ঢাকা    রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইশতিয়াক হাসান আমীনকে ঢাকার বিশেষ শাখায় (এসবি) এবং পাবনার বেড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লাবীব আবদুল্লাহকে ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়েছে।এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিয়াস বসাককে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নওগাঁর সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে এবং খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রাফিউর রহমানকে হবিগঞ্জের মাধবপুর সার্কেলে বদলি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে। তা না হলে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

১৭ ঘন্টা আগে পড়ুন

ইয়েমেনে হুথিদের দ্রুত অগ্রযাত্রা, লোহিত সাগর নিয়ে নতুন উদ্বেগ

ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

হামে ভয়াবহ পরিস্থিতি, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৭

একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দেশেই এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানকে বাঁচাতে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারানো পরিবারগুলোকে শোকের পাশাপাশি বহন করতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও।২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার টিকাদানহামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে সংক্রমণ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনলাইনে পণ্য পাঠাতে ডাক বিভাগের স্পিডপোস্ট, প্রথম কেজি ১০ টাকা

অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে কুরিয়ার খরচ কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পরিবহন সহজ করতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। কম খরচে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এ সেবার স্লোগান ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ।ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা। একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে।শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ছাড়াও ভারী সামগ্রী স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।যেভাবে পাঠাবেনস্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর বা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করে পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।এরপর নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করলে গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ দেওয়া হবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে। বুকিংয়ের আগেও অনলাইনে মাশুলের হিসাব জানার সুযোগ রয়েছে।ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘর থেকে পার্সেল ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। গ্রাহকেরা নিয়মিত শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এ সেবার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় বর্তমানে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগলেও তা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানোর ধাপ: নিকটস্থ ডাকঘরের নির্ধারিত কাউন্টারে যোগাযোগ, পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত, প্রাপক ও গন্তব্যের ঠিকানা লেখা, নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ, ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ সংগ্রহ।

স্বামীর মৃত্যুর পর চিংড়িঘেরই রত্নার ভরসা, এখন বদলাচ্ছে চাষের ধরন

স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পার মাগুরাখালি গ্রামের রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ির ঘেরই হয়ে ওঠে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করা মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করে চলত সংসার। বড় মেয়ে পায়েল অনার্স শেষ করার পর তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে দীপু মণ্ডল এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রত্নার মতো পার মাগুরাখালি গ্রামের আরও প্রায় ৫০ জন চিংড়িচাষি সম্প্রতি একত্রিত হয়েছেন। উৎপাদক পর্যায়ের চাষিদের সংগঠিত করার এই উদ্যোগ চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক সি-ফুড মনিটরিং সংস্থা মনটেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য, দায়িত্বশীল ও টেকসই চিংড়ি চাষে কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানো।পার মাগুরাখালি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বংশপরম্পরায় চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাংগাড়িয়া নদীর নোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। বছরের বেশির ভাগ সময় নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ হলেও বর্ষার কয়েক মাস মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন অধিকাংশ চাষি। নিরাপদ পোনা নির্বাচন, মাছের খাবার ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঘাটতি।সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদিত চিংড়ির ন্যায্য দাম পাওয়া। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের উৎপাদিত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশের বাজারে গেলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিপো মালিকদের হাতে।মাগুরখালি গ্রামের চিংড়িচাষিদের টিম লিডার সুমন গোলদার বলেন, এত দিন তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার ও ওষুধ ব্যবহার করে, বাজার থেকে কেনা খাবার দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এরপর ডিপোতে মাছ বিক্রি করতেন। তিন-চার হাত ঘুরে সেই মাছ কোম্পানিতে যেত। তাঁর ভাষায়, আমাদের পরিশ্রমের লাভ চলে যেত ফড়িয়াদের পকেটে।সুমন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টোটালফুডের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁরা অর্গানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শিখছেন।প্রশিক্ষণের পর মৃন্ময় মণ্ডল, সনৎ সিংহ মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলসহ অন্য চাষিরা খামারে রেকর্ড বই ব্যবহার করছেন। সেখানে পোনা মজুত, খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সার ও ওষুধের ব্যবহার, প্রোবায়োটিক, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাছ ধরার তথ্যসহ ১২টি ক্যাটাগরির তথ্য রাখা হচ্ছে। সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অলকেশ কুমার ঘোষ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত হলেও চিংড়ি খাতে সংকটের শেষ নেই। বিশেষ করে রপ্তানির মূল কাঁচামাল যে কৃষকের কাছ থেকে আসে, এত দিন তাঁর দিকে যথেষ্ট নজর ছিল না।ড. অলকেশের ভাষ্য, এবার প্রথম কৃষকদের সরকারিভাবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাছ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারেও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি রেড জোনে আছে। ক্রেতারা এখন অর্গানিক খাবার চান এবং খাবার কোথা থেকে ও কার কাছ থেকে আসছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা চান। বাংলাদেশ এখন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড। এক বছর পর উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি প্রায় ৪৪৫ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিদিন ৬০ টন উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি তিনটি হিমাগারে ৩ হাজার টন মাছ মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।কোম্পানির পরিচালক মেহেদী হাসান মো. হেফজুর রহমান বলেন, মাছ ও চিংড়িকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে ভ্যালু অ্যাডেড, রেডি টু কুক ও রেডি টু ইট খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পৌঁছেছে।তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িচাষিদের নিয়ে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও সংগঠিত কৃষকভিত্তিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হয়েছে। মাগুরখালির মতো চার এলাকার প্রায় সাড়ে ৬০০ নিবন্ধিত চাষি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কৃষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, পানি ও মাটি পরীক্ষা এবং চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসকে কামরুল আলম বলেন, কৃষককে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে টোটালফুড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হিমায়িত চিংড়ি খাতে ভালো করতে চাইলে অন্যদেরও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

ইয়েমেনের উপকূলীয় সমতলভূমি তিহামাহর দক্ষিণাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বড় এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথিরা। কয়েক দিনের মধ্যে হুথিবিরোধী জোট ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স’-এর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা তাদের দখলে চলে যায়।বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, লোহিত সাগরের উপকূলে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে। কয়েক বছরের মধ্যে এটিকে গোষ্ঠীটির সবচেয়ে বড় সামরিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ১২ বছরের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবের ব্যাপক বিমান হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সামরিক অভিযানের পরও হুথিরা যে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে আছে, সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা তার প্রমাণ।ব্রাসেলসভিত্তিক ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অব পিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিশাম আল-ওমেইসি বিবিসিকে বলেন, হুথিদের এখন নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরানো সহজ হবে না। তারা সেখানে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে এবং তাদের সরাতে বড় মূল্য দিতে হবে।বাব আল-মান্দাব ঘিরে উদ্বেগহুথিদের এই অগ্রযাত্রা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাব আল-মান্দাবের কাছে পেরিমসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে গেলে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।গাজা যুদ্ধের পর হুথিরা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তারা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা জাহাজও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।ইয়েমেন বিশেষজ্ঞ আইওনা ক্রেগ বলেন, বাব আল-মান্দাবের ওপর নজরদারির সুযোগ থাকা এলাকা এখন হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।ইরানের কৌশলগত সুবিধালন্ডনের চ্যাথাম হাউসের গবেষণা ফেলো ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, ইরান সরাসরি ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও তেল বাণিজ্যের ৩৫ শতাংশের বেশি এসব পথের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষক বারাআ শাইবান বলেন, জুলাই থেকে ইয়েমেনে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। তাঁর মতে, এরপর থেকেই লোহিত সাগরে ইরানের আরও বড় উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নহুথিদের অগ্রযাত্রার পর প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইয়েমেনের সংঘাতে সরাসরি জড়াবে কি না। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চাইলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন তাতে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সৌদি আরবকে সমর্থন জোরদার করতে চায়, অন্যদিকে সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চাইছে। এদিকে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনও সম্ভাব্য হুথি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইয়েমেনে আবার পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু হলে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়বে দেশটির সাধারণ মানুষ। এক যুগের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত ইয়েমেনিদের জন্য নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

একসময় হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই দেশেই এখন ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯ জনে। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে ৮৫৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর দেশে হামে কোনো মৃত্যুর রেকর্ড ছিল না। অথচ চলতি বছর মাত্র ছয় মাসের মধ্যে হামে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে।প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। অনেক পরিবার সন্তানকে বাঁচাতে ধারদেনা করে চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে, কেউ আবার শেষ সম্বলটুকুও ব্যয় করছেন। আবার সন্তান হারানো পরিবারগুলোকে শোকের পাশাপাশি বহন করতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও।২৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবার টিকাদানহামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে আবারও টিকাদান কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।গত বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। অবশিষ্ট টিকাও আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকাদান কার্যক্রমকে সংক্রমণ মোকাবিলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার ক্ষেত্রে কুরিয়ার খরচ কমিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পার্সেল পরিবহন সহজ করতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। কম খরচে দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া এ সেবার স্লোগান ‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ।ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টে প্রথম এক কেজি পার্সেল পাঠাতে খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা। একটি পার্সেলে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠানো যাবে।শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ছাড়াও ভারী সামগ্রী স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা এবং এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।যেভাবে পাঠাবেনস্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠাতে দেশের যেকোনো জিপিও, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর বা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে। ডাক বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করে পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।এরপর নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করলে গ্রাহককে ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ দেওয়া হবে। ওই নম্বর ব্যবহার করে অনলাইনে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে। বুকিংয়ের আগেও অনলাইনে মাশুলের হিসাব জানার সুযোগ রয়েছে।ঢাকায় ঢাকা জিপিও ছাড়াও গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘর থেকে পার্সেল ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট এরই মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। গ্রাহকেরা নিয়মিত শুকনো খাদ্যসামগ্রী, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য এ সেবার মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, শুরুতে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে সেবাটির সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রান্তিক ও দূরবর্তী জেলা-উপজেলায় বর্তমানে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগলেও তা আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। স্পিডপোস্টে পার্সেল পাঠানোর ধাপ: নিকটস্থ ডাকঘরের নির্ধারিত কাউন্টারে যোগাযোগ, পণ্য নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত, প্রাপক ও গন্তব্যের ঠিকানা লেখা, নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ, ট্র্যাকিং নম্বরসহ রসিদ সংগ্রহ।

স্বামী হারানোর পর দুই মেয়েকে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার পার মাগুরাখালি গ্রামের রত্না মণ্ডল। ২০১৩ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠেন তিনি। চিংড়ির ঘেরই হয়ে ওঠে তাঁর আয়ের প্রধান উৎস। নিজের হাতে চাষ করা মাছ স্থানীয় ডিপোতে বিক্রি করে চলত সংসার। বড় মেয়ে পায়েল অনার্স শেষ করার পর তাঁর বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে দীপু মণ্ডল এখন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।রত্নার মতো পার মাগুরাখালি গ্রামের আরও প্রায় ৫০ জন চিংড়িচাষি সম্প্রতি একত্রিত হয়েছেন। উৎপাদক পর্যায়ের চাষিদের সংগঠিত করার এই উদ্যোগ চলছে প্রায় দেড় বছর ধরে। টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।আন্তর্জাতিক সি-ফুড মনিটরিং সংস্থা মনটেরি বে অ্যাকুয়ারিয়াম, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য, দায়িত্বশীল ও টেকসই চিংড়ি চাষে কৃষকের সক্ষমতা বাড়ানো।পার মাগুরাখালি গ্রামের অধিকাংশ মানুষ বংশপরম্পরায় চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভাংগাড়িয়া নদীর নোনা পানি চিংড়ি চাষের জন্য উপযোগী। বছরের বেশির ভাগ সময় নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ হলেও বর্ষার কয়েক মাস মিষ্টি পানিতে ধান চাষ করেন স্থানীয় কৃষকেরা।তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত নন অধিকাংশ চাষি। নিরাপদ পোনা নির্বাচন, মাছের খাবার ও ওষুধের সঠিক ব্যবহার, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ঘাটতি।সবচেয়ে বড় সমস্যা উৎপাদিত চিংড়ির ন্যায্য দাম পাওয়া। কৃষকদের অভিযোগ, তাঁদের উৎপাদিত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশের বাজারে গেলেও লাভের বড় অংশ চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিপো মালিকদের হাতে।মাগুরখালি গ্রামের চিংড়িচাষিদের টিম লিডার সুমন গোলদার বলেন, এত দিন তাঁরা বিভিন্ন ধরনের সার ও ওষুধ ব্যবহার করে, বাজার থেকে কেনা খাবার দিয়ে মাছ চাষ করতেন। এরপর ডিপোতে মাছ বিক্রি করতেন। তিন-চার হাত ঘুরে সেই মাছ কোম্পানিতে যেত। তাঁর ভাষায়, আমাদের পরিশ্রমের লাভ চলে যেত ফড়িয়াদের পকেটে।সুমন বলেন, প্রায় দেড় বছর আগে টোটালফুডের কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৬টি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। এখন তাঁরা অর্গানিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শিখছেন।প্রশিক্ষণের পর মৃন্ময় মণ্ডল, সনৎ সিংহ মণ্ডল, দীপঙ্কর মণ্ডল, চিন্ময় মণ্ডলসহ অন্য চাষিরা খামারে রেকর্ড বই ব্যবহার করছেন। সেখানে পোনা মজুত, খাদ্য প্রদান, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, সার ও ওষুধের ব্যবহার, প্রোবায়োটিক, পানির গুণগত মান পরীক্ষা এবং মাছ ধরার তথ্যসহ ১২টি ক্যাটাগরির তথ্য রাখা হচ্ছে। সমস্যা হলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিচ্ছেন তাঁরা।খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. অলকেশ কুমার ঘোষ প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম বড় খাত হলেও চিংড়ি খাতে সংকটের শেষ নেই। বিশেষ করে রপ্তানির মূল কাঁচামাল যে কৃষকের কাছ থেকে আসে, এত দিন তাঁর দিকে যথেষ্ট নজর ছিল না।ড. অলকেশের ভাষ্য, এবার প্রথম কৃষকদের সরকারিভাবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি মাছ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগাক্রান্ত মাছ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গবেষণাগারেও কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ি রেড জোনে আছে। ক্রেতারা এখন অর্গানিক খাবার চান এবং খাবার কোথা থেকে ও কার কাছ থেকে আসছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা চান। বাংলাদেশ এখন সেই পথেই যাত্রা শুরু করেছে।খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা গ্রামে ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় টোটালফুড প্রসেসিং প্রাইভেট লিমিটেড। এক বছর পর উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক পেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানিটি প্রায় ৪৪৫ টন হিমায়িত মাছ রপ্তানি করে ৪৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা আয় করেছে। প্রতিদিন ৬০ টন উৎপাদনক্ষমতার পাশাপাশি তিনটি হিমাগারে ৩ হাজার টন মাছ মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।কোম্পানির পরিচালক মেহেদী হাসান মো. হেফজুর রহমান বলেন, মাছ ও চিংড়িকে শুধু কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি না করে ভ্যালু অ্যাডেড, রেডি টু কুক ও রেডি টু ইট খাদ্যপণ্যে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব পণ্য দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে পৌঁছেছে।তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়িচাষিদের নিয়ে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ও সংগঠিত কৃষকভিত্তিক ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা হয়েছে। মাগুরখালির মতো চার এলাকার প্রায় সাড়ে ৬০০ নিবন্ধিত চাষি এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। কৃষক নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, রেকর্ড সংরক্ষণ, পানি ও মাটি পরীক্ষা এবং চিংড়ির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী সরবরাহব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এসকে কামরুল আলম বলেন, কৃষককে বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে টোটালফুড অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হিমায়িত চিংড়ি খাতে ভালো করতে চাইলে অন্যদেরও এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না’ বলার কয়েক ঘণ্টা পর বিএনপি নেতার মৃত্যু

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রচারণায় বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মারা গেছেন বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেজ ছেলে সাঈদ।সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি সুহিলপুর ইউনিয়নে বিএনপির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবারও সুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।সেখানে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকেই নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবেন। পথসভা ও গণসংযোগ শেষে রাতে বাড়ি ফিরে নৈশভোজ সেরে ঘুমিয়ে পড়েন সাইফুল ইসলাম খোকন। পরে রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। স্বজনেরা দ্রুত তাঁকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যান।সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।সুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম খোকনের চেয়ারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। সোমবারও তিনি সারা দিন তাঁদের সঙ্গে পুরো ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন। কিন্তু গভীর রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনতে হয়েছে। এমন আকস্মিক মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। শোডাউনে নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’ এমন বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে তাঁরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, তাঁর মরহুম পিতার সময় থেকেই সাইফুল ইসলাম খোকন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁর অকালমৃত্যুতে সুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনা উপজেলা বিএনপিতে অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

বরগুনার বেতাগী পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার হলেও পাইপলাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ও দক্ষ জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টের বিভিন্ন ট্যাংকে শেওলা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। ফিল্টারিং ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ধুলাবালি ও মরিচা ধরেছে। নদী থেকে পানি সংগ্রহের ইনটেক পয়েন্টেও পলি জমেছে।কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের সময় বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।প্ল্যান্টটি কেন চালু হয়নি, তা নিয়ে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখেই কাজ হয়েছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কাজের মান নিম্নমানের এবং ব্যাপক সংস্কার ছাড়া প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব নয়।প্ল্যান্টের কেয়ারটেকার মো. খোকন তালুকদার বলেন, কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ না থাকায় প্ল্যান্টটি অচল। বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরলে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে আব্দুস সাত্তার (৬১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিরল পৌর এলাকার শংকরপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে।শুক্রবার দিবাগত রাতে (৫ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী পুত্রবধূ বাদী হয়ে আব্দুস সাত্তারকে আসামি করে বিরল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পরে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর স্বামী শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বিয়ের প্রায় এক মাস পর থেকেই শ্বশুর আব্দুস সাত্তার তাঁকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায় চার মাস আগে তাঁকে শয়নকক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন আব্দুস সাত্তার। ওই হুমকির কারণে ভুক্তভোগী বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে একই সুযোগে আরও দুই দিন তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই ২০২৬ রাতে খাবার শেষে ভুক্তভোগী তাঁর স্বামীর ঘরে ঘুমাতে যান। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আব্দুস সাত্তার তাঁর শয়নকক্ষে ঢুকে আবারও জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনায় ৫ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে বিরল থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আব্দুস সাত্তারকে গ্রেপ্তার করে। বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভুক্তভোগীর মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সিলেটের জৈন্তাপুরে মিনাটিলা সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে এক বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিওপির একটি টাওয়ার থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।নিহত বিজিবি সদস্যের নাম জামিল আহমেদ শিষ (২০)। তিনি সিলেট ব্যাটালিয়ন-৪৮ বিজিবির অধীন মিনাটিলা বিওপিতে কর্মরত ছিলেন।বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিট থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় বিওপির টাওয়ারে গলায় ফাঁস দিয়ে জামিল আহমেদ আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান মোল্লা মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ওসি বলেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

৩০ আগস্ট ২০২৬
হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

হাসনাতের দুঃখ প্রকাশ, কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় নিজেদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শনিবার দুপুরে এনসিপির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের কথা জানায় সংগঠনটি।তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলা শিল্পকলা একাডেমি কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। সেখানে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল।এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।তবে শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে তাঁর ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।কর্মসূচি প্রত্যাহারব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নির্ধারিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি বলেন, এনসিপির কর্মসূচিতে আমাদের কোনো বাধা থাকবে না।শিল্পকলায় রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নিয়ে আপত্তিএদিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির কর্মসূচি আয়োজনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান করার কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে, এমন তথ্য আগে জানানো হয়নি।জেলা প্রশাসক বলেন, শিল্পকলায় কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তারা সেখানে অনুষ্ঠান করতে পারবে না। এনসিপির অনুষ্ঠানকে ঘিরে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করায় আপাতত ওই পক্ষের কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়েছে। তবে শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপির অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।

২৯ আগস্ট ২০২৬

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

ফরিদুল আলম ফরিদ ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফরিদুল আলম ফরিদ
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

বরগুনার বেতাগী পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার হলেও পাইপলাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ও দক্ষ জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টের বিভিন্ন ট্যাংকে শেওলা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। ফিল্টারিং ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ধুলাবালি ও মরিচা ধরেছে। নদী থেকে পানি সংগ্রহের ইনটেক পয়েন্টেও পলি জমেছে।কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের সময় বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।প্ল্যান্টটি কেন চালু হয়নি, তা নিয়ে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখেই কাজ হয়েছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কাজের মান নিম্নমানের এবং ব্যাপক সংস্কার ছাড়া প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব নয়।প্ল্যান্টের কেয়ারটেকার মো. খোকন তালুকদার বলেন, কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ না থাকায় প্ল্যান্টটি অচল। বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো
শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

শিক্ষককে পিটিয়ে পুলিশের কাছে দিল স্থানীয়রা, অভিযোগ ধর্ষণের

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মাওলানা মোবারক হোসেন ওরফে এমরান (৪৫) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে মারধর করার পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে সুধারাম মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়।পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তার বাবা-মা বিষয়টি নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। পরে সোমবার তাকে সুধারাম থানা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে শিশুটি পরিবারের কাছে অভিযোগ করে, গত পাঁচ থেকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসাশিক্ষক মোবারক হোসেন ওরফে এমরান তাকে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করেছেন।পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক তাঁর নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। সেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মারধরে আহত হওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পুলিশ পাহারায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।অভিযুক্ত এমরান উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের গোলাম কিবরিয়ার ছেলে। আর ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের বাসায় শিশুটিকে প্রাইভেট পড়াতেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানেই তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে মোবারক হোসেন ওরফে এমরানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত ডায়াবেটিক হাসপাতালের ভবন নির্মাণের এক বছর পার হলেও চালু হয়নি চিকিৎসাসেবা। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন নতুন ভবনটি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে একদিকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো ডায়াবেটিস রোগী, অন্যদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে ভবনটির।সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলীপাড়ায় নির্মিত এই হাসপাতালকে হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার চুক্তিতে কাজের দায়িত্ব পায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের মার্চে হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা কারণে তা দফায় দফায় পিছিয়ে যায়। অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে ২০২৫ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হস্তান্তর না হওয়ায় হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।ভবন হস্তান্তরের সময়ও বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। হাসপাতালের কয়েকটি স্থানে সীমানাপ্রাচীর ও মেঝেতে ফাটলসহ নানা সমস্যা দেখা যায়। পরে এসব ত্রুটি সংশোধনের শর্তে ভবনটি গ্রহণ করে ‘সুনামগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতি’।চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীদের ক্ষোভস্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা বলছেন, জেলায় দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এখানে ভালো চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। ফলে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে সিলেট কিংবা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়।তাঁরা দ্রুত হাসপাতালটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য নির্মিত এই বিশেষায়িত হাসপাতাল দ্রুত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র দিয়ে চালু করা হবে।হাসপাতালের জমিদাতার সন্তান মো. সাদেক খন্দকার বলেন, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার কথা বিবেচনা করে তাঁর বাবা হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। কিন্তু ভবন নির্মাণের পর এক বছর পার হলেও হাসপাতাল চালু না হওয়ায় দরিদ্র রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস রোগী রওনক বখত এবং স্থানীয় বাসিন্দা ফাত্তাহ কাওসার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবন এভাবে ফেলে রাখা দুঃখজনক।সরঞ্জাম পেলেই চালুর আশাসুনামগঞ্জ ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনোওয়ার আলী বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র এখনো তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিছু সরঞ্জাম কেনা হয়েছে বলে তাঁরা জেনেছেন, তবে সেগুলো এখনো বুঝে পাননি।তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পাওয়া গেলে দ্রুত হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চালু করা সম্ভব হবে। কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকায় একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় ভবন ও স্থাপনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

সুনামগঞ্জের ডায়াবেটিক হাসপাতাল এক বছর পরও চালু হয়নি

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

বরগুনার বেতাগী পৌরবাসীর নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টটি চালু হওয়ার আগেই অচল হয়ে পড়েছে। নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার হলেও পাইপলাইনের ত্রুটি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা ও দক্ষ জনবলের অভাবে প্ল্যান্টটি থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।সরেজমিনে দেখা যায়, প্ল্যান্টের বিভিন্ন ট্যাংকে শেওলা, আবর্জনা ও কচুরিপানা জমেছে। ফিল্টারিং ইউনিট ও অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে ধুলাবালি ও মরিচা ধরেছে। নদী থেকে পানি সংগ্রহের ইনটেক পয়েন্টেও পলি জমেছে।কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন বছর পর ২০২৫ সালের ১৫ জুন প্রকল্পটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহের সময় বিভিন্ন স্থানে পাইপলাইন ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।প্ল্যান্টটি কেন চালু হয়নি, তা নিয়ে পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও মান বজায় রেখেই কাজ হয়েছে। তবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, কাজের মান নিম্নমানের এবং ব্যাপক সংস্কার ছাড়া প্ল্যান্ট চালু করা সম্ভব নয়।প্ল্যান্টের কেয়ারটেকার মো. খোকন তালুকদার বলেন, কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ না থাকায় প্ল্যান্টটি অচল। বেতাগী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, পাইপলাইনের ত্রুটি চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত প্ল্যান্টটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রায় ৫ কোটি টাকার পানি শোধনাগার অচল, মিলছে না নিরাপদ পানি

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ
পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ ঘিরে ১৯ জেলায় নতুন আশার আলো

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।শুক্রবার রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এবং রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ।সাইট পরিদর্শন শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য পদ্মা ব্যারেজের মতো বড় প্রকল্পের প্রয়োজন ছিল। এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।তিনি জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রকল্পটির নির্মাণে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করা হবে।প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের খেয়াঘাট থেকে পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কাঞ্চনপার্ক পর্যন্ত হবে এর অবস্থান।প্রকল্পটির জন্য একনেকের সভায় ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি নদীশাসন, অ্যাপ্রোচ সড়ক, পাকা সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার হিসনা নদী এবং চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা ও গড়াই নদীশাসনের কাজও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পরিচালক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যারেজ নির্মাণের দুই পাড়ের স্থান ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি), প্রধান প্রকৌশলী ও স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।হাসান মাহমুদ আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ১৯ জেলার মানুষ এর সুফল পাবেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগের জাতীয় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। প্রকল্পের সুফল পাওয়ার সম্ভাব্য ১৯ জেলার মধ্যে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এবং দক্ষিণাঞ্চলের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...