ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার লালন শাহ মাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।দলীয় সূত্রে জানা যায়, লালন শাহ মাজার থেকে বের হওয়ার সময় হামলার শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভক্তদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় তাঁর ওপর হামলা হয়। পরে তিনি প্রায় ৩০ মিনিট সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনসিপিরনাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ জানিয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ঝিনাইদহ-হবিগঞ্জের পর এবার কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভাইয়ের ওপর বিএনপির হামলা। তবে হামলার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এর আগে ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছিল। এবার কুষ্টিয়ায় একই ধরনের অভিযোগ সামনে এল।
৬ ঘন্টা আগে পড়ুনমালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হবে: শ্রমমন্ত্রী
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেই মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে।রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।চাহিদা নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণআরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো হবে। এ জন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তাঁরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর আমরা শ্রমিক পাঠাব।’বোয়েসেলের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিমালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল ও অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।সিন্ডিকেট নিয়ে এবার সতর্ক সরকারএর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হলে শ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে।মেডিকেল প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত নয়মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।
ডাক বিভাগে ৭ হাজার পদ শূন্য, এ বছর নিয়োগ হবে ২ হাজার
দেশের ডাক বিভাগে প্রায় ৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাকি ৫ হাজার পদ পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থা এ বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবসআগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চিঠিপত্রের প্রচলিত সেবার পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।নগদের প্রায় ৯ কোটি গ্রাহকসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। দিন দিন এ সেবার পরিধিও বাড়ছে।স্পিড পোস্টে ৮১১ টন পণ্য পরিবহনসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পাঠাতে এ সেবা ব্যবহার করছেন। ফলে স্পিড পোস্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানানো হয়।আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছেআন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩১৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকেরা নতুন সুবিধা পাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) আবু তালেব এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মেজর আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল: গোলাম পরওয়ার
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের একই প্ল্যাটফর্মে আনতে ডিসেম্বরে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ
দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার সমন্বয় করা হবে।রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বিপুল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের তথ্য থাকবে এক জায়গায়মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের আওতায় একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভান্ডার থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।এই দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা হবে। মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী এবং নতুন স্নাতকদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করাও এ উদ্যোগের অংশ।সিভি লেখা থেকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিচাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আওতায় সিভি লেখা, ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদেরও এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাঁকে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।ছয় মাস ধরে চলছে পরামর্শএ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগটির কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেই মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে।রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।চাহিদা নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণআরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো হবে। এ জন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তাঁরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর আমরা শ্রমিক পাঠাব।’বোয়েসেলের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিমালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল ও অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।সিন্ডিকেট নিয়ে এবার সতর্ক সরকারএর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হলে শ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে।মেডিকেল প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত নয়মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।
দেশের ডাক বিভাগে প্রায় ৭ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২ হাজার পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাকি ৫ হাজার পদ পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ‘বিশ্ব ডাক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত অবকাঠামো ও কার্যকর গ্রাহকসেবার সঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত, স্মার্ট ও জনবান্ধব লজিস্টিকস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে।তিনি বলেন, ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও জনগণের দীর্ঘদিনের আস্থা এ বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও বহুমুখী সেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবসআগামী ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হবে। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য সম্মিলিত ডাক নেটওয়ার্ক সীমাহীন সম্ভাবনা। এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে চিঠিপত্রের প্রচলিত সেবার পাশাপাশি ই-কমার্স, পার্সেল, লজিস্টিকস ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মতো আধুনিক সেবার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক।নগদের প্রায় ৯ কোটি গ্রাহকসাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কাজী আসাদুল ইসলাম জানান, ডাক বিভাগের আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর প্রায় ৯ কোটি গ্রাহক রয়েছে। দিন দিন এ সেবার পরিধিও বাড়ছে।স্পিড পোস্টে ৮১১ টন পণ্য পরিবহনসংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত স্পিড পোস্টের মাধ্যমে প্রায় ৮১১ টন পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। ই-কমার্স ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কৃষকেরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পাঠাতে এ সেবা ব্যবহার করছেন। ফলে স্পিড পোস্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানানো হয়।আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছেআন্তর্জাতিক পার্সেল সেবাতেও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশগামী পার্সেল পরিবহন করা হয়েছিল ২৪০ টন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ৩১৬ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক পার্সেল পরিবহন বেড়েছে ৭৬ টন। এর ফলে প্রবাসী বাংলাদেশি ও রপ্তানিকারকেরা নতুন সুবিধা পাচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হিসাব ও সংস্থাপন) আবু তালেব এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডাক সার্ভিস) জাকির হাসান নূরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারি দলের নীতিনির্ধারকদের ইঙ্গিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।রোববার বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমানবন্দরের ঘটনাটি আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের মূল কারণ নয়, বরং এটিকে উপলক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিমানবন্দরের ঘটনার পরদিন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলোচনা করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের, বিশেষ করে জামায়াতে যোগ দেওয়ায় আখতারুজ্জামানের প্রতি বিএনপির যে আক্রোশ ও প্রতিশোধের আগুন ছিল, তা বাস্তবায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছিল। সেই সুযোগ পেয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।‘জামিনযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তার, তবু জামিন হয়নি’জামায়াতের এই নেতা বলেন, যে ধারায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি জামিনযোগ্য। কিন্তু প্রথম দিন তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। রোববার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে জামিন আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করা হয়েছে।তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান ডিভিশন পাওয়ার যোগ্য। আদালতে ডিভিশনের আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর পেছনে রাজনৈতিক অশুভ হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।‘আদালত চত্বরে মব সৃষ্টি ও হামলা’গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, রোববার আদালতে আখতারুজ্জামানকে নিয়ে বিএনপির আইনজীবীরা মব সৃষ্টি ও হাতাহাতি করেছেন। এ সময় আদালত চত্বরে জামায়াতের নেতাকর্মী ও তাঁর স্বজনদের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।তিনি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের যুগের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি।’আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার নিয়ে দেশে ও প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে হুমকি দিয়েছেন—তাঁকে মুক্তি না দিলে প্রয়োজনে আবারও রেমিট্যান্স শাটডাউন করা হবে।বিমানবন্দরের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নগোলাম পরওয়ার বলেন, এজাহারে আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তুলেছেন, মারপিট করেছেন বা নাজেহাল করেছেন বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ভিডিওতেও এর দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।বিমানমন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে আখতারুজ্জামান কাউকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে ‘শতভাগ না, হাজার ভাগ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য বিমানমন্ত্রীর জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে যখন সংসদ সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তখন তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, অশ্রুসিক্ত হন এবং ক্ষমা চান। এরপরও তাঁকেই বাদী করে মামলা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রাজনৈতিক ইঙ্গিতেই এ মামলা করা হয়েছে।অব্যবস্থাপনার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে চারজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আখতারুজ্জামান কি খুনি-ডাকাত?মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরানোরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার।তিনি বলেন, কারাবিধিতে দুর্ধর্ষ আসামি, খুনি-ডাকাত কিংবা পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থার কথা বলা আছে। ‘মেজর আখতারুজ্জামান কি খুনি, ডাকাত বা পালিয়ে যাওয়ার মতো কোনো আসামি? তিনি প্রথম শ্রেণির নাগরিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি। তাঁকে প্রিজন ভ্যানে হেলমেট পরানো হয়েছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’‘অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে’জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা তদন্তে কমিটি গঠন, বিমানমন্ত্রীসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে ডিভিশন দেওয়ার দাবিও জানান তিনি। আদালতের বিধি অনুযায়ী সময়মতো জামিনের আবেদন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার।গ্যাসের দাম বাড়ানোরও প্রতিবাদসংবাদ সম্মেলনে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ছয় মাসে তিনবার তেল, বিদ্যুৎ ও সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে।গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সিন্ডিকেট ও মেগা প্রকল্পের নামে আয়ের হাব তৈরি করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিমউদ্দিন এবং উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বরে ঢাকায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যের সঙ্গে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার সমন্বয় করা হবে।রোববার দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা এবং তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।মাহ্দী আমিন বলেন, তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের বিপুল জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের মেধার বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দেশের অগ্রগতির জন্য তারুণ্যের ক্ষমতায়ন অপরিহার্য। কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের সুপ্ত মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মাধ্যমেই এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের তথ্য থাকবে এক জায়গায়মাহ্দী আমিন জানান, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের আওতায় একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে। সেখানে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা ও যোগ্যতার তথ্যভান্ডার থাকবে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জনবলের চাহিদার তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে।এই দুই পক্ষের তথ্য সমন্বয়ের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা হবে। মূলধারার শিক্ষার বাইরে থাকা তরুণ-তরুণী এবং নতুন স্নাতকদের চাকরির বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ চিহ্নিত করাও এ উদ্যোগের অংশ।সিভি লেখা থেকে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতিচাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসংস্থান সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর আওতায় সিভি লেখা, ব্যক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলার মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।দক্ষ জনবল তৈরি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এসব মেলার মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীদেরও এ প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে। নিবন্ধনের পর তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।মাহ্দী আমিন বলেন, চাকরিদাতা ও চাকরিপ্রার্থী—উভয় পক্ষই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নিবন্ধন করতে পারবেন। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে কোনো তরুণ নিজের ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাঁকে প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষ ও সেবার সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।ছয় মাস ধরে চলছে পরামর্শএ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কতজনের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগটির কৌশল ও পদ্ধতি নিয়ে কাজ চলছে।কারখানা বন্ধ হলেও নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কলকারখানা বন্ধ হওয়া ও কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, ওই সময়ের পর কিছু কারখানা বন্ধ হয়েছে। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা অনেক কম।তিনি বলেন, কিছু কারখানা বন্ধ হওয়ায় কর্মসংস্থান কমলেও নতুন বিনিয়োগ বাড়ছে, নতুন কারখানা চালু হচ্ছে এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।বেকার ভাতা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা। তবে ভবিষ্যতে বেকার ভাতার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?
জেলার খবর
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।
ভিডিও গ্যালারি
সকল ভিডিওজাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা
জাকসু নির্বাচন নিয়ে শিবির নেতার হুঁশিয়ারি
ভিপি জিএস হওয়ার কারণে যেসব সুবিধা পাবেন সাদিক ও ফরহাদ
দুই ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম- আবিদুলের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়
সাইবার আক্র'মণের অভিযোগ নিয়ে যা বলছে ছাত্রদলের হামিম
আপনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করছেন ভিপি প্রার্থী আবিদকে মাইশা
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর, ক্ষুব্ধ বন্দর শ্রমিক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তারা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে।বন্দর-সংশ্লিষ্ট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি দেশীয় দক্ষ জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।গত বৃহস্পতিবার অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) এনসিটি ও ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে দেওয়া হবে।সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে। এনসিটি পরিচালনার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক বন্দর অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্প প্রোফাইল অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে মনোনীত করে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে এনসিটির উন্নয়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কনসেশন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অর্থনৈতিকবিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৃহস্পতিবারের অনুমোদনের বিবৃতিতে অপারেটরের নাম উল্লেখ করা হয়নি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নীতিগত অনুমোদনকে এখনই চূড়ান্ত কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। খসড়া চুক্তির পর সরকারি অনুমোদন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পরই এটি কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।আন্দোলনের ঘোষণাবিদেশি প্রতিষ্ঠানকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনগুলোর নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।তাঁদের বক্তব্য, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চুক্তির শর্ত, রাজস্ব কাঠামো, কর্মসংস্থান এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য প্রভাব জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন।চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘সরকারকে একটি মহল বিভিন্ন প্ররোচনার মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। জনগণের সম্পদ ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখব।’সরকার শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি থেকে ফিরে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, সরকারের এই ‘গণবিরোধী সিদ্ধান্তে’ তাঁরা মর্মাহত। বন্দর-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত বিবেচনায় না নিয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে গিয়ে ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে।তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে বিদেশি কোম্পানির হাতে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে বলে তাঁরা আশা করছেন। শিগগির নতুন কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বন্দর রক্ষার আন্দোলন নতুন মোড় নেবে বলেও জানান তিনি।বন্দরের বড় কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটিচট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার পরিবহন হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টিইইউ। এর মধ্যে এনসিটির অংশ ছিল প্রায় ৪৪ শতাংশ।প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটিতে রয়েছে পাঁচটি জেটি। বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টিই রয়েছে এই টার্মিনালে।বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) এনসিটি পরিচালনা করছে।