ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৫ ঘন্টা আগে পড়ুন

শেখ হাসিনা ও কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিতে আজই চিঠি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। চিঠিটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আপিলের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।

শপথ নিলেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুসারে স্পিকার নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তাঁরা সংসদ সচিবের কক্ষে রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকেতারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন তাঁদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।তারেক রহমান বলেন, তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকটপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।বিগত সরকারগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যসৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান তারেক রহমান। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগাতে চায় সরকার।নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রণোদনাও দেওয়া হবে।তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও তিনি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বসৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরাওনবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন।তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক বিক্ষোভের নামে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত কোনো কোনো মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পোশাক কারখানার মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ সময় সাংবাদিকেরা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন। জবাবে তিনি বলেন, আশা করি এগুলো খুব শিগগির খোলার ব্যবস্থা করা হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। চিঠিটি ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে সাজা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে আসামিদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল আর আপিলের সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে আইনি কোনো বাধা নেই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামান শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুসারে স্পিকার নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর তাঁরা সংসদ সচিবের কক্ষে রাখা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, অন্যান্য হুইপ, সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কুইক রেন্টালের নামে লুটপাট না করে সাশ্রয়ী উপায়ে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। সংকট মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় ও চুক্তি পর্যালোচনা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুতের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকেতারেক রহমান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে অর্থায়ন সহজ করতে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও অর্থের সংস্থান করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অর্থের অভাবে পিছিয়ে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করতে চায়।তিনি বলেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনাময় খাত নয়, বরং অনিবার্য বাস্তবতা।উদ্ভাবনী উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন তাঁদের নতুন ধারণা উপস্থাপন করে পুরস্কৃত হয়েছেন। ভবিষ্যতেও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে জ্ঞান ও উদ্ভাবনের প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। একটি উদ্ভাবনী ধারণা দেশের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে।তারেক রহমান বলেন, তরুণদের কোনো উদ্ভাবনী ধারণা যাতে অর্থের অভাবে হারিয়ে না যায়, সে জন্য চলতি বাজেটে স্টার্টআপ খাতে বছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি সংকটপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ফলে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তিনি জানান, দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যথাসম্ভব স্বাভাবিক রাখতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার।তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরেও বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিজেলের মজুত বাড়ানো হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লার সরবরাহ ও মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিমধ্যে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।বিগত সরকারগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।গ্রীষ্মের আগে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্যসৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও সম্প্রসারণ সহজ করতে সরকার ইতিমধ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে জানান তারেক রহমান। এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিসহায়তা, কর ও শুল্ক সুবিধা এবং আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর আগেই জাতীয় গ্রিডে ৩ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করা সম্ভব হবে।তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অব্যবহৃত ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগাতে চায় সরকার।নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এর পাশাপাশি প্রণোদনাও দেওয়া হবে।তারেক রহমান বলেন, ইতিমধ্যে অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। নিজের বাসায়ও তিনি সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। সেখান থেকে নিজেদের ব্যবহারের পর অতিরিক্ত কিছু বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণের বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ কমানোও সরকারের অগ্রাধিকার।সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বসৌরবিদ্যুৎ খাতের সেবাদাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পর সেটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে কি না এবং গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।কৃষি খাতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের সেচের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎচালিত সেচপাম্প সৌরচালিত পাম্পে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে, পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে এবং জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যদিকে বিদ্যুতের সঠিক ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা জনগণের দায়িত্ব। এ জন্য দিনের বেলায় যথাসম্ভব প্রাকৃতিক আলো-বাতাস ব্যবহারের পাশাপাশি বাসাবাড়ি, অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অপ্রয়োজনে বাতি, পাখা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তিনি।সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন প্রবাসীরাওনবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শুধু বড় প্রকল্প নয়, স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগেও অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সহজে বিনিয়োগ করতে পারবেন।তিনি বলেন, সরকার, উদ্যোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, আমরা সূর্যের আলোকে দেশের সম্পদে পরিণত করি। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের খোঁজে ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে তাঁদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এর আগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভের সঙ্গে তাঁদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে যুক্ত কোনো কোনো মহল দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করা হবে।মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পোশাক কারখানার মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ যদি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ সময় সাংবাদিকেরা অনেক পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন। জবাবে তিনি বলেন, আশা করি এগুলো খুব শিগগির খোলার ব্যবস্থা করা হবে।

নামাজের সময়সূচী
লোডিং হচ্ছে...
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৫ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

১২ ঘন্টা আগে
৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল ২৪৭, প্রতিবাদে শিক্ষকদের ফুল দিল ছাত্রদল

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য হয়েছেন ২৪৭ জন। পাসের হার মাত্র ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।এ ফলাফলের প্রতিবাদে শিক্ষকদের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের নেতারা।সোমবার সকালে কলেজের কার্যালয়ে গিয়ে অধ্যক্ষ নাজমা বেগমসহ অন্য শিক্ষকদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান তাঁরা।এ সময় উপস্থিত ছিলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী, সহসভাপতি সজিবুর রহমান শান্ত, নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি তারিক আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ হোসেনসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য নেতারা।উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ মেহেদী বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয়ের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এর প্রতিবাদ জানাতেই উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ‘ফুল আমাদের প্রতিবাদের ভাষা। শিক্ষার মান উন্নয়নে এবং শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করতে পারে, সে বিষয়ে ছাত্রদলের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নীলকান্ত সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ নাজমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

০২ নভেম্বর ২০২৬
সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

২২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২১ অক্টোবর ২০২৬
আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

আধুনিক ও মাদকমুক্ত আরশিনগর গড়তে চান ফরিদ আহাম্মদ বালা

শরীয়তপুরের সখিপুরের আরশিনগর ইউনিয়নকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ফরিদ আহাম্মদ বালা। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে এলাকায় পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।১৯৭৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরশিনগর ইউনিয়নের চরমহিষখালী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ফরিদ আহাম্মদ। বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি। বর্তমানে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত ফরিদ ফুটবল খেলোয়াড় ও সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন বলে জানিয়েছেন ফরিদ আহাম্মদ। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে বৃক্ষরোপণ, হতদরিদ্র পরিবারকে ছাগল ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া, অসহায় রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করা।ফরিদ আহাম্মদের দাবি, গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রতি রমজানে দরিদ্র পরিবারের মধ্যে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করছেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করছেন।চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন এই প্রার্থী। ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে আমার এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, হানাহানি, অবৈধ জমি দখল ও সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধে কাজ করব। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরশিনগরকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’রাজনৈতিকভাবে ফরিদ আহাম্মদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন কর্মী। তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।আরশিনগর ইউনিয়নকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মাদকমুক্ত হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন ফরিদ আহাম্মদ। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সর্বস্তরের মানুষের সমর্থন ও দোয়া চেয়েছেন তিনি।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জনসেবার প্রত্যয় তুলে ধরে ফরিদ আহাম্মদ বালা বলেন, ‘আমি যতদিন বাঁচব, ততদিন গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।

২১ অক্টোবর ২০২৬
গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

গোদাগাড়ীতে তাফসির মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ জামায়াত নেতাদের

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের অনুমতি না দেওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। একই ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এক ভিডিও বার্তায় অধ্যাপক মুজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, কোরআনের মাহফিল বন্ধের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে এর ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে তিনি বিগত সরকারের আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।সম্প্রতি বুকে ব্যথা নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।এর আগে সোমবার বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে তাফসিরুল কোরআন মাহফিলটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনের মৌখিক নির্দেশনার কারণে আয়োজকেরা প্যান্ডেলের মালামাল ফেরত পাঠাতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে অতিথিদের আসতে নিষেধ করেন তাঁরা।রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের আইনি ভিত্তি ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুফতি আমির হামজা।পোস্টে তিনি লেখেন, প্রশাসনের কাছে আমার সরাসরি প্রশ্ন- কোন আইনি ও সুনির্দিষ্ট কারণে একটি ধর্মীয় মাহফিলের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করা হলো?নিরাপত্তার কোনো বাস্তব উদ্বেগ থাকলে তা যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্মীয় আলোচনা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলার সুযোগ সবার জন্য সমান রাখার দাবি জানান এই সংসদ সদস্য।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা হয়ে সারা দেশে ছড়াচ্ছে মাদক, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

কুমিল্লা দেশের অন্যতম প্রধান মাদক সরবরাহের রুটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। পরে সড়ক, নদী ও রেলপথ ব্যবহার করে এসব মাদক ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মাদক জব্দ ও বাহক-খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করলেও কারবারের মূল নিয়ন্ত্রকদের অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রশাসনের কিছু সদস্যের কথিত সহযোগিতায় মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক টিকে আছে। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোর স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের তালিকায় ১৪ জনকে গডফাদার, ৫৪ জনকে পাইকারি কারবারি এবং ১১৬ জনকে খুচরা বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় মোট ১৮৪ জনের নাম রয়েছে। অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান আমার দেশ-কে বলেন, তদন্তের স্বার্থে গডফাদারদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।জানা গেছে, তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিদের মধ্যে ছয়জন পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বাকিদের অনেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই জামিনে আছেন বলে জানা গেছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব কারবারির অনেকে আত্মগোপনে চলে যান।সীমান্তে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টবিভিন্ন সূত্র ও সরকারি নথির বরাত দিয়ে কুমিল্লা সীমান্তের প্রায় ৪৭টি পয়েন্টকে মাদক ও চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার ও গোলাবাড়ী, ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল, আশাবাড়ী ও হরিমঙ্গল, বুড়িচংয়ের হায়দ্রাবাদ, নগর ও ভবেরমুড়া এবং সদর দক্ষিণের মথুরাপুর ও কনসতলা উল্লেখযোগ্য।স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের ওপার থেকে এসব পয়েন্ট দিয়ে মাদক দেশে প্রবেশের পর স্থানীয় নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভারত ও বাংলাদেশের একাধিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদক পাচারে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে নোম্যান্স ল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া শত শত বিঘা জমিতে গাঁজা চাষ করা হয়। জেলার সহস্রাধিক ছোট-বড় মাদক কারবারি এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁদের দাবি।তবে এসব কারখানা, চাষাবাদ ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।নদীতে ভাসিয়ে আসে মাদকের চালানমাদক পাচারে নদীপথেও বিশেষ কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিজিবি সদস্য এনামুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। বস্তার সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল, কলাগাছ বা অন্য হালকা বস্তু বেঁধে দেওয়া হয়। চালানের বস্তা ও চিহ্নের ছবি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইলে পাঠানো হয়। পরে ভাটির দিকে থাকা ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে চালান সংগ্রহ করেন।কটক বাজার-গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ পেয়ার আহমেদ বলেন, পলিথিনের মধ্যে বালু বা পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর সঙ্গে খালি বোতল বা নির্দিষ্ট সংকেত রাখা হয়।স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও মাদক পরিবহন করা হয়। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি সেবার যানবাহন ব্যবহার করে মাদক বহনের অভিযোগও রয়েছে।প্রাডো গাড়িতে ১৫ কোটি টাকার ইয়াবামাদক পাচারের বড় একটি চালান ধরা পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার জাগুরঝুলি এলাকায়। গত ১৯ আগস্ট একটি প্রাডো গাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা মূল্যের তিন লাখ ইয়াবা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।তবে এত বড় চালান পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকের সন্ধান তখনো পাওয়া যায়নি। কুমিল্লা ডিবির ওসি শাহ আলম শাহ বলেন, গাড়ির মালিককে শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়।এই ঘটনা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চালানের অর্থদাতা ও সরবরাহকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগসীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পর্ক রয়েছে। কয়েকজন মাদক কারবারির দাবি, আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এই কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন। বর্তমানে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া আমার দেশ-কে বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কুমিল্লায় মাদক বেড়েছে। তাঁর দাবি, প্রশাসন আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, কয়েকজন বিজিবি সদস্য অর্থের বিনিময়ে কারবারিদের তথ্য সরবরাহ করেন। এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।গত মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় একটি মাদকের চালান আটকের পর ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযোগটির স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি।তিন বছরে ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দবিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন গত তিন বছরে প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।বিজিবির জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা এবং তিন লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা। এ ছাড়া আইপি ইনজেকশন, সেনেগরা, মোসলাইড, সিপ্রোহেপ্টাডিন ও ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।এসব অভিযান ও বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের পরও সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় পাচারকারীদের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাদক ঘিরে বাড়ছে সহিংসতার অভিযোগমাদক এখন শুধু সীমান্তকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; কুমিল্লা নগরীতেও মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৫ জুন কাটাবিল এলাকায় এমন একটি সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়।কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। গত ১৮ আগস্ট থেকে পাঁচ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মূল হোতাদের শনাক্ত করাই চ্যালেঞ্জমাদকবিরোধী অভিযানে বাহক ও খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার এবং চালান জব্দের পাশাপাশি কারবারের অর্থদাতা, সরবরাহকারী, পরিবহনকারী, স্থানীয় সমন্বয়কারী ও মূল ক্রেতাদের শনাক্ত করা জরুরি। নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্তরে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা না গেলে শুধু চালান জব্দ করে মাদক কারবার বন্ধ করা কঠিন।কুমিল্লার সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে মাদকের সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রভাবশালী কারবারিদের আইনের আওতায় আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

পটিয়ায় এমপির অভিযোগ বাক্স, এক সপ্তাহে সমাধানের উদ্যোগ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব হয়রানির শিকার হন, তা তুলে ধরতে অভিযোগ বাক্স স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে ৬০টি অভিযোগ বাক্স বসানো হবে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ এক সপ্তাহের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদের পরিদর্শন কক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে অভিযোগ বাক্সগুলো বিতরণ করেন সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।তিনি বলেন, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। তাঁরা যাতে সহজে ও নির্ভয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগও থাকবে।সংসদ সদস্য বলেন, অভিযোগ বাক্সে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়বে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।এনামুল হক এনাম আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজারে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। অভিযোগকারীদের মধ্যে কারও কারও পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানান তিনি।বিতরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা ছিলেনঅভিযোগ বাক্স বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বখতিয়ার উদ্দীন বকুল, পৌরসভা বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান ও আবদুল মান্নান, যুবদল নেতা কাজী আরিফ উল্লাহ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ওবাদুল হক রিকুসহ স্থানীয় নেতারা।পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব গাজী আবু তাহের বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়।

১৮ অক্টোবর ২০২৬
“

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ১ জন
লিংক কপি করা হয়েছে!

জেলার খবর

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

১০ ঘন্টা আগে
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

৫ ঘন্টা আগে
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ
গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

গাজীপুরে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা, ২৫ কারখানায় ছুটি

বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সকালে পোশাকশ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।মঙ্গলবার সকাল থেকে নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে আসেন। এ সময় কয়েকটি এলাকায় তাঁরা মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকার ২০ থেকে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।এর আগে সকাল ৮টার কিছু আগে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় একদল শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ ছাড়া জেলার অন্য কোথাও বড় ধরনের সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। গত সোমবার জেলায় ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন ছিল। মঙ্গলবার তা বাড়িয়ে ১১ প্লাটুন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যাও ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে বিভিন্ন এলাকায় বিজিবি সদস্যরা টহল ও দায়িত্ব পালন করছেন।জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।অন্যদিকে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানা মঙ্গলবার পুনরায় চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। তবে কতটি কারখানা খুলেছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফকির জহির রহমান (৪০) নামের এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত জহির রহমান পাশের উপজেলা আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ছিলেন।সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক গণমাধ্যমকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।তবে কারা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

আজ বুধবার বিজয়া দশমী। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সকালে মন্দিরে মন্দিরে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের প্রতিমা নেওয়া হবে নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে।হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এবার ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছেন দেবী দুর্গা, আর নৌকায় চড়ে ফিরে যাবেন কৈলাসে। উৎসবের শেষ দিনে দেবীকে বিদায় জানানোর প্রস্তুতির পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতি।এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী পালিত হয়। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর ছিল মন্দির ও পূজামণ্ডপ। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি ভক্তরা প্রার্থনা করেন মানুষের কল্যাণ, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেশে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য।রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গতকাল সকাল থেকেই ভক্তদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয় মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। পরে ফুল ও বেলপাতা দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। পুরোনো মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় হোমযজ্ঞ ও বলিদানের আনুষ্ঠানিকতা।পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলায় ঘুরে বেড়ান। সেখানে বিভিন্ন দোকানে ছিল ঘর সাজানোর সামগ্রী, চুড়ি, গহনা, পোশাক ও শিশুদের খেলনা। পরিবার নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরেও মহানবমী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সকালে শালগ্রামশিলা ও দেবী দুর্গার মহাস্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ষোড়শ উপচারে বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। উপবাস রেখে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে নবমীর মহাপূজা। দুপুর ১২টার মধ্যে সম্পন্ন হয় মহাহোম বা যজ্ঞ। পরে ভোগ নিবেদন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়।সন্ধ্যায় মন্দিরে দেবীর আরতির পাশাপাশি আয়োজন করা হয় ধুনুচি নাচের। ঢাক ও কাঁসার তালে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা এতে অংশ নেন।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের আয়োজকেরা জানান, আজ বুধবার দুপুরে প্রতিমা নিয়ে তাঁরা ওয়াইজঘাটের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁদের পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।বিদায়ের আগে মঙ্গল কামনাদুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন মহানবমীতে দেবী দুর্গার নবম রূপ সিদ্ধিদাত্রীর আরাধনা করা হয়। পূজা, অঞ্জলি, ভোগ নিবেদন ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর কাছে মঙ্গল কামনা করেন। বিভিন্ন মণ্ডপে সন্ধ্যায় আরতি ও বিশেষ ধর্মীয় আয়োজনও ছিল।এবার সপ্তমীর তিথি দুদিন বিস্তৃত থাকায় রোববার ও সোমবার সপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার পালিত হয় মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। এরপর গতকাল মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ এসেছে দেবীকে বিদায় জানানোর দিন।বিজয়া দশমীর সকালে দশমীর পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা নিয়ে বিসর্জনস্থলের উদ্দেশে যাত্রা করবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কয়েক দিনের পূজা, আনন্দ ও মিলনমেলা।সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরের ঠাকুর চন্দন চক্রবর্তী বলেন, ‘যজ্ঞ ও হোমের মধ্য দিয়ে আমাদের কল্প অনুসারে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্তির পথে। আজ সন্ধ্যায় (মঙ্গলবার) শুধু মায়ের আরতি এবং আগামীকাল (বুধবার) দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে বিজয়া দশমী পালিত হবে।’উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের প্রত্যাশা, দেবীর আশীর্বাদে মানুষের জীবনে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটবে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

প্রতিমা বিসর্জনে আজ শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি

বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়া এবং তিন প্রতিষ্ঠানের যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে প্রতিবেদন দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর বিটিআরসি এই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কনসোর্টিয়াম গঠনের পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা চালু করতে না পারায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের কাছে অনুমোদন চাওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।গত ২৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমার দেশ-এর প্রথম পাতায় ‘সামিটের নেতৃত্বে সাবমেরিন ক্যাবলের অবৈধ কনসোর্টিয়াম’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস ও মেটাকোর সাবকমের পৃথক লাইসেন্স নিয়ে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানাসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছিল।লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিটিআরসির বক্তব্যবিটিআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের লাইসেন্সিং গাইডলাইন এবং পরবর্তী সময়ে ২০২১ ও ২০২২ সালে সংশোধনী ও উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সর্বাধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে আবেদনের সময়সীমা দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২২ সালের ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।মূল্যায়ন কমিটি ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব যাচাই করে ওই বছরের ২৪ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সর্বোচ্চ নম্বর পায় সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড—৯২ দশমিক ৪৬। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড পায় ৮৭ দশমিক ৬৪ নম্বর এবং তৃতীয় স্থানে থাকা মেটাকোর সাবকম লিমিটেড পায় ৮৬ দশমিক ৪৮ নম্বর।পরবর্তী সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের পূর্বানুমোদন নিয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে পৃথক লাইসেন্স দেওয়া হয়। বিটিআরসির দাবি, কারিগরি, আর্থিক ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই করে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল।কনসোর্টিয়াম গঠন নিয়ে বিতর্কবিটিআরসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিলে এক সভায় তিন লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান সিঙ্গাপুর থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ট্রাঙ্ক ক্যাবলের জন্য ‘ক্যাম্পানা গ্রুপ’ এবং ব্রাঞ্চ ক্যাবলের জন্য যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলাদাভাবে তিনটি ক্যাবল স্থাপন করলে ব্যয় তিন গুণেরও বেশি হতে পারত। এই ব্যয় এড়াতে প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার সমুদ্রতলের ক্যাবল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।লাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২১ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা দিয়ে বিটিআরসি বলেছে, ট্রাঙ্ক ক্যাবল বা সংশ্লিষ্ট চুক্তির তথ্য কমিশনে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ক্ষেত্রে পূর্বানুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।এ ছাড়া গাইডলাইনে নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ফাইবার পেয়ার থেকে বেশি সক্ষমতা—১৫ দশমিক ২ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ড (টিবিপিএস)—পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। বর্তমান চাহিদা সিঙ্গাপুরমুখী হওয়ায় আপাতত পূর্বমুখী রুটে ক্যাবল বিস্তারের পরিকল্পনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে আমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে কনসোর্টিয়ামকে আবেদনের একটি ধরন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আবেদন করার সময়ই যৌথভাবে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জবাব বিটিআরসির প্রতিবেদনে নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে।সময়সীমা শেষ, চালু হয়নি সেবালাইসেন্সিং গাইডলাইনের ২.৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৪৮ মাসের মধ্যে ক্যাবল সিস্টেম স্থাপন ও সেবা চালু করার বাধ্যবাধকতা ছিল। সে হিসাবে সিডিনেট ও সামিটের সময়সীমা ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর এবং মেটাকোর সাবকমের সময়সীমা ১৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো কার্যক্রম চালু করতে পারেনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের (এনএসআই) ছাড়পত্র না পাওয়া এবং সমুদ্রে ক্যাবল স্থাপনের অনুকূল মৌসুম না থাকাকে বিলম্বের কারণ হিসেবে দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।এ পরিস্থিতিতে রোল-আউটের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিটিআরসির ৩১০তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব নেইআমার দেশ-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ২০২০ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টার উপস্থিতিতে বেসরকারি খাতে সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। বিটিআরসির জবাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সাবেক তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও চৌধুরী নাফিজ শরাফতের মালিকানাধীন সিডিনেট লাইসেন্সের জন্য বিজ্ঞপ্তি আহ্বানের পর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি মূল্যায়নে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে লাইসেন্স পায়। অন্যদিকে ফাইবার অ্যাট হোমের মতো অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগেরও জবাব দেয়নি বিটিআরসি।প্রতিবেদনে আরও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, লাইসেন্সিং গাইডলাইনে প্রতিটি লাইসেন্সধারীর জন্য ন্যূনতম দুটি ফাইবার পেয়ার থাকার শর্তকে কীভাবে উচ্চতর ক্যাপাসিটির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সক্ষমতার বিষয়টি দিয়ে ফাইবার পেয়ারসংক্রান্ত শর্ত পূরণের দাবি করতে হলে গাইডলাইন সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে।এ ছাড়া গাইডলাইনে পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় দিকে সংযোগের শর্ত থাকার কথা উল্লেখ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবিষ্যতে সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা দেখিয়ে বর্তমান পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায় কি না, সে প্রশ্নেরও ব্যাখ্যা প্রয়োজন।সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নখাতসংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও লাইসেন্সিং গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত না করে সময় বাড়ানোর অনুমোদন চাওয়া হলে জবাবদিহির প্রশ্ন থেকে যেতে পারে।এখন মূল প্রশ্ন হলো, লাইসেন্স প্রদানে রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগ, বিতর্কিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং গাইডলাইনের শর্ত পালনের বিষয়গুলো তদন্ত করা হবে কি না। একই সঙ্গে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তির আগে প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।রাজনৈতিক নির্দেশনার অভিযোগের জবাব এবং পৃথক লাইসেন্স নেওয়ার পর যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠনের আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবমেরিন ক্যাবল লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি বিটিআরসি
বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

বিশ্বম্ভরপুরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় বিএনপির নাম ব্যবহার করে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিএনপির একাংশের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা এসব অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তাঁরাই সক্রিয় রয়েছেন। শুধু রাজনৈতিক পরিচয় বদলে এখন বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন তাঁরা।বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে মাদক ও ভারতীয় পণ্য চোরাচালানের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ জেলায় চোরাই মোটরসাইকেলের ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা যুবদলের নেতা জাকির হোসেন এবং ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের দপ্তর সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনও সম্পৃক্ত। তাঁদের দাবি, রাজুর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংকে ব্যবহার করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দলের নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সন্ত্রাস, মাদক ও চোরাচালান বন্ধের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি।স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের দাবি, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যক্তির অপরাধের দায় পুরো দলের উপর বর্তানো উচিত নয় বলেও মনে করেন তাঁরা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ধনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. ওবাইদুর রহমান রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাদক ও চোরাচালানে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...