মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই সমাজে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।বৃহস্পতিবার দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল জলিল মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জনপ্রশাসন সচিব বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চালিয়ে মাদক ও কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।তিনি বলেন, মাদকের বিস্তার ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বর্তমানে সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকাসক্তির ক্ষতি শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের ওপরও পড়ে।অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বানকিশোর অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সন্তান যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য অভিভাবকদের তাদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। একই সঙ্গে সন্তানের চলাফেরা ও বন্ধু নির্বাচনের বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবেনবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জনপ্রশাসন সচিব বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে। তাই শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না।শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
৩ ঘন্টা আগে পড়ুনদেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত: রাষ্ট্রপতি
দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার দুপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। এরপরও দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা, বন্দর, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি বেসরকারি কোম্পানি পরিচালনার জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হচ্ছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষায় ড্যাফোডিলসাক্ষাৎকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব পেটেন্ট উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করে এ বিভাগ।ড. সবুর খান আরও জানান, শিক্ষার্থীদের গবেষণার পাশাপাশি প্রোডাকশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড, ফিশারিজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন কর্মমুখী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতিরসাক্ষাৎকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, ডিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ বছরে ২ কোটি মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য
অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি মানুষকে উন্নত প্রাথমিক চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া, ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এসব পরিকল্পনার কথা জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে সারা দেশে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী এবং পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের মানুষের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের কর্মক্ষমতা, কাজের দক্ষতা এবং আয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।গড়ে তোলা হবে রেফারেল নেটওয়ার্কচক্ষুসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে একটি সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা জানান ডা. এম এ মুহিত। এ জন্য প্রয়োজনীয় রেফারেল হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করা হবে।তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে যেসব রোগী শনাক্ত হবেন, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কর্মসূচিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা’ প্রণয়নের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।‘লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়’আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত।তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনা, ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া এবং ১০ লাখ ছানি অপারেশন করা সহজ কাজ নয়। তবে এ খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের উদ্দীপনা, ঐক্য, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক কর্মপদ্ধতি লক্ষ্যগুলো অর্জনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।‘আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ’-এর সহায়তায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি) যৌথভাবে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।সভায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, আইএপিবির কান্ট্রি চেয়ার (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিনু রেইন (নিউটন), আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ভিশনস্প্রিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন বক্তব্য দেন।‘সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে’ডা. মুনির আহমেদ বলেন, দেশে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে এ খাতের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড’-কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।চক্ষুসেবা খাতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. মুনির আহমেদ বলেন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের কাঠামো ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান বাংলাদেশের
ডিজিটাল পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মস্কোয় ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডারস: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসেস ফর চাইল্ড সেফটি অনলাইন’ শীর্ষক প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ সময় উদ্যোগটির জন্য গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ও অ্যালায়েন্স ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকের দায়িত্ব নয়ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা ও বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের নানা সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নতুন নতুন ও পরিবর্তনশীল অনলাইন ঝুঁকির মুখেও পড়ছে।শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনকে এ দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করতে হবে।জাতীয় আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজনশিশুদের তথ্য সুরক্ষা ও অনলাইন শোষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।তবে শুধু জাতীয় আইন দিয়ে এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান এবং কার্যকর অনুশীলন বিনিময় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।মস্কোর বৈঠকে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট’-এর খসড়া যৌথ ঘোষণা ও টার্মস অব রেফারেন্স পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশুদের অধিকারকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত কাঠামো তুলে ধরেছে।তিন নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থনউদ্যোগটির তিনটি মূল নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান মন্ত্রী। এগুলো হলো—শিশুর সার্বিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়।তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ সব ভৌগোলিক অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক কৌশলে প্রতিফলিত হবে।শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সূচক বা ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড সেফটি ইনডেক্স’ এবং গবেষণার জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবকেও বাংলাদেশ স্বাগত জানায় বলে জানান তিনি।ডিজিটাল সাক্ষরতার ওপর গুরুত্বকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সময়ে শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা ও জ্ঞান বাড়ানো গেলে অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি ও তথ্য চুরি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল বিশ্বে বিচরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।আন্তর্জাতিক এ ফোরামে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারের সঙ্গে শফিকুর রহমানের বৈঠক
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন।তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান।বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বানবৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
দেশের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।বৃহস্পতিবার দুপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। এরপরও দেশের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা, বন্দর, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এবং এমনকি বেসরকারি কোম্পানি পরিচালনার জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করতে হচ্ছে। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।গবেষণা ও কর্মমুখী শিক্ষায় ড্যাফোডিলসাক্ষাৎকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব পেটেন্ট উন্নয়ন বিভাগ রয়েছে। গবেষকদের উদ্ভাবনের পেটেন্ট অধিকার নিশ্চিত করা এবং সেগুলোর বাণিজ্যিকীকরণে সহায়তা করে এ বিভাগ।ড. সবুর খান আরও জানান, শিক্ষার্থীদের গবেষণার পাশাপাশি প্রোডাকশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড, ফিশারিজ, ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন কর্মমুখী বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের বিভিন্ন র্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।সমাবর্তনে আমন্ত্রণ গ্রহণ রাষ্ট্রপতিরসাক্ষাৎকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতিকে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব ছাড়াও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, ডিন ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত ছিলেন।
অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি মানুষকে উন্নত প্রাথমিক চক্ষুসেবার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া, ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এসব পরিকল্পনার কথা জানান।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অংশ হিসেবে সারা দেশে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি স্কুলশিক্ষার্থী এবং পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের মানুষের কাছে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের কর্মক্ষমতা, কাজের দক্ষতা এবং আয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।গড়ে তোলা হবে রেফারেল নেটওয়ার্কচক্ষুসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে একটি সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা জানান ডা. এম এ মুহিত। এ জন্য প্রয়োজনীয় রেফারেল হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করা হবে।তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে যেসব রোগী শনাক্ত হবেন, তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় স্কুলপড়ুয়া শিশুসহ ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কর্মসূচিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা’ প্রণয়নের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।‘লক্ষ্য অর্জন সহজ নয়’আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ সরকারের এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে বলে জানান ডা. এম এ মুহিত।তিনি বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনা, ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া এবং ১০ লাখ ছানি অপারেশন করা সহজ কাজ নয়। তবে এ খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের উদ্দীপনা, ঐক্য, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক কর্মপদ্ধতি লক্ষ্যগুলো অর্জনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।‘আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ’-এর সহায়তায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি) যৌথভাবে আলোচনা সভাটির আয়োজন করে।সভায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, আইএপিবির কান্ট্রি চেয়ার (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিনু রেইন (নিউটন), আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ভিশনস্প্রিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন বক্তব্য দেন।‘সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে’ডা. মুনির আহমেদ বলেন, দেশে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে এ খাতের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড’-কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।চক্ষুসেবা খাতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. মুনির আহমেদ বলেন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের কাঠামো ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।
ডিজিটাল পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক সর্বোত্তম অনুশীলন বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মস্কোয় ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড উইদাউট বর্ডারস: বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল প্র্যাকটিসেস ফর চাইল্ড সেফটি অনলাইন’ শীর্ষক প্রাতরাশ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এ সময় উদ্যোগটির জন্য গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরাম ও অ্যালায়েন্স ফর দ্য প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকের দায়িত্ব নয়ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শিশুরা শিক্ষা ও বিকাশের জন্য অনলাইন জগতের নানা সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে তারা নতুন নতুন ও পরিবর্তনশীল অনলাইন ঝুঁকির মুখেও পড়ছে।শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু অভিভাবক বা শিক্ষকদের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সুশীল সমাজসহ সব অংশীজনকে এ দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করতে হবে।জাতীয় আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজনশিশুদের তথ্য সুরক্ষা ও অনলাইন শোষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি আইনসহ সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।তবে শুধু জাতীয় আইন দিয়ে এ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান এবং কার্যকর অনুশীলন বিনিময় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।মস্কোর বৈঠকে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স টু প্রটেক্ট চিলড্রেন ইন দ্য ডিজিটাল এনভায়রনমেন্ট’-এর খসড়া যৌথ ঘোষণা ও টার্মস অব রেফারেন্স পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে রাশিয়াকে ধন্যবাদ জানান ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, প্রস্তাবিত দলিলটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের আলোকে শিশুদের অধিকারকেন্দ্রিক একটি সমন্বিত কাঠামো তুলে ধরেছে।তিন নীতিতে বাংলাদেশের সমর্থনউদ্যোগটির তিনটি মূল নীতির প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান মন্ত্রী। এগুলো হলো—শিশুর সার্বিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া, সব অংশীজনের যৌথ দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়।তিনি বলেন, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ সব ভৌগোলিক অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বহুপক্ষীয় কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বৈশ্বিক কৌশলে প্রতিফলিত হবে।শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সূচক বা ‘ডিজিটাল চাইল্ডহুড সেফটি ইনডেক্স’ এবং গবেষণার জন্য বিশেষ প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাবকেও বাংলাদেশ স্বাগত জানায় বলে জানান তিনি।ডিজিটাল সাক্ষরতার ওপর গুরুত্বকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সময়ে শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন ফকির মাহবুব আনাম।তিনি বলেন, ডিজিটাল বিষয়ে সচেতনতা ও জ্ঞান বাড়ানো গেলে অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।অনলাইন বুলিং, যৌন হয়রানি ও তথ্য চুরি থেকে শিশুদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট জোটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।মন্ত্রী বলেন, জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রতিটি শিশু যেন নিরাপদে ও নির্ভয়ে ডিজিটাল বিশ্বে বিচরণ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই বৈশ্বিক অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।আন্তর্জাতিক এ ফোরামে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার প্রফেসর ড. নুমান কুরতুলমুশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে তুরস্কের পার্লামেন্টের বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আকিফ ইলমাজ এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সংসদীয় গণতন্ত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন যাত্রার জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।বৈঠকে ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা সম্পর্কে তুরস্কের পার্লামেন্টের স্পিকারকে অবহিত করেন।তিনি রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। রোহিঙ্গাদের জন্য তুরস্কের অব্যাহত সহযোগিতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।এ সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠি পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে হস্তান্তর করেন ডা. শফিকুর রহমান।বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর আহ্বানবৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক, সংসদীয়, শিক্ষাগত, প্রযুক্তিগত, শিল্প-সাহিত্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।উভয় পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. এসএম খালিদুজ্জামান।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে
পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে
পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
শুক্রবারও বৃষ্টি হতে পারে, বেশি সম্ভাবনা রংপুর-ময়মনসিংহে
পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আগামীকাল শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ওপর থেকে মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। মৌসুমি বায়ু বিদায়ের পর বাতাসের আর্দ্রতা কমে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও কিছুটা কমতে পারে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি দুর্বল অবস্থায় আছে। এরই মধ্যে দেশের পশ্চিমাঞ্চল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের অন্য এলাকাগুলো থেকেও এর বিদায় নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।মৌসুমি বায়ুর বিদায়লগ্নে পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার দেশের আকাশ অনেকটাই মেঘলা ছিল। বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি বৃষ্টিও হয়েছে। এদিন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে। দেশের সর্বোচ্চ ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ঢাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৪ মিলিমিটার।বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে—৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বৃষ্টির পাশাপাশি তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসা এবং বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি কিছুটা কমেছে।আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে। তবে রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিলে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হয়ে উত্তর-পশ্চিম অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হতে পারে। এতে তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও বাতাসের আর্দ্রতা কমবে। ফলে ভ্যাপসা গরমের অনুভূতিও আরও কমতে পারে।শনিবারের পর কমতে পারে বৃষ্টির প্রবণতাআবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এটি দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।এই লঘুচাপের প্রভাবে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। ফলে শনিবারের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসতে পারে।