ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে এ যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা।নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ভ্যান্সঅ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে ব্যক্তিগত আলোচনায় মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন।ভ্যান্সের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনে, যা রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন।নির্বাচনের আগে হামলা নিয়ে উদ্বেগওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে উদ্বেগ জানানো হয়।এরপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হার, স্বীকার ভ্যান্সেরনির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার রিপাবলিকানদের পাশ থেকে সরে গেছেন।ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি।ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো। তৃতীয়ত, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ এখনই অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ তুলে নেওয়ার পক্ষে নয়।সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এই তিন দিক সামাল দিতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সূত্র: আনাদোলু
২ ঘন্টা আগে পড়ুনমানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, মুচলেকায় জামিন পেলেন পরীমনি
ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতামামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।
পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না রোনালদো, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়
পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীর বিদায় ঘটল।২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২৩৪টি ম্যাচ, করেছেন ১৪৬ গোল। দীর্ঘ এই পথচলায় একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে।রোনালদোর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এর তিন বছর পর, ২০১৯ সালে দলটি জয় করে উয়েফা নেশনস লিগ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অর্জনের তালিকায় এই দুটি শিরোপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে জাতীয় দল ছাড়ার কথা একসময় ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেলা চালিয়ে যান।এদিকে পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রোনালদোর মতবিরোধের খবরও আলোচনায় আসে। সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার ঘটনায় তৈরি হয় প্রকাশ্য অস্বস্তি। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিরোধের ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ফুটবলার।
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৪, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসেন পরীমনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১১ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী। পরে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে প্রবেশ করেন। তাঁর উপস্থিতিতেই জামিন আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।বেলা ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনির দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। পরে গাড়িতে ওঠার সময় এক সাংবাদিক তাঁর গায়ে হাত দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন পরীমনি। এ নিয়ে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন তিনি। পরে অবশ্য ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।আদালতে হাজির না হওয়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাএর আগে বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হয়ে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।তবে এ আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তিনি পরীমনির জামিন বাতিলের আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির না হয়ে বারবার সময়ের আবেদন করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে।পরে আদালত পরীমনির সময়ের আবেদন নাকচ করে তাঁর জামিন বাতিল এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী তারিখ আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেন।তদন্তে পরীমনি ও জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতামামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।পরে আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে পরীমনি ও জিমিকে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুন তাঁরা ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় পরীমনিসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিনও পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান তিনি।২০২১ সালে বোট ক্লাবে ঘটনার অভিযোগে মামলা২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদ মামলাটি করেন। পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।মামলার এজাহারে নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর পরীমনি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করেন। তাঁরা ক্লাবের দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং পরে ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে নাছির উদ্দিন ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম ক্লাব থেকে বের হওয়ার সময় পরীমনি তাঁকে ডাকেন এবং কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে বসতে বলেন। একপর্যায়ে একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাঁকে গালমন্দ করেন বলে অভিযোগ করেন নাছির।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদী ও আসামিদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি একটি সার্ভিং গ্লাস ও হাতে থাকা মুঠোফোন নাছির উদ্দিনের দিকে ছুড়ে মারেন। এতে তাঁর মাথা ও বুকে আঘাত লাগে। পাশাপাশি তাঁকে মারধর, হত্যার হুমকি এবং ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়।নাছির উদ্দিনের দাবি, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে তাঁরসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।তবে মামলার এসব অভিযোগ বিচারাধীন। আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হবে।
পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছেন ৪১ বছর বয়সী এই ফুটবল মহাতারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ডধারীর বিদায় ঘটল।২০০৩ সালে পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয় রোনালদোর। এরপর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ২৩৪টি ম্যাচ, করেছেন ১৪৬ গোল। দীর্ঘ এই পথচলায় একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন অন্যতম প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে।রোনালদোর নেতৃত্বেই ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে পর্তুগাল। এর তিন বছর পর, ২০১৯ সালে দলটি জয় করে উয়েফা নেশনস লিগ। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অর্জনের তালিকায় এই দুটি শিরোপা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পাঁচটি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পর্তুগালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর তাঁর আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে জাতীয় দল ছাড়ার কথা একসময় ভেবেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেলা চালিয়ে যান।এদিকে পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রোনালদোর মতবিরোধের খবরও আলোচনায় আসে। সেপ্টেম্বরে নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখার ঘটনায় তৈরি হয় প্রকাশ্য অস্বস্তি। তবে জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তের পেছনে এই বিরোধের ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।রোনালদোর বিদায়ের মধ্য দিয়ে পর্তুগিজ ফুটবলের একটি দীর্ঘ ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোলের রেকর্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন ইতিহাসের অন্যতম সফল এই ফুটবলার।
গাজীপুরের নাওজোড় এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন ছড়িয়ে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নাওজোড় এলাকার ‘ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২’-এ এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন আহাদ (১৯), আবদুল্লাহ (১৮), আশরাফুল (২৬) ও নাঈম (২৫)। তাঁদের মধ্যে আহাদের শরীরের ৫৫ শতাংশ, আবদুল্লাহর ২০ শতাংশ, আশরাফুলের ১৫ শতাংশ এবং নাঈমের ৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার হিরন মিয়া জানান, বুধবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রিয়াজ ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন ইউনাইটেড সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টার-২-এর একটি সিলিন্ডারে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের সদস্য তালহা বিন জসিম জানান, আগুনের ঘটনায় চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, দগ্ধ আহাদ, আবদুল্লাহ ও আশরাফুলকে ইনস্টিটিউটের এইচডিইউতে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে নাঈমকে জরুরি বিভাগে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
মানিকগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন আটজনের
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে তিনজনকে হত্যার দায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন যাঁদেরমৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন মো. জিয়াউর উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আটজন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড, খালাস চারজনমামলার অন্য আসামিদের মধ্যে শামীম ও হাবু মিয়াকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চার আসামি উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার।সম্পত্তির বিরোধে তিনজনকে হত্যামামলার বিবরণ অনুযায়ী, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তাঁর স্বামী ও সন্তান ছিল না। মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।অভিযোগে বলা হয়, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তাঁর স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ এককভাবে ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সালিস বৈঠকের দিন ধার্য করা হয়। তবে ওই দিন সকাল পৌনে আটটার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন।অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা সেখানে পৌঁছানোর পর রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনই মারা যান।১০ বছর পর মামলার রায়এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদা আক্তার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন।তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।