হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।আজ শনিবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত শুনানি শেষে এই রিমান্ড আদেশ দেন।এর আগে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন ঢাকার বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর স্থানে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আঘাত করার মাধ্যমে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের স্বাভাবিক আগমন ও সেবা প্রাপ্তি ব্যাহত হয়।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধন ছিল কি না, তা উদঘাটন করা প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য ও কারণ উদঘাটনে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। উল্লেখ্য, গতকাল ২ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন ধামাল কোট এলাকার ১০ নম্বর রোডের ৩৫ নম্বরের নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ ঘন্টা আগে পড়ুনমধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, এমনকি তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আলাবামার মোবাইলে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। কথা বলার মতো কেউ নেই। কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক বছর আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমাদের সব সময় কঠিন কাজটি করতে হয়।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশটির কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটির অর্থনীতি ‘ধ্বংসের পথে’ এবং সেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ।যুদ্ধ শেষ হলে কমবে তেলের দামইরানকে ঘিরে অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কথা কী? আমরা এটিকে ইস্পাতের প্রাচীর বলি।’যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) আবার পূরণ করার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের কৌশলগত মজুত আবার পূরণ করব, বিনা মূল্যে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ, শেষ সাত ওভারে শ্রীলঙ্কার ঝড়
শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।
ট্রেনে ছিনতাই-হামলা বাড়ছে, চার বছর আট মাসে ৩১৬১ মামলা
নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে ট্রেনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ট্রেনেই বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধ। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গত চার বছর আট মাসে ৩ হাজার ১৬১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ২৫০টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, এসব অপরাধে জড়িতদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। তারা অনেক সময় যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে অপরাধ করে নিকটবর্তী স্টেশনে নেমে যায়। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেন থেকেও দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়।ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগসাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে ছিনতাইয়ের সময় যাত্রীদের ছুরিকাঘাত ও চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।গত ৮ মে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক শাওন আহত হন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে ট্রেনে ওঠার পর চার ছিনতাইকারী তাঁকে পেটে ছুরিকাঘাত করে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর আগে ৪ মে মালিবাগ এলাকায় একটি ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম নামে এক যুবক আহত হন।গত ৮ জুন বনানী এলাকায় মাহিদুল ইসলাম নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে মারধর ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় চট্টলা এক্সপ্রেসে তোফায়েল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন ছিনতাইকারী। বাধা দিলে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় তারা।১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবকের কাছ থেকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টিও সক্রিয়রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন রুটের ট্রেনে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি, টানা পার্টি, ঝুলন্ত ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতাও রয়েছে। কেউ কেউ চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে যাত্রীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেয়।রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, ট্রেনে তল্লাশি ও প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ট্রেনে পুলিশের গার্ড ডিউটিও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাবে।অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, নজরদারি কম থাকার কারণে অপরাধ বাড়ছে। রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।জনবল সংকট, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিরেলওয়ে পুলিশের মোট জনবল ২ হাজার ৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় রয়েছে ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি। সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত জনবল চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অপরাধী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ট্রেনে অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ট্রেনে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য নতুন করে ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম)-এ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে পুলিশ। এতে অপরাধীর বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ তথ্য রাখা হবে। ফলে পুনরায় অপরাধে জড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীমালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রেরকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরের পথে ইউরেনিয়ামবাহী তিন লরি
১৯ ঘন্টা আগেবন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
১৯ ঘন্টা আগেযুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে, এমনকি তা মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আলাবামার মোবাইলে এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি ‘কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না’। তাঁর ভাষায়, ‘আমি জানি না কার সঙ্গে কথা বলব। কথা বলার মতো কেউ নেই। কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চায় না।’ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে পারে না।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের দাবিইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি কয়েক বছর আগেই অন্য প্রেসিডেন্টদের করা উচিত ছিল। আমাদের সব সময় কঠিন কাজটি করতে হয়।’ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, দেশটির কোনো নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার বা বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই।ইরানের অর্থনীতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, দেশটির অর্থনীতি ‘ধ্বংসের পথে’ এবং সেখানে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩১০ শতাংশ।যুদ্ধ শেষ হলে কমবে তেলের দামইরানকে ঘিরে অবরোধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অবরোধের কথা কী? আমরা এটিকে ইস্পাতের প্রাচীর বলি।’যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) আবার পূরণ করার কথাও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই আমাদের কৌশলগত মজুত আবার পূরণ করব, বিনা মূল্যে।’ তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
শুরুটা ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু শেষ দিকে ম্যাচের চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬৬ রানের লক্ষ্য দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। টস হেরে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬৫ রান করেছে তারা।দুই প্রান্ত থেকে স্পিন দিয়ে আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ। তাতে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে না থাকা আলিস আল ইসলাম এদিন বল হাতে দারুণ কার্যকর ছিলেন। প্রথম স্পেলে ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের ১২টিই ছিল ডট বল।শেখ মেহেদী হাসানও চাপ ধরে রাখেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। আগের ম্যাচে বোলিং না করা সাইফ হাসানকেও এদিন ব্যবহার করেন অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রথম দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ।মোস্তাফিজের ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ১৩ ওভার পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে থাকা শ্রীলঙ্কা এরপর পাল্টা আক্রমণে যায়। ১৪তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনার পরই ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। নিজের প্রথম ওভারেই ২৫ রান দেন বাঁহাতি এই পেসার। বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারে দেন আরও ১১ রান।১৩ থেকে ১৮—এই ছয় ওভারেই ৮৩ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৭ রান।এরপর অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়ান মোস্তাফিজ। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিফটি করা থারিন্ডু রত্ননায়েকেকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ওই ওভারে দেন মাত্র ৭ রান।শেষ ওভারে বল হাতে নেন সাইফ হাসান। ওভারে দুটি উইকেট তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রানে আটকে রাখেন তিনি।বাংলাদেশের হয়ে শেখ মেহেদী ২টি উইকেট নেন। আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট পেয়েছেন। এখন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক জিততে বাংলাদেশকে ২০ ওভারে করতে হবে ১৬৬ রান।
নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে ট্রেনের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ট্রেনেই বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধ। আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।রেলওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনে বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় গত চার বছর আট মাসে ৩ হাজার ১৬১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ৭৮৬টি, ২০২৩ সালে ৬৩৯টি, ২০২৪ সালে ৬৪৫টি, ২০২৫ সালে ৮৫১টি এবং চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ২৫০টি মামলা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় গত চার বছরে ট্রেনে চুরির ঘটনা প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।রেলওয়ে পুলিশ সূত্র বলছে, এসব অপরাধে জড়িতদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। তারা অনেক সময় যাত্রীবেশে ট্রেনে উঠে অপরাধ করে নিকটবর্তী স্টেশনে নেমে যায়। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেন থেকেও দ্রুত নেমে পালিয়ে যায়।ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগসাম্প্রতিক সময়ে ট্রেনে ছিনতাইয়ের সময় যাত্রীদের ছুরিকাঘাত ও চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে।গত ৮ মে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক শাওন আহত হন। বিমানবন্দর স্টেশন থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে ট্রেনে ওঠার পর চার ছিনতাইকারী তাঁকে পেটে ছুরিকাঘাত করে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এর আগে ৪ মে মালিবাগ এলাকায় একটি ট্রেনে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম নামে এক যুবক আহত হন।গত ৮ জুন বনানী এলাকায় মাহিদুল ইসলাম নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীকে মারধর ও ব্লেড দিয়ে আঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।২০ জুন তেজগাঁও এলাকায় চট্টলা এক্সপ্রেসে তোফায়েল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কয়েকজন ছিনতাইকারী। বাধা দিলে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় তারা।১৪ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর থেকে জামালপুরগামী ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে সাজিদ নামে এক যুবকের কাছ থেকে ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আর ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে টাকা ও আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার একপর্যায়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টিও সক্রিয়রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন রুটের ট্রেনে ছিনতাইয়ের পাশাপাশি অজ্ঞান পার্টি, গামছা পার্টি, টানা পার্টি, ঝুলন্ত ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতাও রয়েছে। কেউ কেউ চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে যাত্রীকে অজ্ঞান করে মালামাল লুটে নেয়।রেলওয়ে পুলিশের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার নিকুলিন চাকমা বলেন, ট্রেনে তল্লাশি ও প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ট্রেনে পুলিশের গার্ড ডিউটিও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধীদের ক্ষেত্রে রেলওয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাবে।অপরাধবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, নজরদারি কম থাকার কারণে অপরাধ বাড়ছে। রেলব্যবস্থাকে প্রযুক্তিগতভাবে নজরদারির আওতায় আনতে হবে।জনবল সংকট, বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিরেলওয়ে পুলিশের মোট জনবল ২ হাজার ৪৯৩ জন। ছয়টি রেলওয়ে জেলায় রয়েছে ২৪টি থানা ও ৩৩টি ফাঁড়ি। সীমিত জনবল দিয়ে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ায় অতিরিক্ত জনবল চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন ও চলন্ত ট্রেনে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।অপরাধী শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক স্টেশনে এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কোনো ট্রেনে অপরাধ ঘটলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধী শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া ট্রেনে অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্য নতুন করে ক্রিমিনাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট (সিডিএম)-এ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে পুলিশ। এতে অপরাধীর বর্তমান অবস্থান ও মামলার সর্বশেষ তথ্য রাখা হবে। ফলে পুনরায় অপরাধে জড়ালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে পুলিশ।
দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীমালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রেরকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।