ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মীর আশরাফ আলী। ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বগুড়ার এই কৃতী সন্তান অতীতে দীর্ঘ ১৬ বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর কর্মজীবনে আসে নতুন অধ্যায়। এরপর তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি পদে উন্নীত হন তিনি।মীর আশরাফ আলীর পেশাগত জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন। গত দুই বছর তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি/সিটিএসবি) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হয়।এরপর স্বল্প সময়ের জন্য রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার তাঁকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতামীর আশরাফ আলী বগুড়া সদর উপজেলার সন্তান। তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন উন্নততর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।নতুন দায়িত্বে প্রত্যাশাদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মীর আশরাফ আলী।রাজশাহী রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে তাঁর কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা থাকবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাদার নেতৃত্ব রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

৩ ঘন্টা আগে পড়ুন

বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন, সড়কে প্রাণ গেল মাইশার

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। এরপর ছোট ভাইকে নিয়ে দুই সন্তানের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা সালমা আক্তার। বড় মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে ঘিরেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে মেয়ে পরিবারের হাল ধরবেন, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী মাইশা।চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতকিয়া এলাকায় মাইশাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। যে মেয়েকে ঘিরে স্বামী হারানোর শোক ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারাতে হলো তাঁকে।মাইশা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইশা। প্রতিদিনের মতো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের পাশে। হয়তো ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু একটি বাসের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তাঁর সব স্বপ্ন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাগতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।বাসটির নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশা হাসপাতালে মারা যান।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাইশাকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়ামাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসমত আলী হাসপাতালে ছুটে যান।মাইশার মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের ওপর। তিন বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে যে মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারালেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে মায়ের পাশে দাঁড়ানো, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা—সব স্বপ্নই এখন অতীত। যে মেয়ের একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।এর মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা যায়।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা চলছে।কিছু নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন, কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা বা ঘোষণা আসতে পারে।শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দলীয় নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয় করলেও অন্য একটি অংশ নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দলটির অনেক নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ফেরার বিষয়ে নিজেই জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথাসম্প্রতি প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা নিজেই এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেননি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে, অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে। এসব না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা যায়নি, অথচ লাখ লাখ মানুষ আনার কথা বলা হচ্ছে।অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।সরকারের বক্তব্য: আইনের আওতায় নেওয়া হবেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গলায় মালা পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া পৌঁছে যাবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা কখন দেশে আসতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।বিশ্লেষকদের চোখে ফেরার সম্ভাবনা কতটাশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।দৈনিক আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায় দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার তিনি একটি সময়সীমার কথা বলেছেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে কিছু চললে সেটি ভিন্ন বিষয়।জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তিনি সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। এরপর ছোট ভাইকে নিয়ে দুই সন্তানের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা সালমা আক্তার। বড় মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে ঘিরেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে মেয়ে পরিবারের হাল ধরবেন, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী মাইশা।চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতকিয়া এলাকায় মাইশাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। যে মেয়েকে ঘিরে স্বামী হারানোর শোক ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারাতে হলো তাঁকে।মাইশা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইশা। প্রতিদিনের মতো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের পাশে। হয়তো ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু একটি বাসের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তাঁর সব স্বপ্ন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাগতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।বাসটির নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশা হাসপাতালে মারা যান।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাইশাকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়ামাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসমত আলী হাসপাতালে ছুটে যান।মাইশার মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের ওপর। তিন বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে যে মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারালেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে মায়ের পাশে দাঁড়ানো, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা—সব স্বপ্নই এখন অতীত। যে মেয়ের একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।এর মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা যায়।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা চলছে।কিছু নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন, কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা বা ঘোষণা আসতে পারে।শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দলীয় নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয় করলেও অন্য একটি অংশ নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দলটির অনেক নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ফেরার বিষয়ে নিজেই জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথাসম্প্রতি প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা নিজেই এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেননি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে, অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে। এসব না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা যায়নি, অথচ লাখ লাখ মানুষ আনার কথা বলা হচ্ছে।অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।সরকারের বক্তব্য: আইনের আওতায় নেওয়া হবেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গলায় মালা পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া পৌঁছে যাবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা কখন দেশে আসতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।বিশ্লেষকদের চোখে ফেরার সম্ভাবনা কতটাশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।দৈনিক আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায় দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার তিনি একটি সময়সীমার কথা বলেছেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে কিছু চললে সেটি ভিন্ন বিষয়।জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তিনি সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৪ ঘন্টা আগে
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

২০ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

০৩ নভেম্বর ২০২৬
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

০২ নভেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ আহাম্মদ বালা। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরশিনগর ইউনিয়নের চরমহিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ আহাম্মদ। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ফরিদ ফুটবল খেলোয়াড় ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ আহাম্মদ। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, হতদরিদ্র পরিবারকে ছাগল ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া, অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা।ফরিদ আহাম্মদের দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রতি রমজানে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছেন।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই প্রার্থী। ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, হানাহানি, অবৈধ জমি দখল ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কাজ করব। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরশিনগরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’রাজনৈতিকভাবে ফরিদ আহাম্মদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন কর্মী। তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।আরশিনগর ইউনিয়নকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফরিদ আহাম্মদ। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন তিনি।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসেবার প্রত্যয় তুলে ধরে ফরিদ আহাম্মদ বালা বলেন, ‘আমি যতদিন বাঁচব, ততদিন গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

২১ অক্টোবর ২০২৬
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
“

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

২০ ঘন্টা আগে
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৪ ঘন্টা আগে
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...