বাংলাদেশ পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের নতুন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মীর আশরাফ আলী। ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া এই কর্মকর্তা দীর্ঘ কর্মজীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বগুড়ার এই কৃতী সন্তান অতীতে দীর্ঘ ১৬ বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর কর্মজীবনে আসে নতুন অধ্যায়। এরপর তিন দফা পদোন্নতি পেয়ে ডিআইজি পদে উন্নীত হন তিনি।মীর আশরাফ আলীর পেশাগত জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন। গত দুই বছর তিনি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি/সিটিএসবি) ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তাঁকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হয়।এরপর স্বল্প সময়ের জন্য রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবার তাঁকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।শিক্ষাজীবন ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতামীর আশরাফ আলী বগুড়া সদর উপজেলার সন্তান। তাঁর শিক্ষাজীবন কেটেছে দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। বগুড়া জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক, বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন উন্নততর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ধারণাকে সমৃদ্ধ করেছে।নতুন দায়িত্বে প্রত্যাশাদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ এবং পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে রাজশাহী রেঞ্জের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন মীর আশরাফ আলী।রাজশাহী রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হিসেবে তাঁর কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুলিশি সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা থাকবে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও পেশাদার নেতৃত্ব রাজশাহী রেঞ্জের পুলিশি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
৩ ঘন্টা আগে পড়ুনবাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার স্বপ্ন, সড়কে প্রাণ গেল মাইশার
ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। এরপর ছোট ভাইকে নিয়ে দুই সন্তানের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা সালমা আক্তার। বড় মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে ঘিরেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে মেয়ে পরিবারের হাল ধরবেন, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী মাইশা।চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতকিয়া এলাকায় মাইশাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। যে মেয়েকে ঘিরে স্বামী হারানোর শোক ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারাতে হলো তাঁকে।মাইশা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইশা। প্রতিদিনের মতো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের পাশে। হয়তো ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু একটি বাসের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তাঁর সব স্বপ্ন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাগতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।বাসটির নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশা হাসপাতালে মারা যান।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাইশাকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়ামাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসমত আলী হাসপাতালে ছুটে যান।মাইশার মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের ওপর। তিন বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে যে মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারালেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে মায়ের পাশে দাঁড়ানো, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা—সব স্বপ্নই এখন অতীত। যে মেয়ের একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা, বাস্তবতা নিয়ে সংশয়
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।এর মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা যায়।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা চলছে।কিছু নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন, কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা বা ঘোষণা আসতে পারে।শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দলীয় নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয় করলেও অন্য একটি অংশ নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দলটির অনেক নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ফেরার বিষয়ে নিজেই জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথাসম্প্রতি প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা নিজেই এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেননি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে, অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে। এসব না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা যায়নি, অথচ লাখ লাখ মানুষ আনার কথা বলা হচ্ছে।অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।সরকারের বক্তব্য: আইনের আওতায় নেওয়া হবেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গলায় মালা পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া পৌঁছে যাবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা কখন দেশে আসতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।বিশ্লেষকদের চোখে ফেরার সম্ভাবনা কতটাশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।দৈনিক আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায় দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার তিনি একটি সময়সীমার কথা বলেছেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে কিছু চললে সেটি ভিন্ন বিষয়।জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তিনি সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।
শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে আজই চিঠি
০৩ নভেম্বর ২০২৬ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে বাবা মারা গেছেন তিন বছর আগে। এরপর ছোট ভাইকে নিয়ে দুই সন্তানের সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মা সালমা আক্তার। বড় মেয়ে মাইশা মুশফিরাতকে ঘিরেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষা শেষ করে মেয়ে পরিবারের হাল ধরবেন, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে পাশে দাঁড়াবেন এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ২১ বছর বয়সী মাইশা।চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটতকিয়া এলাকায় মাইশাদের বাড়িতে এখন শোকের মাতম। যে মেয়েকে ঘিরে স্বামী হারানোর শোক ভুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারাতে হলো তাঁকে।মাইশা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে তাঁর নানা পরিকল্পনা ছিল। পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং পরিবারের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাইশা। প্রতিদিনের মতো বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন সড়কের পাশে। হয়তো ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের সঙ্গে কথা বলবেন, সময় কাটাবেন ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। কিন্তু একটি বাসের চাপায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় তাঁর সব স্বপ্ন।যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনাগতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি উল্টে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।বাসটির নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন।এ দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী রাজিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া বহিরাগত আরও একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোস্তাক খন্দকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একটি লরি বাসটিকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে তাঁদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশা হাসপাতালে মারা যান।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মাইশাকে বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়ামাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে। উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজাদী ও উপউপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ হাসমত আলী হাসপাতালে ছুটে যান।মাইশার মৃত্যুতে সবচেয়ে বড় আঘাত নেমে এসেছে তাঁর পরিবারের ওপর। তিন বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে যে মেয়েকে অবলম্বন করে নতুন করে জীবন সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সালমা আক্তার, সেই মেয়েকেও হারালেন তিনি।পড়াশোনা শেষ করে মায়ের পাশে দাঁড়ানো, ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা—সব স্বপ্নই এখন অতীত। যে মেয়ের একদিন পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল, সেই মেয়ের নিথর দেহ নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে স্বজনদের।
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, আইনি জটিলতা, পাসপোর্ট ও ভ্রমণসংক্রান্ত বাধা এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁর প্রত্যাবর্তন সহজ নয়।এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচার-প্রচারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব ও বিভাজনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবার নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।দেশে ফেরার ঘোষণা ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।আদালতের রায়ের পর গত বছরের ২১ নভেম্বর প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে ভারতকে কূটনৈতিক চিঠি দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ভারত বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানায়।এর মধ্যে প্রথমে ভারতের একটি গণমাধ্যমে এবং পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানান। তাঁর এ বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে তৎপরতা দেখা যায়।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কিছু নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত নেতারাও বিভিন্ন সভা ও অনলাইন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ভারতীয় কয়েকটি গণমাধ্যম এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলেও শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা চলছে।কিছু নেতাকর্মী তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন। কেউ ৪০টি বিমান নিয়ে ঢাকায় আসার কথা বলেছেন, কেউ আবার হেলিকপ্টারে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি দেশে ফিরে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা এবং রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকার কৌশল হতে পারে। তাঁদের মতে, ডিসেম্বর পার হলে কর্মীদের সক্রিয় রাখতে নতুন কোনো সময়সীমা বা ঘোষণা আসতে পারে।শ্রমিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারের অভিযোগ, চলমান আন্দোলনের সহিংসতায় প্রকৃত শ্রমিকদের পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।গত সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়া এবং শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিবাদী সমর্থকেরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাবেক একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।আন্দোলনে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানা গেছে।এ ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি, নাশকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।দলীয় নেতাকর্মীরাও পড়েছেন চাপেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে সক্রিয় করলেও অন্য একটি অংশ নতুন করে চাপে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হতে শুরু করেছিলেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা অনেকে আবার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরেছিলেন।কিন্তু শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা সামনে আসার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দলটির অনেক নেতাকর্মী আবার গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।ফেরার বিষয়ে নিজেই জানিয়েছেন পাসপোর্ট জটিলতার কথাসম্প্রতি প্রবাসী এক বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার প্রস্তুতি সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র বন্ধ থাকায় টিকিট করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দেশে ফেরার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেভাবেই হোক একটি ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।বাংলাদেশের কাছে ট্রাভেল পাস চাওয়ার জন্য পাঁচ সদস্যের বিদেশি আইনজীবী প্যানেল প্রস্তুতের খবরও প্রচারিত হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনা নিজেই এ খবরকে সঠিক বলে নিশ্চিত করেননি।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশে ফিরতে হলে তাঁর পাসপোর্ট সচল করতে হবে, অথবা ট্রাভেল পাস দিতে হবে। এসব না পেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।সম্প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনলাইন বৈঠকে তাঁদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। আঘাত এলে পাল্টা আঘাত করার নির্দেশও দেন। ওই বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ভোলা থেকে তিন-চার লাখ মানুষ নিয়ে ঢাকায় আসার প্রতিশ্রুতি দিলে শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যের বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যালয়ই এখনো উদ্ধার করা যায়নি, অথচ লাখ লাখ মানুষ আনার কথা বলা হচ্ছে।অন্যদিকে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সেনাবাহিনী ও পুলিশকে উদ্দেশ করে দেওয়া বক্তব্যে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, ‘আপনারা ভয় পাবেন না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আপনাদের পাশে আছি। এই অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া হবে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার কর্মীদের খেলা দেখানো হবে।’জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরও সম্প্রতি একটি টকশোতে বলেছেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মাঝেমধ্যে কথা হয়। দেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা তাঁকে একাধিকবার জানিয়েছেন। তবে ফেরার নির্দিষ্ট সময় চূড়ান্ত হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না।সরকারের বক্তব্য: আইনের আওতায় নেওয়া হবেশেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাঁরা বলছেন, এ বিষয়ে সরকার বিচলিত নয়। বরং প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাঁকে ফেরত দেবে বলে আশা করছে সরকার।আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তাঁর গলায় মালা পরানোর আগেই আইনের হাতকড়া পৌঁছে যাবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা কখন দেশে আসতে চান, তা নিয়ে সরকার বিচলিত নয়। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। যিনিই দেশে আসবেন, তাঁকে আইন অনুযায়ী হেফাজতে নেওয়া হবে। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে চব্বিশের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের স্মৃতি থেকে দেশের মানুষ এখনো বের হতে পারেনি। তাঁর মতে, দেশে ফেরার অনুকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে কোনো মবের মুখোমুখি হতে হবে না; বরং আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলে সরকার খুশি হবে বলেও মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাঁকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।বিশ্লেষকদের চোখে ফেরার সম্ভাবনা কতটাশাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক মনে করেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।দৈনিক আমার দেশকে তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তপাত, শেখ হাসিনার শাসনামল নিয়ে জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ এবং আদালতের দণ্ড সবকিছু বিবেচনায় দেশে ফিরে স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবনে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। দেশে ফিরলে প্রথমেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর মতে, দেশে ফেরার ঘোষণা মূলত রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় থাকা এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার কৌশল।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তারেক ফজল অবশ্য বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে রাজি নন। তিনি দৈনিক আমার দেশকে বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যকে আপাতত একটি ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এবার তিনি একটি সময়সীমার কথা বলেছেন। এ কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে।তবে দেশে ফিরলে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অধ্যাপক তারেক ফজল বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ঘোষণা থাকলেও আইন মোকাবিলার বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। ভেতরে ভেতরে কিছু চললে সেটি ভিন্ন বিষয়।জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ মনে করেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। চলমান শ্রমিক আন্দোলনে তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে নাশকতার চেষ্টা করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।তিনি সরকার, বিরোধী দলসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও তাঁর প্রত্যাবর্তনের পথ এখনো নানা আইনি, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক জটিলতায় ঘেরা। ডিসেম্বরের ঘোষণাটি বাস্তবে রূপ নেয় কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
৬ ঘণ্টা পর সীতাকুণ্ডে শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থীদের টানা ছয় ঘণ্টার রেল ও সড়কপথ অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন এলাকায় অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে লরির ধাক্কায় লোকাল বাস উল্টে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শিক্ষার্থী।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল নয়টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ডালাস পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে একটি লরির ধাক্কায় লোকাল বাসটি উল্টে যায়। এ সময় বাসের নিচে চাপা পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।এ ঘটনার প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁদের আন্দোলন রেলপথেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুরু থেকেই উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি নিহত মাইশার বাবা দিদারুল আলমের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন।একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম ও পুলিশ কর্মকর্তারা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, আনসার ও ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।মহাসড়কে অনুষ্ঠিত মাইশার জানাজায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। জানাজা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দাবিগুলো শোনেন তিনি।ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের আশ্বাসশিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু নিরাপদে মহাসড়ক পারাপারের স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি আজকেই ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে ওভারব্রিজ নির্মাণ করা যায়।’ এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের অবৈধ পার্কিং থাকবে না। কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি রাস্তা দখল করে লরি বা গাড়ি রাখে, সেগুলো আমরা রাস্তায় কিছুতেই রাখতে দেব না।’চালককে গ্রেপ্তার ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাসদুর্ঘটনায় জড়িত লরিটি পুলিশ জব্দ করেছে বলে জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তবে ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তিনি। চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসকও আশ্বাস দেন।শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলা দায়ের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লরিচালককে গ্রেপ্তার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।এ ছাড়া মহাসড়কের দুই পাশে গতি নিরোধক স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উভয় পাশে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ এবং মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।