ঢাকা    শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকারের কৌশলগত পরিকল্পনা ও সাহসের ঘাটতির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপস করার কারণে কাঙ্ক্ষিত ভিত্তি তৈরি হয়নি।শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব কথা জানায়।বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাবে আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের চর্চা শুধু হাতবদল হয়েছে। ফলে রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়টি ক্ষমতাসীন জোটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট জনস্বার্থে রাষ্ট্র সংস্কারে সহায়ক ভূমিকা রাখার পরিবর্তে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে নির্বাচনে বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন এবং আইন প্রণয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রক্রিয়া কার্যত ক্ষমতাসীন জোটের একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে।তিনি আরও বলেন, সব রাজনৈতিক দল একমত হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন করে বিল পাস না করে ২০০৪ সালের আগের আইনে ফিরে যাওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুদক যে আস্থার সংকটে রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের পথ আরও সংকুচিত হয়েছে।র‍্যাবের কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির কথা বলা হলেও নতুন নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সিংহভাগের জন্য দায়ী হিসেবে পরিচিত সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করা হয়েছে। স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে সবাই একমত হলেও এ ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সম্পদের বিবরণী প্রকাশ এবং তা নিয়মিত হালনাগাদের বিধান নিয়ে মতৈক্য হয়েছিল। তবে বর্তমান সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর এ ধরনের নির্দেশনা বা চর্চার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।টিআইবির মতে, এসব পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনে থাকা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে সরকার এগোচ্ছে। এর ফলে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা ছাড়াই ক্ষমতা প্রয়োগের কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

৪ ঘন্টা আগে পড়ুন

উন্নয়নকাজে কমিশন বাণিজ্য চলবে না: আইনমন্ত্রী

উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের টাকা। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আসাদুজ্জামান বলেন, একটি এলাকার সব সমস্যার সমাধান জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া না হলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। দিগনগর ইউনিয়নেও নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শৈলকূপার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: দুর্গাপূজার শুভেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’শুক্রবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এসব উৎসব দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।বাণীতে তিনি প্রত্যাশা করেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্নীতি রোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।ডেপুটি স্পিকার বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শুধু নিজেদের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত যোগ্যতা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণ প্রজন্মকে।দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন তরুণদের।উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে।গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। নিজের মত অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে অন্যের যুক্তি শোনার মানসিকতা গড়ে তোলাই যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সংসদীয় কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী বিতর্ক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।আয়োজকেরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলার দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সরকারি বরাদ্দ জনগণের করের টাকা। তাই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকেও নজরদারি করতে হবে। কোথাও অনিয়ম দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।আসাদুজ্জামান বলেন, একটি এলাকার সব সমস্যার সমাধান জনপ্রতিনিধিদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। জনগণের মতামত, গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করে। ভুলত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া না হলে জনপ্রতিনিধিদের ভুল পথে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই উন্নয়নকাজের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমেও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সড়ক বা অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এ নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা দূর করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, শৈলকূপায় মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। অপরাধের ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না; আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকসহ যেকোনো অপরাধে জড়িত ব্যক্তির পক্ষে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তদবির করা গ্রহণযোগ্য নয়। অপরাধের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রতিহিংসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সংঘবদ্ধভাবে মানুষকে হয়রানি করার বিরুদ্ধে সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ ও দুর্নীতির পক্ষেও অবস্থান নেওয়া যাবে না। ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।শৈলকূপার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ চলছে। দিগনগর ইউনিয়নেও নতুন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি শৈলকূপার আরও প্রায় ৩৯৫টি সড়ক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।মন্ত্রী আরও বলেন, শৈলকূপার উন্নয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার কৃতী সন্তান ও পেশাজীবীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ ও জবাবদিহির সংস্কৃতি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।ঢাকাস্থ শৈলকূপা উপজেলার ৩ নম্বর দিগনগর ইউনিয়ন কল্যাণ সংস্থার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জেড এ ওয়াহেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে শৈলকূপার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক ও সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’শুক্রবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ শুভেচ্ছা জানান। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।বাণীতে তারেক রহমান বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল শিক্ষা। মানবতার কল্যাণও সব ধর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান ও সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মানুষের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহমর্মিতা বজায় রেখে সমাজে শান্তির পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসেন। তিনি ভক্তদের কল্যাণ সাধন, শত্রুর বিনাশ এবং সৃষ্টিকে লালন করেন। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য ও সুন্দরের আরাধনা শারদীয় দুর্গোৎসবের তাৎপর্যকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এসব উৎসব দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরে। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিস্টের বিতাড়নের পর বাংলাদেশ আবারও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। শুরু হয়েছে দেশ পুনর্গঠনের বিশাল কর্মযজ্ঞ। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা তাঁদের অঙ্গীকার।বাণীতে তিনি প্রত্যাশা করেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তায় দেশের বহুমাত্রিক সমাজ ও জীবনবোধ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনেরা যেন সারা দেশে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে দুর্গাপূজার উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ফিউচার বাংলাদেশের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।ডেপুটি স্পিকার বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে শুধু নিজেদের দক্ষতা ও ব্যক্তিগত যোগ্যতা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়ও তরুণদের সোচ্চার হতে হবে।শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সৃজনশীলতা, ইতিবাচক চিন্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণ প্রজন্মকে।দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, সামাজিক মর্যাদা, সমতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের বড় অংশই ছিলেন তরুণ। তাঁদের আত্মত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব এখন তরুণদের।উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গেলেও পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, বিদেশে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে হবে।গণতান্ত্রিক সহনশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, মতভিন্নতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। নিজের মত অন্যের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে অন্যের যুক্তি শোনার মানসিকতা গড়ে তোলাই যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সংসদীয় কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণী বিতর্ক সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেতে তরুণদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন পর্যবেক্ষণেরও পরামর্শ দেন তিনি।সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।আয়োজকেরা জানান, দুই দিনব্যাপী এ ছায়া জাতিসংঘ সম্মেলনে দেশের ৬৪টি জেলার দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন।

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১১ ঘন্টা আগে
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১১ ঘন্টা আগে
দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা, ভাতিজা আটক

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে সুধা রানী মন্ডল (৫৫) নামের এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভাতিজা রমেশ মন্ডলের (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের মা কমলা রানী মন্ডল (৫০) ও চাচাতো ভাই সমীর কুমার মন্ডল (২৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রমেশ মন্ডলকে আটক করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে শ্যামনগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাদঘাটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত সুধা রানী মন্ডল ওই গ্রামের মধুসূদন মন্ডলের স্ত্রী। অভিযুক্ত রমেশ মন্ডল একই গ্রামের শ্রীদাম মন্ডলের ছেলে। আহত সমীর কুমার মন্ডল নিহত সুধা রানীর ছেলে এবং রমেশের চাচাতো ভাই।প্রাথমিক তথ্যমতে, পারিবারিক কলহের জেরে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রমেশ মন্ডল তাঁর মা, চাচি ও চাচাতো ভাইকে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপান। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।পরে পরিবারের সদস্যরা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুধা রানী মন্ডলকে মৃত ঘোষণা করেন।আহত সমীর কুমার মন্ডলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত কমলা রানী মন্ডল শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সুধা রানীর মরদেহ ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমেশ মন্ডলকে আটক করা হয়েছে।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশ নেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

১৪ অক্টোবর ২০২৬
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

১৪ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময়ে কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।এ বিষয়ে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।’মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।

১৪ অক্টোবর ২০২৬
ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

১৪ অক্টোবর ২০২৬
“

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১১ ঘন্টা আগে
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশ নেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১১ ঘন্টা আগে
গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১
মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ভিডিও করতে গিয়ে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

মাগুরার শালিখায় বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক জসীম উদ্দীন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শতখালী নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।জসীম উদ্দীন দৈনিক গ্রামের কাগজ ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজে সাংবাদিকতা করেন। তাঁর অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় ভিডিও ধারণের চেষ্টা করায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁর ওপর হামলা চালান। তবে মোস্তাকের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার শতখালী বাজারে জব্বারের ইলেকট্রিক দোকান থেকে আজগার, ওবায়দুর, গোপাল ও জব্বার নামে চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ ওঠে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের বিরুদ্ধে। আটক ব্যক্তিরা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানা গেছে।এ ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় বিএনপির নিতাই রায় ও নয়ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।আহত সাংবাদিক জসীম উদ্দীন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা সদর থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে শতখালী নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মোস্তাক ও মিন্টুর সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াদুদ বিশ্বাস ও আসিফ শিকদারের বাগ্‌বিতণ্ডা দেখতে পান।তিনি বলেন, মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে রেখে ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মোস্তাক ও তাঁর অনুসারীরা তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন শালিখায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।সাংবাদিকেরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা শুধু সাংবাদিকের নিরাপত্তার জন্য নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্যও হুমকি। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।অন্যদিকে, চারজনকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাঁর দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের কারণে নয়, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গ্রুপের পক্ষ হয়ে ঘটনাস্থলে আসায় তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

আসন্ন দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদ্‌যাপন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।বুধবার রাতে জেলা শহরের নগুয়া এলাকায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু বিভাগের সেক্রেটারি কৃষ্ণ চন্দ্র বসাক।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সভায় অংশ নেন সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মন্দিরের সভাপতি রতন কুমার দাস, হিন্দু যুব মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাস, গৌর নিতাই আখড়ার সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদক, মৃদুল কান্তি চৌধুরী, নারায়ণ চন্দ্র সরকার, বিশু কুমার গুপ্ত, রিপন চন্দ্র সূত্রধর ও পলাশ চন্দ্র দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।সভায় আসন্ন দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সভায় উপস্থিত নেতারা।

দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান কিশোরগঞ্জ জামায়াতের

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করেছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। একই সঙ্গে হামলার বিচার ও ছাত্রদল সভাপতির ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজাহারুল ইসলাম তুহিন বিজ্ঞপ্তিটি পাঠান।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর হামলায় ক্যাম্পাসের চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত নেওয়া ব্যবস্থাকে যথেষ্ট মনে করছে না প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাব জানায়, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে সাময়িক বহিষ্কার করা হলেও ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।বিজ্ঞপ্তিতে ১৫ অক্টোবরের সিন্ডিকেট সভায় এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আহসান হাবীবের সনদ বাতিল, হাসিবুল ইসলাম হাসিবকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।ভুল বোঝাবুঝি মন্তব্যে আপত্তিছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীর বক্তব্যের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসক্লাবের মতে, তাঁর এ বক্তব্য হামলার গুরুত্ব খাটো করে দেখানোর পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। এ ছাড়া হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের বারবার হুমকি দেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রেসক্লাব।প্রেসক্লাবের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও ছাত্রদল সভাপতি তাঁর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাননি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা এবং সুলতান আহমেদ রাহীর নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত রাবি ছাত্রদলের সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করবেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবি ছাত্রদলের কর্মসূচি বয়কটের ঘোষণা প্রেসক্লাবের

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ জনে। মন্ত্রিসভায় নতুন পাঁচজন যুক্ত হওয়া এবং একজনের বিদায়ের পর এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারের এক পর্যায়ে এ সংখ্যা ছিল ৭০ জন।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ। কেউ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, আবার কেউ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বসে দায়িত্ব পালন করছেন।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।কারা কোন দায়িত্বেবর্তমান সরকারে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ইসমাইল জবিউল্লাহ, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও জহির উদ্দিন স্বপন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম, ড. মাহদী আমিন, রেহান আসিফ আসাদ ও ডা. জাহেদ-উর রহমান।এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিজন কান্তি সরকার, ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার ও তানভীর গনি। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্বে রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান।সচিব পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে রয়েছেন রাশেদ খান, সাইমুম পারভেজ, শাকিরুল ইসলাম খান ও গিয়াস উদ্দিন রিমন। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় যুববিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ।মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দায়িত্বে উপদেষ্টারাপ্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরামর্শ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের দায়িত্বে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে কার্যালয়ে যেতে না পারলেও তাঁর জন্য প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে দপ্তর ও প্রয়োজনীয় লোকবল রয়েছে।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়াদি দেখভালের পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় তদারক করছেন। সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তাঁর দপ্তর প্রস্তুতের কাজ চলছে।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বের পাশাপাশি শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দপ্তর বরাদ্দ রয়েছে।সাবেক সচিব ইসমাইল জবিউল্লাহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়াদি তদারক করছেন। তিনি সচিবালয়ের নতুন ১ নম্বর ভবনে অফিস করেন। অন্যদিকে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দপ্তরে কাজ করছেন।সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে নিয়মিত অফিস করছেন। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন।প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামছুল ইসলাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। ড. মাহদী আমিন শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।রেহান আসিফ আসাদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। আর ডা. জাহেদ-উর রহমান পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।বিশেষ সহকারীদের দায়িত্ব কীপ্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীরাও বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব পালন করছেন। বিজন কান্তি সরকার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভাল করছেন। তানভীর গনি সরকারের বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিষয় তদারক করছেন।ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ড. শাকিরুল ইসলাম খান এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত বিষয় দেখভাল করছেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে দায়িত্বে রয়েছেন ড. সাইমুম পারভেজ।প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ করছেন রাশেদ খান। যুব কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন সাঈদ বিন আবদুল্লাহ। সর্বশেষ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব পেয়েছেন গিয়াস উদ্দিন রিমন।মন্ত্রিসভার আকার ৫১ জনসরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে মন্ত্রিসভার আকার আরও বড় হয়েছে। সম্প্রতি চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিমান প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়ে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হয়েছেন জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হুমায়ুন কবির।এই পরিবর্তনের পর মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম মন্ত্রিসভা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বাইরে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে সরকারের বিভিন্ন পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।অতীতের সরকারের চিত্র২০০১ সালের ১০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার তৃতীয় মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। সেই মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৮ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ২৮ জন প্রতিমন্ত্রী ও চারজন উপমন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা ছিল ৬৪ জন।২০০৯ সালে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার আকার বিভিন্ন সময়ে বেড়েছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে মন্ত্রিসভার আকার ৬১ জনে পৌঁছায়। পরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। ওই সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার পদে দায়িত্ব পালনকারীদের সংখ্যা এক পর্যায়ে ৭০ জন হয়েছিল।বর্তমান সরকারের ৭১ জনের সংখ্যা সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে।উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের ক্ষমতা কতটুকুসংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ওপর ন্যস্ত। অন্যদিকে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর রুল ৩বি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও বিশেষায়িত বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার জন্য উপদেষ্টা নিয়োগ করতে পারেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, উপদেষ্টারা গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন এবং তাঁর নির্দেশে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নিতে পারেন। বিশেষ সহকারীরা প্রধানমন্ত্রীর দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সহায়তা, বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং কার্যক্রম তদারক করেন।তবে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা সাধারণভাবে সরকারি ফাইল অনুমোদনের ক্ষমতা রাখেন না। তাঁরা মূলত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন এবং সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।সরকারের দাবি, বিভিন্ন খাতে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের যুক্ত করার মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোই এসব নিয়োগের উদ্দেশ্য। তবে এতসংখ্যক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব বণ্টন, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং তাঁদের কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে।

তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী ২০ জন
গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

গৌরনদীতে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ১

বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত অপু মাঝি (২৬) উপজেলার কটকস্থল গ্রামের ছালেক মাঝির ছেলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে গৌরনদী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মাদ রোমান জানান, ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে ঢুকে গেলে ঘটনাস্থলেই চালক অপু মাঝির মৃত্যু হয়।খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বাসটি আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...