সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
১৬ ঘন্টা আগে পড়ুনবিদায়ী ম্যাচে মেসির হাতে লাল-হলুদ কার্ড
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।
মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো
৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।গ্রেপ্তার ১১ আসামিমামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।যাঁরা পলাতকপলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।প্রসিকিউশনের অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
বাজারে সিন্ডিকেট বলে কোনো গোষ্ঠীর অস্তিত্ব থাকবে না: খাদ্যমন্ত্রী
জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। বেনিনের বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি স্মরণীয় করে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি।তবে ম্যাচ শেষে মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় অন্যরকম এক মুহূর্ত। বিদায়ী ম্যাচের স্মৃতি হিসেবে রেফারি তাঁর হাতে তুলে দেন একটি হলুদ ও একটি লাল কার্ড।অবশ্য কার্ড দুটি কোনো শাস্তির প্রতীক ছিল না। মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটিকে বিশেষ করে তুলতেই রেফারির এই উদ্যোগ।ম্যাচ শেষে মাঠে মেসিকে ঘিরে সতীর্থ ও সমর্থকদের উদযাপন চলছিল। সেই সময় রেফারি তাঁর হাতে দুটি কার্ড তুলে দেন। ফুটবলে সতর্কতা ও বহিষ্কারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত কার্ড দুটি মেসির বিদায়বেলায় হয়ে ওঠে স্মারক উপহার।ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হয় হাস্যরস। অনেকেই মজা করে বলছেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমে মেসি শেষ পর্যন্ত ‘লাল-হলুদ’ দুই কার্ডই পেলেন।তবে এই উপহারের পেছনে ছিল প্রতীকী বার্তা। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে মেসিকে একটু ভিন্ন ধরনের স্মৃতি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রেফারি।কার্ডের চেয়েও অবশ্য বেনিনের বিপক্ষে মেসির পারফরম্যান্সই ছিল বিদায়ের মূল আকর্ষণ। শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ৩–০ গোলের জয় পায় আর্জেন্টিনা।এই জয়ের মধ্য দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটল। আর বিদায়ের রাতে রেফারির দেওয়া লাল-হলুদ কার্ড জোড়া তাঁর স্মৃতির পাতায় যোগ করল এক অভিনব অধ্যায়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বুধবার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হবে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।গত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩০ আসামিকে আদালতে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ৩০ আসামিকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।গ্রেপ্তার ১১ আসামিমামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।যাঁরা পলাতকপলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।এ তালিকায় আরও রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, তৎকালীন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এস এম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ওসি বিএম ফরমান আলী।প্রসিকিউশনের অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে তৎকালীন সরকার পরিকল্পিতভাবে হেফাজতে ইসলামের নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের ওপর গণহত্যা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।প্রসিকিউশনের দাবি, ওই বৈঠক থেকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের যেকোনো উপায়ে রাতের মধ্যে শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে বৈঠক হয়। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে পুরো অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু হয়। সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতা-কর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, রাবার বল প্রজেক্টাইল ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে সেখানে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শর্টগান ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালান। শাপলা চত্বর থেকে বের হয়ে ঢাকা ছাড়ার চেষ্টা করার সময় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হামলারও শিকার হতে হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রসিকিউশনের দাবি, রাতের অভিযান এবং দিনব্যাপী হামলা ও সংঘর্ষে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতা-কর্মী নিহত ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশে ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়েছে।
জারে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ বলে কোনো শব্দ বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব না রাখাই সরকারের লক্ষ্য।মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি।ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহ বা বাজার ব্যবস্থাপনায় কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।পুষ্টিকর চাল উৎপাদন প্রকল্পের বিষয়ে আফরোজা খানম বলেন, প্রকল্পটি কবে চালু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।এর আগে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিল পরিদর্শনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুর ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সাইলো ও এর ভেতরে থাকা নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিলের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।পরিদর্শনের সময় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের উৎপাদন ও সামগ্রিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় নারায়ণগঞ্জের প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সলের চিকিৎসায় সহায়তা ইউএনওর
সংবাদ প্রকাশের পর জুলাইযোদ্ধা ফয়সল হাওলাদারের উন্নত চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তিনি ফয়সলের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন।এ সময় ইউএনও ফয়সলের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাঁর চিকিৎসায় পাশে থাকার আশ্বাস দেন।সহায়তার চেক পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফয়সল হাওলাদার। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন তিনি। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাতের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গুত্ব ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তিনি।ফয়সল বলেন, হামলার পর থেকে তাঁর ডান হাত স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে না। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হাতটি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর অসহায়ত্ব তুলে ধরে সম্প্রতি দৈনিক আমার দেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।তিনি জানান, সংবাদটি নজরে আসার পর ফতুল্লা থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী তাঁর অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ফয়সল বলেন, ‘প্রতিদিন আমাকে অনেক টাকার ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু তা কেনার মতো সামর্থ্য আমার নেই। এমন কঠিন সময়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই অনুদান আমার চিকিৎসার জন্য অনেক বড় সহায়তা হবে।’চেক হস্তান্তরের সময় ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ফয়সলের প্রতি সমবেদনা জাগে এবং তাঁর চিকিৎসার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। আজ তাঁর হাতে অনুদানের চেক তুলে দিতে পেরে ভালো লাগছে।’তিনি আরও বলেন, অর্থের অভাবে এই বীর তরুণের চিকিৎসা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করব। পরবর্তীতে তাঁর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।