ঢাকা    রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

১ ঘন্টা আগে পড়ুন

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে পাকিস্তান-তুরস্ককে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি হুথিদের

ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি, এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ দুটির সরকারের বিরুদ্ধে।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাসৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।তুরস্কের অবস্থানতুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়লে জোটের অংশ হিসেবে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানপাকিস্তান শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ জন্য কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের নিঃশর্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত।হুথিদের নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ইয়েমেন সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি, এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ দুটির সরকারের বিরুদ্ধে।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাসৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।তুরস্কের অবস্থানতুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়লে জোটের অংশ হিসেবে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানপাকিস্তান শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ জন্য কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের নিঃশর্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত।হুথিদের নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ইয়েমেন সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১ ঘন্টা আগে
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

২ ঘন্টা আগে
গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

গরু চুরির অভিযোগে রামগঞ্জে বিএনপি নেতা বহিষ্কার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে গরু চুরির ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত নেতা মো. তাজুল ইসলাম রামগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সুস্পষ্ট ও গুরুতর অভিযোগে মো. তাজুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু হান্নান লাভলু জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে নলচারা গ্রামের হতদরিদ্র ফাতেমা আক্তারের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। পরে চক্রের সদস্যরা একটি গরু বিক্রি করে দেন এবং অন্য গরুটি পাশের ভোলাকোট ইউনিয়নের টিওরী (৩ নম্বর) ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের গোয়ালঘরে লুকিয়ে রাখেন।এ ঘটনায় রামগঞ্জ থানায় একটি চুরির মামলা করা হয়। মামলার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ চুরি হওয়া দুটি গরুই উদ্ধার করেছে।রামগঞ্জ থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দুলাল সরকার ১ ঘন্টা আগে
দুলাল সরকার
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২ ঘন্টা আগে
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১ ঘন্টা আগে
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত রাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ডিএমপি জানায়, এর আগে গুলশানে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিলে সরাসরি ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর ৪০ জন এবং ১৩ সেপ্টেম্বর ৩২ জনসহ মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি।এর আগে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।মামলায় ১১৮ জনের নামঘটনার পর গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৮০ থেকে ১০০ জনকে।মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মিছিলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।এই মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে শনিবার ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গুলশানে ঝটিকা মিছিল: আরও ৩২ জন গ্রেপ্তার

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী

দেশে আর যেন অন্ধকার ও দুর্দিন ফিরে না আসে, সে বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।রোববার দুপুরে ফেনী সদর উপজেলার ভোরবাজার মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।রিজভী বলেন, একসময় বিএনপির লাখো নেতাকর্মীকে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে জীবন কাটাতে হয়েছে। ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মতের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং রক্তের হোলি খেলেছে।তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে গুম ও খুনের শিকার বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীর পরিবারের অপেক্ষার এখনো শেষ হয়নি। বিএনপি গণতন্ত্র ও অসহায় মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দলটি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছে।স্মরণসভায় ফেনীতে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারের হাতে বিএনপির চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া উপহারের ঘরের চাবি তুলে দেন রুহুল কবির রিজভী।২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর ফেনীতে সরকারবিরোধী মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ।ঘরের চাবি পেয়ে হারুনুর রশিদের স্ত্রী জোহরা বেগম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে তাঁর পরিবারের দুঃখ ঘুচেছে।স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ও নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব এবং কেন্দ্রীয় সহ-গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ।সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল, সদস্যসচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন খন্দকার।স্মরণসভা শেষে পুলিশের গুলিতে নিহত যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের কবর জিয়ারত করেন রুহুল কবির রিজভী।  

দেশে আর যেন অন্ধকার-দুর্দিন ফিরে না আসে, সজাগ থাকতে হবে: রিজভী
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...