ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য ও নিঃশর্ত সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে চলমান জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরও বড় অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের নেতৃত্বে নেতানিয়াহু ছাড়া অন্য কেউ থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই এই কাজ করতে হবে, যা করতে তিনি আগ্রহী নন। একই পোস্টে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ ঘোষণা করেন। তিনি লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’নির্বাচনে কঠিন লড়াইয়ের মুখে নেতানিয়াহুইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫১। ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কোনো দল বা জোটই এখন পর্যন্ত একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার অবস্থানে নেই।ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এর আগে নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছিলেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে টাইম সাময়িকী তাঁকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা উচিত কি না। দুইবারই সরাসরি উত্তর না দিয়ে ট্রাম্প ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা বলেন।বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাঁকে ইসরায়েলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’ নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিলের মতে, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাসের টানাপোড়েনের পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন ভাকিল। তাঁর মতে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরায়েলি ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে, কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনী প্রচারে চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু এই সমর্থন থেকে সুবিধা পেতে পারেন। তবে এর মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ঠিক নয়।ক্রিগের ভাষ্য, ডানপন্থী দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনানেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানাতে গিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরান প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এমন সময় এই অবস্থান সামনে এল, যখন কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন ট্রাম্প।গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূচনা হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির থাকলেও সামরিক উত্তেজনা কমেনি।যুদ্ধ শুরুর পর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয় ইরান। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। পরে সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাবগত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালুর প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দেয়। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তবে শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এরপরের দিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরায়েলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।সামরিক চাপ, নাকি কূটনীতির পথ?কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে আরও শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির পরিবর্তে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।ক্রিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন বলে মনে করেন ক্রিগ।তবে এই কৌশলে ঝুঁকিও রয়েছে। আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে তেহরান সংঘাত আরও বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারে।চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।ভাকিলের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও এখনো মীমাংসা হয়নি।তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরও জোরদার করতে পারে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার সীমিত আগ্রহের ইঙ্গিত হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকিট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই আগামী দিনে সংঘাতের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৯ ঘন্টা আগে পড়ুনইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো: শফিকুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের নতুন গান রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে
জনপ্রিয় গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সুমী শারমীনের লেখা নতুন দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন এবং বর্তমান প্রজন্মের গায়িকা প্রিয়াংকা বিশ্বাস। গান দুটির সুর করেছেন রুমন হায়াত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারে গান দুটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।নিজের লেখা গানে আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের মতো শিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সুমী শারমীন। তাঁর মতে, আগুনের কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনা বিশেষ আবেগের বিষয়।সুমী শারমীন বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় আগুন ভাই আমাদের কৈশোরের ভীষণ ভালোলাগা ও ভালোবাসার একজন শিল্পী। বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য এই প্রিয় শিল্পী আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, এটা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি।’এর আগে অনেক স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী তাঁর লেখা গান গাইলেও আগুনের কণ্ঠে নিজের গান শুনে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান সুমী শারমীন। তাঁর ভাষায়, আগুনের কণ্ঠে গানটি যেন তাঁর গীতিকবিতাকে আরও সার্থক করে তুলেছে।গান দুটিতে প্রিয়াংকা বিশ্বাসের অংশগ্রহণ নিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেন এই গীতিকার। তিনি বলেন, আগুন ও প্রিয়াংকার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনার অনুভূতি অন্য রকম, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। গান দুটি প্রচারে এলে শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।অন্যদিকে, নতুন গান দুটির অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংগীতশিল্পী আগুন বলেন, গানগুলোর কথা তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে। সুরও দারুণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। আগুন বলেন, বাংলাদেশ বেতার তাঁদের আবেগের জায়গা। সেখানে গান গাইতে এলে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।গান দুটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রেকর্ডিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন শ্রোতারা গান দুটি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ দিয়ে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে: তারেক রহমান
দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
নেতাকর্মীদের সংশোধনের নির্দেশ স্পিকারের, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো। তবে তাঁর অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক কিছু দেখছেন না তিনি।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সফরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।পুরান ঢাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে ইশরাক হোসেনের হাতে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজ ও মানুষের শরীরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।জামায়াতের আমির বলেন, ‘তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নেই। তিনি হয়তো ভালো নিয়তেই করেছিলেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নেই। তারা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করে।’তিনি আরও বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, নির্মূল করতে চায় জামায়াতমাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাঁদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তাঁরা মাদক নির্মূল করতে চান।মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা।
জনপ্রিয় গীতিকার ও কণ্ঠশিল্পী সুমী শারমীনের লেখা নতুন দুটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন নব্বইয়ের দশকের শ্রোতাপ্রিয় সংগীতশিল্পী আগুন এবং বর্তমান প্রজন্মের গায়িকা প্রিয়াংকা বিশ্বাস। গান দুটির সুর করেছেন রুমন হায়াত। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেতারে গান দুটির রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে।নিজের লেখা গানে আগুন ও প্রিয়াংকা বিশ্বাসের মতো শিল্পীদের পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সুমী শারমীন। তাঁর মতে, আগুনের কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনা বিশেষ আবেগের বিষয়।সুমী শারমীন বলেন, ‘শ্রদ্ধেয় আগুন ভাই আমাদের কৈশোরের ভীষণ ভালোলাগা ও ভালোবাসার একজন শিল্পী। বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য এই প্রিয় শিল্পী আমার লেখা একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন, এটা আমার জন্য পরম প্রাপ্তি।’এর আগে অনেক স্বনামধন্য সংগীতশিল্পী তাঁর লেখা গান গাইলেও আগুনের কণ্ঠে নিজের গান শুনে বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান সুমী শারমীন। তাঁর ভাষায়, আগুনের কণ্ঠে গানটি যেন তাঁর গীতিকবিতাকে আরও সার্থক করে তুলেছে।গান দুটিতে প্রিয়াংকা বিশ্বাসের অংশগ্রহণ নিয়েও আনন্দ প্রকাশ করেন এই গীতিকার। তিনি বলেন, আগুন ও প্রিয়াংকার কণ্ঠে নিজের লেখা গান শোনার অনুভূতি অন্য রকম, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। গান দুটি প্রচারে এলে শ্রোতাদের ভালো লাগবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।অন্যদিকে, নতুন গান দুটির অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে সংগীতশিল্পী আগুন বলেন, গানগুলোর কথা তাঁর ভীষণ ভালো লেগেছে। সুরও দারুণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে নিজের আবেগের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। আগুন বলেন, বাংলাদেশ বেতার তাঁদের আবেগের জায়গা। সেখানে গান গাইতে এলে পুরোনো অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়।গান দুটি বাংলাদেশ বেতারে প্রচারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। রেকর্ডিং সম্পন্ন হওয়ায় এখন শ্রোতারা গান দুটি শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন।
দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করা এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যে দেখা গেছে, পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করছে। আর দেশের ভেতরে থাকা আরেকটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’নির্বাচনের আগে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল এবং টিকিট বিক্রির রাজনীতি করেছিল, জনগণ তাদের কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলো আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।‘নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে’দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে বাংলাদেশের উন্নয়ন করে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই বদলাতে হবে।তিস্তা-পদ্মায় ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতিউত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু ও শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।এ ছাড়া প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে উন্নয়ন ও দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলেও বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।আন্তর্জাতিক সংসদীয় ইউনিয়নের (আইপিইউ) এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় মঙ্গলবার ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।স্পিকার বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বলছি, আপনারা নিজেদের সংশোধন করুন। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজ দলের নেতাকর্মীদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে আপসহীন থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিয়ে নজির স্থাপন করেছেন।’সম্প্রতি ঢাকায় একটি হাসপাতাল দখলের অভিযোগের পর এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া এবং ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন ভালো কাজ করতে চেয়েছিলেন। মাদকসেবী ও দুর্বৃত্তদের দমন করতেই তিনি অভিযানে গিয়েছিলেন। তবে একজন প্রতিমন্ত্রীর হাতে বৈধ কিংবা অবৈধ—কোনো ধরনের অস্ত্রই মানায় না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন।ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভিন্ন এলাকায় মব সৃষ্টি করে চালের বস্তা ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রকৃত জেলেরা ছাড়া অন্য কেউ জেলেদের জন্য বরাদ্দ চাল পাবেন না বলেও জানান স্পিকার।আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচন এলে অনেকেই সাধু-সন্ত সাজার চেষ্টা করেন। তবে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো, ভোটাধিকার থাকার কারণে মানুষ নির্যাতন-অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার সুযোগ পায়।এলাকায় চাঁদাবাজি কমে এসেছে উল্লেখ করে স্পিকার সাধারণ মানুষকে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। কোথাও অনিয়ম দেখা দিলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর অনুরোধও করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।