ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।বার্তায় তারেক রহমান বলেন, ঘরের আনাচকানাচ, রাস্তাঘাট, জনসমাগমস্থল এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব জায়গায় ডেঙ্গুর মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। সবাই সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোরবাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অতীতে অনেক বড় অর্জন করেছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করা, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হওয়া এবং ২০২৪ সালে সর্বস্তরের মানুষের প্রচেষ্টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান সফল করার পেছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ভূমিকা ছিল।তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আমরা যদি সবাই মিলে এসব অর্জন করতে পারি, তাহলে দেশের অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?’প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের চেষ্টা করছেন।টিকার চেয়ে প্রজননস্থল ধ্বংসে গুরুত্বডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা বেশি কার্যকর। বিভিন্ন পরীক্ষায় ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা সীমিত বলে দেখা গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারলেই একটি সরকার সফল হয়। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চায় তাঁর সরকার।ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত মানুষের প্রাণহানি কমানো সম্ভব। সবাই উদ্যোগী হলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি রোধ করা যাবে। 

৪ ঘন্টা আগে পড়ুন

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ফাহমিদা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। 

নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে একমত পাকিস্তান ও রাশিয়া

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। বুধবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদরে তাঁদের বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি সেনাসদরে গিয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমন্বয় উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।অন্যদিকে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগের কথাও স্বীকার করেন তিনি।এদিকে, সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ এবং বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।বুধবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।বুধবার (১৪ অক্টোবর) তাঁকে এ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসা ফাহমিদা আখতার বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন। নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী ফাহমিদা আখতারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। 

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ। বুধবার পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সেনাসদরে তাঁদের বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, চার দিনের সরকারি সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সফরের অংশ হিসেবে বুধবার তিনি সেনাসদরে গিয়ে আসিম মুনিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। এ সময় দুই দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সমন্বয় উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তব সহযোগিতা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।অন্যদিকে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারত্ব ও আত্মত্যাগের কথাও স্বীকার করেন তিনি।এদিকে, সংগঠিত অপরাধ দমনে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। একই সঙ্গে প্রত্যর্পণ এবং বন্দি হস্তান্তরসংক্রান্ত চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশ দুটি।বুধবার ইসলামাবাদে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোলোকোলৎসেভ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদল পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করে। সূত্র: ডন, আনাদোলু এজেন্সি

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

৫ ঘন্টা আগে
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

৫ ঘন্টা আগে
কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লায় জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর

কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি দলীয় কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর মোগলটুলীতে মহানগর জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। নতুন কমিটিতে বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান আমির হতে পারেন—এমন গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগ রয়েছে, মাহবুবুর রহমানের বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেন। একই সময়ে কার্যালয়ের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহবুবুর রহমান কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করেন। এ ঘটনায় মহানগর জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও দাওয়াহ ও তথ্য সম্পাদক হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সহসাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।দলীয় সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনের জন্য ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বিরোধী পক্ষের কয়েকজন কার্যালয়ে প্রবেশ করে গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।এ বিষয়ে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।’মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠিয়েছি। এই মুহূর্তে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ভেতরে জামায়াতের ঊর্ধ্বতন নেতারা আছেন।

৫ ঘন্টা আগে
ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

৯ ঘন্টা আগে
আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইনজীবী এবং অপরজন একজন আইনজীবীর ভাই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বুধবার আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আইনজীবী মাহাবুব রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্টস গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও পুনরায় জামিনের আবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন আইভী। এ সময় তাঁকে ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলতে শোনা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

৯ ঘন্টা আগে
বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুহুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরতলীর আদর্শপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও শৈলকূপা উপজেলায় বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেলার বাইরে তাঁর পদায়ন হয়নি বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১(ক) ও ১(ঙ) অনুচ্ছেদে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক বদলি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় প্রভাববলয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।এ অবস্থায় রুহুল ইসলামের দীর্ঘদিন নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, আমার বদলি আর পদায়ন তো আমার হাতে নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে, সেভাবে চাকরি করি। আমি তদবির করে ঝিনাইদহে আছি—এ রকম কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

১০ ঘন্টা আগে
এমপিকে নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লায় সার্ভেয়ারকে শোকজ

এমপিকে নিয়ে মন্তব্য, কুমিল্লায় সার্ভেয়ারকে শোকজ

এই এমপির আমার নাম কাটার ক্ষমতা নাই, উনাকে সরাসরি পেলে একটা সালাম দিমু এমন মন্তব্য করার কারণে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মোহাম্মদ বাকিরুল ইসলাম বাহাদুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।সোমবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জাহান তাঁকে এ নোটিশ দেন।মঙ্গলবার দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে ‘এই এমপির আমার নাম কাটার ক্ষমতা নাই’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে জেলা প্রশাসন।নোটিশে বলা হয়েছে, ১২ অক্টোবর দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদে সারের ডিলারশিপ নিয়ে সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলামের এমন মন্তব্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য জেলা প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর পরিপন্থী।নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ পাওয়ার তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে।ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপকুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় সম্প্রতি নয়জনকে সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলাম বাহাদুরের ভাই সাদেকুর রহমানের নামে ‘মেসার্স কেমি এন্টারপ্রাইজ’কে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।এ ডিলারশিপকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যকে নিয়ে সার্ভেয়ার বাকিরুল ইসলামের মন্তব্যের বিষয়টি সংবাদে উঠে আসে। পরে এ বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

১৪ ঘন্টা আগে
টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৬ ইউনিট

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৬ ইউনিট

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে।বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে কারখানাটির চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা ওষুধ তৈরির কাঁচামাল রাখার গুদাম ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রথমে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।কারখানায় আগুন লাগার ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

১৫ ঘন্টা আগে
১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন

১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন

দেশের ১০ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭৯৪ জনের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় ৩৬২, নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, কক্সবাজারে ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, চাঁদপুরে ১৭, ফেনীতে ৫, রাঙামাটিতে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ১২ জনকে আটক করা হয়।বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৮ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১২১ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৭ জনকে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৮ জনকে।মাদক উদ্ধার, ২০ জনের কারাদণ্ডমাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ এবং ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট।এ ছাড়া ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং বিয়ার এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান স্ট্রং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্য গ্রেপ্তারবিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, নোয়াখালীতে একজন, রাঙামাটিতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৩ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লায় এক রাতে ৩৫৩ জন আটক, ২০ দিনে ২ হাজার ৬৪৫

কুমিল্লায় এক রাতে ৩৫৩ জন আটক, ২০ দিনে ২ হাজার ৬৪৫

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের অপতৎপরতা বন্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক রাতেই ৩৫৩ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, এমন এলাকাগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পরিচালিত এ অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি নেতৃত্ব দেন।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ দিনে সাত দফায় পরিচালিত অভিযানে মোট ২ হাজার ৬৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।অভিযানে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।

১২ অক্টোবর ২০২৬
“

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

৫ ঘন্টা আগে
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইনজীবী এবং অপরজন একজন আইনজীবীর ভাই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বুধবার আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আইনজীবী মাহাবুব রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্টস গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও পুনরায় জামিনের আবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন আইভী। এ সময় তাঁকে ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলতে শোনা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুহুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরতলীর আদর্শপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও শৈলকূপা উপজেলায় বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেলার বাইরে তাঁর পদায়ন হয়নি বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১(ক) ও ১(ঙ) অনুচ্ছেদে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক বদলি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় প্রভাববলয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।এ অবস্থায় রুহুল ইসলামের দীর্ঘদিন নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, আমার বদলি আর পদায়ন তো আমার হাতে নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে, সেভাবে চাকরি করি। আমি তদবির করে ঝিনাইদহে আছি—এ রকম কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

৫ ঘন্টা আগে
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু বলে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ–বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান। নাগরিক পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।বুধবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু বলতে কোনো শব্দ শুনতে চাই না। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। এখানে নাগরিক পরিচয়ে ভেদাভেদ করার কোনো সুযোগ নেই।’ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলমানেরা তাঁদের ধর্ম পালন করবেন, হিন্দুরা হিন্দু ধর্ম পালন করবেন। বাংলাদেশে প্রধান চারটি ধর্মের পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁদের খোঁজখবর কম রাখা হয়। অথচ অতীতে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করেছেন।তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তাহলে আজ কেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে হয়? কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এত কষ্ট করতে হয়? আমি তো এই অঞ্চলেরই সন্তান। আজ থেকে ৫০-৬০ বছর আগেও তো এমন পরিস্থিতি শোনা যায়নি।’ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও মানুষ নিশ্চিন্তে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছে না, উপাসনালয় পাহারা দিতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে নিজের ধর্ম পালন করতে পারেন।ইসলাম অন্য ধর্মের ওপর আঘাত করতে শেখায় নাইসলামের মূল শিক্ষার কথা তুলে ধরে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম কখনো অন্য ধর্মের মানুষের ওপর আঘাত করতে শেখায় না। তাঁর দাবি, যারা ইসলামকে পছন্দ করে না, তারা ইসলামের নাম ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করে এবং এর দায় ইসলামের ওপর চাপায়।তিনি বলেন, সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ- এই চেতনা ধরে রাখতে হবে।গুজব ছড়ালে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বানসামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত সব খবর বিশ্বাস করা উচিত নয়। কোনো বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে দ্রুত পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে হবে।তিনি বলেন, এ সতর্কতা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য নয়, মুসলমানদের জন্যও প্রযোজ্য। দেশের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মুসলিম বা হিন্দু—কোনো সম্প্রদায়ের মানুষই হানাহানি বা গোলযোগ চান না। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা বিভিন্ন উপায়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরায় দেশে ফিরে আসার জন্য গোলযোগ তৈরির চেষ্টা করতে পারে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে এ ধরনের ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান।দেশপ্রেমের প্রসঙ্গ তুলে এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য ও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতে পারে। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন যারাবদরগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোনাব্বর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সামিউল ইসলাম এবং বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান জাহিদ সরকার।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ মুহাম্মাদ রোস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।

ধর্ম যার যার, নাগরিক অধিকার সবার: আজহারুল ইসলাম

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

নারায়ণগঞ্জে আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিটি মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আইনজীবী এবং অপরজন একজন আইনজীবীর ভাই। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।বুধবার আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ফতুল্লার আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজল, তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম এবং আইনজীবী মাহাবুব রহমান।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে শহরের আল্লামা ইকবাল রোডের বাসা থেকে জিয়াউল ইসলাম কাজল ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে দেওভোগের পাক্কা রোড এলাকার গার্মেন্টস গলি থেকে মাহাবুব রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারের পর বুধবার সকালে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।পুলিশের দাবি, আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান দেওয়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সে বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা তুহিন হত্যা মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের বিষয়ে আদালতে শুনানি হয়। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের শুনানি ও পুনরায় জামিনের আবেদনের জন্য দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।আদালতের কার্যক্রম শেষে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় নেতাকর্মীদের বেষ্টনীর মধ্যে ছিলেন আইভী। এ সময় তাঁকে ‘জয় বাংলাকে দাবিয়ে রাখা যাবে না, জয় বাংলা’ বলতে শোনা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরাও তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মেলান।

আদালতে আইভীর ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, আইনজীবীসহ গ্রেপ্তার ৩

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বদলি ও পদায়ন নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নিজ জেলা ঝিনাইদহে প্রায় ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বদলি নীতিমালার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।রুহুল ইসলাম ঝিনাইদহ শহরতলীর আদর্শপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি জেলার মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও শৈলকূপা উপজেলায় বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলায়। ফলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেলার বাইরে তাঁর পদায়ন হয়নি বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে।সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনের ১(ক) ও ১(ঙ) অনুচ্ছেদে এলজিইডির কর্মকর্তাদের নিজ জেলা কিংবা স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় পদায়ন না করার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পর বাধ্যতামূলক বদলি নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো, স্থানীয় প্রভাববলয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের সংঘাত এড়িয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।এ অবস্থায় রুহুল ইসলামের দীর্ঘদিন নিজ জেলায় কর্মরত থাকার বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং প্রযোজ্য নীতিমালা কীভাবে অনুসরণ করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী রুহুল ইসলাম বলেন, আমার বদলি আর পদায়ন তো আমার হাতে নেই। ওপর থেকে যেভাবে নির্দেশনা আসে, সেভাবে চাকরি করি। আমি তদবির করে ঝিনাইদহে আছি—এ রকম কোনো অভিযোগের সত্যতা নেই।

বদলি নীতিমালা উপেক্ষা করে ১৫ বছর ধরে নিজ জেলায় এলজিইডির প্রকৌশলী
হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

হাদি হত্যার বিচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে তাঁর সংগঠন। এ সময়ের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বুধবার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তিন দফা দাবিতে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি হলো শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, শাপলা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার।পথসভায় জাবের বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের তরফে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের ব্যাপারে একটা ডেডলাইন ঠিক করে দিয়েছি।’ তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ তাঁদের কাছে এসে কান্নাকাটি করে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সাধারণ নাগরিক, তাঁদের হাতে বিচারব্যবস্থা নেই। রাষ্ট্র ও সরকার বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে জানাতে হবে, তারা হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না। সরকার সফল হলে তাদের প্রতি আচরণ এক রকম হবে, আর ব্যর্থ হলে আচরণ হবে অন্য রকম।‘খুনিদের ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত লড়াই থামবে না’আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, ওসমান হাদিকে হত্যার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাংলাদেশ সরকার বারবার আবেদন জানালেও ভারত এখন পর্যন্ত চিঠির জবাব দেয়নি।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভারতে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত শুটার মাত্র। তাঁদের ভাড়া করে যারা হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে।জাবের বলেন, ‘যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তারা শুধু শুটার। এদেরকে ভাড়া করে যারা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বের প্রতীক শহীদ ওসমানকে হত্যা করেছে, তাদেরকে খুঁজে বের না করা পর্যন্ত আমাদের এই আজাদির লড়াই থামবে না।’তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সেই ব্যবস্থাকে কীভাবে উন্নত করা যায় এবং সাধারণ মানুষের বিচার নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।ওসমান হাদি কে, তা মানুষ বলে দেবেপ্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের ‘হু ইজ হাদি’ মন্তব্যের জবাবও দেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, যারা ওসমান হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা ভারতের সঙ্গে আপস করছেন এবং দিল্লির কাছে মাথা নত করছেন।জাবেরের ভাষায়, ওসমান হাদি হইলো বাংলাদেশের মানুষের আজাদি। আর তুমি হচ্ছ বাংলাদেশের মানুষের পরাধীনতা। ওসমান হাদির পরিচয় ও অবদান সম্পর্কে উপস্থিত মানুষই বলে দিতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবিকে শুধু সংগঠনটির দাবি নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি বলে উল্লেখ করেন জাবের। তাঁর মতে, হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার পাওয়ার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।ভারতকে নিয়ে কঠোর বক্তব্যপথসভায় ভারতকে উদ্দেশ করে জাবের বলেন, বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবল দিল্লি শান্ত থাকবে। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লিও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং তাঁদের ফেরত না দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।জাবের আরও বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তাঁরা মনে করেন।পথসভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক জাহিদ হাসান জয় এবং সংগঠনটির অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার সকালে রংপুরের মেডিকেল মোড়, ডিসির মোড়, রংপুর কলেজ, সিটি বাজার, পায়রা চত্বর ও প্রেসক্লাবসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লিফলেট বিতরণ করেন।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...