পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীনকে ঢাকার বিশেষ শাখায় (এসবি) এবং পাবনার বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবীব আবদুল্লাহকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাককে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। তা না হলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
১৭ ঘন্টা আগে পড়ুনইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ
ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৭
একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দেশেই এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানকে বাঁচাতে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারানো পরিবারগুলোকে শোকের পাশাপাশি বহন করতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও।২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার টিকাদানহামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে সংক্রমণ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনলাইনে পণ্য পাঠাতে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট, প্রথম কেজি ১০ টাকা
অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে কুরিয়ার খরচ কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পরিবহন সহজ করতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। কম খরচে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এ সেবার স্লোগান ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ।ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা। একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে।শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ছাড়াও ভারী সামগ্রী স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।যেভাবে পাঠাবেনস্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর বা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করে পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।এরপর নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করলে গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ দেওয়া হবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে। বুকিংয়ের আগেও অনলাইনে মাশুলের হিসাব জানার সুযোগ রয়েছে।ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘর থেকে পার্সেল ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। গ্রাহকেরা নিয়মিত শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এ সেবার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় বর্তমানে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগলেও তা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানোর ধাপ: নিকটস্থ ডাকঘরের নির্ধারিত কাউন্টারে যোগাযোগ, পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত, প্রাপক ও গন্তব্যের ঠিকানা লেখা, নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ, ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ সংগ্রহ।
স্বামীর মৃত্যুর পর চিংড়িঘেরই রত্নার ভরসা, এখন বদলাচ্ছে চাষের ধরন
স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পার মাগুরাখালি গ্রামের রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ির ঘেরই হয়ে ওঠে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করা মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করে চলত সংসার। বড় মেয়ে পায়েল অনার্স শেষ করার পর তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে দীপু মণ্ডল এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রত্নার মতো পার মাগুরাখালি গ্রামের আরও প্রায় ৫০ জন চিংড়িচাষি সম্প্রতি একত্রিত হয়েছেন। উৎপাদক পর্যায়ের চাষিদের সংগঠিত করার এই উদ্যোগ চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক সি-ফুড মনিটরিং সংস্থা মনটেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য, দায়িত্বশীল ও টেকসই চিংড়ি চাষে কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানো।পার মাগুরাখালি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বংশপরম্পরায় চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাংগাড়িয়া নদীর নোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। বছরের বেশির ভাগ সময় নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ হলেও বর্ষার কয়েক মাস মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন অধিকাংশ চাষি। নিরাপদ পোনা নির্বাচন, মাছের খাবার ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঘাটতি।সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদিত চিংড়ির ন্যায্য দাম পাওয়া। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের উৎপাদিত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশের বাজারে গেলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিপো মালিকদের হাতে।মাগুরখালি গ্রামের চিংড়িচাষিদের টিম লিডার সুমন গোলদার বলেন, এত দিন তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার ও ওষুধ ব্যবহার করে, বাজার থেকে কেনা খাবার দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এরপর ডিপোতে মাছ বিক্রি করতেন। তিন-চার হাত ঘুরে সেই মাছ কোম্পানিতে যেত। তাঁর ভাষায়, আমাদের পরিশ্রমের লাভ চলে যেত ফড়িয়াদের পকেটে।সুমন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টোটালফুডের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁরা অর্গানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শিখছেন।প্রশিক্ষণের পর মৃন্ময় মণ্ডল, সনৎ সিংহ মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলসহ অন্য চাষিরা খামারে রেকর্ড বই ব্যবহার করছেন। সেখানে পোনা মজুত, খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সার ও ওষুধের ব্যবহার, প্রোবায়োটিক, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাছ ধরার তথ্যসহ ১২টি ক্যাটাগরির তথ্য রাখা হচ্ছে। সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অলকেশ কুমার ঘোষ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত হলেও চিংড়ি খাতে সংকটের শেষ নেই। বিশেষ করে রপ্তানির মূল কাঁচামাল যে কৃষকের কাছ থেকে আসে, এত দিন তাঁর দিকে যথেষ্ট নজর ছিল না।ড. অলকেশের ভাষ্য, এবার প্রথম কৃষকদের সরকারিভাবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাছ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারেও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি রেড জোনে আছে। ক্রেতারা এখন অর্গানিক খাবার চান এবং খাবার কোথা থেকে ও কার কাছ থেকে আসছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা চান। বাংলাদেশ এখন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড। এক বছর পর উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি প্রায় ৪৪৫ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিদিন ৬০ টন উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি তিনটি হিমাগারে ৩ হাজার টন মাছ মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।কোম্পানির পরিচালক মেহেদী হাসান মো. হেফজুর রহমান বলেন, মাছ ও চিংড়িকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে ভ্যালু অ্যাডেড, রেডি টু কুক ও রেডি টু ইট খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পৌঁছেছে।তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িচাষিদের নিয়ে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও সংগঠিত কৃষকভিত্তিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হয়েছে। মাগুরখালির মতো চার এলাকার প্রায় সাড়ে ৬০০ নিবন্ধিত চাষি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কৃষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, পানি ও মাটি পরীক্ষা এবং চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসকে কামরুল আলম বলেন, কৃষককে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে টোটালফুড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হিমায়িত চিংড়ি খাতে ভালো করতে চাইলে অন্যদেরও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে: তারেক রহমান
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দেশেই এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানকে বাঁচাতে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারানো পরিবারগুলোকে শোকের পাশাপাশি বহন করতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও।২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার টিকাদানহামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে সংক্রমণ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে কুরিয়ার খরচ কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পরিবহন সহজ করতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। কম খরচে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এ সেবার স্লোগান ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ।ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা। একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে।শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ছাড়াও ভারী সামগ্রী স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।যেভাবে পাঠাবেনস্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর বা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করে পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।এরপর নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করলে গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ দেওয়া হবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে। বুকিংয়ের আগেও অনলাইনে মাশুলের হিসাব জানার সুযোগ রয়েছে।ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘর থেকে পার্সেল ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। গ্রাহকেরা নিয়মিত শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এ সেবার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় বর্তমানে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগলেও তা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানোর ধাপ: নিকটস্থ ডাকঘরের নির্ধারিত কাউন্টারে যোগাযোগ, পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত, প্রাপক ও গন্তব্যের ঠিকানা লেখা, নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ, ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ সংগ্রহ।
স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পার মাগুরাখালি গ্রামের রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ির ঘেরই হয়ে ওঠে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করা মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করে চলত সংসার। বড় মেয়ে পায়েল অনার্স শেষ করার পর তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে দীপু মণ্ডল এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রত্নার মতো পার মাগুরাখালি গ্রামের আরও প্রায় ৫০ জন চিংড়িচাষি সম্প্রতি একত্রিত হয়েছেন। উৎপাদক পর্যায়ের চাষিদের সংগঠিত করার এই উদ্যোগ চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক সি-ফুড মনিটরিং সংস্থা মনটেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য, দায়িত্বশীল ও টেকসই চিংড়ি চাষে কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানো।পার মাগুরাখালি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বংশপরম্পরায় চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাংগাড়িয়া নদীর নোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। বছরের বেশির ভাগ সময় নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ হলেও বর্ষার কয়েক মাস মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন অধিকাংশ চাষি। নিরাপদ পোনা নির্বাচন, মাছের খাবার ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঘাটতি।সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদিত চিংড়ির ন্যায্য দাম পাওয়া। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের উৎপাদিত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশের বাজারে গেলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিপো মালিকদের হাতে।মাগুরখালি গ্রামের চিংড়িচাষিদের টিম লিডার সুমন গোলদার বলেন, এত দিন তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার ও ওষুধ ব্যবহার করে, বাজার থেকে কেনা খাবার দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এরপর ডিপোতে মাছ বিক্রি করতেন। তিন-চার হাত ঘুরে সেই মাছ কোম্পানিতে যেত। তাঁর ভাষায়, আমাদের পরিশ্রমের লাভ চলে যেত ফড়িয়াদের পকেটে।সুমন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টোটালফুডের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁরা অর্গানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শিখছেন।প্রশিক্ষণের পর মৃন্ময় মণ্ডল, সনৎ সিংহ মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলসহ অন্য চাষিরা খামারে রেকর্ড বই ব্যবহার করছেন। সেখানে পোনা মজুত, খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সার ও ওষুধের ব্যবহার, প্রোবায়োটিক, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাছ ধরার তথ্যসহ ১২টি ক্যাটাগরির তথ্য রাখা হচ্ছে। সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অলকেশ কুমার ঘোষ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত হলেও চিংড়ি খাতে সংকটের শেষ নেই। বিশেষ করে রপ্তানির মূল কাঁচামাল যে কৃষকের কাছ থেকে আসে, এত দিন তাঁর দিকে যথেষ্ট নজর ছিল না।ড. অলকেশের ভাষ্য, এবার প্রথম কৃষকদের সরকারিভাবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাছ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারেও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি রেড জোনে আছে। ক্রেতারা এখন অর্গানিক খাবার চান এবং খাবার কোথা থেকে ও কার কাছ থেকে আসছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা চান। বাংলাদেশ এখন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড। এক বছর পর উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি প্রায় ৪৪৫ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিদিন ৬০ টন উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি তিনটি হিমাগারে ৩ হাজার টন মাছ মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।কোম্পানির পরিচালক মেহেদী হাসান মো. হেফজুর রহমান বলেন, মাছ ও চিংড়িকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে ভ্যালু অ্যাডেড, রেডি টু কুক ও রেডি টু ইট খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পৌঁছেছে।তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িচাষিদের নিয়ে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও সংগঠিত কৃষকভিত্তিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হয়েছে। মাগুরখালির মতো চার এলাকার প্রায় সাড়ে ৬০০ নিবন্ধিত চাষি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কৃষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, পানি ও মাটি পরীক্ষা এবং চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসকে কামরুল আলম বলেন, কৃষককে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে টোটালফুড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হিমায়িত চিংড়ি খাতে ভালো করতে চাইলে অন্যদেরও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।