ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা
১ ঘন্টা আগে পড়ুনহবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কুবি শিক্ষার্থীদের
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।
ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করলে পাকিস্তান-তুরস্ককে ‘কঠোর জবাবের’ হুঁশিয়ারি হুথিদের
ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি, এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ দুটির সরকারের বিরুদ্ধে।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাসৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।তুরস্কের অবস্থানতুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়লে জোটের অংশ হিসেবে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানপাকিস্তান শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ জন্য কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের নিঃশর্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত।হুথিদের নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ইয়েমেন সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।অবরোধের সময় শিক্ষার্থীরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘অপ্রতিম হত্যার প্রশাসন জবাব দে’, ‘আমার মা কাঁদে কেন, প্রশাসন জবাব দে’, ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাঁরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে হবেইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ শুধু অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। এটি সারা বাংলাদেশের চিত্র। কুমিল্লাতেও প্রতিনিয়ত এসব হচ্ছে। এর পরও পুলিশ সুপার অ্যাওয়ার্ড পান। আমরা অপ্রতিম হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, “ক্লু পেয়েছি, ক্লু পেয়েছি”; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, তা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় তারা যতক্ষণ না নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’এর আগে দেওয়া হয়েছিল ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামঅপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতসহ চার দফা দাবি তুলে ধরেন তাঁরা।শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।এ ছাড়া কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কুমিল্লা প্রশাসনকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় মহাসড়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে এসপিকে আমাদের কাছে এসে তদন্তে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে। দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করব।’তিনি আরও বলেন, এটি শুধু একটি ঘটনার বিষয় নয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, আমরা তা দেখব। এরপর শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অবস্থান অনুযায়ী পরবর্তী কর্মসূচি জানানো হবে।
ইয়েমেনের সংঘাতে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশের সম্ভাব্য সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।হুথিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইরাকি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, তুরস্ক ও পাকিস্তান যদি এই সংঘাতে সামরিকভাবে যুক্ত হয়, তাহলে তাদের ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেওয়া হবে। তবে তাঁর দাবি, এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে নয়; বরং দেশ দুটির সরকারের বিরুদ্ধে।মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনাসৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার পর সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।তুরস্কের অবস্থানতুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়লে জোটের অংশ হিসেবে তুরস্ক প্রয়োজনীয় সামরিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।এ বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।সৌদি আরবের পাশে পাকিস্তানপাকিস্তান শুরু থেকেই সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়ে আসছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তা রক্ষা করা পাকিস্তানের ধর্মীয় দায়িত্ব। এ জন্য কোনো চুক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীও সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের নিঃশর্ত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।তিনি বলেন, হারামাইন শরিফাইন ও সৌদি রাজ্যের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজন হলে পাকিস্তান ‘যেকোনো পর্যায়ে’ যেতে প্রস্তুত।হুথিদের নতুন এই হুঁশিয়ারির পর ইয়েমেন সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু
হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।