ্টারা। তাঁদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।বিবৃতিতে তাঁরা আরও বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকি—কোনো কিছুই তাঁদের পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ সংস্কার ও মর্যাদার যে ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট অর্জন করেছেন, অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।বিবৃতিতে যাঁরা স্বাক্ষর করেছেনবিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন এবং ফারুক ই আজম বীর প্রতীক।এ ছাড়া বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউবিনিগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী ও ব্রতীর প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান নির্বাহী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অবস্থানের সমালোচনা করে জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, বিএনপির মুখে জুলাই থাকলেও অন্তরে রয়েছে আওয়ামী লীগ। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডের এই দ্বৈত অবস্থান দেশজুড়ে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।মঙ্গলবার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপিতে দুটি ধারা দেখা যাচ্ছে। একটি ধারা গত দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং জেল-জুলুম ও মামলার শিকার হয়েছে। অন্য ধারাটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছে।হাসনাতের অভিযোগ, এই সুযোগসন্ধানী অংশ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে জুলাই অভ্যুত্থানের মামলাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ‘মামলা বাণিজ্য’ চালাচ্ছে।মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে না জানিয়ে দুই থেকে আড়াই শ ব্যক্তিকে আসামি করে গণহারে মামলা করা হচ্ছে। পরে আসামিপক্ষের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত খুনি ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে।দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলাগুলোর কতটিতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। হাসনাতের দাবি, অভিযোগপত্র দেওয়া হলে মামলা বাণিজ্যের সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে—এ কারণেই মামলার তদন্ত ও অভিযোগপত্র দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, বালুমহাল ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল এবং সারের ডিলারশিপের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। জুলাই গণহত্যায় সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান হাসনাত আবদুল্লাহ। তা না হলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আঁতাতের দায় বিএনপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে। আবুধাবি টেস্টের প্রথম দিন থেকেই ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে লিড, দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ—সব মিলিয়ে জয়ের পথও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেদিকুল্লাহ অটলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, আফগানিস্তানের লোয়ার অর্ডারের প্রতিরোধ এবং শেষ দিকে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কারণে ড্র হয়েছে ম্যাচটি।আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেটের দেখা মেলেনি।ম্যাচে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২৪০ রানে। ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতে আফগানিস্তানের সামনে দাঁড়ায় ৪৭৯ রানের কঠিন লক্ষ্য।অটলের প্রতিরোধে বেঁচে যায় আফগানিস্তানপঞ্চম দিনের খেলা শুরু হয়েছিল আগের দিনের ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে। দিনের শুরু থেকেই দৃঢ়তার পরিচয় দেন আফগান ব্যাটসম্যানরা। যদিও রান নেওয়ার সময় ফিল্ডারের থ্রো পায়ে লাগায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় হাশমতউল্লাহ শহীদিকে। পরে অবশ্য আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি।অন্য প্রান্তে সেদিকুল্লাহ অটলকে ভালো সঙ্গ দেন ইকরাম আলিখিল। প্রথম সেশনের বেশির ভাগ সময় উইকেট ধরে রাখলেও মধ্যাহ্নবিরতির ঠিক আগে ইবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ইকরাম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩৩ রান।এরপর ইসমাত আলমকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন অটল। একের পর এক বল ঠেকিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেন ইসমাত। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ।মিরাজের আঘাতেই পরে বিদায় নেন হাশমতউল্লাহ শহীদি। চা-বিরতির ঠিক আগে বড় শট খেলতে গিয়ে মিড-অনে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। তাঁর সংগ্রহ ৩৬ রান।ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি অটলেরএক প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সেদিকুল্লাহ অটল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই কঠিন করে তুলছিলেন তিনি। চা-বিরতির আগেই তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।বিরতির পর অবশ্য তাঁর প্রতিরোধ থামান তাইজুল ইসলাম। শর্ট লেগে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৩২ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই আফগান ওপেনার।অটল ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচ জয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরপর দুই বলে দুটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি দলটি।এরপর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ ওভার ২ বল বাকি থাকতে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন কায়েস আহমেদ। তবে সহজ সেই সুযোগও নিতে পারেননি হাসান মাহমুদ।শেষ বলেও ছক্কা কায়েসেরক্যাচ মিসের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত আফগানিস্তানের হাতেই চলে যায়। যদিও শেষ পাঁচ ওভার বাকি থাকতে অষ্টম উইকেট হারায় তারা, তাতে ম্যাচের ফল বদলায়নি।বরং শেষ দিকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন কায়েস আহমেদ। ম্যাচের শেষ বলটি ছক্কায় পরিণত করে ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় ড্র।প্রথম চার দিন জয়ের স্বপ্ন দেখানো বাংলাদেশ শেষ দিনে অটলের প্রতিরোধ ও নিজেদের সুযোগ হাতছাড়ার কারণে জয় থেকে দূরে সরে যায়। অন্যদিকে, কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান দেখিয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা।
আর্থিক সংকটে থাকা বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ শতাংশ সুদে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ গ্যারান্টির বিপরীতে তিন মাসের জন্য এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে তা পরিশোধ করবে।সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শওকত আলী খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এ তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, মেয়াদ শেষে ন্যাশনাল ব্যাংক অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বাংলাদেশ ব্যাংক গ্যারান্টির শর্ত অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সোনালী ব্যাংককে টাকা ফেরত দেবে। ফলে এ অর্থায়নে সোনালী ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। এর আগে একই পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকগুলোকে অর্থ দেওয়া হয়েছিল।সংকটে ন্যাশনাল ব্যাংকএকসময় বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর একটি ছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বড় পরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ সিকদার পরিবারের হাতে যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবারও ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন আসে।তবে সিকদার পরিবারের সময়কার অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। উচ্চ খেলাপি ঋণের কারণে আর্থিক সূচক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক লোকসানের পাশাপাশি আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকটি।ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও বড় অঙ্কের তারল্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরপরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী জমা টাকা তুলতে না পেরে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। পরে তাঁদের সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা উত্তোলন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।আমানতকারীদের টাকা ফেরতের নির্দেশএমন পরিস্থিতিতে গত ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবীন ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক।সাক্ষাৎকালে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।গভর্নর ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি এবং আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার কথা জানান। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও দেন তিনি।১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব আমানতকারী যাতে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকাএর আগে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৯৮৫ কোটি টাকা ধার নিয়েছিল ন্যাশনাল ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় বাংলাদেশ ব্যাংককে দায় মেটাতে হয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ হিসেবে ওই অর্থ দায় তৈরি হয়েছে।বর্তমানে ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এ অর্থের পুরোটাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন টাকা সৃষ্টি করে সরবরাহ করেছে।ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকগুলোকে সহায়তা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্যারান্টির বিপরীতে অন্য ব্যাংক থেকে অর্থ ধার নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাৎক্ষণিক অর্থসংকট মোকাবিলায় সহায়ক হলেও ঋণ আদায় বাড়ানো এবং আর্থিক অবস্থার টেকসই উন্নতি নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘ মেয়াদে সংকট কাটানো কঠিন হবে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন
দেশের ১০ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭৯৪ জনের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় ৩৬২, নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, কক্সবাজারে ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, চাঁদপুরে ১৭, ফেনীতে ৫, রাঙামাটিতে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ১২ জনকে আটক করা হয়।বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৮ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১২১ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৭ জনকে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৮ জনকে।মাদক উদ্ধার, ২০ জনের কারাদণ্ডমাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ এবং ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট।এ ছাড়া ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং বিয়ার এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান স্ট্রং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্য গ্রেপ্তারবিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, নোয়াখালীতে একজন, রাঙামাটিতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন
দেশের ১০ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭৯৪ জনের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় ৩৬২, নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, কক্সবাজারে ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, চাঁদপুরে ১৭, ফেনীতে ৫, রাঙামাটিতে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ১২ জনকে আটক করা হয়।বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৮ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১২১ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৭ জনকে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৮ জনকে।মাদক উদ্ধার, ২০ জনের কারাদণ্ডমাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ এবং ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট।এ ছাড়া ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং বিয়ার এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান স্ট্রং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্য গ্রেপ্তারবিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, নোয়াখালীতে একজন, রাঙামাটিতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন
দেশের ১০ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭৯৪ জনের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় ৩৬২, নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, কক্সবাজারে ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, চাঁদপুরে ১৭, ফেনীতে ৫, রাঙামাটিতে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ১২ জনকে আটক করা হয়।বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৮ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১২১ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৭ জনকে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৮ জনকে।মাদক উদ্ধার, ২০ জনের কারাদণ্ডমাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ এবং ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট।এ ছাড়া ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং বিয়ার এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান স্ট্রং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্য গ্রেপ্তারবিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, নোয়াখালীতে একজন, রাঙামাটিতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।