রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতাহতের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ রোববার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি হবে।ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে ওই দিন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ছুটিতে থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়।গ্রেপ্তার ১১, পলাতক ৩০ আসামিগত ২৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করা হয়।মামলায় বর্তমানে মোট ১১ জন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।গত ৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও তাঁরা আদালতে হাজির হননি। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁদের পলাতক বিবেচনায় নিয়ে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করা হয়।পলাতক আসামিদের তালিকায় যাঁরামামলায় পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক।এ ছাড়া সাবেক পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার এ তালিকায় রয়েছেন।পলাতক আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মারুফ হাসান, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।এ ছাড়া তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অব.) এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলীও রয়েছেন।প্রসিকিউশনের অভিযোগে যা বলা হয়েছেমামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নিরস্ত্র নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম খা আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও দলীয় নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের রাতের মধ্যেই শাপলা চত্বর থেকে সরিয়ে দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়।প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশের পর তৎকালীন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকারের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যৌথ সভা করেন। সেখানে শাপলা চত্বর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযানের জন্য বাহিনীগুলো আলাদা নাম ব্যবহার করে। পুলিশের অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সিকিউরড শাপলা’, র্যাবের ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ এবং বিজিবির ‘অপারেশন ক্যাপচার শাপলা’। পরে অভিযানটি ‘অপারেশন ফ্ল্যাশ আউট’ নামে পরিচিতি পায়।রাতের অভিযানে হতাহতের অভিযোগপ্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫ মে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাপলা চত্বরে সর্বোচ্চ মাত্রায় অভিযান শুরু হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমাবেশস্থলে থাকা হেফাজতের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড, কালার স্মোক গ্রেনেড, মাল্টি ইমপ্যাক্ট গ্রেনেড, খণ্ড-বল প্রজেক্টাইল ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন দিকে ছুটতে থাকেন এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের লক্ষ্য করে শর্টগান ও মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।প্রসিকিউশনের বর্ণনায়, হেফাজতের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পথে ঢাকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাতের অভিযান এবং দিনভর হামলা ও আক্রমণে শাপলা চত্বর, মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় হেফাজতে ইসলামের ৩২ জন নেতাকর্মী শহীদ ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মাধানীনগরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও আশপাশের এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রামে পাঁচজন এবং কুমিল্লায় একজন নিহত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।এসব ঘটনার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর পরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছে প্রসিকিউশন।অভিযোগ গঠনের শুনানি কেন গুরুত্বপূর্ণআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এ পর্যায়ে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করে। আসামিপক্ষও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পায়।ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে এগোবে। তবে অভিযোগ গঠন বা অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ এই নয় যে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।শাপলা চত্বরের ঘটনায় করা এই মামলায় আজকের শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
৩ ঘন্টা আগে পড়ুনতাহসিফ হত্যা মামলা: সিসিটিভি ফুটেজে নতুন তথ্য, রহস্যের কেন্দ্রে সেই তরুণী
বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার রাতে টঙ্গীতে দায়িত্ব পালন করা টহল পুলিশের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ। তাঁদের সঙ্গে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীও ছিলেন। ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।এদিকে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, টহল পুলিশের সদস্যদের বর্ণনা এবং স্থানীয়দের তথ্যের কিছু অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।নেস্ট বারে এক ঘণ্টার বেশিতদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা গেছে। বারে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরা দীপও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে করে তাহসিফ নেস্ট বারে আসেন এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে একজন তরুণী ছিলেন। তাঁরা বার থেকে তিন বোতল মদ কিনে পান করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাঁরা টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকার দিকে যান।তদন্তকারীরা ওই তরুণীকে খুঁজছেন। তাঁদের ধারণা, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।ছায়া তদন্তে যুক্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য অন্যান্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।মামলার তদন্ত করছে নৌপুলিশ। সংস্থাটির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাসুমা আক্তার বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।টহল পুলিশের বক্তব্যে নতুন প্রশ্নতাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের যে দলটি টহলে ছিল, তাদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় দীপের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখন তাঁর শরীরে কাদা ও নোংরা আবর্জনা লেগে ছিল।টহল দলের এক সদস্য তদন্তকারীদের জানান, দীপের প্যান্টের নিচের অংশ ও জুতায় কাদা, ময়লা পানি এবং মলমূত্রের মতো পদার্থ লেগে ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে দীপ নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীপের শরীরে ময়লা লাগার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কী কারণে তাঁর পোশাকে এসব লেগেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।দীপের দাবি, ঘটনার রাতে মাদক সেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করেছিল। এ সময় তিনি একদিকে এবং তাহসিফ অন্যদিকে দৌড়ে চলে যান।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীপের এই বর্ণনার সঙ্গে অন্যান্য তথ্যের কিছু গরমিল রয়েছে। বিশেষ করে টহল পুলিশের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার আগের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।হাজী মাজার বস্তিতে কী ঘটেছিলতদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দীপকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির প্রবেশপথ এলাকায় দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা একাধিকবার ওই এলাকায় যাওয়া-আসা করেছিলেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।তদন্তকারীরা ওই এলাকায় মাদক সেবনের সম্ভাব্য ঘটনাও খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, তাহসিফ ও দীপ সেখানে ইয়াবা অথবা হেরোইন সেবন করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানায়নি তদন্ত সংস্থা।দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল পুলিশ তাঁদের মাদক সেবনকারী সন্দেহে ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর দীপ ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে লুকিয়ে থেকে পরে সেখান থেকে চলে যান।তবে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তাঁরা। ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘটনার কাছাকাছি সময়ে তাহসিফ ও দীপের ফোনে করা যোগাযোগগুলো। সূত্রের দাবি, ওই সময় তাহসিফের ফোন থেকে তাঁর মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে দীপও মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসার দারোয়ানকে ফোন করে ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে গেট খোলা রাখার অনুরোধ করেছিলেন।এই যোগাযোগগুলোর সময় ও ঘটনার অন্যান্য তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।দুই বন্ধুর ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায়তাহসিফ ও দীপের মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাঁদের ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দীপের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য আলামতের অসংগতি থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে দীপের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।চার দিনের রিমান্ডে দীপতাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গত শনিবার দুপুরে দীপকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।সংস্থাটির ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাঁকে কেন হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।আইনজীবী আরও বলেন, তাহসিফকে হত্যার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিকভাবে আলোচিত একটি ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনও তদন্তেতদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পরিচিতজনদের সম্পর্কের বিষয়গুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, ঘটনার আগে কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সেগুলোকে মৃত্যুর কারণের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।নৌপুলিশের তদন্তে পিবিআই সহযোগিতা করছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।তাহসিফের বাসায় রাওয়ার প্রতিনিধিদলএদিকে গত শনিবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) একটি প্রতিনিধিদল তাহসিফের বাসায় যায়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রাওয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু নাওয়াজ খুরশিদ আলম। এ সময় সংগঠনটির সদস্য মেজর (অব.) আল-আমিনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।তাঁরা তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজগত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। পরদিন বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।উদ্ধারের সময় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁর বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।এখন পর্যন্ত তদন্তে নেস্ট বারে অবস্থান, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যাতায়াত, টহল পুলিশের সঙ্গে দীপের সাক্ষাৎ এবং দুই বন্ধুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের ফল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।
আমার দেশ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত: মুহিউদ্দীন রব্বানী
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। সংবাদ কোনো পক্ষের অনুকূলে যেতে পারে, আবার কোনো পক্ষের বিরুদ্ধেও যেতে পারে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো সংবাদপত্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা আক্রোশমূলক আচরণ করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য সমীচীন নয়। জনগণও তাঁদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করে না।মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রকাশ্যে লাইভে এসে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।তিনি বলেন, কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়ে আপত্তি থাকলে তা মোকাবিলার জন্য আইনি প্রতিকার চাওয়া কিংবা প্রতিবাদ জানানোর মতো গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করবেন যে তাঁরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
বিনিয়োগে স্থবিরতা, ১০ ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি
দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। ঋণের চাহিদা কম থাকায় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা অর্থের বড় অংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড, কলমানি এবং অন্য ব্যাংকে আমানত রাখার মতো বিকল্প খাতে অর্থ খাটিয়েও উদ্বৃত্ত তারল্যের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক।গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের কাছেই ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে একাধিক ব্যাংক আমানতের সুদহার কমিয়ে দিয়েছে। নতুন আমানত সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।সোনালী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত সবচেয়ে বেশিঅতিরিক্ত তারল্যের দিক থেকে ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। আগস্ট শেষে ব্যাংকটির উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।নিরাপদ খাতে অর্থ রাখছে ব্যাংকগুলোব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়।এরপর দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের জমা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।তবে ভালো ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও সেই অর্থ বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে জমছে উদ্বৃত্ত অর্থ।এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, উদ্বৃত্ত তারল্যের পুরো অর্থই ট্রেজারি বিল ও বন্ড, অন্য ব্যাংকের চালু করা বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ এবং ভালো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে প্লেসমেন্টের মতো খাতে লাভজনক ও নিরাপদভাবে বিনিয়োগ করা আছে।তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগ থেকে আয় হওয়ায় আমানতকারীদের সুদ পরিশোধে বাড়তি চাপ নেই। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের ব্যালান্সশিটও ভারসাম্যপূর্ণ।অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ঋণ হিসেবে বিতরণ না হলেও তা অলস পড়ে নেই। এসব অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো এখন সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।কিছু ব্যাংকে উল্টো তারল্যসংকটব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য ধরে রাখতে পারছে না।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।এ ছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৮৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৭৬৭ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬২৫ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ৬০০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫২৫ কোটি, গ্লোবাল ব্যাংকের ৩৮৭ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩১৯ কোটি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৮ কোটি টাকা তারল্য ঘাটতি রয়েছে।অর্থাৎ, ব্যাংক খাতের একদিকে বিপুল অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলেও অন্যদিকে কিছু ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার এই বৈপরীত্য খাতটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।আমানতের সুদহার কমাচ্ছে ব্যাংকগুলোঅতিরিক্ত তারল্যের চাপ সামলাতে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি ব্যাংক গত দুই মাসে দুই দফায় আমানতের সুদহার কমিয়েছে। একাধিক ব্যাংক মেয়াদি আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার ছিল ৯ থেকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগস্টে তা কমে সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে। সম্প্রতি সুদহার আরও কমে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ব্যাংকভেদে সুদহার কমানোর চিত্রেও পার্থক্য রয়েছে। পূবালী ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার গত জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগস্টে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২১ ও ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়।ব্র্যাক ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৭ ও ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়।ব্যাংক এশিয়ায় এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে আগস্টে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমে আসে। যমুনা ব্যাংকে একই মেয়াদের আমানতের সুদহার ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়। এ ছাড়া এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমানত সংগ্রহ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমানতের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আমানতকারীদের টাকা রাখতে এলে ফিরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে আমানতের সুদহার কমাচ্ছে।বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচেব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ার অন্যতম কারণ বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের মন্থর গতি। টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই চিত্রে। ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ও ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় তাদের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমে থাকছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য নিয়ে একধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে। অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদ দিলেও সেই অর্থ বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে আমানত ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি উদ্বৃত্ত তারল্য থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগের মন্থর গতি, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতি উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে ব্যাংকগুলোর হাতে জমে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা কঠিন হতে পারে।
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে মিরপুর-১০-এ শ্রমিকদের বিক্ষোভ
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই কর্মসূচির কারণে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা।শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানল, জুন থেকে ১২ জনের মৃত্যু
২২ অক্টোবর ২০২৬রূপগঞ্জে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩
২২ অক্টোবর ২০২৬বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে নতুন নতুন তথ্য পাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি যেসব স্থানে গিয়েছিলেন, সেসব এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার রাতে টঙ্গীতে দায়িত্ব পালন করা টহল পুলিশের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন তাহসিফ ও তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ। তাঁদের সঙ্গে ২৪ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক তরুণীও ছিলেন। ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি পুলিশ।এদিকে তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ, টহল পুলিশের সদস্যদের বর্ণনা এবং স্থানীয়দের তথ্যের কিছু অসংগতি পাওয়া যাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।নেস্ট বারে এক ঘণ্টার বেশিতদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন উত্তরার নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে তাহসিফের সঙ্গে ওই তরুণীকে দেখা যায়। সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরা অবস্থায় দেখা গেছে। বারে প্রবেশের সময় তাঁর হাতে একটি সাদা পলিথিন ছিল। এ সময় হেলমেট পরা দীপও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেলে করে তাহসিফ নেস্ট বারে আসেন এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে একজন তরুণী ছিলেন। তাঁরা বার থেকে তিন বোতল মদ কিনে পান করেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাঁরা টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকার দিকে যান।তদন্তকারীরা ওই তরুণীকে খুঁজছেন। তাঁদের ধারণা, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মৃত্যুর ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।ছায়া তদন্তে যুক্ত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্য অন্যান্য আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।মামলার তদন্ত করছে নৌপুলিশ। সংস্থাটির পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাসুমা আক্তার বলেন, তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।টহল পুলিশের বক্তব্যে নতুন প্রশ্নতাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার রাতে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশের যে দলটি টহলে ছিল, তাদের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় দীপের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল। তখন তাঁর শরীরে কাদা ও নোংরা আবর্জনা লেগে ছিল।টহল দলের এক সদস্য তদন্তকারীদের জানান, দীপের প্যান্টের নিচের অংশ ও জুতায় কাদা, ময়লা পানি এবং মলমূত্রের মতো পদার্থ লেগে ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে দীপ নিজেকে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁকে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়।পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীপের শরীরে ময়লা লাগার বিষয়টি তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কী কারণে তাঁর পোশাকে এসব লেগেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।দীপের দাবি, ঘটনার রাতে মাদক সেবনের অভিযোগে টহল পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করেছিল। এ সময় তিনি একদিকে এবং তাহসিফ অন্যদিকে দৌড়ে চলে যান।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীপের এই বর্ণনার সঙ্গে অন্যান্য তথ্যের কিছু গরমিল রয়েছে। বিশেষ করে টহল পুলিশের সঙ্গে তাঁর দেখা হওয়ার আগের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা।হাজী মাজার বস্তিতে কী ঘটেছিলতদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দীপকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির প্রবেশপথ এলাকায় দেখা যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা একাধিকবার ওই এলাকায় যাওয়া-আসা করেছিলেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।তদন্তকারীরা ওই এলাকায় মাদক সেবনের সম্ভাব্য ঘটনাও খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, তাহসিফ ও দীপ সেখানে ইয়াবা অথবা হেরোইন সেবন করে থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানায়নি তদন্ত সংস্থা।দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, টহল পুলিশ তাঁদের মাদক সেবনকারী সন্দেহে ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর দীপ ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে লুকিয়ে থেকে পরে সেখান থেকে চলে যান।তবে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীপের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখছেন তাঁরা। ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘটনার কাছাকাছি সময়ে তাহসিফ ও দীপের ফোনে করা যোগাযোগগুলো। সূত্রের দাবি, ওই সময় তাহসিফের ফোন থেকে তাঁর মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে দীপও মোহাম্মদপুরে তাঁর বাসার দারোয়ানকে ফোন করে ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে গেট খোলা রাখার অনুরোধ করেছিলেন।এই যোগাযোগগুলোর সময় ও ঘটনার অন্যান্য তথ্যের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।দুই বন্ধুর ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায়তাহসিফ ও দীপের মোবাইল ফোনের কললিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অ্যাপের যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য তাঁদের ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, দীপের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য আলামতের অসংগতি থাকায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে দীপের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ বা দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।চার দিনের রিমান্ডে দীপতাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এনায়েতুল করিম গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।গত শনিবার দুপুরে দীপকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।সংস্থাটির ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান জানান, তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সাংবাদিকদের বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তাঁকে কেন হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।আইনজীবী আরও বলেন, তাহসিফকে হত্যার সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিকভাবে আলোচিত একটি ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনও তদন্তেতদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও পরিচিতজনদের সম্পর্কের বিষয়গুলোও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, ঘটনার আগে কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন—এসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।তবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সেগুলোকে মৃত্যুর কারণের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে।নৌপুলিশের তদন্তে পিবিআই সহযোগিতা করছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফোনের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।তাহসিফের বাসায় রাওয়ার প্রতিনিধিদলএদিকে গত শনিবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (রাওয়া) একটি প্রতিনিধিদল তাহসিফের বাসায় যায়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রাওয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আবু নাওয়াজ খুরশিদ আলম। এ সময় সংগঠনটির সদস্য মেজর (অব.) আল-আমিনসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।তাঁরা তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের সান্ত্বনা দেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও রহস্য উদ্ঘাটনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজগত মঙ্গলবার উত্তরার রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের বাসা থেকে বের হন বিমানবাহিনীর বরখাস্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। পরদিন বিকেলে টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ।উদ্ধারের সময় তাঁর পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁর বাবা উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করেন।এখন পর্যন্ত তদন্তে নেস্ট বারে অবস্থান, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় যাতায়াত, টহল পুলিশের সঙ্গে দীপের সাক্ষাৎ এবং দুই বন্ধুর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে তাহসিফের মৃত্যু কীভাবে ঘটেছে এবং এর পেছনে কারও অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্তের ফল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষা করতে হবে।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।শনিবার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী এসব কথা বলেন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করা। সংবাদ কোনো পক্ষের অনুকূলে যেতে পারে, আবার কোনো পক্ষের বিরুদ্ধেও যেতে পারে। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কোনো সংবাদপত্রকে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা আক্রোশমূলক আচরণ করা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য সমীচীন নয়। জনগণও তাঁদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশা করে না।মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রকাশ্যে লাইভে এসে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।তিনি বলেন, কোনো সংবাদ বা সম্পাদকীয় অবস্থান নিয়ে আপত্তি থাকলে তা মোকাবিলার জন্য আইনি প্রতিকার চাওয়া কিংবা প্রতিবাদ জানানোর মতো গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে। কিন্তু সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।বিবৃতিতে মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের আচরণের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করবেন এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করবেন যে তাঁরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোতে বাড়ছে উদ্বৃত্ত তারল্য। ঋণের চাহিদা কম থাকায় আমানত হিসেবে সংগ্রহ করা অর্থের বড় অংশ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড, কলমানি এবং অন্য ব্যাংকে আমানত রাখার মতো বিকল্প খাতে অর্থ খাটিয়েও উদ্বৃত্ত তারল্যের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক।গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি ব্যাংকের কাছেই ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে একাধিক ব্যাংক আমানতের সুদহার কমিয়ে দিয়েছে। নতুন আমানত সংগ্রহে নিরুৎসাহিত করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।সোনালী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত সবচেয়ে বেশিঅতিরিক্ত তারল্যের দিক থেকে ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। আগস্ট শেষে ব্যাংকটির উদ্বৃত্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ৮৮ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা।দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য ৩২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যার উদ্বৃত্ত তারল্য ২৯ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ৪০৫ কোটি এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২৮ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের ২৩ হাজার ৯৮৪ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ২৩ হাজার ৫১৮ কোটি, যমুনা ব্যাংকের ২২ হাজার ৪৬৯ কোটি, ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৭ হাজার ৫৪৪ কোটি এবং প্রাইম ব্যাংকের ১৬ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে।নিরাপদ খাতে অর্থ রাখছে ব্যাংকগুলোব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঋণ ও আমানতের সুদহারের ওপর নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেই সীমা তুলে দিয়ে সুদহার বাজারভিত্তিক করা হয়।এরপর দুর্বল ব্যাংকগুলো উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদে আমানত পাচ্ছে। কারণ, আমানতকারীরা বেশি সুদের পাশাপাশি প্রয়োজনে তাঁদের জমা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।তবে ভালো ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও সেই অর্থ বিনিয়োগ করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটসহ নানা কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর হাতে জমছে উদ্বৃত্ত অর্থ।এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন বলেন, উদ্বৃত্ত তারল্যের পুরো অর্থই ট্রেজারি বিল ও বন্ড, অন্য ব্যাংকের চালু করা বন্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রি-ফাইন্যান্স প্যাকেজ এবং ভালো ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিটে প্লেসমেন্টের মতো খাতে লাভজনক ও নিরাপদভাবে বিনিয়োগ করা আছে।তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগ থেকে আয় হওয়ায় আমানতকারীদের সুদ পরিশোধে বাড়তি চাপ নেই। তাঁর ভাষ্য, অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের ব্যালান্সশিটও ভারসাম্যপূর্ণ।অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য ঋণ হিসেবে বিতরণ না হলেও তা অলস পড়ে নেই। এসব অর্থের বড় অংশ বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, অতীতে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ দেওয়ার কারণে বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো এখন সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। আগামী বছর থেকে ব্যাংকগুলো নতুন করে বিনিয়োগে ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।কিছু ব্যাংকে উল্টো তারল্যসংকটব্যাংক খাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও সব ব্যাংকের পরিস্থিতি এক নয়। কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনীয় তারল্য ধরে রাখতে পারছে না।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য ঘাটতি ছিল ৪ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এবি ব্যাংকের ঘাটতি ৩ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।এ ছাড়া সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৮৮ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৭৬৭ কোটি, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬২৫ কোটি, পদ্মা ব্যাংকের ৬০০ কোটি, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ৫২৫ কোটি, গ্লোবাল ব্যাংকের ৩৮৭ কোটি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩১৯ কোটি এবং আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৮ কোটি টাকা তারল্য ঘাটতি রয়েছে।অর্থাৎ, ব্যাংক খাতের একদিকে বিপুল অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলেও অন্যদিকে কিছু ব্যাংক তারল্যসংকটে ভুগছে। ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার এই বৈপরীত্য খাতটির সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।আমানতের সুদহার কমাচ্ছে ব্যাংকগুলোঅতিরিক্ত তারল্যের চাপ সামলাতে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি ব্যাংক গত দুই মাসে দুই দফায় আমানতের সুদহার কমিয়েছে। একাধিক ব্যাংক মেয়াদি আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।গত জুলাইয়ে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার ছিল ৯ থেকে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগস্টে তা কমে সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশে নেমে আসে। সম্প্রতি সুদহার আরও কমে সাড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।ব্যাংকভেদে সুদহার কমানোর চিত্রেও পার্থক্য রয়েছে। পূবালী ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার গত জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আগস্টে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ২১ ও ৮ দশমিক ৪১ শতাংশ হয়।ব্র্যাক ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ছিল ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে তা কমে যথাক্রমে ৮ দশমিক ১৭ ও ৯ দশমিক ১৮ শতাংশ হয়।ব্যাংক এশিয়ায় এক বছর মেয়াদি আমানতের সুদহার জুলাইয়ের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে আগস্টে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশে নেমে আসে। যমুনা ব্যাংকে একই মেয়াদের আমানতের সুদহার ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ হয়। এ ছাড়া এর চেয়ে বেশি মেয়াদের আমানতে সুদহার ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ হয়েছে।ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, আমানত সংগ্রহ এখন অনেক ব্যাংকের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমানতের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে ব্যাংকের মুনাফা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্রও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার আমানতকারীদের টাকা রাখতে এলে ফিরিয়ে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উদ্বৃত্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো বাধ্য হয়ে আমানতের সুদহার কমাচ্ছে।বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচেব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য বাড়ার অন্যতম কারণ বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের মন্থর গতি। টানা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এ খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই চিত্রে। ব্যাংকগুলো ঋণ দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য ও ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় তাদের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ জমে থাকছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে তারল্য নিয়ে একধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। কিছু দুর্বল ও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তীব্র তারল্যসংকটে ভুগছে। অন্যদিকে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্বৃত্ত রয়েছে।তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো আমানতের বিপরীতে উচ্চ সুদ দিলেও সেই অর্থ বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র পাচ্ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকের অর্থ উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এতে আমানত ব্যবস্থাপনার ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি উদ্বৃত্ত তারল্য থেকেও কাঙ্ক্ষিত আয় করতে পারছে না ব্যাংকগুলো।সামগ্রিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগের মন্থর গতি, ঋণের চাহিদা কমে যাওয়া এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতি উদ্বৃত্ত তারল্য বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত না হলে ব্যাংকগুলোর হাতে জমে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে প্রবাহিত করা কঠিন হতে পারে।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ।আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের এই কর্মসূচির কারণে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অফিসগামী যাত্রীরা।শ্রমিকদের দাবি, তাঁদের ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এই দাবিতে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।