সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।
৩ ঘন্টা আগে পড়ুনশেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে আজই চিঠি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। চিঠিটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আপিলের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।
শপথ নিলেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুসারে স্পিকার নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তাঁরা সংসদ সচিবের কক্ষে রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকেতারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন তাঁদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।তারেক রহমান বলেন, তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকটপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।বিগত সরকারগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যসৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান তারেক রহমান। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগাতে চায় সরকার।নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রণোদনাও দেওয়া হবে।তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও তিনি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বসৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরাওনবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন।তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক বিক্ষোভের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত কোনো কোনো মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পোশাক কারখানার মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ সময় সাংবাদিকেরা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন। জবাবে তিনি বলেন, আশা করি এগুলো খুব শিগগির খোলার ব্যবস্থা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। চিঠিটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আপিলের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুসারে স্পিকার নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তাঁরা সংসদ সচিবের কক্ষে রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকেতারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন তাঁদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।তারেক রহমান বলেন, তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকটপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।বিগত সরকারগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যসৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান তারেক রহমান। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগাতে চায় সরকার।নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রণোদনাও দেওয়া হবে।তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও তিনি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বসৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরাওনবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন।তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত কোনো কোনো মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পোশাক কারখানার মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ সময় সাংবাদিকেরা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন। জবাবে তিনি বলেন, আশা করি এগুলো খুব শিগগির খোলার ব্যবস্থা করা হবে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।