ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির গুরুত্ব স্মরণে শনিবার (৭ নভেম্বর) দূতাবাস প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়।দিনের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে দূতাবাসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও নেপালের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করা হয়।অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, জাতি গঠনে এর অবদান এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।বক্তারা বলেন, দেশের জাতীয় ঐক্য, সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুরক্ষায় জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা ধারণ ও সংরক্ষণে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।দিবসটির ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানে দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা এবং বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

২ ঘন্টা আগে পড়ুন

সিলেটে হৃদয়ের ইতিহাস, বাংলাদেশের ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি

সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এক প্রান্তে অবিচল তাওহিদ হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুধু ইনিংসই সামলাননি, ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও যোগ করেছেন অনন্য এক মাইলফলক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন হৃদয়।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। ৩০৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। শুরু থেকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ধৈর্য ধরে খেলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন এই ব্যাটার।বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। তাঁদের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিম ও সাকিব করেছেন একটি করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো তাওহিদ হৃদয়ের নাম। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে হৃদয়ের এই পারফরম্যান্স। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল এই অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ৩৫৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপর্যয়ের মুখে, তখন ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

জামালপুরে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, আহত ২

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিমুলতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। পথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে সেটির তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীও গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের লাখ লাখ স্নায়ুকোষ, শেখার ক্ষমতাও বেড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের তৈরি স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করে নতুন ধরনের গবেষণার মডেল তৈরি করেছেন। এসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে এখন লাখ লাখ মানব স্নায়ুকোষ সক্রিয় রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই কোষ প্রতিস্থাপনের পর ইঁদুরগুলোর শেখার সক্ষমতাতেও উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।গবেষণাগারে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি এই প্রাণীগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এলিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের পারস্পরিক সংযোগ এবং মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, সেরিব্রাল পালসি ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ নিয়ে গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিষয়টি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা মেরি শেলির উপন্যাস ফ্রাংকেনস্টাইন-এর মতো মনে হলেও গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা নয়। এসব ইঁদুর মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে, এমন দাবিও করা হয়নি।যেভাবে ইঁদুরের মস্তিষ্কে যুক্ত হলো মানব কোষগবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করেন, যাদের মস্তিষ্কে সেরিব্রাল কর্টেক্সের অধিকাংশ অংশ এবং এর পাশের হিপোক্যাম্পাস অনুপস্থিত ছিল। মস্তিষ্কের বাইরের স্তর সেরিব্রাল কর্টেক্স মানুষের উপলব্ধি, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনোযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে শেখা ও স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইঁদুরগুলোর বয়স যখন মাত্র দুই দিন, তখন তাদের মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গায় মানুষের তৈরি বিশেষ কোষপুঞ্জ প্রতিস্থাপন করেন গবেষকেরা। এসব কোষপুঞ্জকে বলা হয় ‘অর্গানয়েড’। মানুষের স্টেম সেল বা টিউমার টিস্যু থেকে পরীক্ষাগারে এগুলো তৈরি করা হয়। দেখতে ও কার্যপ্রণালিতে এগুলো মানব অঙ্গের ক্ষুদ্র সংস্করণের মতো।প্রতিটি অর্গানয়েড তৈরি করা হয়েছিল সুস্থ মানুষের স্টেম সেল থেকে। একেকটি কোষপুঞ্জে ছিল প্রায় এক লাখ মানব কোষ।গবেষণায় ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ স্নায়ুকোষ সরিয়ে সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানব স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করা হয়। মোট ২৯টি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ২৫টির ক্ষেত্রে কোষ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সফল হয়।মানব কোষের বিস্তার, শেখার ক্ষমতায় উন্নতিপ্রতিস্থাপনের তিন মাসের মধ্যে ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষগুলো আকারে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হয়ে যায়। এসব কোষ ইঁদুরের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গার ৯০ শতাংশের বেশি পূরণ করে। ইঁদুরের মস্তিষ্কের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকজুড়ে মানব টিস্যু ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও ডাকাডাকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।গবেষকেরা ইঁদুরগুলোকে গোলকধাঁধার মতো একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেন। এতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো বারবার পথ হারিয়েছে। অন্যদিকে মানব কোষযুক্ত ইঁদুরগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। গবেষকদের ধারণা, প্রতিস্থাপিত মানব কোষ ইঁদুরগুলোর শেখার ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতায় ভূমিকা রেখেছে।পরীক্ষায় আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয় উঠে আসে। প্রতিস্থাপিত মানব টিস্যুর কিছু কোষ ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ নামের বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষে পরিণত হয়। লম্বা আকৃতির এই স্নায়ুকোষ সাধারণত ইঁদুরের মস্তিষ্কে পাওয়া যায় না। পরীক্ষাগারে তৈরি করাও বেশ কঠিন।মানুষ ছাড়াও বনমানুষ, তিমি ও হাতির মতো সামাজিক প্রাণীর মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ুকোষ রয়েছে।সেরিব্রাল পালসি গবেষণায় নতুন দিগন্তএই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেরিব্রাল পালসি নিয়ে। শিশুদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ রোগ হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের সময় এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও ইঁদুরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল। ফলে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সেরিব্রাল পালসির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝা এত দিন কঠিন ছিল।এবারের গবেষণায় জিনগত পরিবর্তন করা ইঁদুরগুলোকে কম অক্সিজেনের পরিবেশে রাখা হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতির পাশাপাশি হাঁটার ধরনে পরিবর্তন এবং হাত-পায়ের সমন্বয় করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সেরিব্রাল পালসির কিছু বৈশিষ্ট্য ও এর পেছনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করতে পারে।মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণায় কেন এই পদ্ধতি?মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে সরাসরি গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে। এসব কোষের মধ্যে সংযোগের সংখ্যা ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এত জটিল গঠন এবং জীবিত মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে গবেষণার নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানীদের সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাগারে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র কোষপুঞ্জ বা অর্গানয়েড তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তবে এসব অর্গানয়েড পূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্কের বিকল্প নয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের মতো জটিল সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের সংকেত গ্রহণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ এতে সীমিত।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সেরগিউ পাসকা এই গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক। তাঁর মতে, মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অভূতপূর্ব অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।পাসকা বলেন, গত দুই দশক ধরে মানবদেহের বাইরে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম অনুকরণ করতে পারে, এমন মডেল তৈরির চেষ্টা চলছে। নতুন পদ্ধতিটি আগের মডেলগুলোর বিকল্প নয়। তবে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে, যা অন্য উপায়ে বোঝা অত্যন্ত কঠিন।মানব-প্রাণী সংকর তৈরির নৈতিক বিতর্কবৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এই গবেষণা নতুন কিছু নৈতিক প্রশ্নও সামনে এনেছে। মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ বা টিস্যু প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের ফলে কোনো ধরনের অনুভূতি কিংবা চেতনা তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন সক্ষমতা তৈরি হলে তা কীভাবে শনাক্ত ও যাচাই করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত মানব স্নায়ুকোষের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মানব কোষগুলো যেন ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে আরও বেশি স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি চেতনা বা সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষা শেষ করা হয়।এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন ইভান্স। তাঁর মতে, বর্তমান পরীক্ষাটি নিজে থেকে বড় কোনো নৈতিক সংকট তৈরি করে না। তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, এমন প্রাণী তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় এটি।ইভান্সের আশঙ্কা, এ ধরনের গবেষণা ধীরে ধীরে ইঁদুরের মতো প্রাণী ছাড়িয়ে অমানব প্রাইমেট বা উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কোথায় গবেষণার সীমারেখা টানা হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠবে। এ কারণে আপাতত ইঁদুরসহ তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণীর মধ্যেই এ ধরনের গবেষণা সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে মানুষের ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তৈরি স্নায়বিক সংকর প্রাণীর উদ্ভব এবং তা ঘিরে বড় ধরনের নৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিকল্প নেই। এ জন্য ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। এ দিনটি দেশের ইতিহাসে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী সেই ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিয়েছিল। এ কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।তিনি আরও বলেন, পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহাজোটের নামে তারা আবারও দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির আবারও পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন হিসেবে বিবেচিত। যখনই বাংলাদেশ এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দল-মতনির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একই পরিচয়ে গর্বিত। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।তিনি বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অটুট থাকবে। এ বিপ্লবের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। এবারের আয়োজনে হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ পথ হারাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যে দেশের তরুণেরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটাই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখা এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণদের একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেরণায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের স্লোগান হওয়া উচিত দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এ সময় সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক প্রান্ত আগলে রেখে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন তাওহিদ হৃদয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছে বাংলাদেশ, অন্যদিকে এক প্রান্তে অবিচল তাওহিদ হৃদয়। দলের কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে শুধু ইনিংসই সামলাননি, ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায়ও যোগ করেছেন অনন্য এক মাইলফলক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হলেন হৃদয়।সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। ৩০৪ বলে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৯টি চার ও ৭টি ছক্কা। শুরু থেকে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে ধৈর্য ধরে খেলে এক প্রান্ত আগলে রাখেন এই ব্যাটার।বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করার কীর্তি ছিল মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের। তাঁদের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। তামিম ও সাকিব করেছেন একটি করে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো তাওহিদ হৃদয়ের নাম। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটি ষষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে হৃদয়ের এই পারফরম্যান্স। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর আগে ২০২১ সালে মুমিনুল হকের করা ১১৫ রান ছিল এই অবস্থানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।এর আগে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সংগ্রহ করে ৩৫৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন তিনি।জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন দল বিপর্যয়ের মুখে, তখন ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হৃদয়। তাঁর অসাধারণ ইনিংসে ভর করে ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বুরুঙ্গা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শিমুলতলী থেকে যাত্রী নিয়ে একটি অটোরিকশা জামালপুরের দিকে যাচ্ছিল। একই সময়ে জামালপুর থেকে মেলান্দহের দিকে যাচ্ছিল একটি মোটরসাইকেল। পথে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক প্রথমে মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এরপর ট্রাকটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে সেটির তিন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহীও গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.টি.এম. মাহমুদুল হক বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও এর চালককে আটক করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানুষের তৈরি স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করে নতুন ধরনের গবেষণার মডেল তৈরি করেছেন। এসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে এখন লাখ লাখ মানব স্নায়ুকোষ সক্রিয় রয়েছে। গবেষকদের দাবি, এই কোষ প্রতিস্থাপনের পর ইঁদুরগুলোর শেখার সক্ষমতাতেও উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।গবেষণাগারে তৈরি মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তৈরি এই প্রাণীগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে ‘এলিয়েন-কর্টিক্যাল মাউস’। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচার-এ প্রকাশিত গবেষণাটি স্নায়ুকোষের পারস্পরিক সংযোগ এবং মানব মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগ বোঝার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সিজোফ্রেনিয়া, সেরিব্রাল পালসি ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগ নিয়ে গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।বিষয়টি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনি বা মেরি শেলির উপন্যাস ফ্রাংকেনস্টাইন-এর মতো মনে হলেও গবেষকেরা বলছেন, এটি মানুষের মস্তিষ্ক প্রতিস্থাপনের পরীক্ষা নয়। এসব ইঁদুর মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে, এমন দাবিও করা হয়নি।যেভাবে ইঁদুরের মস্তিষ্কে যুক্ত হলো মানব কোষগবেষণার শুরুতে বিজ্ঞানীরা জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন কিছু ইঁদুর তৈরি করেন, যাদের মস্তিষ্কে সেরিব্রাল কর্টেক্সের অধিকাংশ অংশ এবং এর পাশের হিপোক্যাম্পাস অনুপস্থিত ছিল। মস্তিষ্কের বাইরের স্তর সেরিব্রাল কর্টেক্স মানুষের উপলব্ধি, চলাফেরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মনোযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে শেখা ও স্মৃতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে হিপোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।ইঁদুরগুলোর বয়স যখন মাত্র দুই দিন, তখন তাদের মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গায় মানুষের তৈরি বিশেষ কোষপুঞ্জ প্রতিস্থাপন করেন গবেষকেরা। এসব কোষপুঞ্জকে বলা হয় ‘অর্গানয়েড’। মানুষের স্টেম সেল বা টিউমার টিস্যু থেকে পরীক্ষাগারে এগুলো তৈরি করা হয়। দেখতে ও কার্যপ্রণালিতে এগুলো মানব অঙ্গের ক্ষুদ্র সংস্করণের মতো।প্রতিটি অর্গানয়েড তৈরি করা হয়েছিল সুস্থ মানুষের স্টেম সেল থেকে। একেকটি কোষপুঞ্জে ছিল প্রায় এক লাখ মানব কোষ।গবেষণায় ইঁদুরের মস্তিষ্ক থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ স্নায়ুকোষ সরিয়ে সেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানব স্নায়ুকোষ প্রতিস্থাপন করা হয়। মোট ২৯টি ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। এর মধ্যে ২৫টির ক্ষেত্রে কোষ প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া সফল হয়।মানব কোষের বিস্তার, শেখার ক্ষমতায় উন্নতিপ্রতিস্থাপনের তিন মাসের মধ্যে ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষগুলো আকারে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হয়ে যায়। এসব কোষ ইঁদুরের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং মস্তিষ্কের ফাঁকা জায়গার ৯০ শতাংশের বেশি পূরণ করে। ইঁদুরের মস্তিষ্কের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকজুড়ে মানব টিস্যু ছড়িয়ে পড়লেও তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও ডাকাডাকিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।গবেষকেরা ইঁদুরগুলোকে গোলকধাঁধার মতো একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে দেন। এতে দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের মস্তিষ্কে মানব কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়নি, সেগুলো বারবার পথ হারিয়েছে। অন্যদিকে মানব কোষযুক্ত ইঁদুরগুলো তুলনামূলক ভালো ফল করেছে। গবেষকদের ধারণা, প্রতিস্থাপিত মানব কোষ ইঁদুরগুলোর শেখার ও চিন্তাভাবনার সক্ষমতায় ভূমিকা রেখেছে।পরীক্ষায় আরও একটি ব্যতিক্রমী বিষয় উঠে আসে। প্রতিস্থাপিত মানব টিস্যুর কিছু কোষ ‘ভন ইকোনোমো নিউরন’ নামের বিশেষ ধরনের স্নায়ুকোষে পরিণত হয়। লম্বা আকৃতির এই স্নায়ুকোষ সাধারণত ইঁদুরের মস্তিষ্কে পাওয়া যায় না। পরীক্ষাগারে তৈরি করাও বেশ কঠিন।মানুষ ছাড়াও বনমানুষ, তিমি ও হাতির মতো সামাজিক প্রাণীর মস্তিষ্কে এ ধরনের স্নায়ুকোষ রয়েছে।সেরিব্রাল পালসি গবেষণায় নতুন দিগন্তএই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সেরিব্রাল পালসি নিয়ে। শিশুদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে এ রোগ হতে পারে। মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ও জটিল প্রসবের সময় এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হলেও ইঁদুরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা তুলনামূলক বিরল। ফলে ইঁদুরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে সেরিব্রাল পালসির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বোঝা এত দিন কঠিন ছিল।এবারের গবেষণায় জিনগত পরিবর্তন করা ইঁদুরগুলোকে কম অক্সিজেনের পরিবেশে রাখা হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষতির পাশাপাশি হাঁটার ধরনে পরিবর্তন এবং হাত-পায়ের সমন্বয় করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়।গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তন সেরিব্রাল পালসির কিছু বৈশিষ্ট্য ও এর পেছনের স্নায়বিক প্রক্রিয়া বুঝতে সহায়তা করতে পারে।মানব মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণায় কেন এই পদ্ধতি?মানুষের মস্তিষ্ক নিয়ে সরাসরি গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ কঠিন। মানব মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬০০ কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে। এসব কোষের মধ্যে সংযোগের সংখ্যা ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ছাড়িয়ে যায়। এত জটিল গঠন এবং জীবিত মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু নিয়ে গবেষণার নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানীদের সামনে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষাগারে মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র কোষপুঞ্জ বা অর্গানয়েড তৈরির চেষ্টা করছেন গবেষকেরা। তবে এসব অর্গানয়েড পূর্ণাঙ্গ মস্তিষ্কের বিকল্প নয়। জীবন্ত মস্তিষ্কের মতো জটিল সংযোগ, বিভিন্ন ধরনের সংকেত গ্রহণ এবং পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ এতে সীমিত।স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সেরগিউ পাসকা এই গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক। তাঁর মতে, মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি বোঝার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি অভূতপূর্ব অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।পাসকা বলেন, গত দুই দশক ধরে মানবদেহের বাইরে মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রম অনুকরণ করতে পারে, এমন মডেল তৈরির চেষ্টা চলছে। নতুন পদ্ধতিটি আগের মডেলগুলোর বিকল্প নয়। তবে মানুষের মস্তিষ্কের এমন কিছু কার্যক্রম নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি করবে, যা অন্য উপায়ে বোঝা অত্যন্ত কঠিন।মানব-প্রাণী সংকর তৈরির নৈতিক বিতর্কবৈজ্ঞানিক সম্ভাবনার পাশাপাশি এই গবেষণা নতুন কিছু নৈতিক প্রশ্নও সামনে এনেছে। মানুষের মস্তিষ্কের কোষপুঞ্জ বা টিস্যু প্রাণীর মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপনের ফলে কোনো ধরনের অনুভূতি কিংবা চেতনা তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এমন সক্ষমতা তৈরি হলে তা কীভাবে শনাক্ত ও যাচাই করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।গবেষকেরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত মানব স্নায়ুকোষের বয়স ছয় মাস হওয়ার আগেই পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মানব কোষগুলো যেন ইঁদুরের মস্তিষ্কের সঙ্গে আরও বেশি স্নায়বিক সংযোগ তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি চেতনা বা সচেতনতার কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষা শেষ করা হয়।এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক জন ইভান্স। তাঁর মতে, বর্তমান পরীক্ষাটি নিজে থেকে বড় কোনো নৈতিক সংকট তৈরি করে না। তবে ভবিষ্যতে আরও জটিল নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করতে পারে, এমন প্রাণী তৈরির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয় এটি।ইভান্সের আশঙ্কা, এ ধরনের গবেষণা ধীরে ধীরে ইঁদুরের মতো প্রাণী ছাড়িয়ে অমানব প্রাইমেট বা উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে কোথায় গবেষণার সীমারেখা টানা হবে, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে উঠবে। এ কারণে আপাতত ইঁদুরসহ তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণীর মধ্যেই এ ধরনের গবেষণা সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গবেষণা আরও বিস্তৃত হলে মানুষের ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে তৈরি স্নায়বিক সংকর প্রাণীর উদ্ভব এবং তা ঘিরে বড় ধরনের নৈতিক বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে কিংবা বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত।শনিবার রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার বিকল্প নেই। এ জন্য ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনাকে মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল। এ দিনটি দেশের ইতিহাসে শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।১৯৭৫ সালের নভেম্বরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। ২ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দী করা হয়। দেশের স্বার্থবিরোধী সেই ষড়যন্ত্র সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিয়েছিল। এ কারণে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার প্রতীক হয়ে আছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।তিনি আরও বলেন, পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র পরবর্তী সময়েও থেমে থাকেনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহাজোটের নামে তারা আবারও দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির আবারও পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়।ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে হতাহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহি-জনতা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।তারেক রহমান বলেন, ইতিহাসে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন হিসেবে বিবেচিত। যখনই বাংলাদেশ এই পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, তখনই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষায়, ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা।জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও দল-মতনির্বিশেষে বাংলাদেশের সব নাগরিকের পরিচয় একটাই আমরা বাংলাদেশি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একই পরিচয়ে গর্বিত। এই পরিচয়ই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে।তিনি বলেন, যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অটুট থাকবে। এ বিপ্লবের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা।শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন, তেমনি ৭ নভেম্বরও দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।ইতিহাসচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি জাতির ইতিহাস শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; শুদ্ধ ইতিহাস জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। এবারের আয়োজনে হাজারো কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ইতিহাসভিত্তিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে। ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ পথ হারাবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, যে দেশের তরুণেরা জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে এ দেশের তরুণেরা বাংলাদেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার প্রমাণ দিয়েছে। সবার আগে বাংলাদেশ এটাই হওয়া উচিত সবার অঙ্গীকার।তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের গৌরব ধরে রাখা এবং স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণদের একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেরণায় দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের স্লোগান হওয়া উচিত দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) ৩ হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এ সময় সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরা উপস্থিত ছিলেন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১১ ঘন্টা আগে
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

০৫ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

০৫ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। তবে এখনো কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। দাবির পক্ষে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শ্রমিকদের কারখানায় ফিরতে দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরে কাজে যোগ দিতে না পারা শ্রমিকদের অনেকেই এদিন কর্মস্থলে প্রবেশ করেন।একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘গত কয়েক দিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারিনি। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন দেখে ফিরে যেতাম। আজ সকাল থেকে আন্দোলন হচ্ছে না। তাই কারখানায় প্রবেশ করছি।’এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৫ প্লাটুন সদস্য এবং ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

০৫ নভেম্বর ২০২৬
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

০৪ নভেম্বর ২০২৬
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

০৩ নভেম্বর ২০২৬
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

০৩ নভেম্বর ২০২৬
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

০২ নভেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
“

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১০ ঘন্টা আগে
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। তবে এখনো কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। দাবির পক্ষে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শ্রমিকদের কারখানায় ফিরতে দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরে কাজে যোগ দিতে না পারা শ্রমিকদের অনেকেই এদিন কর্মস্থলে প্রবেশ করেন।একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘গত কয়েক দিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারিনি। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন দেখে ফিরে যেতাম। আজ সকাল থেকে আন্দোলন হচ্ছে না। তাই কারখানায় প্রবেশ করছি।’এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৫ প্লাটুন সদস্য এবং ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

১১ ঘন্টা আগে
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর দাবিতে টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কাজে যোগ দিতে শুরু করেছেন শ্রমিকেরা। তবে এখনো কিছু কারখানা বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন পোশাকশ্রমিকেরা। দাবির পক্ষে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে যানবাহন, মার্কেট ও পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এতে শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শ্রমিকদের কারখানায় ফিরতে দেখা গেছে। কয়েক দিন ধরে কাজে যোগ দিতে না পারা শ্রমিকদের অনেকেই এদিন কর্মস্থলে প্রবেশ করেন।একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘গত কয়েক দিন কারখানায় কাজে যোগ দিতে পারিনি। কারখানার সামনে আসার আগেই আন্দোলন দেখে ফিরে যেতাম। আজ সকাল থেকে আন্দোলন হচ্ছে না। তাই কারখানায় প্রবেশ করছি।’এদিকে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২৫ প্লাটুন সদস্য এবং ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পাশাপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি। কারখানাগুলো খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে কিছু কারখানা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতির পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

গাজীপুরে স্বাভাবিক হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি, কাজে ফিরছেন শ্রমিকেরা

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলী গ্রেপ্তার

সুন্দরবনের বনদস্যু ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাবের এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে খুলনা মহানগরীর হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার জোনাব আলী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। এসআরবি-৬-এর স্পেশাল কোম্পানির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কৈয়া বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সুন্দরবনের বনদস্যু বাহিনী ‘জোনাব বাহিনী’র প্রধান জোনাব আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জোনাব আলীর বিরুদ্ধে সুন্দরবনে মাছ আহরণে নিয়োজিত জেলে ও বাওয়ালীদের নির্যাতন, অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে খুলনার হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...