ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রে জানা যায়, লালন শাহ মাজার থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তাঁর ওপর হামলা হয়। পরে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনসিপিরনাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ জানিয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাইয়ের ওপর বিএনপির হামলা। তবে হামলার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এবার কুষ্টিয়ায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে এল।

৬ ঘন্টা আগে পড়ুন

মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হবে: শ্রমমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেই মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে।রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।চাহিদা নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণআরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো হবে। এ জন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তাঁরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর আমরা শ্রমিক পাঠাব।’বোয়েসেলের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিমালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল ও অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।সিন্ডিকেট নিয়ে এবার সতর্ক সরকারএর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হলে শ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে।মেডিকেল প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত নয়মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।

ডাক বিভাগে ৭ হাজার পদ শূন্য, এ বছর নিয়োগ হবে ২ হাজার

দেশের ডাক বিভাগে প্রায় ৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাকি ৫ হাজার পদ পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থা এ বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবসআগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চিঠিপত্রের প্রচলিত সেবার পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।নগদের প্রায় ৯ কোটি গ্রাহকসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। দিন দিন এ সেবার পরিধিও বাড়ছে।স্পিড পোস্টে ৮১১ টন পণ্য পরিবহনসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পাঠাতে এ সেবা ব্যবহার করছেন। ফলে স্পিড পোস্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানানো হয়।আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছেআন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩১৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকেরা নতুন সুবিধা পাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) আবু তালেব এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার সমন্বয় করা হবে।রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বিপুল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের তথ্য থাকবে এক জায়গায়মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের আওতায় একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভান্ডার থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।এই দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা হবে। মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী এবং নতুন স্নাতকদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করাও এ উদ্যোগের অংশ।সিভি লেখা থেকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিচাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আওতায় সিভি লেখা, ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদেরও এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাঁকে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।ছয় মাস ধরে চলছে পরামর্শএ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগটির কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেই মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে।রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।চাহিদা নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণআরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো হবে। এ জন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তাঁরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর আমরা শ্রমিক পাঠাব।’বোয়েসেলের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিমালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল ও অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।সিন্ডিকেট নিয়ে এবার সতর্ক সরকারএর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হলে শ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে।মেডিকেল প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত নয়মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।

দেশের ডাক বিভাগে প্রায় ৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাকি ৫ হাজার পদ পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থা এ বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবসআগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চিঠিপত্রের প্রচলিত সেবার পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।নগদের প্রায় ৯ কোটি গ্রাহকসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। দিন দিন এ সেবার পরিধিও বাড়ছে।স্পিড পোস্টে ৮১১ টন পণ্য পরিবহনসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পাঠাতে এ সেবা ব্যবহার করছেন। ফলে স্পিড পোস্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানানো হয়।আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছেআন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩১৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকেরা নতুন সুবিধা পাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) আবু তালেব এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার সমন্বয় করা হবে।রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বিপুল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের তথ্য থাকবে এক জায়গায়মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের আওতায় একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভান্ডার থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।এই দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা হবে। মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী এবং নতুন স্নাতকদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করাও এ উদ্যোগের অংশ।সিভি লেখা থেকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিচাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আওতায় সিভি লেখা, ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদেরও এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাঁকে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।ছয় মাস ধরে চলছে পরামর্শএ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগটির কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

০১ অক্টোবর ২০২৬
১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

১৭ বছরে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন করেছে, যুবকদের জন্য কিছু করেনি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১৭ বছর ধরে শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে। দেশ, জাতি ও যুবসমাজের উন্নয়নে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও তারা কিছু করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের অষ্টম ব্যাচ এবং ‘এআই প্রশিক্ষণ’ প্রকল্পের দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আমিনুল হক বলেন, যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার। ফ্রিল্যান্সিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁরা নিজেরাই উপার্জনের পথ খুঁজে নিতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারবেন।শিশুদের অতিরিক্ত প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যপুস্তকে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি বই যুক্ত করে তা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। খেলাধুলায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে সমাজে গুণগত পরিবর্তন আনা এর উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আমিনুল হক। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করে জাতীয় পর্যায়ে তাঁদের ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দিতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি ভোলার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের ঘোষণাও দেন তিনি।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর উল আলম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন, ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ আলম, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. শেখ মো. জোনায়েদ হোসেন, ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ গোলাম নবী আলমগীর এবং ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওসার।এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাচের ফ্রিল্যান্সিং ও এআই প্রশিক্ষণার্থী এবং জেলা যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলহাজ রাইসুল আলম ও যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সোপানও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের অষ্টম ব্যাচ ও এআই প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় ব্যাচের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে প্রকল্পের ছয়জন দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর হাতে উপহার হিসেবে একটি করে কম্পিউটার তুলে দেন তিনি। এর আগে সকালে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্ভাবিত একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।

০১ অক্টোবর ২০২৬
রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পিয়ন নিয়োগে তদবির, পটুয়াখালীর ডিসির বদলি নিয়ে বিতর্ক

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পিয়ন পদে নিয়োগ নিয়ে তদবিরের অভিযোগ ঘিরে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর বদলি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রক্সি পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়া এক চাকরিপ্রার্থীর নিয়োগের সুপারিশ উপেক্ষা করায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের অসন্তোষের মুখে তাঁকে বদলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিমন্ত্রী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিভাগীয় কমিশনারও বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে গত মঙ্গলবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তিনি যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।প্রক্সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা রাজস্ব প্রশাসনে অফিস সহায়কের ১০টি শূন্য পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা জহিরুল ইসলাম লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মৌখিক পরীক্ষার সময় বোর্ডের সদস্যরা তাঁকে কয়েকটি সাধারণ প্রশ্ন করেন। কিন্তু তিনি সেগুলোর উত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এতে সন্দেহ তৈরি হলে তাঁর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র ও হাতের লেখা যাচাই করা হয়। তখন হাতের লেখায় অসংগতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।এজাহার অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জহিরুল ইসলাম প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টি স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সরকারি কলেজের বাণিজ্য ভবনে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় তাঁর পরিবর্তে সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তি অংশ নেন। এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের ব্যক্তিগত সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর রাকিবুল ইসলাম। পরে পুলিশ জহিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদবিরের অভিযোগজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীর দাবি, জহিরুল ইসলাম ছিলেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের পছন্দের প্রার্থী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রক্সি পরীক্ষার অভিযোগ সামনে আসার পর জেলা প্রশাসক তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রতিমন্ত্রী ক্ষুব্ধ হন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয় বলে তাঁদের দাবি।তবে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের আচরণগত সমস্যা রয়েছে এবং তিনি ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের যথাযথ সম্মান করেন না। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি পটুয়াখালী সফরে গেলে জেলা প্রশাসক তাঁর অনুষ্ঠানে যোগ দেন না, অথচ পুলিশ সুপার সেখানে উপস্থিত হন বলে দাবি করেন তিনি।নুরুল হক নুর আরও বলেন, কয়েক দিন আগে সরকারি সফরে পটুয়াখালী গেলে জেলা প্রশাসক একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার কথা বলে কুয়াকাটা চলে যান। তাঁর ভাষ্য, জেলা প্রশাসকের অসদাচরণের বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে পিয়ন নিয়োগে তদবিরের অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।বদলিকে নিয়মিত প্রক্রিয়া বলছে বিভাগীয় প্রশাসনপ্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষের কারণে জেলা প্রশাসককে বদলি করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, জেলা প্রশাসকের পদোন্নতি হয়েছে এবং তাঁর বদলি জনপ্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।অন্যদিকে, বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কোনো মন্তব্য করতে চাননি।টিআইবির চোখে অনৈতিক চাপের অভিযোগ উদ্বেগজনকট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একই দিনে কয়েকজন জেলা প্রশাসককে বদলি করায় বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে হতে পারে। তবে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের ক্ষেত্রে একজন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য।তিনি বলেন, প্রক্সি পরীক্ষার মতো প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে জনপ্রতিনিধির চাকরির সুপারিশ করা অনৈতিক এবং তা প্রতারণায় সহায়তা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দৃষ্টান্ত হতে পারে।ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা সরকারের ৩১ দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তবে জেলা প্রশাসকের বদলির সঙ্গে নিয়োগে তদবিরের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বদলির প্রশাসনিক ব্যাখ্যা—দুই দিকই আলোচনায় রয়েছে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

প্রশাসনে গতি নেই, দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে

নির্বাচিত সরকারের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও জনপ্রশাসনে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়হীনতা, কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে অনীহা এবং ঘুষ-দুর্নীতি নিয়ে অসন্তোষ রয়ে গেছে। সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নেও প্রশাসনের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ চললেও মধ্যম ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে স্থবিরতা রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব এবং সরকারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে প্রশাসনের এই পরিস্থিতির পেছনে কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও পদায়ন নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।প্রশাসন সাজানো নিয়ে প্রশ্নজনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচিত সরকারের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত প্রশাসনের সমন্বিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, আগের সরকারের সময় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক কর্মকর্তা এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহাল রয়েছেন। ফলে প্রশাসনিক সংস্কার ও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনার প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না।অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই প্রশাসন পুনর্গঠনে বিতর্কের মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ধারার কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের মধ্যে সরকারের প্রতি প্রত্যাশিত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়নি। ফলে অনেক কর্মকর্তা নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন।অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি ও পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনো প্রত্যাশিত সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কানিজ মওলাসহ কয়েকজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করার ঘটনাও এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তার দাবি, এতে প্রশাসনে দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।নিয়োগে বিতর্ক, মাঠ প্রশাসনেও অসন্তোষসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে ৬১ জেলার প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী বাদ পড়েন। বাদ পড়া প্রার্থীদের কারও কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁদের মধ্যে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।সরকারের নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, এ ধরনের প্রতিবেদন সরকারের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, জনপ্রশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, যোগ্যতা এবং নির্ধারিত বিধিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি।অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক কয়েকজন আমলা। তাঁদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতার সুযোগে আগের প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে গেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে বদলায়নি পরিস্থিতিসরকার পরিবর্তনের পরও সরকারি দপ্তরে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানি কমেনি বলে অভিযোগ করছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের ভাষ্য, ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি এবং সেবা নিতে গিয়ে বাড়তি টাকা দেওয়ার অভিযোগ এখনো রয়েছে। সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসের মতো জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ধরনের ভোগান্তির কথা বেশি শোনা যাচ্ছে।দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের সঙ্গে আমলাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।এদিকে, শাহেদ শরীফ আহমেদের চালু করা ‘ঘুষ ডট সাইটে’ গত বুধবার পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৫৮টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। ওয়েবসাইটটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি করা ঘুষের মোট পরিমাণ ৫৫২ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সবগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরবরাহ করা তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়ার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ভঙ্গুর প্রশাসন পেয়েছিল। সেই প্রশাসন পুনর্গঠনে দক্ষ, যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাছাইয়ে ঘাটতি ছিল। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি ও অবসরে পাঠালেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আগের সরকারের সময়কার অনেক কর্মকর্তা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন।রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্নপ্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় কর্মকর্তাদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি একযোগে ১২টি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদেও সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগ প্রশাসনের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সরকারেরপ্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেছেন, পুলিশের কোনো সদস্য শৃঙ্খলা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা সহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকার পিছপা হবে না। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সদস্যদের নিজেদের সংশোধনের সুযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করেন।জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের শাসন দীর্ঘায়িত করতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মকর্তার নৈতিক স্খলনের ঘটনা নজরে এলে সাময়িক বরখাস্তসহ যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভাগীয় মামলা করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদনে (এসিআর) সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য বিবেচনা করা হবে। সরকারের সামনে এখন প্রশাসনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও পদায়নে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং সরকারি সেবায় ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ কমানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও জনসেবার মান উন্নয়নে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হতে পারে।

০১ অক্টোবর ২০২৬
নওগাঁয় বা মারধরের প্রতিবাদে দুই দিনের ধর্মঘট, নওগাঁয় আবার বাস চলাচল শুরু

নওগাঁয় বা মারধরের প্রতিবাদে দুই দিনের ধর্মঘট, নওগাঁয় আবার বাস চলাচল শুরু

বাসচালক ও সুপারভাইজারকে মারধরের প্রতিবাদে দুই দিন বন্ধ থাকার পর নওগাঁর সব রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিক নেতাদের কয়েক দফা আলোচনার পর গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে। যাত্রী ওঠানো-নামানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।এর জেরে পরে পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসচালক রুবেল হোসেন ও এক বাস সুপারভাইজারকে সিএনজিচালকেরা অতর্কিত মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।গুরুতর আহত রুবেল হোসেনকে প্রথমে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে নওগাঁ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।বাসচালককে মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার এবং মহাসড়কে অবৈধ অটোরিকশার চলাচল বন্ধের দাবিতে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকেরা। এতে জেলার অভ্যন্তরীণ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিন ধরে বাস না চলায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বাস চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাস চলাচল বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। বাসচালককে মারধরের ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাসের পর শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন। এরপর জেলার সব রুটে বাস চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়েছে।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

জেলের জালে ২০ কেজির কোরাল, মাছটি বিক্রি হলো ৩৬ হাজার টাকায়

বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীতে জহুরুল হাওলাদার নামে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে ২০ কেজি ওজনের একটি বড় কোরাল মাছ। পরে মাছটি শরণখোলা বাজারে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা।সোমবার সকালে বন বিভাগের বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে ভোলা নদীতে মাছ ধরতে যান শরণখোলা গ্রামের জেলে জহুরুল হাওলাদার। নদীতে জাল ফেলার কিছুক্ষণ পর হঠাৎ জালে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন তিনি। পরে কৌশলে জালটি নৌকায় তুললে দেখা যায়, তাতে আটকা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি কোরাল।নৌকায় মাছটি তোলার পর ওজন করে দেখা যায়, কোরালটির ওজন ২০ কেজি। বড় মাছটি নিয়ে দ্রুত শরণখোলা বাজারে ফিরে আসেন জহুরুল। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় মৎস্য আড়তদার শাহাদাত মুন্সী মাছটি ৩৬ হাজার টাকায় কিনে নেন।স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবনে টানা তিন মাস মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর গত এক মাসে জেলেদের জালে ধরা পড়া মাছের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় আকারের কোরালের বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় মাছটির জন্য ভালো দাম পেয়েছেন জেলে।মাছটির ক্রেতা শাহাদাত মুন্সী বলেন, গত এক মাসে সুন্দরবন এলাকা থেকে আসা মাছের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কোরাল। বড় কোরালের চাহিদা বেশি হওয়ায় ভালো দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে লাভজনক দামে মাছটি বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ভোলা নদীতে জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের কোরাল ধরা পড়ার বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। তাঁর মতে, তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় সুন্দরবনের জলাশয়ে মাছ নির্বিঘ্নে বেড়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের জাল ও বড়শিতে বড় আকারের মাছ ধরা পড়ছে এবং তাঁরা বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন।

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
“

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

মো: পলাশ তুষার পাঠান ০৩ অক্টোবর ২০২৬
মো: পলাশ তুষার পাঠান
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

 চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

১০ ঘন্টা আগে
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

০৩ অক্টোবর ২০২৬
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর রোগীর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় সমরিতা জেনারেল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।সিজারের পর থেকে শারীরিক অবস্থার অবনতিঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। প্রসবব্যথা শুরু হলে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডলকে ফরিদপুর শহরের নিলটুলী মুজিব সড়ক এলাকার সমরিতা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ সার্জন লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।পরিবারের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই কনিকার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং দেখা দেয় নানা শারীরিক জটিলতা।পেটে গজ শনাক্ত ঢাকার হাসপাতালেশারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে কনিকা মণ্ডলকে ঢাকার কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ থাকার বিষয়টি শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। পরে অস্ত্রোপচার করে গজটি বের করা হয়। ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।কনিকার স্বামী অশান্ত মণ্ডলের দাবি, ভুল চিকিৎসার বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসক লক্ষ্মী রানী দত্ত তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসকের বক্তব্য জানা যায়নি।তদন্তের পর ওটি বন্ধকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তের উদ্যোগ নেয়। এ জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়।তবে তদন্ত প্রতিবেদনে কী ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজনীয় যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছিল কি না এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ সময়মতো শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকনিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পরদিন সকালে তাঁর বাড়িতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দেন বলে জানিয়েছে পরিবার। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন স্বাস্থ্য বিভাগে জমা দেওয়ার পর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতালটির ওটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। কোনো হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই, ফরিদপুরে হাসপাতালের ওটি বন্ধ

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসেবা। অনুমোদিত ১১৯টি পদের মধ্যে ৩০টিই শূন্য। এর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের ২২টি খালি রয়েছে। জনবলের ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে স্বাস্থ্য সহকারীর ৫৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৭ জন। শূন্য রয়েছে আটটি পদ। অন্যদিকে, পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর ৬৪টি পদের বিপরীতে কর্মরত ৪২ জন, শূন্য ২২টি। দুই বিভাগ মিলিয়ে অনুমোদিত ১১৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৮৯ জন।পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বেশি ঘাটতিঅনুমোদিত পদের তুলনায় পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর প্রায় ৩৪ শতাংশ পদ শূন্য। ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা এবং নির্ধারিত এলাকার মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।শুধু শূন্য পদের কারণে নয়, কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্তিতে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করায় কোনো কোনো এলাকায় কার্যকর জনবল আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নির্ধারিত এলাকার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকেও জনবল ঘাটতিপ্রান্তিক মানুষের কাছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সীতাকুণ্ড উপজেলায় রয়েছে ২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক। প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকার কথা। বর্তমানে ২২টি ক্লিনিকে সিএইচসিপি কর্মরত আছেন। একটি ক্লিনিকে এ পদ শূন্য রয়েছে।জনবল সংকটের কারণে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ভিড় থাকলেও চিকিৎসক ও ওষুধের সংকটে অনেকে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ চলছেসীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স বলেন, স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীর শূন্য পদ পূরণ এবং সংযুক্তিতে থাকা কর্মীদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বী বলেন, শূন্য পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়া বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে। ১১ থেকে ২০ গ্রেডের পদে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের অধীনে ইতিমধ্যে দুই দফা নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছর আবার নিয়োগের সুযোগ না-ও হতে পারে; আগামী বছর পুনরায় প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।তিনি আরও বলেন, বৃহৎ পরিসরে জনবল পদায়নের যে প্রক্রিয়া চলছে, তার মাধ্যমেও সীতাকুণ্ডের কিছু শূন্য পদ পূরণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জনবল সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।

সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১৯ পদের ৩০টি শূন্য, সেবায় ভোগান্তি

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর

পঞ্চগড়ে শীতকালীন সবজির বাজারে চড়া দাম। আগাম ফলন ও উৎপাদন বাড়ানোর আশায় অতিরিক্ত কীটনাশক ও ফল বর্ধনশীল ভিটামিন প্রয়োগ, টানা বৃষ্টিপাত এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। এতে আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দাম বেড়েছে।জেলার বাজারগুলোতে এরই মধ্যে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, করলা ও বরবটিসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ফুলকপি ১৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, করলা ৬০ টাকা ও শসা ৬০ টাকায়।কৃষকেরা বলছেন, মৌসুমের শেষ দিকে টানা বৃষ্টিপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেওয়ায় ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি ও শিমের উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাঁদের।যেসব এলাকায় বেশি সবজি চাষপঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও রতনীবাড়ী; বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মাড়েয়া ও বড়শশী; আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়াখোয়া ও সর্দারপাড়া; দেবীগঞ্জ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ী ও কালীগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শারিয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় ব্যাপকভাবে সবজি চাষ হয়।এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। পরে এসব সবজির একটি বড় অংশ রাজধানী ঢাকার বাজারে পাঠানো হয়। তবে এবার আগাম সবজির উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় বাজারে দামের ওপর প্রভাব পড়েছে।বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকদেরবোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজিচাষি সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর সবজি চাষ করে তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা আয় করেন। এবার তিনি শিম, করলা, ঝিঙা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতি চাষ করেছেন। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার সবজির আবাদ ভালো হয়নি।সফিকুল ইসলাম বলেন, সবজিক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে উৎপাদন কিছুটা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।দুই সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ার আশাজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বৃষ্টিপাতের ধরন ও দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে সবজি চাষে কৃষকদের কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। এ কারণে বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কম রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৃষ্টিপাত কমে এলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়বে। এতে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

পঞ্চগড়ে সবজির ফলন কম, কেজি ২০০ টাকায় টমেটো-গাজর
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...