দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ক্ষমতাসীন বিএনপি আঁতাত করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া উচিত সরকারের।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। সাত মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’বিএনপি নিজেদের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করছে না বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, ৩১ দফার ৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সরকার সব ক্ষেত্রেই দলীয়করণ করছে।
১২ ঘন্টা আগে পড়ুনসুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।
সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান, হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি
বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুন্দরবনের পর্যটন সম্ভাবনা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগের সুযোগ পরিদর্শনে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার দুপুরে বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য জানিয়েছে।নির্বাচনের পর সরকারপ্রধানের এ সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্ট পর্যবেক্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি। সেখান থেকে নৌপথে মোংলা নৌঘাঁটিতে যাবেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলে মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তাঁর।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবন জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। অন্যদিকে মোংলা বন্দর দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার। এই দুই সম্ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চল যুক্ত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।সফর উপলক্ষে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা বন্দর এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর প্রত্যাশাপ্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যান্য উন্নয়ন উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।স্থানীয়দের আশা, সুন্দরবনের পর্যটন উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘিরে কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার জবাব দিতে তেহরান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সংযম দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও সমর্থকদের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানতে পারে তেহরান।ওই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সম্ভাব্য সংঘাতের জবাব ইরান কেবল নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না। হামলাকারীদের আঞ্চলিক স্বার্থ ও সহযোগীদেরও পাল্টা আঘাতের আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে দেশটি।যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে একই যুদ্ধশক্তি মনে করে তেহরানইরানের ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার দাবি, তেহরান মনে করে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে ছাড়া ইরানে হামলা চালাবে না, আবার ইসরাইলও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া এমন হামলা চালাতে পারবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশ দুটির যেকোনো একটির এককভাবে অংশ নেওয়ার ধারণা ‘তিক্ত রসিকতার’ মতো।ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ইরানে হামলার প্রকাশ্য হুমকি তেহরানকে আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আইনগত ও নৈতিক ভিত্তি দিয়েছে বলে দেশটি মনে করে। তবে এসব বক্তব্য ইরানি কর্মকর্তার নিজস্ব অবস্থান; এর স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।ইরানে বড় হামলার পরিকল্পনা ইসরাইলেরইরানের এমন হুঁশিয়ারির মধ্যেই দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের হামলা পুনরায় শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।অক্টোবরের শুরুতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ইরানের অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং নেতৃত্ব-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপত্তির কারণে সেই পরিকল্পনা এগোয়নি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় আদায় এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করার কৌশল হিসেবেও তেহরান আলোচনার গতি ধীর রাখছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।আলোচনার আগে আস্থা তৈরির শর্তসামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি মঙ্গলবার বলেছেন, ওয়াশিংটন আস্থা তৈরির পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তেহরান আলোচনায় বসবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের সব শর্ত পূরণ করতে হবে।ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তেহরানের সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে। তাঁর দাবি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সংকটে পড়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে।প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ এবং ইরানের ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে সমঝোতার বাস্তবায়ন এবং শর্তগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাইরানের সর্বাত্মক যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক স্বার্থ এবং হামলায় সহযোগিতাকারীদের স্থাপনাও পাল্টা আঘাতের লক্ষ্য হতে পারে।এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ, সামুদ্রিক পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে তেলের বাজার ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।তবে ইরানের যুদ্ধের প্রস্তুতির ঘোষণা থেকেই নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সামরিক প্রতিরোধের বার্তা দেওয়া, প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও এমন বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।পরিস্থিতির প্রকৃত গতিপথ নির্ভর করবে সামরিক তৎপরতা, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের অগ্রগতির ওপর।তথ্যসূত্র: প্রেস টিভি, রয়টার্স ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।