ঢাকা    রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।এর আগে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ও সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হয়।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটন করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য ও কারণ উদঘাটনে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গতকাল ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

১০ ঘন্টা আগে পড়ুন

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, এমনকি তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আলাবামার মোবাইলে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। কথা বলার মতো কেউ নেই। কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক বছর আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমাদের সব সময় কঠিন কাজটি করতে হয়।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশটির কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটির অর্থনীতি ‘ধ্বংসের পথে’ এবং সেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ।যুদ্ধ শেষ হলে কমবে তেলের দামইরানকে ঘিরে অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কথা কী? আমরা এটিকে ইস্পাতের প্রাচীর বলি।’যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) আবার পূরণ করার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের কৌশলগত মজুত আবার পূরণ করব, বিনা মূল্যে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।

ট্রেনে ছিনতাই-হামলা বাড়ছে, চার বছর আট মাসে ৩১৬১ মামলা

নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে ট্রেনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ট্রেনেই বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধ। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গত চার বছর আট মাসে ৩ হাজার ১৬১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ২৫০টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, এসব অপরাধে জড়িতদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। তারা অনেক সময় যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে অপরাধ করে নিকটবর্তী স্টেশনে নেমে যায়। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেন থেকেও দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়।ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগসাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে ছিনতাইয়ের সময় যাত্রীদের ছুরিকাঘাত ও চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।গত ৮ মে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক শাওন আহত হন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে ট্রেনে ওঠার পর চার ছিনতাইকারী তাঁকে পেটে ছুরিকাঘাত করে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর আগে ৪ মে মালিবাগ এলাকায় একটি ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম নামে এক যুবক আহত হন।গত ৮ জুন বনানী এলাকায় মাহিদুল ইসলাম নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে মারধর ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় চট্টলা এক্সপ্রেসে তোফায়েল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন ছিনতাইকারী। বাধা দিলে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় তারা।১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবকের কাছ থেকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টিও সক্রিয়রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন রুটের ট্রেনে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি, টানা পার্টি, ঝুলন্ত ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতাও রয়েছে। কেউ কেউ চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে যাত্রীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেয়।রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, ট্রেনে তল্লাশি ও প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ট্রেনে পুলিশের গার্ড ডিউটিও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাবে।অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, নজরদারি কম থাকার কারণে অপরাধ বাড়ছে। রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।জনবল সংকট, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিরেলওয়ে পুলিশের মোট জনবল ২ হাজার ৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় রয়েছে ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি। সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত জনবল চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অপরাধী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ট্রেনে অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ট্রেনে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য নতুন করে ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম)-এ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে পুলিশ। এতে অপরাধীর বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ তথ্য রাখা হবে। ফলে পুনরায় অপরাধে জড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীমালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রেরকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, এমনকি তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আলাবামার মোবাইলে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। কথা বলার মতো কেউ নেই। কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক বছর আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমাদের সব সময় কঠিন কাজটি করতে হয়।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশটির কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটির অর্থনীতি ‘ধ্বংসের পথে’ এবং সেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ।যুদ্ধ শেষ হলে কমবে তেলের দামইরানকে ঘিরে অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কথা কী? আমরা এটিকে ইস্পাতের প্রাচীর বলি।’যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) আবার পূরণ করার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের কৌশলগত মজুত আবার পূরণ করব, বিনা মূল্যে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।

নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে ট্রেনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ট্রেনেই বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধ। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গত চার বছর আট মাসে ৩ হাজার ১৬১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ২৫০টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, এসব অপরাধে জড়িতদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। তারা অনেক সময় যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে অপরাধ করে নিকটবর্তী স্টেশনে নেমে যায়। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেন থেকেও দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়।ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগসাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে ছিনতাইয়ের সময় যাত্রীদের ছুরিকাঘাত ও চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।গত ৮ মে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক শাওন আহত হন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে ট্রেনে ওঠার পর চার ছিনতাইকারী তাঁকে পেটে ছুরিকাঘাত করে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর আগে ৪ মে মালিবাগ এলাকায় একটি ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম নামে এক যুবক আহত হন।গত ৮ জুন বনানী এলাকায় মাহিদুল ইসলাম নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে মারধর ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় চট্টলা এক্সপ্রেসে তোফায়েল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন ছিনতাইকারী। বাধা দিলে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় তারা।১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবকের কাছ থেকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টিও সক্রিয়রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন রুটের ট্রেনে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি, টানা পার্টি, ঝুলন্ত ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতাও রয়েছে। কেউ কেউ চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে যাত্রীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেয়।রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, ট্রেনে তল্লাশি ও প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ট্রেনে পুলিশের গার্ড ডিউটিও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাবে।অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, নজরদারি কম থাকার কারণে অপরাধ বাড়ছে। রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।জনবল সংকট, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিরেলওয়ে পুলিশের মোট জনবল ২ হাজার ৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় রয়েছে ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি। সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত জনবল চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অপরাধী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ট্রেনে অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ট্রেনে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য নতুন করে ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম)-এ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে পুলিশ। এতে অপরাধীর বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ তথ্য রাখা হবে। ফলে পুনরায় অপরাধে জড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীমালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রেরকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

১৯ ঘন্টা আগে
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০১ অক্টোবর ২০২৬
১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আমিনুল হক বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই যুক্ত করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে একটি করে কম্পিউটার তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

০১ অক্টোবর ২০২৬
রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিয়ন পদে নিয়োগ নিয়ে তদবিরের অভিযোগ ঘিরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়া এক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ উপেক্ষা করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের অসন্তোষের মুখে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভাগীয় কমিশনারও বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রক্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা রাজস্ব প্রশাসনে অফিস সহায়কের ১০টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা জহিরুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করা হয়। তখন হাতের লেখায় অসংগতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহার অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় তাঁর পরিবর্তে সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তি অংশ নেন। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর রাকিবুল ইসলাম। পরে পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদবিরের অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুল ইসলাম ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ সামনে আসার পর জেলা প্রশাসক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয় বলে তাঁদের দাবি।তবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের আচরণগত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান করেন না। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটুয়াখালী সফরে গেলে জেলা প্রশাসক তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেন না, অথচ পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত হন বলে দাবি করেন তিনি।নুরুল হক নুর আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সরকারি সফরে পটুয়াখালী গেলে জেলা প্রশাসক একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে কুয়াকাটা চলে যান। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের অসদাচরণের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।বদলিকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলছে বিভাগীয় প্রশাসনপ্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষের কারণে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের পদোন্নতি হয়েছে এবং তাঁর বদলি জনপ্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি।টিআইবির চোখে অনৈতিক চাপের অভিযোগ উদ্বেগজনকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একই দিনে কয়েকজন জেলা প্রশাসককে বদলি করায় বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে হতে পারে। তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের ক্ষেত্রে একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।তিনি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক এবং তা প্রতারণায় সহায়তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হতে পারে।ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তবে জেলা প্রশাসকের বদলির সঙ্গে নিয়োগে তদবিরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বদলির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় রয়েছে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

নির্বাচিত সরকারের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জনপ্রশাসনে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চললেও মধ্যম ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্থবিরতা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব এবং সরকারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে প্রশাসনের এই পরিস্থিতির পেছনে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পদায়ন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।প্রশাসন সাজানো নিয়ে প্রশ্নজনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহাল রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রশাসন পুনর্গঠনে বিতর্কের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধারার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে সরকারের প্রতি প্রত্যাশিত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন।অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কানিজ মওলাসহ কয়েকজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার ঘটনাও এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, এতে প্রশাসনে দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।নিয়োগে বিতর্ক, মাঠ প্রশাসনেও অসন্তোষসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে ৬১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ পড়েন। বাদ পড়া প্রার্থীদের কারও কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এ ধরনের প্রতিবেদন সরকারের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক কয়েকজন আমলা। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার সুযোগে আগের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে বদলায়নি পরিস্থিতিসরকার পরিবর্তনের পরও সরকারি দপ্তরে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমেনি বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের ভাষ্য, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা দেওয়ার অভিযোগ এখনো রয়েছে। সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসের মতো জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ভোগান্তির কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের সঙ্গে আমলাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।এদিকে, শাহেদ শরীফ আহমেদের চালু করা ‘ঘুষ ডট সাইটে’ গত বুধবার পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৫৮টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি করা ঘুষের মোট পরিমাণ ৫৫২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়ার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভঙ্গুর প্রশাসন পেয়েছিল। সেই প্রশাসন পুনর্গঠনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঘাটতি ছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি ও অবসরে পাঠালেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগের সরকারের সময়কার অনেক কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্নপ্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি একযোগে ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদেও সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগ প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সরকারেরপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য বিবেচনা করা হবে। সরকারের সামনে এখন প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ কমানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও জনসেবার মান উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁয় বা মারধরের প্রতিবাদে দুই দিনের ধর্মঘট, নওগাঁয় আবার বাস চলাচল শুরু

নওগাঁয় বা মারধরের প্রতিবাদে দুই দিনের ধর্মঘট, নওগাঁয় আবার বাস চলাচল শুরু

বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে দুই দিন বন্ধ থাকার পর নওগাঁর সব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের কয়েক দফা আলোচনার পর গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রী ওঠানো-নামানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।এর জেরে পরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক বাস সুপারভাইজারকে সিএনজিচালকেরা অতর্কিত মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।বাসচালককে মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার চলাচল বন্ধের দাবিতে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিন ধরে বাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। বাসচালককে মারধরের ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসের পর শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। এরপর জেলার সব রুটে বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীতে জহুরুল হাওলাদার নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি বড় কোরাল মাছ। পরে মাছটি শরণখোলা বাজারে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।সোমবার সকালে বন বিভাগের বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে ভোলা নদীতে মাছ ধরতে যান শরণখোলা গ্রামের জেলে জহুরুল হাওলাদার। নদীতে জাল ফেলার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ জালে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন তিনি। পরে কৌশলে জালটি নৌকায় তুললে দেখা যায়, তাতে আটকা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি কোরাল।নৌকায় মাছটি তোলার পর ওজন করে দেখা যায়, কোরালটির ওজন ২০ কেজি। বড় মাছটি নিয়ে দ্রুত শরণখোলা বাজারে ফিরে আসেন জহুরুল। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় মৎস্য আড়তদার শাহাদাত মুন্সী মাছটি ৩৬ হাজার টাকায় কিনে নেন।স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবনে টানা তিন মাস মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত এক মাসে জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় আকারের কোরালের বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মাছটির জন্য ভালো দাম পেয়েছেন জেলে।মাছটির ক্রেতা শাহাদাত মুন্সী বলেন, গত এক মাসে সুন্দরবন এলাকা থেকে আসা মাছের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় কোরালের চাহিদা বেশি হওয়ায় ভালো দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে লাভজনক দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ভোলা নদীতে জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের কোরাল ধরা পড়ার বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। তাঁর মতে, তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় সুন্দরবনের জলাশয়ে মাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জাল ও বড়শিতে বড় আকারের মাছ ধরা পড়ছে এবং তাঁরা বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
“

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

১৯ ঘন্টা আগে
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

১৯ ঘন্টা আগে
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...