ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন নরসিংদী-১ (নরসিংদী সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।খায়রুল কবির খোকন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রনেতা হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খায়রুল কবির খোকন। এর আগে ২০০৫ সালের উপনির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এবার তাঁকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সংসদীয় কার্যক্রমে ভূমিকা রাখবেন তিনি। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও মনোনীত হয়েছেন খায়রুল কবির খোকন।

১ ঘন্টা আগে পড়ুন

বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুমের অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করছেন।এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের কথিত হিংস্র ও খুনে মানসিকতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়ের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগএনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কয়েকজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।এনসিপির নেতারা বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাটি তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তাঁরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিএনসিপির নেতারা বলেন, যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, স্বৈরাচারের পতন ঘটানো জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। বিদেশের মাটিতে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত এনে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও বিদেশের সব মঞ্চে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।এনসিপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ভেনিসে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একজন যোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা নিন্দনীয়। তাঁদের অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নারী ও শিশুকেও আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুমের অভিযোগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে। এরপর দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশ ছেড়ে বিদেশে অবস্থান করছে। তাঁদের অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে থেকেও আওয়ামী লীগের ওই নেতাকর্মীরা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার চেষ্টা করছেন।এনসিপির বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে আওয়ামী লীগের কথিত হিংস্র ও খুনে মানসিকতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি। জয়ের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে অভিযোগএনসিপির নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে অবস্থান করার সময় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁদের দাবি, জয়ের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা কয়েকজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার বাঁধন ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত। হামলার সময় বাঁধনকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।এনসিপির নেতারা বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদত ও উসকানিতে রাজনৈতিক সহিংসতা পরিচালিত হচ্ছে। ভেনিসের ঘটনাটি তারই প্রমাণ বলে দাবি করেন তাঁরা। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের সুযোগ নেই।জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিএনসিপির নেতারা বলেন, যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাইয়ের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়, তাদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, স্বৈরাচারের পতন ঘটানো জুলাইয়ের যোদ্ধারা জাতীয় সম্পদ। বিদেশের মাটিতে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এনসিপি। ইতালির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ফেরত এনে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির নেতারা।বিদেশে অবস্থানরত জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রবাসী কর্মী ও সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভেনিসের হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ ও বিদেশের সব মঞ্চে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

বরগুনার বেতাগী পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার হলেও পাইপলাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ও দক্ষ জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টের বিভিন্ন ট্যাংকে শেওলা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। ফিল্টারিং ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ধুলাবালি ও মরিচা ধরেছে। নদী থেকে পানি সংগ্রহের ইনটেক পয়েন্টেও পলি জমেছে।কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের সময় বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।প্ল্যান্টটি কেন চালু হয়নি, তা নিয়ে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখেই কাজ হয়েছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কাজের মান নিম্নমানের এবং ব্যাপক সংস্কার ছাড়া প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব নয়।প্ল্যান্টের কেয়ারটেকার মো. খোকন তালুকদার বলেন, কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ না থাকায় প্ল্যান্টটি অচল। বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫ ঘন্টা আগে
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

৩০ আগস্ট ২০২৬
হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। সেখানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল।এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।তবে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কর্মসূচি প্রত্যাহারব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।শিল্পকলায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তিএদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, এমন তথ্য আগে জানানো হয়নি।জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এনসিপির অনুষ্ঠানকে ঘিরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আপাতত ওই পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

২৯ আগস্ট ২০২৬
হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।‘আগেও টাকা দিয়েছি’প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতারতবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’আদালতের নির্দেশে মামলামামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

২৯ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) ও মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮)।এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ছুরিকাঘাতে রাশেদের মৃত্যু হয়। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক ও মারধরের শিকার সোলাইমান শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দোতলায় থাকা বারে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয়।নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার এবং সোলাইমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বারে কথা-কাটাকাটি, পরে ছুরিকাঘাতপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিবুল হক রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়।পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সন্দেহে আটক, পরে হাসপাতালে মৃত্যুরাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোলাইমানকে আটক করে মারধর করেন।পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়েছিল। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে সংঘর্ষের দাবি পুলিশেরকক্সবাজার সদর থানার পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে ওই যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি পরিচালিত হচ্ছিল। হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বারের লাইসেন্স নিয়ে ভিন্ন দাবিতবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং সেটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল, আবার কয়েকজনের ছিল না। ‘ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে’ এমন পরিচয়ে অনেকেই বারে প্রবেশ করেছিলেন।দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

২৯ আগস্ট ২০২৬

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

২ ঘন্টা আগে
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...