ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে এ যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা।নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ভ্যান্সঅ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে ব্যক্তিগত আলোচনায় মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন।ভ্যান্সের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনে, যা রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন।নির্বাচনের আগে হামলা নিয়ে উদ্বেগওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে উদ্বেগ জানানো হয়।এরপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হার, স্বীকার ভ্যান্সেরনির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার রিপাবলিকানদের পাশ থেকে সরে গেছেন।ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি।ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো। তৃতীয়ত, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ এখনই অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ তুলে নেওয়ার পক্ষে নয়।সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এই তিন দিক সামাল দিতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সূত্র: আনাদোলু

২৫ মিনিট আগে পড়ুন

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি

ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতামামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না রোনালদো, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়

পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীর বিদায় ঘটল।২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২৩৪টি ম্যাচ, করেছেন ১৪৬ গোল। দীর্ঘ এই পথচলায় একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে।রোনালদোর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এর তিন বছর পর, ২০১৯ সালে দলটি জয় করে উয়েফা নেশনস লিগ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অর্জনের তালিকায় এই দুটি শিরোপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে জাতীয় দল ছাড়ার কথা একসময় ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেলা চালিয়ে যান।এদিকে পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রোনালদোর মতবিরোধের খবরও আলোচনায় আসে। সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার ঘটনায় তৈরি হয় প্রকাশ্য অস্বস্তি। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিরোধের ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ফুটবলার।

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতামামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীর বিদায় ঘটল।২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২৩৪টি ম্যাচ, করেছেন ১৪৬ গোল। দীর্ঘ এই পথচলায় একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে।রোনালদোর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এর তিন বছর পর, ২০১৯ সালে দলটি জয় করে উয়েফা নেশনস লিগ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অর্জনের তালিকায় এই দুটি শিরোপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে জাতীয় দল ছাড়ার কথা একসময় ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেলা চালিয়ে যান।এদিকে পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রোনালদোর মতবিরোধের খবরও আলোচনায় আসে। সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার ঘটনায় তৈরি হয় প্রকাশ্য অস্বস্তি। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিরোধের ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ফুটবলার।

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

৩০ মিনিট আগে
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

৬ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। তবে এখনো কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। দাবির পক্ষে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শ্রমিকদের কারখানায় ফিরতে দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরে কাজে যোগ দিতে না পারা শ্রমিকদের অনেকেই এদিন কর্মস্থলে প্রবেশ করেন।একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘গত কয়েক দিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারিনি। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন দেখে ফিরে যেতাম। আজ সকাল থেকে আন্দোলন হচ্ছে না। তাই কারখানায় প্রবেশ করছি।’এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৫ প্লাটুন সদস্য এবং ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

৬ ঘন্টা আগে
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

০৩ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

০৩ নভেম্বর ২০২৬
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

০২ নভেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
“

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

৬ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

৩০ মিনিট আগে
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...